Social Icons

Showing posts with label লাতিন আমেরিকা. Show all posts
Showing posts with label লাতিন আমেরিকা. Show all posts

Saturday, March 30, 2019

ব্রাজিলিয়ান রিয়েল এখন আন্তর্জাতিক বাজারে ।


আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রাজিলিয়ান রিয়েল এর বিক্রি শুরু ।জাপান , চায়না ও বাংলাদেশের বাজারে ব্রাজিলিয়ান মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় করতে দেখা গিয়েছে । যদিও লেতিন আমেরিকার বাজারে আগে থেকেই ব্রাজিলিয়ান মুদ্রা ক্রয় - বিক্রয় হচ্ছে । নতুন করে যুক্ত হল বাংলাদেশ সহ তিন দেশ । ব্রাজিলে নতুন সরকার আসার পর থেকে একের পর এক আইনের পরিবর্তন আসে, সেই সাথে কাজ করে যাচ্ছেন দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা করতে । ইতিমধ্যেই গত কয়েক মাসে ব্রাজিলের নতুন প্রেসিডেন্ট বেশ কয়েকটি দেশের সাথে সম্পর্ক আরও গভীর করতে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ করেছে । সেই সাথে সফর করেছেন বেশ কয়েকটি দেশে । ব্রাজিলের বর্তমান প্রেসিডেন্টের নির্বাচনী ওয়াদাতে ছিল দেশকে অর্থনৈতিক সম্মৃদ্ধ করে তুলবেন । তিনি আশা করছেন খুব শীঘ্রই ব্রাজিল পৃথিবীর উন্নত দেশের একটিতে পরিণত হবে ।

Wednesday, March 27, 2019

ফের অন্ধকারের দেশ ভেনেজুয়েলা


ল্যাটিন আমেরিকার সংকটাপন্ন দেশ ভেনেজুয়েলা চলতি মাসেই দ্বিতিয়বারের মতো ব্ল্যাকআউট অর্থাৎ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। রাজধানী কারাকাস আরও একবার যেন পরিণত হলো অন্ধকারের নগরীতে।
বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত সোমবারও টানা চারঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় কাটে দেশটির। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার কারণে শহরের গণপরিবহনে বিপর্যয় নেমে আসে। হাজারো মানুষকে বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরতে হয়।
রাজধানী কারাকাস ছাড়াও আরও বেশ কিছু অঞ্চলও এমন বিপদের সম্মুখীন হয়েছে। সরকার বলছে, বিরোধী দলের চক্রান্তের কারণেই এমন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে দেশবাসী।
চলতি মাসের শুরুতে গোটা দেশে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটে। আর এই সুযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে লুটতরাজ ডাকাতির পরিমাণ ক্রমশ বৃদ্ধি পায়।
বিরোধীদল অবশ্য এর জন্য ক্ষমতাসীন সমানতান্ত্রিক সরকারকে দুষছে। তাদের দাবি, গত দুই দশকে দেশটির সমাজতান্ত্রিক সরকার বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে ব্যর্থ ও দুর্নীতি বেড়ে যাওয়ার ফল এই বিপর্যয়।
দেশটির ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও বিরোধী দলীয় নেতা হুয়ান গুয়াইদোর মধ্যে চলছে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। যার কারণে গত কিছুদিন ধরে দেশটির বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে। যার ভুক্তভোগী দেশটির সাধারণ মানুষ।
গত সপ্তাহে হুয়ান গুয়াইদোর চিফ অব স্টাফকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত মামলায় গ্রেফতার করা হয়। তাকে গ্রেফতারের পর থেকে দেশটির সার্বিক পরিস্থিতির অবনতি চরমে গিয়ে ঠেকেছে।
সূত্র: জাগো নিউজ২৪

