Social Icons

Showing posts with label বিজ্ঞান ও টেক. Show all posts
Showing posts with label বিজ্ঞান ও টেক. Show all posts

Saturday, March 30, 2019

‘শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদ’ নিষিদ্ধ করছে ফেসবুক

অবশেষে ‘শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদ’ নিষিদ্ধ করছে জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। বুধবার ফেসবুকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী সপ্তাহ থেকে, ফেইসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ‘শ্বেত জাতীয়তাবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদকে’ উসকে দেয়, এমন পোস্ট আটকে দেয়া হবে।
এছাড়া বিভিন সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় এমন কন্টেন্টের ফেসবুক পাতা ও গ্রুপ মুছে ফেলা হবে। এছাড়া নতুন করে এমন কন্টেন্টের পোস্টও কেউ যাতে ছড়াতে না পারে তার ব্যবস্থাও করবে ফেসবুক।
‘শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদ’ নিষিদ্ধের ব্যাপারে ফেসবুক জানায়, এ বিসয়টি নিয়ে তারা সাধারন মানুষ ও বিশেষজ্ঞদের মতামত ও আলোচনা করেছেন। এরপরই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
গত ১৫ মার্চ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুইটি মসজিদে হামলা চালায় শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসী ব্রেন্টন টারান্ট।
এতে ৫০ জন মুসল্লি নিহত হন। আহত হয় ৪০ জনের বেশি। হামলার পুরো ঘটনা ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করে টারান্ট। এরপর বিশ্বব্যাপী ওই হামলার ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
এজন্য ব্যাপক তোপের মুখে পড়ে ফেসবুক। অবশ্য ফেসবুক দাবি করেছে ওই হামলার প্রায় ১৫ লাখ ভিডিও অপসারণ করেছে তারা।

Sunday, March 17, 2019

নিউজিল্যান্ডে হামলার ১৫ লাখ ভিডিও সরিয়েও হিমশিম খাচ্ছে ফেসবুক

নিউজিল্যান্ডের দুইটি মসজিদে হামলার ঘটনার ভিডিও বিশ্বব্যাপী সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা বিগত ২৪ ঘন্টায় ১৫ লাখ ভিডিও তাদের সাইট থেকে অপসারণ করেছে। খবর রয়টার্সের।
গত শুক্রবার হামলাকারী ব্রেন্টন ট্রারান্ট মসজিদে হামলা চালিয়ে ৫০ জনকে হত্যা করে। সেই হামলার পুরো ঘটনা তার ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করে। এরপর বিশ্বব্যাপী তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে যায়। এরপর তা সরিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছে জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যমটি।
ফেসবুকের দাবি, ১২ লাখ ভিডিও আপলোড করার সময়ই তারা ঠেকিয়ে দিয়েছে।
তবে বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, এখনও ওই হামলার ভিডিও সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন সাইটে পাওয়া যাচ্ছে।
নিউজিল্যান্ডের মসজিদে হামলার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডান তা সরিয়ে নেয়ার জন্য আহ্বান জানান।
এছাড়া কেউ যেন ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ও বিভিন্ন সাইটে প্রচার না করে তার অনুরোধ করে দেশটির পুলিশ।

Monday, March 4, 2019

হোয়াটসঅ্যাপের মতো ডিলিট করুন ফেসবুকের মেসেঞ্জার বার্তা

বর্তমানে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপ অন্যতম। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে দেশে ও দেশের বাইরে ভয়েস কল, ভিডিও কলসহ বিভিন্ন লেখা তথ্য পাঠানো যায়।
যোগাযোগের এই মাধ্যমগুলোতে আমরা ব্যক্তিগত ছবি, তথ্য বা ভিডিও পাঠিয়ে থাকি। নিরাপদ থাকতে সেগুলো ডিলিট করতে চাই। তবে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো কোনো তথ্য ডিলিট করতে হলে চাপ দিয়ে ডিলিট করা যায়। এখন ফেসবুকের ক্ষেত্রে সেটি হতে যাচ্ছে।
এবার ফেসবুক মেসেজিং অ্যাপে ‘আনসেন্ড’ অপশন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মাত্র ১০ মিনিটে প্রেরক তা ‘চ্যাট থ্রেড’ থেকে ডিলিট করতে পারবেন।
ডেইলি ন্যাশন পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সংবাদপত্রটির প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার থেকে এটি কার্যকর করা হবে।
জানা গেছে, আইওএস ও অ্যানড্রয়েডে মেসেঞ্জারের লেটেস্ট ভার্সন আপডেট করার সঙ্গেই নতুন এই ফিচার অটো চালু হবে।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ফেসবুক ব্যবহারকারীর কাছে ‘রিমুভ ফর ইউ’, অন্যটি ‘রিমুভ ফর এভরিওয়ান’ নামে দুটি অপশন দেয়া হবে।

ভুয়া আইডি বিক্রি মামলা করেছে ফেসবুক

ভুয়া অ্যাকউন্ট বিক্রি করায় চীনভিত্তিক চার কোম্পানি ও তিন ব্যক্তির নামে মামলা করেছে ফেসবুক।
মামলায় তাদের বিরুদ্ধে ভুয়া লাইক, অ্যাকাউন্ট ও ফলোয়ার বিক্রি করার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, বিধিলঙ্ঘন করে ফেসবুকের ট্রেডমার্ক নিজেদের ওয়েবসাইটে ব্যবহার করা ও ফেসবুকের ডোমেইন নাম ব্যবহার করে ওয়েবসাইট চালানো হয়েছে। তারা শুধু ফেসবুক নয়, অ্যামাজন, গুগল, লিংকড ইন ও টুইটারেরও ভুয়া অ্যাকাউন্ট বিক্রি করেছে।
শুক্রবার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কেন্দ্রীয় আদালতে মামলা করা হয়। কোম্পানিগুলোর নাম হল জিউ নেটওয়ার্ক সায়েন্স ও টেকনোলজি, জিউ ফেইসু সায়েন্স ও টেকনোলজি, জিউফি টেকনোলজি ও হোম নেটওয়ার্ক (ফুজিয়ান) টেকনোলজি। কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম বন্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি তাদের পরিচালিত ৬টি ওয়েবসাইটের প্রত্যেকটির জন্য ১ লাখ ডলার করে ক্ষতিপূরণ ও প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত লাভের টাকাও দাবি করেছে সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্টটি। এ ব্যাপারে নিজেদের ব্ল­গ পোস্টে এক বিবৃতি দিয়েছে ফেসবুক। তারা জানিয়েছে, অসাধু কার্যক্রমের জন্য আমাদের প্লাটফর্মে কোনো জায়গা নেই।
এসব কার্যক্রম রুখে দিতে আমরা বিপুল পরিমাণ রিসোর্স কাজে লাগিয়েছি। প্রতিদিনই লাখ লাখ ভুয়া অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলা হচ্ছে।

