Social Icons

Sunday, March 31, 2019

ইউক্রেনে নির্বাচন: দৌড়ে এগিয়ে কমেডি অভিনেতা

ইউক্রেনের প্রথম দফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। কিয়েভের স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণের জন্য ভোটকেন্দ্র খুলে দেয়া হয়। ভোটকেন্দ্র থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি’র একজন প্রতিনিধি একথা জানিয়েছেন।
জরিপ অনুযায়ী, ৪১ বছর বয়সী কৌতুক অভিনেতা ভোলোদিমির জেলেনস্কি সর্বোচ্চ ভোট পেতে যাচ্ছেন বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোসেনকোর সঙ্গে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। তবে প্রথম দফা নির্বাচন কেউ ৫০ ভাগ ভোট না পেলে আবারও ভোট গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সময় রাত ৮টায় এই প্রথম দফা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হবে। এর কয়েক ঘন্টা পর আংশিক ফলাফল প্রকাশিত হবে।
এ নির্বাচন বর্জন করেছে ইউক্রেনের রাশিয়াপন্থী দলগুলো। তাই রাশিয়ার প্রভাব রয়েছে এমন অঞ্চলগুলোতে ভোটগ্রহণ কেমন হবে তা স্পষ্ট নয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌঁড়ে প্রার্থী হয়েছেন মোট ৩৯ জন। তবে কেবল তিনজনকে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবা হচ্ছে।

Saturday, March 30, 2019

মডেলের প্রেমে ব্রাজিল তারকা

নেইমার পরবর্তী যুগে ব্রাজিলের নতুন সেনসেশন হিসেবে ধরা হচ্ছে ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে। ১৮ বছর বয়সে জাতীয় দলে ডাক পেয়ে ইনজুরির কারণে কপাল পুড়েছে। তবে ব্রাজিল কোচ তিতে বলেছেন, আসন্ন কোপা আমেরিকায় তার দলে থাকার সম্ভাবনা একেবারে শেষ হয়ে যায়নি। এর আগেই নতুন এক ঘটনায় নাম জড়াল ভিনিসিয়াসের। ইনস্টাগ্রাম মডেল মারিয়া জুলিয়া মাজালির সঙ্গে নাকি চুটিয়ে প্রেম করছেন তিনি! সম্প্রতি একটি ছবি এই জল্পনাকে উস্কে দিয়েছে। 
মারিয়া জুলিয়া মাজালি এখন বেশ জনপ্রিয় ইনস্টাগ্রাম মডেল। ছবি : ইনস্টাগ্রাআম
সম্প্রতি সোশ্যাল সাইটে ভিনিসিয়াস এবং জুলিয়া স্নানঘরে নিজেদের ছবি পোস্ট করেন। ছবি দুটি আলাদা হলেও স্নানঘরটি যে একই সেটা ছবিতেই স্পষ্ট। ব্রাজিলিয়ান পত্রিকা 'ল্যান্স' দুটি ছবিতেই আয়নার প্রতিবিম্বের মধ্যে সদৃশ খুঁজে পেয়ে দেখিয়েছে, দুজনের ছবি একই স্নানঘরে তোলা! ওই পত্রিকাটাই দাবি করেছে, এই স্নানঘরটি হলো ভিনিসিয়াস মাদ্রিদে যে বাসায় থাকেন সেই বাসার! তার মানে দুজনে 'অন্যরকম' সম্পর্কে জড়িয়েছেন। 
এই দুটি ছবি নিয়েই ছড়িয়েছে জল্পনা। ছবি : ইনস্টাগ্রাম
দুজনে যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এ সম্পর্কের কথা স্বীকার করেননি। গত ডিসেম্বরে এক সাক্ষাৎকারে বান্ধবী আছে কি না, এমন প্রশ্নে নেতিবাচক মন্তব্যই শুনিয়েছিলেন ভিনিসিয়াস, ‘না কেউ নেই। ২৩ বছরের মাজালি ব্রাজিলে এক রিয়্যালিটি টিভি শো দে ফারিয়াস কোম ও এক্সে অংশ নিয়ে বিখ্যাত হয়েছিলেন। ইদানিং দেখা যাচ্ছে, ইনস্টাগ্রামে দুজন দুজনের ছবিতে লাইক দিচ্ছেন, মন্তব্য করছেন। একবার নাকি মাজালির একটি ছবিতে 'হার্ট' ইমোটিকন দিয়েছিলেন ভিনিসিয়াস!