Saturday, March 23, 2019

বড় বাজার লাতিন আমেরিকা

• গত অর্থবছরে মারকোসারের সদস্যভুক্ত চার দেশে রপ্তানি হয় প্রায় ২১ কোটি ডলারের পণ্য
• আমদানি হয়েছে ২৩১ কোটি ৮০ লাখ ডলারের পণ্য
• রপ্তানির ৮৫ শতাংশই হয় ব্রাজিলে
Eprothom Alo
বাংলাদেশি পণ্যের সম্ভাব্য বড় রপ্তানি গন্তব্যস্থল হিসেবে অনুচ্চারিত এক মহাদেশের নাম লাতিন আমেরিকা। সংগত কারণেই এ তালিকায় মহাদেশটির নাম কারও মুখে আসে না। কারণ, লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি হয় সামান্যই। উল্লেখ করার মতো যে দেশে রপ্তানি কিছুটা হয়, তার নাম হচ্ছে ব্রাজিল। যদিও ব্রাজিলে রপ্তানির তুলনায় দেশটি থেকে বাংলাদেশের আমদানি আট গুণ বেশি।

অথচ লাতিন আমেরিকার প্রায় সব দেশই হতে পারে বাংলাদেশি পণ্য বিশেষ করে তৈরি পোশাকের বড় বাজার। বিশেষজ্ঞ ও রপ্তানিকারকেরা বলছেন, লাতিন আমেরিকাকে বড় বাজার বা রপ্তানি গন্তব্যস্থল করতে গেলে কয়েকটি পক্ষকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। পক্ষগুলো হচ্ছে রপ্তানিকারক; বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দেশগুলোতে থাকা বাংলাদেশি মিশন; লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর সরকার এবং ওই সব দেশের আমদানিকারকেরা।
একটি উদ্যোগ অবশ্য শুরু করেছেন ব্রাজিলে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. জুলফিকার রহমান। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক চিঠি দিয়ে জানান যে মারকোসারের সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মহাপরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি এ ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব পেয়েছেন। মারকোসারের সঙ্গে এফটিএর আলোচনা শুরু করতে তিনি আগ্রহপত্র পাঠানোর অনুরোধ করেন।
 মারকোসার হচ্ছে দক্ষিণ আমেরিকার এক বাণিজ্য জোট, যে জোটের গুরুত্বপূর্ণ চার সদস্য আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ে। ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত এ জোটে বলিভিয়া, চিলি, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, গায়ানা, পেরু ও সুরিনাম হচ্ছে সহযোগী সদস্য।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অবশ্য ওই চিঠি পাওয়ার পর থেকে সজাগ হয়েছে এবং ট্যারিফ কমিশনকে দিয়ে একটি সমীক্ষাও করিয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে ব্যবসায়ী নেতাসহ আন্তমন্ত্রণালয়ের একটি বৈঠকও করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বৈঠকে উপস্থিত প্রায় সবারই একই মত। আর সেটা হচ্ছে, রপ্তানি পণ্যে বহুমুখিতা যেমন দরকার, আবার রপ্তানি পণ্যের নতুন বাজারও খোঁজা দরকার। এই সময়ে সম্ভাব্য বড় বাজার হতে পারে দক্ষিণ আমেরিকা এবং আপাতত পছন্দের দেশ হতে পারে মারকোসারের গুরুত্বপূর্ণ চার সদস্য।
ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, মারকোসারের চার দেশের জনসংখ্যা ৩০ কোটি, গড় মাথাপিছু আয় ১০ হাজার ডলারের বেশি এবং মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) চার ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। এফটিএ করা গেলে উভয় পক্ষেরই বাণিজ্য বাড়বে, তবে বেশি লাভবান হবে বাংলাদেশ।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। তবে এফটিএর ব্যাপারটিই তো দ্বিপক্ষীয়। আমরা যেমন সুবিধা নিতে চাইব, অপর পক্ষকেও সুবিধা দিতে হবে। সুতরাং দর-কষাকষি করার সময় খেয়াল রাখতে হবে, আমাদের প্রধান পণ্য যেন ওই পক্ষের নেতিবাচক তালিকায় না ঢুকে পড়ে।’
মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, ‘এখনকার এফটিএ আলোচনায় বাণিজ্যের সঙ্গে বিনিয়োগের বিষয়ও আসে। মারকোসারের সঙ্গে এফটিএ আলোচনার অগ্রগতি হলে আশা করি বিনিয়োগ আলোচনাও বাদ পড়বে না।’