Monday, February 4, 2019

ই-পাসপোর্টে নতুন সংকট: দশ আঙুলের ছাপ সংরক্ষণে গড়িমসি

ই-পাসপোর্ট প্রকল্প বাস্তবায়নে জার্মানির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের দীর্ঘ সাত মাস পর আঙুলের ছাপ সংরক্ষণ নিয়ে এক অভিনব জটিলতা দেখা দিয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী জার্মান কোম্পানি দশ আঙুলের ছাপ নিলেও পাসপোর্টের ইলেকট্রনিক চিপে মাত্র দুটি আঙুলের ছাপ সংরক্ষণ করতে চায়।
কিন্তু ভবিষ্যতে জালিয়াতির আশঙ্কায় এ প্রস্তাবে কোনোমতেই রাজি হচ্ছে না পাসপোর্ট অধিদফতর। তারা দশ আঙুলের ছাপ সংরক্ষণের ব্যাপারে অনড়।
সূত্র বলছে, এ ছাড়াও যথাযথ নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য, পাসপোর্ট বইয়ের মানসহ আরও বেশ কয়েকটি বিষয়ে জার্মানির সঙ্গে মতবিরোধ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। এ নিয়ে উভয় দেশের মধ্যে একাধিক চিঠি চালাচালির পরও কোনো সমাধান আসেনি।
ফলে সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা এই মেগা প্রকল্পের কার্যক্রম এখন অনেকটাই থমকে গেছে। এ অবস্থায় বহুল প্রতীক্ষিত ই-পাসপোর্ট বই যথাসময়ে নাগরিকদের হাতে আসার সম্ভাবনাও ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে।
জানা গেছে, চুক্তি অনুযায়ী গত বছর ডিসেম্বরের মধ্যে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট বই সরবরাহের কথা ছিল। কিন্তু বিদ্যমান বাস্তবতায় চলতি বছরের শেষেও ই-পাসপোর্ট হাতে আসার ক্ষেত্রে ধোঁয়াশা রয়েছে। যদি ২০১৯ সালেও ই-পাসপোর্ট বিতরণের কাজ শুরু করা না যায় তবে পাসপোর্ট অধিদফতরকে এক জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সোমবার যুগান্তরকে বলেন, প্রকল্পের সবকিছুই উভয় দেশের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিতে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বলা আছে। তাই উভয় পক্ষেরই চুক্তির বাইরে গিয়ে ১০ আঙুলের জায়গায় ২ আঙুলের ছাপ সংরক্ষণ বা অন্যকিছু করার সুযোগ নেই। চুক্তিতে যেভাবে বলা আছে, সেভাবেই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।
প্রসঙ্গত, জার্মান সরকারের সঙ্গে জিটুজি চুক্তির আওতায় ই-পাসপোর্ট প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের নাম দেয়া হয়েছে ‘বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট প্রবর্তন ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার কন্ট্রোল ব্যবস্থাপনা’। ১৯ জুলাই জার্মানি ও বাংলাদেশের মধ্যে এ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হয়। প্রায় ৩ হাজার পৃষ্ঠার বিশাল চুক্তিপত্রে খুঁটিনাটি বিষয়ও বিশদভাবে বলা আছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে এখন চুক্তির অনেক কিছুই পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে রাজি হচ্ছে না জার্মান কোম্পানি ভেরিডোজ।
সূত্র বলছে, চুক্তি অনুযায়ী ই-পাসপোর্টে সংযুক্ত ইলেকট্রনিক চিপে একজন ব্যক্তির পুরো মুখমণ্ডল, চোখের মণি বা আইরিশ, দুই হাতের ১০ আঙুলের ছাপ, ডিজিটাল স্বাক্ষর ও নাম-ঠিকানাসহ বিস্তারিত ব্যক্তিগত তথ্য রাখার কথা। কিন্তু ভেরিডোজ এখন বলছে, সব তথ্য নেয়া হলেও চিপে সংরক্ষণ করা হবে এর আংশিক।
যেমন- ১০ আঙুলের ছাপ নেয়া হলেও ইলেকট্রনিক চিপে সংরক্ষিত রাখা হবে মাত্র ২টি আঙুলের ছাপ। ভেরিডোজের এই উদ্যোগে আপত্তি তুলেছে পাসপোর্ট অধিদফতর। কারণ মাত্র দুটি আঙুলের ছাপ রাখার ফলে পাসপোর্ট জালিয়াতির পথ অনেকটাই খোলা থাকবে। ফলে আঙুলের ছাপ জালিয়াতি করে একাধিক পাসপোর্ট নিতে জালিয়াত চক্রের খুব বেশি অসুবিধা হবে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাসপোর্ট অধিদফতরের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, আঙুলের ছাপ কমবেশি সংরক্ষণের মূলে খরচ বাঁচানোর কৌশল রয়েছে। কারণ ১০ আঙুলের ছাপ সংরক্ষণের জন্য উন্নত তথ্য ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ইলেকট্রনিক চিপ লাগাবে, যা মাত্র দুটি আঙুলের ছাপ সংরক্ষণের জন্য দারকার হবে না।
পাসপোর্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য হচ্ছে- যদি চিপে সংরক্ষণ করা না হয় তবে ১০ আঙুলের ছাপ নিয়ে কী লাভ। শুধু বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনীর ছাপ সংরক্ষণ করা হলে অন্য আঙুলের ছাপ দিয়ে পাসপোর্ট জালিয়াতির পথ খোলাই থাকবে।
সূত্র বলছে, এমন অবস্থায় দাফতরিক একাধিক চিঠি চালাচালির পর বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ডিসেম্বরে জার্মানি সফর করে। পাসপোর্ট অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মাসুদ রেজওয়ানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি ১১ ডিসেম্বর জার্মানির এথেন্সে ভেরিডোজের সঙ্গে মিটিংয়ে বসে। সেখানে উভয় দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনার একপর্যায়ে তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একজন পাসপোর্ট কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, পাসপোর্ট বুকলেটের নমুনা দেখানোর সময় ভেরিডোজ নিুমানের বুকলেট উপস্থাপন করে। পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের সময় বেশ দূর থেকে কভার পেজ দেখানো হয়, যাতে বুকলেটের থ্রিডি নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের ঘাটতি চোখে না পড়ে।
কিন্তু বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা খোলা চোখেই এই ঘাটতি ধরে ফেলেন। এরপর উপস্থাপিত বুকটেলে নমুনা ল্যাবটেস্টে পাঠানো হলে ঘাটতির বিষয়টি পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে যায়। তখন বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, এ ধরনের নিুমানের বুকলেট কিছুতেই গ্রহণ করা হবে না।
একপর্যায়ে ভেরিডোজের প্রতিনিধিরা বুকলেটের থ্রিডি বৈশিষ্ট্যের ঘাটতির বিষয়টি স্বীকার করে তা সংশোধনের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু দীর্ঘ আলোচনার পর ১০ আঙুলের ছাপের জায়গায় ২ আঙুলের ছাপ সংরক্ষণ সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে বৈঠকে কোনো ঐকমত্য হয়নি।
এরপর ২৮ জানুয়ারি ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমান খান চুক্তি অনুযায়ী ১০টি আঙুলের ছাপ সংরক্ষণের তাগাদা দিয়ে ভেরিডোজকে চিঠি দেন। পরদিন ২৯ জানুয়ারি এক চিঠিতে ভেরিডোজ জানায়, বিশ্বের কোথাও ই-পাসপোর্টে ১০ আঙুলের ছাপ সংরক্ষণ করা হয় না। উন্নত দেশের মধ্যে জার্মানিতে শুধু মুখমণ্ডল ও দুই আঙুলের ছাপ এবং অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও যুক্তরাজ্যে ই-পাসপোর্টের ইলেকট্রনিক চিপে শুধু মুখমণ্ডলের ছবি থাকে।
তবে ভেরিডোজের এই উদাহরণ মেনে নিচ্ছে না বাংলাদেশ। এ প্রসঙ্গে পাসপোর্ট অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মাসুদ রেজওয়ান যুগান্তরকে বলেন, পৃথিবির কোথাও ১০ আঙুলের ছাপ রাখা হয় না, এ কথাটি সঠিক নয়।
সৌদি আরবসহ আরও কয়েকটি দেশের ই-পাসপোর্টে ১০ আঙুলের ছাপই রয়েছে। উন্নত দেশে পাসপোর্ট জালিয়াতির ধরন আর বাংলাদেশে জালিয়াতির ধরনও এক নয়। তাছাড়া চুক্তিতে ১০ আঙুলের ছাপ সংরক্ষণের কথা বলা আছে। এখন দুটি আঙুলের ছাপ সংরক্ষণের কথা বলা চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
সূত্র বলছে, আঙুলের ছাপ সংরক্ষণ জটিলতা ছাড়াও ই-পাসপোর্ট প্রকল্পে আরও বেশকিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। যেমন- চলতি বছরের মে-জুনের মধ্যে প্রকল্পের প্রিন্টিং মেশিন চলে আসার কথা। কিন্তু এখনও এ সংক্রান্ত এলসি খোলাই হয়নি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নির্ধারিত সময়ে প্রিন্টিং মেশিন আসছে না।
এছাড়া বিদ্যমান মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে ই-পাসপোর্টের তথ্য সংযুক্তকরণের কাজও এগোয়নি। অথচ এই সংযুক্তকরণ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মেশিন রিডেবল প্রকল্পের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের তথ্যভাণ্ডারের সংযোগ না হলে একজন ব্যক্তি একাধিক পাসপোর্ট নিতে পারবে। মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট থাকার পরও নতুন আরেকটি ই-পাসপোর্ট নেয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যমান মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের তথ্যভাণ্ডার সংরক্ষণের কাজ করছে মালয়েশিয়ার আইরিশ কোম্পানি। আর ই-পাসপোর্ট প্রকল্পে যুক্ত হচ্ছে জার্মানির ভেরিডোজ। দুই প্রকল্পের তথ্যভাণ্ডার সংযুক্তির জন্য আইরিশ ও ভেরিডোজের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক একটি চুক্তি স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
কিন্তু এ চুক্তি প্রক্রিয়ার কোনো উদ্যোগ এখনও নেয়নি ভেরিডোজ। তছাড়া চুক্তি অনুযায়ী প্রকল্পের মোট অর্থের ১৫ শতাংশ এরই মধ্যে অগ্রিম হিসাবে ছাড় করা হয়েছে। অথচ মূল কোম্পানি তার সহযোগী কোম্পানিগুলোকে একটি টাকাও দিচ্ছে না। এতে প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে।
সূত্র জানায়, ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের নির্ধারিত সময় এরই মধ্যে একদফা পিছিয়ে গেছে। নতুন যে তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে সেটিও ঠিক থাকবে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মনে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। যেমন- গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর ই-পাসপোর্টের একটি নমুনা বুকলেট সরবরাহের কথা ছিল। কিন্তু এখন তারিখ পিছিয়ে নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ মার্চ। কিন্তু বিদ্যমান জটিলতা কাটিয়ে মাত্র এক মাস পরই মার্চে বুকলেট সরবরাহ করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।
একইভাবে প্রথম ব্যাচের বুকলেট সরবরাহের নতুন তারিখ ধরা হয়েছে ৩০ এপ্রিল। জার্মানির মিউনিখে রেফারেন্স সিস্টেম স্থাপনের নির্ধারিত তারিখ ছিল গত ৩১ ডিসেম্বর। এখন নতুন তারিখ ৩১ মার্চ। এছাড়া একটি আরপিওসহ ডাটা সেন্টার, ডিজাস্টার রিকভারি সাইট, পারসোনালাইজেশন সেন্টার ও এক সেট ই-গেট স্থাপনের নির্ধারিত তারিখ ১৫ জানুয়ারি থেকে পিছিয়ে ১৫ জুন নির্ধারণ করা হয়েছে।
ই-পাসপোর্ট প্রিন্টিংয়ের কার্যক্রম শুরুর নির্ধারিত তারিখ ৩০ জানুয়ারি থেকে পিছিয়ে ৩০ জুন করা হলেও তা আরেক দফা পিছিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন পাসপোর্ট অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, এরই মধ্যে বিদ্যমান মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত প্রিন্টিং মেশিনসহ আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব পুরনো যন্ত্রপাতি কোনোমতে জোড়াতালি দিয়ে পাসপোর্ট প্রিন্টিংসহ যাবতীয় কাজ চলানো হচ্ছে।
একই সঙ্গে অধিদফতরের গুদামে থাকা পাসপোর্ট বইয়ের মজুদও ফুরিয়ে আসছে। ফলে যথাসময়ে ই-পাসপোর্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে একদিকে যেমন নতুন করে এমআরপি বুকলেট সংগ্রহে জটিলতা দেখা দেবে, অন্যদিকে নতুন পাসপোর্টপ্রত্যাশীরাও বড় ধরনের বিড়ম্বনার মধ্যে পড়বেন।