ব্রাজিলিয়ান রিয়েল এখন আন্তর্জাতিক বাজারে ।


আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রাজিলিয়ান রিয়েল এর বিক্রি শুরু ।জাপান , চায়না ও বাংলাদেশের বাজারে ব্রাজিলিয়ান মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় করতে দেখা গিয়েছে । যদিও লেতিন আমেরিকার বাজারে আগে থেকেই ব্রাজিলিয়ান মুদ্রা ক্রয় - বিক্রয় হচ্ছে । নতুন করে যুক্ত হল বাংলাদেশ সহ তিন দেশ । ব্রাজিলে নতুন সরকার আসার পর থেকে একের পর এক আইনের পরিবর্তন আসে, সেই সাথে কাজ করে যাচ্ছেন দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা করতে । ইতিমধ্যেই গত কয়েক মাসে ব্রাজিলের নতুন প্রেসিডেন্ট বেশ কয়েকটি দেশের সাথে সম্পর্ক আরও গভীর করতে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ করেছে । সেই সাথে সফর করেছেন বেশ কয়েকটি দেশে । ব্রাজিলের বর্তমান প্রেসিডেন্টের নির্বাচনী ওয়াদাতে ছিল দেশকে অর্থনৈতিক সম্মৃদ্ধ করে তুলবেন । তিনি আশা করছেন খুব শীঘ্রই ব্রাজিল পৃথিবীর উন্নত দেশের একটিতে পরিণত হবে ।

চাপে পড়ে নারী অধিকার কর্মীদের মুক্তি দিল সৌদি


আন্তর্জাতিক চাপের মুখে অবশেষে নারী অধিকার কর্মীদের মুক্তি দিল সৌদি আরব। প্রথম ধাপে তিনজনকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। নারী অধিকার ও পুরুষ অভিভাবকত্বের বিরুদ্ধে সক্রিয় থাকার কারণে তাদের প্রায় ১ বছর আটকে রাখা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এ খবর নিশ্চিত করেছে। কারাগারে আটক নারী অধিকার কর্মীদের ওপর অমানবিক অত্যাচার ও ধর্ষণ ঘটনায় সৌদি সরকার সম্প্রতি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাসহ কানাডা ও ব্রিটেনের মতো রাষ্ট্রগুলো এ নিয়ে সৌদি আরবকে চাপ দিতে থাকে। খবর আলজাজিরার।

গণমাধ্যমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ রাখা দেশটি কোন কোন অধিকার কর্মীকে মুক্তি দিয়েছে তা নিশ্চিত করা যায়নি। তবে বেশ কিছু প্রতিবেদন অনুযায়ী মুক্তি পাওয়া বন্দিদের মধ্যে রয়েছেন ব্লগার ইমান আল-নাফজান, কিং সৌদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক আজিজা আল-ইউসেফ ও আরেক শিক্ষিকা রোকায়া আল-মোহারেব।

বুধবার আদালত তাদের মুক্তি দেন। সেখানে বিদেশি সাংবাদিক ও কুটনীতিকদের প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। তবে আদালত জানিয়েছেন, মুক্তি দেয়া হলেও তাদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের প্রতি নজর রাখা হবে।

ফিলিস্তিনি বন্দিদের জুমার নামাজ নিষিদ্ধ করল ইসরাইল

ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ দেশটির কারাগারে আটক ফিলিস্তিনি বন্দিদের জুমার নামাজ নিষিদ্ধ করেছে।
ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স অ্যাসোসিয়েশনের বরাতে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদলু এ খবর জানিয়েছে।
ইসরাইল কারা প্রশাসন নতুন এ ঘোষণায় দেশটির সকল কারাগারে শুক্রবার জুমার নামাজ যাতে না হয়, বিষয়টি কার্যকর করার নির্দেশনা দিয়েছে।
তবে কী কারণে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হল, এ বিষয়ে কোনও তথ্য দেয়নি ইসরাইল।
গত জানুয়ারিতে ইসরাইলি বাহিনী কারাগারের কয়েকটি ওয়ার্ডে হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি বন্দিকে আহত করেছে। তারপর থেকে ইসরাইল কারাগারে উত্তেজনা চলছে।
ফিলিস্তিনের সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ইসরাইলের কারাগারে ৫ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছে। যাদের মধ্যে ৫০০ জন প্রশাসনিক বন্দি ও ২৩০ জন শিশু।
সূত্র: আনাদলু তুর্কি

ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলায় গাজায় ২ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি

গত সোমবার রাত থেকে চালানো ইসরাইলি আগ্রাসনে গাজায় মোট ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ফিলিস্তিন।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ফিলিস্তিন গণপূর্ত ও হাউজিং মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নাজি সারহান। খবর আনাদলুর।
গাজা তথ্য মন্ত্রণালয়ের সদর দফতরে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে সারহান বলেন, সাম্প্রতিক আগ্রাসনের ফলে প্রায় দেড় মিলিয়ন ডলারের ৩০টি স্থাপনা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে এবং অর্ধ মিলিয়ন ডলারের প্রায় ৫০০টি বসতবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সারহান বলেন, ইসরাইলের সেনাবাহিনী অত্যধিক শক্তিশালী ও ভারী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছিল, যা লক্ষ্যবস্তু স্থানগুলির আশেপাশের গুরুতর ক্ষতি করেছে।
এ আগ্রাসনের ফলে শত শত ফিলিস্তিনি তাদের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে বলেও জানান নাজি সারহান।
এদিকে গত মঙ্গলবার ফিলিস্তিনের গণপূর্ত মন্ত্রী মুফিদ আল হাসানাহ জানিয়েছিলেন, ইসরাইলের সর্বশেষ বিমান হামলায় গাজা উপত্যকার মোট ৫০০ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত সোমবার সকালে গাজা উপত্যকা থেকে তেল আবিব রকেট হামলা করলে এর জবাবে সন্ধ্যা থেকে দখলদার ইসরাইল বাহিনী প্রচণ্ড হামলা শুরু করে।
মিশরের মধ্যস্থতায় সোমবার রাতে যুদ্ধ বিরতিতে সম্মত হলেও মঙ্গলবার সকালে ফের হামলা শুরু করে ইসরাইল।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই সীমান্তের কাছকাছি ইসরায়েলিদের লক্ষ্য করে রকেট হামলার শব্দ শোনা গেছে। হামাসের স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা শুরু করেছে ইসরায়েলি সৈন্যরা।
সোমবার সন্ধ্যা থেকে দখলদার ইসরাইল বাহিনী গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় অর্ধশতাধিক আক্রমণ করেছে। মঙ্গলবার ও বুধবারেও এ হামলা অব্যাহত ছিল। মঙ্গলবার গভীর রাত ও বুধবার সকালে বাড়িতে বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মোট ১৯ ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইসরাইল।

তুরস্কে নির্বাচনে কঠিন সমীকরণে এরদোগানের দল

তুরস্কের সংসদের পাঁচ দলের বাইরেও আরো সাতটি দল লড়ছে এবারের নির্বাচনে। নির্বাচনী প্রচারণার একটি চিত্র। ছবি: সংগৃহীত
প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি ভোটার আগামী রোববার তুরস্কের স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সংসদের পাঁচ দলের বাইরেও আরো সাতটি দল লড়ছে এবারের নির্বাচনে। তুরস্কে স্থানীয় নির্বাচনও হয় দলীয় ব্যানারে।

ভোটে জেতার লড়াইয়ে টিকে থাকতে ক্ষমতাসীন এবং বিরোধী দলগুলো জোট করে নির্বাচন করছে। নির্বাচনের মাঠ এখন মূলত দুই ভাগে বিভক্ত। ক্ষমতাসীন জোট এবং বিরোধী জোট।

ক্ষমতাসীন জোটে আছে সরকারি দল একে পার্টি এবং কট্টর জাতীয়তাবাদী দল এমএইচপি। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল সেক্যুলারিস্ট সিএইচপি জোট করছে ডানপন্থী আই পি (IYI Parti) বা সু পার্টির সঙ্গে।