মারকোসারের সঙ্গে এফটিএ করার ব্যাপারে অনুষ্ঠিত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠকের কার্যপত্রে বলা হয়েছে, মারকোসারের একটি বিশাল বাণিজ্য অঞ্চল এবং এই অঞ্চলে বাংলাদেশি পণ্যের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু সম্ভাবনা অনুযায়ী রপ্তানির পরিমাণ খুবই কম। কম হওয়ারও কারণ আছে। দেশগুলোতে বাংলাদেশি পণ্য ঢুকতে উচ্চ শুল্ক আরোপ করা আছে। উচ্চ শুল্কের কারণে হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি এখন বন্ধ। পাট রপ্তানিও বন্ধের পথে। তবে এফটিএ করে শুল্ক কমানো গেলে বা শূন্য করা গেলে দেশগুলোতে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার অনেক বড় হবে।
ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদন বলছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ মারকোসারের সদস্য চার দেশে ২০ কোটি ৮০ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। এর মধ্যে ব্রাজিলেই রপ্তানি হয় ৮৫ শতাংশ অর্থাৎ ১৭ কোটি ৭০ লাখ ডলারের পণ্য। একই সময়ে দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ ২৩১ কোটি ৮০ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। বাংলাদেশ আমদানি করে চিনি, ভোজ্যতেল, ভুট্টা, গম ও পশুখাদ্য ইত্যাদি। রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে ওষুধ, তামাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং তৈরি পোশাক। এফটিএ হলে উভয় পক্ষের বাণিজ্য বাড়বে ২০ গুণ।
জানা গেছে, বাংলাদেশে এ দেশগুলোর বিনিয়োগের তথ্য ট্যারিফ কমিশন বা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়—কেউই জোগাড় করতে পারেনি। তবে উচ্চ মাথাপিছু আয়ের দেশ হয়েও তাদের দেশে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে কোনো শুল্কমুক্ত বা কোটামুক্ত সুবিধা পাওয়া যায় না। দেশগুলোর সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক কোনো বাণিজ্য চুক্তিও নেই বাংলাদেশের। মারকোসারের দেশগুলো তৈরি পোশাক, জুতা, মাছ ইত্যাদি পণ্যে উচ্চ শুল্ক আরোপ করে।
নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘মারকোসারের সদস্যরা বিশেষ করে ব্রাজিল আমাদের পণ্য রপ্তানিতে ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। সব খরচ মিলিয়ে ব্যয় ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। মারকোসারের সঙ্গে এফটিএ হওয়া খুবই দরকার। কারণ, ব্রাজিল, উরুগুয়ে, প্যারাগুয়ে মিলিয়ে বাজারটা আসলেই অনেক বড়।
শুল্ক সুবিধা পাওয়ায় লাতিন আমেরিকার মধ্যে চিলিতে রপ্তানি বাড়ছে জানিয়ে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে পোশাকশিল্প মালিক টিপু মুনশি দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা এ আশা করতেই পারি যে দক্ষিণ আমেরিকাও হবে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশি পণ্যের অন্যতম বড় রপ্তানি গন্তব্যস্থল।’
মারকোসারের সদস্যদেশগুলোর মধ্যে যেসব দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশন রয়েছে, সেসব দেশের রাষ্ট্রদূত ও কমার্শিয়াল কাউন্সিলররা দেশগুলোতে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে কী করেছেন এবং ভবিষ্যতে কী করবেন—এ ব্যাপারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাগিদ দেওয়া জরুরি বলে মনে করেন মোহাম্মদ হাতেম।
এ বিষয়ে অবশ্য বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে যোগাযোগ করলে বাণিজ্যসচিব মো. মফিজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘মারকোসারের সঙ্গে এফটিএ করতে আমরা আগ্রহী। ঢাকায় ব্রাজিল দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে। একটি দলকে মারকোসারের সদস্যদেশগুলোতে পাঠানোর চিন্তা চলছে।’

‘ইসলাম গ্রহণ করবেন ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট’