Tuesday, November 6, 2018

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন: ১১৫টি অ্যাকাউন্ট মুছে দিল ফেসবুক

ভুয়া তত্ত্ব ও বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে এমন সন্দেহে ১১৫টি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। গতকাল সোমবার ফেসবুক এই তথ্য জানায়। খবর রয়টার্সের। 
 
ফেসবুকের তরফ থেকে বলা হয়, বাতিল করে দেওয়া ওইসব ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রাশিয়ার গুপচরদের সঙ্গে কোন যোগসাজশ আছে কিনা এর তদন্ত করা হবে। 
 
মার্কিন প্রশাসন থেকে বলা হয়, মধ্যবর্তী নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার জন্য রাশিয়া সামাজিক মাধ্যমের দ্বারা বিভিন্ন ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে।বাতিল হওয়া ৮৫টি অ্যাকাউন্ট ইন্সটাগ্রামে বিভিন্ন সন্দেহ মূলক পোস্ট করতো এবং অন্য ৩০ টি অ্যাকাউন্ট ফেসবুকে রাশিয়া এবং ফ্রান্সের বিভিন্ন পেজের সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কিছু অ্যাকাউন্ট সেলিব্রেটি ও রাজনৈতিক বিতর্ক নিয়ে পোস্টর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল।
 
ফেসবুকের পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে এমন পোস্টকৃত অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলা হবে এবং ওইসব অ্যাকাউন্ট এর বিরুদ্ধে তদন্ত করা হবে। 

Sunday, May 13, 2018

তিন মাসে ৮৩ লাখ ভিডিও মুছে ফেলল ইউটিউব

গত বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর- এ তিন মাসে ৮৩ লাখ ভিডিও মুছে ফেলেছে ইউটিউব। কমিউনিটি নীতিমালা না মানায় এসব ভিডিও মুছে ফেলা হয়েছে বলে ত্রৈমাসিক ‘এনফোর্সমেন্ট প্রতিবেদন’-এ উল্লেখ করেছে ইউটিউব কর্তৃপক্ষ।
অবশ্য এ প্রতিবেদনে কতগুলো ভিডিও কপিরাইট আইন ভাঙা বা আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে সরানো হয়েছে, তা উল্লেখ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। মঙ্গলবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ইউটিউব কর্তৃপক্ষ বলেছে, যৌনতাপূর্ণ ভিডিও সরিয়ে ফেলতে ইউটিউব ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে তিন মাসে ৯১ লাখ অনুরোধ পেয়েছিল ইউটিউব কর্তৃপক্ষ। ঘৃণা ছড়ানো বক্তব্য বা অবমাননাকর ভিডিও পোস্টের অভিযোগ পেয়েছিল ৪৭ লাখ। এসব অভিযোগের বেশির ভাগ এসেছিল ভারত, যুক্তরাষ্ট্র আর ব্রাজিল থেকে।
ইউটিউব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের তৈরি করা বিশেষ অ্যালগারিদম বা প্রোগ্রাম ৬৭ লাখ ভিডিওকে ফ্ল্যাগ দেখিয়ে মডারেটরদের কাছে পাঠায়, যা পরে মুছে ফেলা হয়। এসব ভিডিওর ৭৬ শতাংশই মডারেটর ছাড়া আর কেউ দেখেননি।
ইউটিউব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা মুছে ফেলা ভিডিওর বিশেষ তথ্য রেখে দিয়েছে। এতে কেউ যদি ওই ভিডিও আবার আপলোড করে, এটা নিমেষে ধরে ফেলা যাবে।
অবশ্য ইউটিউব কিডসের ক্ষেত্রে কত ভিডিও সরানো হয়েছে, সে তথ্য প্রকাশ করেনি ফেসবুক।
গত মার্চ মাস থেকে উসকানিমূলক ভিডিও ছড়ানো ঠেকাতে যুক্তরাজ্যজুড়ে ইউটিউবের সমালোচনা হচ্ছে।
ইউটিউব কর্তৃপক্ষ বলেছে, ইউটিউব ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টে এখন রিপোর্টিং ড্যাশবোর্ড যুক্ত করা হবে। এখানে যে ভিডিও বিষয়ে তারা আপত্তি জানাবেন, এর সর্বশেষ হালনাগাদ সম্পর্কে তথ্য জানতে পারবেন।