বড় সিটি কর্পোরেশন এবং গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে পার্টিগুলো জোটবদ্ধ হয়ে প্রার্থী দিয়েছে কোথাও আবার জোটের শরিকদের প্রার্থীর সমর্থনে নিজের প্রার্থীকে তুলে নিয়েছে।

অন্যদিকে বিশাল ভোট ব্যাংকের অধিকারী কুর্দী দল কারো সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো জোট করেনি কিন্তু বিরোধী জোটকে সমর্থন দিচ্ছে।

লড়াইটা সিটি মেয়র, পৌর কাউন্সিলর, উপজেলা চেয়ারম্যান, গ্রাম মেম্বার ইত্যাদি ইত্যাদি পদের প্রাথী নির্বাচনের জন্য হলেও রাজনৈতিক দলগুলো সংসদ নির্বাচনের আদলে প্রচারণা চালাচ্ছে।

ক্ষমতাসীন দলের প্রধান এবং দেশের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোগান নির্বাচনী প্রচারে সারা দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। প্রতিদিন ২-৩ টি নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দিচ্ছেন।

দলের প্রার্থীর পক্ষে ভোট টানতে সব ধরণের রাজনৈতিক কৌশল তিনি ব্যবহার করছেন। কখনও ধর্মীয় অনুভূতি কখনওবা জাতীয়তাবাদের বুলি কখনও আবার পশ্চিমাদের তুলোধুনো করা।

এমনকি তিনি নির্বাচনী সভায় নিউজিল্যান্ডের মসজিদে হামলার ভিডিও দেখিয়ে ভোট চেয়েছেন। বিরোধী দলগুলোও কম যায় না। তারাও সরকারকে ঘায়েল করার জন্য সব ধরণের প্রচারণাও চালাচ্ছে।



তবে প্রচার প্রচারণার দিক দিয়ে ক্ষমতাসীন পক্ষ অনেক এগিয়ে। মূলধারার প্রচার মাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমান তালে প্রচারণা চালাচ্ছে। এরদোগান প্রেসিডেন্ট হওয়ার কারণে তার প্রতিটা বক্তব্য সব মূলধারার গণমাধ্যমে সরাসরি প্রচার হয়। যা বিরোধী দলের নেতার জন্য প্রযোজ্য হয় না।

নির্বাচনে ইস্তানবুল, আঙ্কারা, ইজমির এর মতো বড় সিটি কর্পোরেশনগুলোতে ক্ষমতাসীন একে পার্টি হেভিওয়েট প্রার্থী দিয়েছে।

যেমন, ইস্তানবুলের প্রাথী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম, আঙ্কারার প্রার্থী সাবেক সাবেক পরিবেশ ও শহর পরিকল্পনা মন্ত্রী মেহমেত ওজহাসেকি, ইজমিরে লড়ছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী নিহাত জেইবেকচি।

অন্যদিকে বিরোধী জোট অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত প্রার্থী নিয়ে এবারের নির্বাচনে লড়ছে।

তবে বিরোধীদের বিশেষ সুবিধা হচ্ছে বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দা। গত বছর আগস্ট মাস থেকে আমেরিকার সঙ্গে দ্বন্দ্ব দেশে অর্থনৈতিক সঙ্কট সৃষ্টি করে। সরকার বিভিন্নরকম প্রতিশ্ৰুতি দিয়েও সে অবস্থার তেমন কোনো উন্নতি করতে পারেনি। আস্তে আস্তে এর প্রভাব পড়তে শুরু করে সাধারণ মানুষের মাঝে।

সাধারণ জনগণ একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানের জন্য অপেক্ষা করে। কিন্তু তারা যখন সরাসরি এই মন্দাবস্থায় আক্রান্ত হয় তখন সরকারের বিরোধিতা শুরু করে। আস্তে আস্তে দিন যত যায় তাদের আওয়াজ তত সোচ্চার হয়। পরে তা গণ আন্দোলনে রূপ নেয়।

তুরস্ক এখনও ওই পর্যায়ে পৌঁছায়নি। কিন্তু উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জনমত সকারের অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানে নেয়া পদক্ষেপগুলোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। সরকার যদিও বলছে নির্বাচনের পর তুরস্কের অর্থনীতি আরো ভালো হবে। তবে এই দুরবস্থা খুব শীঘ্রই কাটিয়ে ওঠার কোনো লক্ষণ নেই।

মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ২০ শতাংশের ঘরে। বেকারত্বের হার ১১ শতাংশ। ব্যাংকে সুদের হার প্রায় ২০ শতাংশ। তুর্কি লিরার দরপতন হয়ে এখন এক ডলারের দাম ৫.৫ লিরা যা এক বছর আগেও ছিল ৩.৬ লিরা।

সরকার নির্বাচনের পরে সব কিছু ঠিক হয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিলেও এমন অলৌকিক কিছু করতে পারে নাই যা দিয়ে তারা একথা জনগণকে বিশ্বাস করাতে পারছে।

তবে সিরিয়াতে কুর্দি গেরিলা বাহিনীর উত্থান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই কুর্দি গ্ৰুপটিকে অস্র গোলাবারুদ দিয়ে একচেটিয়া সমর্থন, ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তুরস্ককে চাপে রাখা এ সব বিষয় নিয়ে জনগণ এরদোগান সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে।

তুর্কি জনগণ খুব ভালো করেই জানে যে এখনও দেশে এরদোগানের প্রতিপক্ষ কেউ নেই। বিরোধী দলও যে রাতারাতি সব ঠিক করে দিবে সে যোগ্যতা এবং কৌশলও তাদের নেই। আর এই স্থানীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন জোটের প্রার্থীরা হারলেও যে ক্ষমতার পট পরিবর্তন হবে তাও না। তবে এরদোগানকে একটা সতর্কবাণী হিসেবে জনগণ এই নির্বাচনে তার দলকে প্রত্যাশিত সমর্থন নাও দিতে পারে।

সর্বশেষ প্রকাশিত জনমত জরিপ গুলোতে দেখা যায়, বড় সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে শুধুমাত্র ইস্তানবুলে এরদোগানের জোট শক্ত অবস্থানে আছে। ইজমির বিরোধী দল সিএইচপির সবচেয়ে শক্তিশালী দুর্গ তাদেরকে সেখানে হটানো অসম্ভব। তবে রাজধানী আঙ্কারা প্রায় ২০ বছর পর এবার ক্ষমতাসীনদের হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।

নির্বাচনের ফলাফলে কুর্দিদের ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কুর্দিদের বিশাল একটি অংশ এতদিন এরদোগানের একে পার্টিকে সমর্থন দিয়ে আসছে। কিন্তু এই নির্বাচনে কুর্দি বিরোধী কট্টর জাতীয়তাবাদী দলের সঙ্গে জোট করায় এরদোগানের পার্টির প্রতি কুর্দিদের সমর্থনে ভাটা পড়েছে।

তবে কুর্দিদের রাজনৈতিক দলটি বিরোধী জোটকে নীরবে সমর্থন দিলেও প্রকাশে কিছু বলতে পারছে না। কারণ বিরোধী জোটে আছে আরেক কুর্দি বিরোধী দল আইপি (IYI Parti)।

সুতরং, সব মিলিয়ে রবিবারের ভোটাভুটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্ব বহন করে। সরকারি জোট এই নির্বাচনকে তুরস্কের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই বলে ঘোষণা দিয়েছে অন্যদিকে বিরোধীদল এই নির্বাচনকে দেখছে এরদোগানের ক্ষমতার ভিত ধরে টান মারার শেষ সুযোগ হিসেবে। কারণ স্বাভাবিক হিসাব অনুযায়ী আগামী সাড়ে চার বছরে তুরস্কে আর কোনো নির্বাচন হওয়ার কথা না। তবে রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। সবকিছু দেখার জন্য রোববার মধ্যরাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
 

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

সম্পাদকীয় কার্যলয়

Rua padre germano mayar, cristo rio -80040-170 Curitiba, Brazil. Contact: +55 41 30583822 email: worldnewsbbr@gmail.com Website: http://worldnewsbbr.blogspot.com.br

সম্পাদক ও প্রকাশক

Jahangir Alom
Email- worldnewsbb2@gmail.com
worldnewsbbbrazil@gmail.com
 
Blogger Templates