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করবেন ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। এমনটি জানালেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগ্লু। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুতকে বরাত দিয়ে এমন খবর প্রকাশ করেছে ‘গেজেট দুভার’।
মেভলুত জানান, গত বছর মাদুরো তাকে বলেছেন তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে পারেন।
বৃহস্পতিবার তুরস্কের আলিনিয়া শহরে অবস্থিত আলাদ্দিন কেইকুবাত বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দেয়ার সময় মেভলুত বলেন, মাদুরো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে পারেন এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে মাদুরোর সঙ্গে বৈঠক হয়। ওইসময় ওসমানিয়া সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতাকে নিয়ে নির্মিত টিভি সিরিজ ‘আরতুগ্রুল’ দেখার পর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছিলেন মাদুরো।
‘বৈঠকের সময় সিরিজ নিয়ে কথা হলে মাদুরো চিৎকার করে দাঁড়িয়ে উঠেন, এবং ‘আরতুগ্রুল’ সিরিজের সব চরিত্রের নাম বলতে বলতে বসে যান।’
মেভলুত জানান, মাদুরো সেসময় বলেছেন, এই সিরিজগুলো ইসলাম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান দেয়, এবং সিরিজগুলোকে ধন্যবাদ, একদিন আমি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করবো।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত আরো বলেন, আমরা মাদুরোর মুখ থেকে এমন কথা শুনে অনেক আনন্দিত।
তবে ঠিক কবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করছেন মাদুরো সে সম্পর্কে কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
গত দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে ভেনিজুয়েলায় চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে।

Tuesday, March 19, 2019

প্রকাশ্যে মাতলামি, পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট আটক


যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট আলেজান্দ্রো টলেডোকে প্রকাশ্যে মাতলামির অভিযোগে আটক করা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার একটি রেস্তোরাঁয় এ ঘটনা ঘটে। তবে অল্প সময় পর আলেজান্দ্রোকে ছেড়ে দেয়া হয় বলে খবরে বলা হয়েছে। সোমবার দেশটির স্থানীয় পুলিশ এ তথ্য জানায়। খবর এএফপি’র।
সান ম্যাটিও কাউন্টি শেরিফ অফিসের নারী মুখপাত্র রোজমেরি ব্ল্যাংকসওয়েড বলেন, টলেডোকে (৭৩) রবিবার পালো আলটোর এক রেস্তোরায় গ্রেফতার করা হয়। সোমবার ভোরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
ব্রাজিলের নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ওদেব্রিচট’র সঙ্গে একটি বড় ধরনের দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে বিচারের জন্য পেরু কর্তৃপক্ষ টলেডোকে তাদের কাছে হস্তান্তরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আবেদন জানিয়েছে।
টলেডোর বিরুদ্ধে ব্রাজিলের ওই কোম্পানির কাছ থেকে ২ কোটি মার্কিন ডলার ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। তবে ব্ল্যাংকসওয়েড নিশ্চিত করেছেন যে, টলেডোকে পেরুর কাছে হস্তান্তর করা হবে না।
টলেডো ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত পেরুর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