Saturday, May 12, 2018

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটে বাংলাদেশের লাভ কী

বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ এখন পৃথিবীর কক্ষপথে। ১১ মে শুক্রবার দিবাগত রাত ২ টা ১৪ মিনিটে ফ্যালকন-৯ রকেটে চড়ে মহাকাশে উড়ে যায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। এর মধ্যে দিয়ে ৫৭তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রবেশ করলো স্যাটেলাইটের গর্বিত মালিক হবার এলিট ক্লাবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটকে জাতীয় গর্বের প্রতীক হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। একইসংগে আলোচনায় আসছে, মহাকাশে এই স্যাটেলাইট পাঠিয়ে বাংলাদেশের সত্যিকার অর্জন কী হবে? এর লাভ-ক্ষতির পরিসংখ্যানই বা কেমন হবে? এটি কি নিছকই গর্বের প্রতীক হয়ে থাকবে? নাকি বাংলাদেশের ক্রমবিকাশমান অর্থনীতির মুকুটে বঙ্গবন্ধু-১ও জুড়ে দেবে নতুন নতুন সাফল্যের পালক?তারই চুলচেরা বিশ্লেষণ উপস্থাপিত হলো এই প্রতিবেদনে:
প্রথমেই প্রশ্ন উঠছে, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট থেকে বাণিজ্যিকভাবে কতোটা লাভবান হবার সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের? কীভাবে এবং কতোভাবে কাজে লাগানো যাবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-কে? এসব প্রশ্নের জবাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছেন, এই স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার রয়েছে। এর ২০টি নিজেদের ব্যবহারের জন্য রেখে বাকি ২০টি বিক্রি/ভাড়ার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় এবং ব্যয় সাশ্রয় দু’টিই হবে। এছাড়া দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট সেবা ছড়িয়ে দেওয়া যাবে দুর্বার গতিতে। দুর্যোগ মোকাবিলার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতেও ভূমিকা রাখবে এই স্যাটেলাইট।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নির্ভর করবে যথাযথ ব্যবসায়িক কৌশলের ওপর। স্যাটেলাইটটি কার্যক্রম শুরু করলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে যে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা যাবে, তার আর্থিক মূল্যায়ন অংকের হিসাবে করা সমীচীন হবে না বলেও মনে করেন তাঁরা। কী কী কাজ করা যাবে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট দিয়ে: তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এক নিবন্ধে বলেছেন, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মূলতঃ তিন ধরনের সেবা পাওয়া সম্ভব। এগুলো হলো- সম্প্রচার, টেলিযোগাযোগ এবং ডাটা কমিউনিকেশন। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে টিভি চ্যানেল আছে প্রায় ৪৫টি। টেলিভিশনের সম্প্রচারের কাজ করতে পারবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। এছাড়াও দেশে ইন্টারনেট সেবা-দানকারী প্রতিষ্ঠান বা আইএসপি আছে কয়েকশ’। বঙ্গব্ন্ধু স্যাটেলাইট-১ থেকে এরাও সরাসরি সুবিধা পাবে।
বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি ও কমিউনিটি রেডিও রয়েছে প্রায় পঞ্চাশটির অধিক। রেডিও সম্প্রচারেও ব্যবহৃত হবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। এছাড়া স্যাটেলাইটে নিজস্ব ভি-স্যাট থাকবে; যার মাধ্যমে ব্যাংক ও অন্য কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভয়েস, ডাটা ও ইন্টারনেট সেবা নিতে পারবে। ডাইরেক্ট-টু-হোম (ডিটিএইচ) ভিডিও সার্ভিস, ই-লার্নিং, টেলি-মেডিসিন, পরিবার পরিকল্পনা, কৃষি খাতসহ দুর্যোগ থেকে উদ্ধারে ভয়েস সার্ভিসের জন্য সেলুলার নেটওয়ার্ক কার্যক্রম এবং এসসিএডিএ, এওএইচও-এর ডাটা সার্ভিসের পাশাপাশি বিজনেস-টু-বিজনেস (ভি-স্যাট) পরিচালনার জাজ ও পদ্ধতি আরো সহজতর করবে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট।
আয়ের সম্ভাবনা: বিটিআরসি’র হিসাবে, প্রতিটি টিভি চ্যানেল স্যাটেলাইটের ভাড়া বাবদ প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ ডলার ব্যয় করে থাকে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের চালু হওয়ায় শুধু বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রারই সাশ্রয় হবে না, অব্যবহৃত অংশ নেপাল, ভুটান-এর মতো দেশে ভাড়া দিয়ে প্রাথমিকভাবে আয় হবে ৫ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৪১ কোটি টাকা। পর্যায়ক্রমে এ আয় বেড়ে হতে পারে ১৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ১১৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এই হিসাবে ১৫ বছরে আয় হবে ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা।
বিটিআরসি জানিয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের সকল বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল তাদের সম্প্রচারের জন্য এ্যাস্টার-৭ ব্যবহার করছে, যা ৭৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি পূর্বে। শুধু রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) তাদের সম্প্রচার এশিয়াস্যাট-৭ থেকে সম্প্রচার কার্যক্রম চালায়, যা ১০৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি পূর্বে। বিদেশি স্যাটেলাইট ভাড়া বাবদ বাংলাদেশের প্রতিটি টেলিভিশন স্টেশন মাসে ২৪ হাজার ডলার খরচ করে। সেই হিসেবে বাংলাদেশের সব টেলিভিশন চ্যানেলের বিদেশি স্যাটেলাইট ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে মোট খরচের পরিমাণ প্রায় ১৫ লাখ ডলার।
আশা করা হচ্ছে, ক্যাবল টেলিভিশন সার্ভিস প্রোভাইডারদের বিকল্প হিসেবে ডাইরেক্ট-টু-হোম (ডিটিএইচ) তখন স্যাটেলাইটের অন্যতম প্রধান গ্রাহক হবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর ন্যূনতম আয়ুস্কাল ধরা হয়েছে ১৫ বছর। এর মধ্যে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পর তিন বছর পর্যন্ত প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেবে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ‘থ্যালেস অ্যালেনিয়া’। এর পর আমাদের দেশীয় তরুণ প্রকৌশলীদের মাধ্যমে তা পরিচালিত হবে। ইতিমধ্যে পাঁচ হাজার কোটি টাকার অনুমোদিত মূলধন নিয়ে ‘বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড’ গঠন করা হয়েছে। এই কোম্পানি স্যাটেলাইটের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে।

Friday, May 11, 2018

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণ

স্বপ্ন নয়, সত্যি। অবশেষে মহাকাশে ডানা মেললো বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকাল ৪টা ১৪ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা রাজ্যের অরল্যান্ডোর কেনেডি স্পেস সেন্টারের কেপ কেনাভেরাল থেকে সম্পূর্ণ নতুন একটি ফ্যালকন-৯ রকেটের মাধ্যমে এটি উৎক্ষেপণ করে মহাকাশ অনুসন্ধান ও মহাকাশ যান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেস এক্স।

মাত্র ৩ মিনিটের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ রকেট ফ্যালকন-৯ মহাকাশে পৌঁছে যায় এবং তা নির্ধারিত প্যাডে ফেরত আসে। স্পেস এক্স জানিয়েছে, উৎক্ষেপণ সম্পূর্ণ নির্ভুল ছিল। ৩৩ মিনিট পর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত কক্ষপথ ১১৯ দশমিক ১ দ্রাঘিমাংশে অবস্থান নেবে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

এর আগে ৬ বার তারিখ পরিবর্তনের পর বৃহস্পতিবার মাত্র ৪২ সেকেন্ডে আগে উৎক্ষেপণ বাতিল হয়ে যায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের। রকেট ও স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত থাকলেও গ্রাউন্ড সিস্টেমে প্রস্তুত না থাকায় কম্পিউটার সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে উৎক্ষেপণ বন্ধ করে দেয়। তবে উৎক্ষেপণের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি বিরাজ করছিল সর্বত্র। তবে সফল উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে সেই অবস্থার অবসান হলো। অন্যদিকে বিশ্বের ৫৭তম স্যাটেলাইটের অধিকারী দেশ হলো বাংলাদেশ।

উৎক্ষেপণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, ৩০ সদস্যের বাংলাদেশের দলের নেতা তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ ও ইমরান আহমেদ, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম. জিয়াউদ্দিন, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল শামীম আহসানসহ সহস্রাধিক বাংলাদেশি। দুই শতাধিক ব্যক্তির স্পেস এক্স-এর কেনেডি স্পেস সেন্টারে প্রবেশাধিকার থাকলেও অন্যরা বিভিন্ন স্থান থেকে উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ করেছেন।


যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে দলের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী বিভিন্ন স্থান থেকে উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ করেন। বিভিন্ন রাজ্য থেকে নেতা-কর্মীরা আগে থেকেই ফ্লোরিডা যান উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ করতে।
বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান ড. শাহাজান মাহমুদ জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের যেমন নির্ভরতা কমবে অন্য দেশের ওপর, তেমনি দেশের অভ্যন্তরীণ টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। স্পেস এক্স-এর উৎক্ষেপণযান বা রকেট ফ্যালকন-৯ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটকে মহাকাশে ১১৯ দশমিক ১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত অরবিট প্লটে স্থাপন করবে। আর স্যাটেলাইটের সুবিধা পেতে বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হবে প্রায় এক মাস।

ফ্রান্সের কান টুলুজ ফ্যাসিলিটিতে নির্মিত বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ ইতিমধ্যে ফ্রান্স থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় কার্গো বিমানে করে উৎক্ষেপণস্থল ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোর ক্যাপ ক্যানাভেরালে নিয়ে যাওয়া হয়। বিশ্বের অন্যতম খ্যাতনামা স্যাটেলাইট নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের থেলেস এলেনিয়া স্পেস বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটি নির্মাণ করেছে।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৯০২ কোটি টাকার মত। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এক হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা এবং অবশিষ্ট এক হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা বিডার্স ফাইনান্সিং-এর মাধ্যমে ব্যয় সংকুলান হয়েছে।


বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ভূমি থেকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার জন্য গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে প্রাথমিক এবং রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র দ্বিতীয় গ্রাউন্ড স্টেশনের নির্মাণ কাজও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মহাকাশে উৎক্ষেপণের পর এটি পরিচালনা, সফল ব্যবহার ও বাণিজ্যিক কার্যত্রম সম্পাদনের জন্য ইতিমধ্যে সরকারি মালিকানাধীন বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি গঠন করা হয়েছে। নতুন এই কোম্পানিতে কারিগরী লোকবল নিয়োগ এবং তাদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে দেশের স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল, ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, ভি-স্যাট সংস্থা বিদেশি স্যাটেলাইট ব্যবহার করছে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ খাতে ব্যয় করছে বছরে ১৪ মিলিয়ন ডলার। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের কার্যক্রম শুরু হলে এই বিপুল অর্থ দেশেই থেকে যাবে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার রয়েছে। এরমধ্যে ২০টি দেশে ব্যবহারের জন্য এবং ২০টি ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মূদ্রা আয় হবে। এছাড়া নিজস্ব স্যাটেলাইট থাকায় বৈশ্বিক টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে পরনির্ভরশীলতার অবসান হবে। টেলিমেডিসিন, ই-লার্নিং, ই-গবেষণা, ভিডিও কনফারেন্স, প্রতিরক্ষা ও দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় জরুরি যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট।
এদিকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণ উপলক্ষে অরল্যান্ডোর বিভিন্ন স্থানে উৎসব করে বাংলাদেশিরা। তারা আতশবাজি জ্বালিয়ে আনন্দ প্রকাশ করে।


উৎক্ষেপণ উৎসবে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীরা।

জাতির গৌরবময় এ মুহূর্তটির সাক্ষী হতে অরল্যান্ডো কেনেডি স্পেস সেন্টারে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের সমাগম ঘটে, উৎক্ষেপণের তারিখ পিছিয়ে গেলেও উৎসব-আমেজে তেমন ভাটা পড়েনি। তবে একদিন পিছিয়ে যাওয়ায় সবাইকে ফ্লাইটের টিকিট পরিবর্তনসহ হোটেল-মোটেলের বাড়তি ভাড়া গুনতে হয়েছে। এর আগেও কয়েক দফায় অনেক প্রবাসীর ফ্লাইটের টিকিট বাতিল হয়েছে।
নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, পেনসিলভেনিয়া, ভার্জিনিয়া, বস্টন ও স্বগতিক ফ্লোরিডাসহ বিভিন্ন স্থানের প্রবাসীরা জড়ো হন ফ্লোরিডায়। তাদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, সহ-সভাপতি এম ফজলুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, যুগ্ম সম্পাদক আইরিন পারভিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফারুক আহমেদ ও মহিউদ্দিন দেওয়ান, সম্পাদকম-লীর সদস্য মিসবাহ আহমেদ, সোলায়মান আলী, ফরিদ আলম, তৈয়বুর রহমান টনি, নির্বাহী সদস্য শাহানারা রহমান, খোরশেদ খন্দকার, ওয়াশিংটন ডিসির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী বাকি, পেনসিলভেনিয়া স্টেট কমিটির সভাপতি আবু তাহের, নিউ ইংল্যান্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউসুফ চৌধুরী এবং আটলান্টা থেকে মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন।




এছাড়া রয়েছেন পিপল এন টেক ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা আবু হানিফ, ফেমা ক্যাশের প্রধান নির্বাহী সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ-আমেরিকা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ মো. আবুল কাশেম, নির্বাহী সদস্য নিহার সিদ্দিকী ও আশরাফুল বুলবুল।

শেষ মুহূর্তে এসে অপেক্ষা বাড়লো আরও একদিন

মহাকাশে পানে উড়তে গিয়েও উড়ল না বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট। প্রযুক্তিগত ক্রুটির কারণে আরও একদিন অপেক্ষা বাড়লো বাংলাদেশের। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় ভোররাত ৩টা ৪৭ মিনিটে বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহটির যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে মহাকাশ পানে যাত্রা শুরুর কথা ছিল।
সব প্রস্তুতি সেরে উৎক্ষেপণের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছিলো; কিন্তু মিনিট খানেক আগে সমস্যা দেখা দেওয়ায় স্যাটেলাইটটি আর ওড়েনি লঞ্চ প্যাড থেকে।
কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “উৎক্ষেপণের ঠিক দুই মিনিট আগে এটি কম্পিউটারের কন্ট্রোলে চলে যায়।
“হয়ত কিছু সমস্যায় আপতত উৎক্ষেপণ স্থগিত করা হয়েছে। আগামীকাল ঠিক একই সময় পুনরায় উৎক্ষেপণের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।”
সেখানে উপস্থিত তারানা হালিমও বলেন, “আগামীকাল একই সময়ে উৎক্ষেপণের ক্ষণ নির্ধারণ করা হয়েছে।”
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণটি ২৪ ঘণ্টার মতো পিছিয়ে যাচ্ছে। কী সমস্যা দেখা দিয়েছে, তা চিহ্নিত করা যায়নি।
উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের দুর্লভ এ মুহূর্ত সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ দেশের সবক’টি বেসরকারি টেলিভিশন। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকারী প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সও উৎক্ষেপণ মুহূর্তটি সরাসরি সম্প্রচার করবে।

Sunday, April 29, 2018

ঝড়ের কবলে জেট এয়ারওয়েজের ফ্লাইট, আতঙ্কে যাত্রীরা

ভারতের কলকাতা ও মুম্বাই থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা জেট এয়ারওয়েজের দুটি ফ্লাইট ঝড়ের কবলে পড়ে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের অনেক পরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট দুটি অবতরণ করে।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আকাশে অতিরিক্ত সময় উড়তে থাকলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট ইনকোয়ারি বিভাগে কর্মরত জয়নাল আবেদিন জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কলকাতা থেকে জেট এয়ারওয়েজের ৯ডব্লিউ-২৭৪ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৯টা ৫ মিনিটের পরিবর্তে ৯টা ৩৪ মিনিটে অবতরণ করে। এছাড়া জেট এয়ারওয়েজের মুম্বাই থেকে আসা অপর ফ্লাইট ৯ডব্লিউ-২৭৬ ১১টা ১৫ মিনিটের পরিবর্তে ১২টা ১৮ মিনিটে অবতরণ করে।
জেট এয়ারওয়েজের কলকাতা থেকে আসা যাত্রী আশরাফুল ইসলাম রানা নামের এক যাত্রী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, রোববার সকাল ৭টা ২০ মিনিটে কলকাতা থেকে রওনা দেয়া জেট এয়ার ৩০ মিনিটে ঢাকা পৌঁছানোর কথা থাকলেও পারেনি। বিমানটি ঝড়ের কবলে পড়ে ব্যাপক ধাক্কা এবং দোলুনিতে ঢাকা থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান নেয়।’
তিনি আরও লিখেন, ‘দীর্ঘ ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট ঝড়ের কারণে আকাশে অবস্থান নেয়ায় জ্বালানি সঙ্কটে পড়ে বিমানটি। যাত্রীদের হাহাকার এবং উৎকণ্ঠার ভেতর দিয়ে অবশেষে ঝড়ের ভেতরই ইমার্জেন্সি ঢাকাতে অবতরণ করতে হয়েছে। জেট এয়ারওয়েজর পাইলটের দক্ষতায় সকাল ১০টায় শত ঝাঁকুনি আর ঝড়ের ভেতরেও অবশেষে সর্তক অবতরণ করে। এতে বেঁচে গেল শতাধিক যাত্রী। তবে জ্বালানি সঙ্কটে না পড়লে ঝড় থামা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারতো প্লেইনটি, জানিয়েছে জেট কর্তৃপক্ষ।’
বিমানবন্দর ফ্লাইট সূত্রে জানা গেছে, শুধু এ ফ্লাইট দুটি নয়, রোববার সকালে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভোর সোয়া ৬টা সকাল সোয়া ৮টা পর্যন্ত (২ ঘণ্টা) ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ ছিল। ফলে আন্তর্জাতিক রুটের বিভিন্ন গন্তব্য থেকে ছেড়ে আসা বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটও দেরিতে অবতরণ করে।

Thursday, April 26, 2018

১৬ বছরের নিচে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার নিষিদ্ধ হচ্ছে ইউরোপে

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোতে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতে পারবে না ১৬ বছরের কম বয়সীরা। এ জন্য নিজেদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে এমন  নিষেধাজ্ঞা আনতে চলেছে বার্তা আদান-প্রদানে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান হোয়াটসঅ্যাপ। খবর সিএনএন।
বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারে সর্বনিম্ন বয়সসীমা ১৩ বছর। কিন্তু ইউরোপে তথ্যের গোপনীয়তা বিধানের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী মে মাস থেকে নিজেদের নীতিমালায় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ।
আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই যে কেউ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করার আগে তাদের বয়স নিশ্চিত করতে হবে। তবে ব্যবহারকারীদের প্রকৃত বয়স কিভাবে যাচাই করা হবে সে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়।
আগামী ২৫ মে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জেনারেল ডেটা প্রটেকশন রেগুলেশন (জিডিপিআর) কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানি কিভাবে তথ্য ব্যবহার করবে সে বিষয়ে জানানো হবে। ব্যবহারকারীদের নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলার অধিকার রয়েছে। নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য তারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, ইউরোপের বাইরে বিশ্বের অন্যান্য দেশে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারে সর্বনিম্ন বয়সসীমা ১৩ তেই রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বার্তা আদান-প্রদানে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান হোয়াটসঅ্যাপের।

Saturday, April 14, 2018

ই-পাসপোর্ট যুগে ঢুকছে বাংলাদেশ


বিশ্বের ১১৮টি দেশে চালু রয়েছে ই-পাসপোর্ট বা ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট। ওই দেশগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশও প্রবেশ করতে যাচ্ছে ই-পাসপোর্ট যুগে। নিরাপত্তা চিহ্ন হিসেবে ই-পাসপোর্টে থাকবে চোখের মণির ছবি ও আঙুলের ছাপ। আর এর পাতায় থাকা চিপসে সংরক্ষিত থাকবে পাসপোর্টধারীর সব তথ্য। ফলে পরিচয় গোপন করা সম্ভব হবে না।
অন্যদিকে দেশের ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে বর্তমানে প্রায় দুই কোটি মানুষ মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) মালিক। প্রতিদিন গড়ে ২০ হাজার মানুষ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করছে। সময়মতো পাসপোর্ট দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে পাসপোর্ট অফিসগুলো। এর কারণ, প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাব। পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ দিলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে। ২০১০ সালে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) চালু হওয়ার সময় যেসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার হচ্ছিল সেগুলো দিয়েই এখনো কাজ চলছে। এসব যন্ত্রের অধিকাংশ বিকল। এক যন্ত্রের পার্টস অন্য যন্ত্রে বসিয়ে জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে কাজ।
এসব নিয়েই আজ শনিবার শুরু হচ্ছে পাসপোর্ট সেবা সপ্তাহ। চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এ উপলক্ষে প্রতিটি পাসপোর্ট অফিসে সেবার মান বাড়ানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে কর্মকর্তারা দাবি জানিয়েছেন ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট ক্যাডার নামের বিসিএস ক্যাডার পদ সৃষ্টির।
ই-পাসপোর্ট : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে এমআরপির পাশাপাশি ই-পাসপোর্ট চালুর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। একই সময় পাসপোর্টের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুুযায়ী যে দিন থেকে ই-পাসপোর্ট চালু হবে সেদিন থেকে এমআরপি পাসপোর্ট রিনিউ করতে গেলে ই-পাসপোর্ট করতে হবে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, কানাডাসহ ১১৮টি দেশে ই-পাসপোর্ট চালু আছে। বর্তমানে সাধারণ ও জরুরি পাসপোর্ট করতে যথাক্রমে তিন হাজার ও ছয় হাজার টাকা ফি দিতে হয়। মেয়াদ পাঁচ বছর। ই-পাসপোর্ট সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রসচিব (সুরক্ষা সেবা বিভাগ) ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী ই-পাসপোর্টের কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।’
পাসপোর্ট অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, জার্মান সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। জার্মানির প্রযুক্তি নিয়ে জিটুজির মাধ্যমে বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট করা হবে। ই-পাসপোর্ট শুরু হলে সেবার মান আরো বাড়বে। এতে জালিয়াতি রোধ করা সম্ভব হবে। এর জন্য বিমান, স্থল ও নৌবন্দরে ই-গেট স্থাপন করা হবে। ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট পেরিয়ে যাওয়া ই-পাসপোর্টধারী ব্যক্তি লাইনে না দাঁড়িয়েই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইমিগ্রেশন শেষ করতে পারবেন। এতে সময় ও ভোগান্তি কমবে।
যেভাবে পাসপোর্ট করবেন : দেশে ৭১টি পাসপোর্ট অফিস রয়েছে।  প্রতিদিন এসব অফিসে প্রায় ২০ হাজার নতুন পাসপোর্ট ও নবায়নের আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ঢাকার আগারগাঁও, যাত্রাবাড়ী, উত্তরা ও কেরানীগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে জমা পড়ে গড়ে চার হাজার আবেদন। সাধারণ পাসপোর্টের জন্য ফি জমা দিতে হয় তিন হাজার ৪৫০ টাকা এবং জরুরি পাসপোর্টের জন্য দিতে হয় ছয় হাজার ৯০০ টাকা। পাসপোর্ট অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত এক কোটি ৯৬ লাখ সাত হাজার ৬৬৬টি মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) ও ছয় লাখ ২৬০টি মেশিন রিডেবল ভিসা (এমআরভি) মুদ্রণ করা হয়েছে।
মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট বা এমআরপি হচ্ছে এমন একটি পাসপোর্ট যাতে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য জলছাপের মাধ্যমে ছবির নিচে লুকায়িত থাকে। একই সঙ্গে এতে থাকে একটি ‘মেশিন রিডেবল জোন (MRZ)’, যা পাসপোর্ট বহনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য বিবরণী ধারণ করে। এমআরজেড লাইনে লুকায়িত তথ্য শুধু নির্দিষ্ট মেশিনের মাধ্যমে পড়া যায়।
পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, এমআরপির নির্ধারিত ফরম পূরণ করে ব্যাংকে পাসপোর্টের নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে ব্যাংক ভাউচার আবেদন ফরমের সঙ্গে যুক্ত করে আবেদন করতে হয়। সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাষিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী, সরকারি চাকরিজীবীদের নির্ভরশীল স্বামী-স্ত্রী এবং তাঁদের ১৫ বছরের কম বয়সের সন্তানদের জন্য একটি ফরম ও অন্যদের ক্ষেত্রে নতুন পাসপোর্টের জন্য দুই কপি ফরম পূরণ করে জমা দিতে হয়। জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক টেকনিক্যাল সনদসমূহের (যেমন—ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ড্রাইভার ইত্যাদি) সত্যায়িত ফটোকপি জমা দিতে হয়। ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিটি বিভাগীয়/আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে মুক্তিযোদ্ধা, বয়স্ক নাগরিক, অসুস্থ ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধী নাগরিকদের জন্য আলাদা কাউন্টারে আবেদন করার ব্যবস্থা রয়েছে।
পাসপোর্ট সহজে পেতে যা করা প্রয়োজন : খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাসপোর্ট করতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয় এসবির রিপোর্ট পেতে। কাউকে জরুরি বিদেশে যেতে হলেও এসবির রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত পাসপোর্ট করা যায় না।
পাসপোর্ট অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী এসবির রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত পাসপোর্ট করে দেওয়া সম্ভব নয়। এসবির রিপোর্ট পেতে বাড়তি টাকা গুনতে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। গত বুধবার দুপুরে আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে কথা হয় আহসান নামে মিরপুরের এক বাসিন্দার সঙ্গে। তিনি পাসপোর্ট নিয়ে ফিরে যাচ্ছিলেন। পাসপোর্ট কিভাবে করলেন জানতে চাইলে তিনি জানান, এসবির রিপোর্টের জন্য এক হাজার টাকা দিতে হয়েছে তাঁকে।
পাসপোর্ট অদিপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, দেশের সব নাগরিকের স্মার্টকার্ড হয়ে গেলে এসবির রিপোর্ট ছাড়াও পাসপোর্ট হতে পারে। যদি সেটি হয় তাহলে পাসপোর্ট পেতে সময় কম লাগবে।
মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পাসপোর্টের জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে এসবির রিপোর্টের প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। যাঁদের ন্যাশনাল আইডি কার্ড রয়েছে তাঁরা আবেদন করলে পাসপোর্ট পাওয়ার অধিকার রাখেন। এ ক্ষেত্রে পাসপোর্ট অফিস একটি কপি অনলাইনে এসবির কাছে পাঠিয়ে দিতে পারেন। যদি ওই ব্যক্তি অভিযুক্ত না হন তাহলে সঙ্গে সঙ্গে এসবির পক্ষ থেকে জানিয়ে দিলে পাসপোর্টের ভেরিফিকেশন-সংক্রান্ত জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

পাসপোর্টে যেসব তথ্য আর কখনোও পরিবর্তন করা যাবে না


পাসর্পোট নবায়নে বাবা-মা, বয়স কিংবা ঠিকানা যেকোন বিষয় পরিবর্তন করা যেত। নতুন পাসর্পোট করার ক্ষেত্রে পূর্বে পাসর্পোট নবায়ন কারীরা এ ধরণের বিষয়গুলো পরিবর্তন করার যথেষ্ট সুযোগ পেত। কিন্তু এখন থেকে সেটি আর করা যাবে না বলে এ সংক্রান্ত এক আদেশ জানিয়ে দিয়েছে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর।
গত ৭ মার্চ পাসপোর্টে তথ্য পরিবর্তন সংক্রান্ত এক আদেশে বলা হয়, পাসপোর্টধারীর নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম ও জন্ম তারিখে পরিবর্তনের আর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
গতকাল ঢাকার আগারগাঁওয়ে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের নির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাসুদ রেজওয়ান বলেন, “নাম ও বয়স পরিবর্তনের আর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে না। আগে যে তথ্য দিয়ে পাসপোর্ট করা হয়েছে সেটিই কার্যকর থাকবে।”
অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, গত ৭ মার্চ থেকে এধরনের প্রায় ২০ হাজার আবেদন তাদের কাছে জমা পড়েছে। কিন্তু এসব আবেদনের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। যারা এধরনের আবেদন করেন তাদের বেশিরভাগই প্রবাসী বাংলাদেশি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মহাপরিচালক বলেন, যথেচ্ছভাবে নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম ও জন্মতারিখ পরিবর্তন করা হচ্ছিল। এরকম পাসপোর্টধারীরা বিদেশে ইমিগ্রেশনে ঝামেলার মুখে পড়েন। এর ফলে দেশেরও ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

Thursday, April 5, 2018

ফেসবুক কেলেঙ্কারি : পৌনে ৯ কোটি ব্যবহারকারীর তথ্য বেহাত

ফেসবুক বলেছে, পাঁচ কোটি নয়, প্রায় আট কোটি ৭০ লাখ গ্রাহকের তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে লন্ডনভিত্তিক রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা (সিএ)।
প্রতিষ্ঠানটি যাদের তথ্য নিয়েছে, তাদের অধিকাংশই যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা। তবে এক কোটি ৬০ লাখ ব্যবহারকারী অন্য দেশের, যাদের মধ্যে প্রায় ১১ লাখ যুক্তরাজ্যে থাকেন।
ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ বলেন, নিজেদের দায়িত্বের ক্ষেত্রে আমরা বেশি নজর দিইনি। সত্যিকার অর্থে এটি বিশাল ভুল ছিল। আর ভুলটি ছিল আমার নিজের।
এ তথ্য কেলেঙ্কারির ঘটনায় কাউকে চাকরি হারাতে হয়েছে কিনা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এ জায়গাটি আমিই তৈরি করেছি। আমি এটি চালাই। এখানে যা ঘটছে, সব কিছুর জন্য আমি দায়ী। আমি ভালো কিছু করতে যাচ্ছি, ভালো কিছু করা আমাদের পক্ষে সম্ভব। জাকারবার্গ বলেন, নিজের ভুলের জন্য আমি কাউকে চলন্ত বাসের নিচে ছুড়ে ফেলতে পারি না।
২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে প্রচারের কৌশল নির্ধারণে ফেসবুক গ্রাহকদের তথ্য ব্যবহার করেছিল ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা।
ব্রিটিশ ওই পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটির সাবেক কর্মী ক্রিস্টোফার উইলি গত মাসে ওই ঘটনা ফাঁস করে দিলে বড় ধরনের ধাক্কা খায় ফেসবুক। তীব্র সমালোচনার মুখে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের তথ্যের গোপনীয়তা পরিবর্তন আনে। বিজ্ঞাপনদাতাদের পরামর্শক হিসেবে কাজ করে, এমন কয়েকটি ডেটা ব্রোকার ফার্মের সঙ্গে ব্যবসাও বন্ধ করে দেয়া হয়।
ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা ওই তথ্য কিনেছিল দিস ইজ ইওর ডিজিটাল লাইফ নামে একটি কুইজভিত্তিক ফেসবুকঅ্যাপের মালিকের কাছ থেকে।
ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষকের তৈরি করা ওই অ্যাপের মাধ্যমে চালানো ওই কুইজে অংশ নিয়েছিলেন তিন লাখ পাঁচ হাজার ফেসবুক ব্যবহারকারী।
আর তাদের বন্ধুতালিকা থেকে আরও কয়েক কোটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টধারীর ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেয়া হয়েছিল ওই অ্যাপের মাধ্যমে।
কতজন ফেসবুক ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার হাতে গেছে, সে বিষয়ে একটি ব্লগে ধারণা দিয়েছেন ফেসবুকের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা। তিনিই জানিয়েছেন, ওই সংখ্যা আট কোটি ৭০ লাখের মতো হতে পারে।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে জাকারবার্গ বলেন, আমাদের আরও অনেক কিছু করা উচিত ছিল, আমরা সেটি করব।
জাকারবার্গ বলেন, তিনি আগে ভাবতেন, ফেসবুকের সুবিধাকে কীভাবে ব্যবহার করল, সেই দায় ব্যবহারকারীর ওপরই বর্তাবে।
কিন্তু এখন ফেসবুকপ্রধানের ধারণা হয়েছে- তার সেই চিন্তায় সীমাবদ্ধতা ছিল। তিনি এখন বুঝতে পারছেন, ফেসবুককেও আরও দায়িত্ব নিতে হবে।

Wednesday, March 28, 2018

এবার ফেসবুকের বিরুদ্ধে মামলা

গোপনীয়তা লঙ্ঘনের কারণে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তিন ফেসবুক ব্যবহারকারী। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিসট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে  ফেসবুকের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন তারা। খবর খালিজ টাইমস।
ওই তিন ফেসবুক ব্যবহারকারীর অভিযোগ, ফোনকল ও টেক্সট মেসেজের তথ্য সংগ্রহ করে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক।
মামলাটি ক্ষতিগ্রস্ত সব ফেসবুক ব্যবহারকারীর পক্ষ থেকে করা হয়েছে। এ বিষয় নিয়ে ফেসবুকের পক্ষ থেকে এখনও কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

গত রোববার ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ব্যবহারকারীদের কল লগ ও এসএমএস তথ্য সংগ্রহ করার কথা স্বীকার করে। তবে ফেসবুক দাবি করে, তারা অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম থেকে যে তথ্য সংগ্রহ করে তা ব্যবহারকারীর অনুমতি নিয়েই করে। তবে তারা সরাসরি কোনো কল বা এসএমএস কনটেন্ট সংগ্রহ করে রাখে না। তবে যে তথ্য সংগ্রহ করে, তা পুরোপুরি নিরাপদ। এসব তথ্য কোনো থার্ড পার্টি অ্যাপ্লিকেশনের কাছে বিক্রি করা হয় না।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি নির্বাচন বিষয়ক  ব্রিটিশ গবেষণা সংস্থা ‘কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা’পাঁচ কোটি ফেসবুক গ্রাহকের তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে এমন অভিযোগ ওঠার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটিকে বর্জনের ঝড় উঠেছে। তাতে রাজনীতিক থেকে শুরু করে তথ্য প্রযুক্তির শীর্ষ কর্তা ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

Tuesday, March 27, 2018

ফেইসবুক তথ্য কেলেঙ্কারিতে নতুন নাম কানাডিয়ান কোম্পানির

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৫ কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য কেলেংকারীর ঘটনায় নতুন করে নাম এসেছে কানাডিয়ান এক কোম্পানির। এতদিন লন্ডনভিত্তিক রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা নাম জানা গিয়েছিল। পাশাপাশি কানাডিয়ান কোম্পানি অ্যাগ্রেগেটেল আইকিউয়ের নাম উঠে এসেছে এ আলোচনায়।

২০১৪ সালে একটি পারসোনালিটি কুইজের মাধ্যমে পাঁচ কোটি ফেইসবুক গ্রাহকের তথ্য হাতিয়ে ট্রাম্পের প্রচারণায় কাজে লাগায় কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা। এই ফেইসবুক গ্রাহকদের অধিকাংশই ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা।

জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে তৈরি করা 'রিপন' নামে সফটওয়্যারটির মাধ্যমে ভোটার ডেটাবেইজ, নির্দিষ্ট ভোটারদের টানতে কর্মকৌশল, প্রচার কার্যক্রম, তহবিল সংগ্রহ এবং সমীক্ষা পরিচালনার কাজ করে ট্রাম্প শিবির।

এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে ফেইসবুকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গকে তলব করেছিল ব্রিটিশ পার্লামেন্টের তদন্ত কমিটি। তবে জাকারবার্গ বলেছেন, তিনি নিজে আসছেন না। ইস্টার সানডের পর তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হবেন ফেইসবুকের চিফ প্রোডাক্ট অফিসার ক্রিস কক্স।

কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার পাশাপাশি কানাডিয়ান কোম্পানির নাম আসা প্রসঙ্গে কানাডায় ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় নিয়োজিত কানাডিয়ান ফেডারেল এজেন্সি মঙ্গলবার বলেছে, এ বিষয়ে আলোচনার জন্য তারা ইতোমধ্যে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

এদিকে এ ঘটনায় গত সপ্তাহে ভুল স্বীকার করে ফেইসবুক পোস্টে ক্ষমা চেয়েছেন জাকারবার্গ। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সাপ্তাহিক ছুটির দিন রোববার দুই দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্রে পৃষ্ঠাজুড়ে বিজ্ঞাপন দিয়েও ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। জাকারবার্গ বলেছেন, কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার মাধ্যমে লাখ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁস ঠেকাতে তারা আরও পদক্ষেপ নিতে পারতেন।

ভবিষ্যতে ফেইসবুক গ্রাহকদের তথ্যে তৃতীয়পক্ষের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জাকারবার্গ।

Tuesday, March 20, 2018

টাকা নিয়ে উধাও জিএমজি অস্তিত্ব সংকটে ইউনাইটেড


সাধারণ বিনিয়োগকারী ও ব্যাংকের ১ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা আটকে আছে * সম্পদ বিক্রি করে টাকা আদায়ের পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের


চরম দুরবস্থায় পড়েছে শেয়ারবাজারে আসা দুই বিমান কোম্পানি। এর মধ্যে প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি করে ৩শ’ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন জিএমজি এয়ারলাইন্স।
এছাড়াও রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক থেকে প্রায় ২৩০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আর ফেরত দেয়নি। অন্যদিকে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ। প্রতিষ্ঠানটি এখন নামেই টিকে আছে। ১০ টাকার শেয়ার ৪ টাকায় নেমে এলেও বিনিয়োগকারীরা প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার কিনছে না। আর এই দুই কোম্পানিতে সাধারণ বিনিয়োগকারী এবং ব্যাংকের ১ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা আটকে আছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি ঠেকাতে কোম্পানির সম্পদ বিক্রি করে টাকা আদায় করতে হবে। এ ব্যাপারে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) ব্যবস্থা নিতে হবে।
জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, কোম্পানির অবস্থা ভালো নয়। আইনি পদক্ষেপ নেয়া উচিত। তিনি বলেন, সিকিউরিটিজ আইনে অধিগ্রহণের সুযোগ থাকলে কোম্পানির সম্পদ বিক্রি করে বিএসইসিকে বিনিয়োগকারীদের টাকা পরিশোধ করতে হবে। তার মতে, বর্তমান আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে কোম্পানি আইনে তার দেউলিয়াত্ব প্রমাণ হলে বিনিয়োগকারীরা আদালতে যেতে পারে।
সূত্র জানায়, ২০০৯ সালে প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি করে জিএমজি। এতে ১০ টাকার প্রতিটি শেয়ার ৪০ টাকা প্রিমিয়ামসহ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৫০ টাকা নেয়া হয়। এ প্রক্রিয়ায় বাজার থেকে ৩০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠানটি। এরপর ১৬৬ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের এ প্রতিষ্ঠানটি আইপিওর (প্রাথমিক শেয়ার) মাধ্যমে প্রিমিয়ামসহ আরও ৩০০ কোটি টাকা সংগ্রহের আবেদন করে।
কিন্তু কোম্পানির আর্থিক রিপোর্টে জালিয়াতি ধরা পড়ায় ২০১২ সালে আইপিও আবেদনটি বাতিল করে বিএসইসি। নিয়ম অনুসারে আইপিও আবেদন বাতিল করার পর প্লেসমেন্টের টাকা বিনিয়োগকারীদের ফেরত দিতে হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে টাকা আটকে রেখেছে জিএমজি।
কোম্পানির বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় জিএমজি এয়ারলাইন্স। পরের বছর থেকে অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রী পরিবহন শুরু করে। ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত টানা ৭ বছর প্রতিষ্ঠানটি লোকসানি ছিল। এ সময়ে মোট লোকসানের পরিমাণ ৪২ কোটি টাকা।
২০০৬ এবং ২০০৭ সালে ১ কোটি টাকা মুনাফা দেখায়। কিন্তু ২০১০ সালে অলৌকিকভাবে বেড়ে যায় প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা। ওই বছরের প্রথম ৯ মাসে প্রতিষ্ঠানটি ৭৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকা মুনাফা দেখায়। তিন বছর পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে এ প্রতিষ্ঠান। শেয়ারবাজারে কারসাজি নিয়ে গঠিত খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ২০০৮ সালের স্থিতিপত্রে হঠাৎ করে ৩৩ কোটি টাকার পুনর্মূল্যায়ন উদ্বৃত্ত দেখানো হয়।
এর ব্যাখ্যায় জিএমজি বলেছে, তাদের দুটি বিমানের সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে। তবে বিমান দুটি বেশ পুরনো। স্বাভাবিক নিয়মে পুরনো বিমানের সম্পদের দাম আরও কমার কথা। কিন্তু আলাদিনের জাদুর চেরাগের মতো দাম বাড়িয়ে দেখিয়েছে জিএমজি। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকে জিএমজির ২৩০ কোটি খেলাপি ঋণ রয়েছে। এই টাকা আদায়ে ২০১৬ সালে সালমান এফ রহমানের বাড়ির নিলাম ডাকা হয়েছিল। কিন্তু অদৃশ্য ইশারায় শেষ পর্যন্ত তা আটকে যায়।
অন্যদিকে ২০১০ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ইউনাইটেড এয়ার। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির পরিশোধিত মূলধন ৮২৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ৭০ দশমিক ৪৩ শতাংশ বা ৫৮৪ কোটি টাকা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ১৩ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং উদ্যোক্তাদের ৪ দশমিক ১৬ শতাংশ। কিন্তু বিএসইসির নিয়ম অনুসারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তাদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এছাড়া এককভাবে প্রত্যেক পরিচালকের ২ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
গত ৬ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। পুরনো উড়োজাহাজ ব্যবহারের কারণে জ্বালানি খরচ বেশি। বিলম্বিত কর আমলে নেয়ার পর থেকেই মুনাফা কমে গেছে প্রতিষ্ঠানটির। এর আগে শেয়ারবাজার থেকে রাইট শেয়ার ছেড়ে অর্থ সংগ্রহ করে উড়োজাহাজ কেনা হলেও প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। বরং বেশি দামে উড়োজাহাজ কেনার অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এরপর আর্থিক সংকট কাটাতে নতুন করে রাইট শেয়ার ছাড়তে চেয়েছিল তারা।
কিন্তু উদ্যোক্তাদের ৩০ শতাংশ শেয়ার না থাকায় অনুমতি দেয়নি বিএসইসি। এছাড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কাছেও ইউনাইটেড এয়ারের শত কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। বর্তমানে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ার টাকায় ৪ টাকায়ও কেউ কিনছে না। এছাড়াও বিভিন্ন ব্যাংকে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৩শ’ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে।

যান্ত্রিক ত্রুটি: আকাশে ৪০ মিনিট উড়ে ঢাকায় ফিরল বিমান


বাংলাদেশ বিমানের অভ্যন্তরীণ রুটের একটি ফ্লাইট ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর ছেড়ে যাওয়ার ৪০ মিনিট পর আবার ফিরে এসেছে।
যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমানটি শাহজালাল বিমানবন্দরে ফিরে আসে বলে জানিয়েছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জুনিয়র গ্রাউন্ড অফিসার জাহিদ মিয়া।
তিনি বলেন, ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে মঙ্গলবার বেলা ১২টায় সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল বিমানটি। কিন্তু টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে ফিরে আসতে হয়েছে। বিকাল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার দিকে আবার ফ্লাই করবে বলে আমরা আশা করছি।
ড্যাশ-৮ কিউ৪০০ মডেলের ওই বিমানটিতে কী ধরনের সমস্যা হয়েছিল তা স্পষ্ট করেননি বিমান কর্মকর্তারা। ৭৩ যাত্রী ধারণে সক্ষম ওই ফ্লাইটে কতজন আরোহী ছিলেন তা জানা যায়নি।
১২ মার্চ কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের যে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়, সেটিও ছিল কানাডীয় কোম্পানি বমবার্ডিয়ারের তৈরি ড্যাশ-৮ কিউ৪০০। ওই দুর্ঘটনায় ৭১ আরোহীর মধ্যে ৫১ জনের মৃত্যু হয় এবং তাদের মধ্যে ক্রুসহ ২৬ বাংলাদেশি।
 

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

সম্পাদকীয় কার্যলয়

Rua padre germano mayar, cristo rio -80040-170 Curitiba, Brazil. Contact: +55 41 30583822 email: worldnewsbbr@gmail.com Website: http://worldnewsbbr.blogspot.com.br

সম্পাদক ও প্রকাশক

Jahangir Alom
Email- worldnewsbb2@gmail.com
worldnewsbbbrazil@gmail.com
 
Blogger Templates