Saturday, March 16, 2019

দক্ষিণ আমেরিকার মানবপাচারকারিদের ধরতে মরিয়া ইন্টারপোল পুলিশ


আমেরিকায় মানব পাচারে সবচেয়ে ভালো ও সহজ রোড হিসেবে মানব পাচারকারীরা ব্যবহার করছে দক্ষিণ আমেরিকাকে । সম্প্রতি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মানব পাচার রোধে এই সকল দেশের নেতাদের সাথে একাধিক বার কথা বলেছেন । সতর্কও করেছেন যদি মানব পাচার বন্ধ না হয় তবে আমেরিকা শক্ত পদক্ষেপ নিবেন । চলতি মাসে ল্যাটিন আমেরিকার ইন্টারপোল পুলিশ একটি তদন্ত প্রতিবেদন করেছেন । যেখানে দেখা গেছে আদম পাচারে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে অভিবাসীরা - কিছু অভিবাসী যারা দক্ষিণ আমেরিকায় বিভিন্ন দেশে নাগরিকত্ব পেয়েছেন । তারা সেই সুযোগে মাফিয়াদের সাথে মিশে অবাধে মানব পাচার করে যাচ্ছেন । মানব পাচারে দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বড় ঘাঁটি ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছেন বলিভিয়া কে । সম্প্রতি ইন্টারপোল পুলিশের হাতে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি সহ বেশ কয়েকজন আদম পাচারকারী ধরা পড়েছেন তারপরে তারা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে জামিন পেয়েছেন । তবে কোর্ট থেকে জামিন পেয়ে তারা আবারও এই পেশায় জড়িয়ে পড়ছেন । মানব পাচারে বলিভিয়ার পর ইকুয়েডর কে ব্যবহার  করছেন মানব পাচারকারীরা মানব পাচারের জন্য । শুক্রবার ব্রাজিলিয়ায় ইন্টারপোল সদর দপ্তরে ল্যাটিন আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থার তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা করা হয় । তবে গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী খুব শীঘ্রই ল্যাটিন আমেরিকার প্রতিটা দেশে চিরুনি অভিযান চালানো হবে এই অভিযানে গ্রেফতার করা হবে মানব পাচারের সাথে জড়িত মাফিয়াদের । ইন্টারপোল পুলিশ ধারণা করছেন মানব পাচারকারীরা খুব শীঘ্রই ধরা পড়বেন তাদের জালে । ব্রাজিল , আর্জেন্টিনা , বলিভিয়া , পেরু , ইকুয়েডর , কলম্বিয়া  এই দেশগুলোর আনাচে কানাচে ছড়িয়ে আছে ওই সকল মানব পাচারকারী । 

অবশেষে জার্মান সাংবাদিককে মুক্তি দিল ভেনিজুয়েলা

অবশেষে আটকের চার মাস পর জার্মান সাংবাদিক বিলি সিক্সকে ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে মুক্তি দেয়া হয়েছে। দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা চারমাস আগে তাকে গ্রেফতার করেছিল। একটি এনজিও এ তথ্য জানায়। খবর এএফপি’র।
ইস্পাসিও পাবলিকো নামের নিরপেক্ষ এ এনজিও আরো জানায়, ভেনিজুয়েলার দক্ষিণাঞ্চলীয় ফ্যালকন রাজ্যে ‘খুব কাছ থেকে’ প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ছবি তোলার অভিযোগে সিক্সকে গ্রেফতার করা হয়।
জার্মান দূতাবাস জানায়, সিক্স গত ডিসেম্বরে অনশন ধর্মঘট শুরু করে। এর আগে বিচারাধীন এ মামলার ব্যাপারে চালানো কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বন্ধ করে দেয়া হয়।
পরে প্রকাশ করা এক চিঠিতে তিনি দাবি করেন তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং গত অক্টোবরের শেষের দিকে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর হাসপাতালের রির্পোটও দেয়া হয়নি।
এ জার্মান সাংবাদিক মাদক ও মানব পাচার বিষয়ে অনুসন্ধান প্রতিবেদন তৈরী করতে ভেনিজুয়েলায় আসেন।

Thursday, March 14, 2019

ভেনিজুয়েলা সঙ্কটের শেষ কোথায় ?

ভেনিজুয়েলায় নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগ আর অর্থনৈতিক সঙ্কটের ফলে দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলছে। এর আগে বিক্ষোভের সুযোগে গত ২৩ জানুয়ারি নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুয়াইদো।
মূলত এর পর থেকেই দেশটি দু’টি ভাগে ভাগ হয়ে পড়ে। একপক্ষ বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোপন্থী। মাদুরোর পক্ষে রাশিয়া, চীন, তুরস্কসহ বেশ কয়েকটি দেশ রয়েছে। মাদুরোর পাশে আছে দেশের সেনাবাহিনীও। অন্য দিকে হুয়ান গুয়াইদোও পিছিয়ে নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোসহ ৫০টিরও বেশি দেশ সমর্থন দিয়েছে তার প্রতি।
আর তাই গুয়াইদোর নেতৃত্বে সরকারবিরোধী আন্দোলন এখন তুঙ্গে। অব্যাহত আন্দোলনের ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ব্যাপক সঙ্কট দেখা দিয়েছে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নেই, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান নেই, ব্যাপক মূল্যস্ফীতির ফলে অর্থনৈতিকভাবে ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার দেশটির জনগণ।
এরই মধ্যে গত কয়েক দিন ধরে অন্ধকারে ভেনিজুয়েলা। দেশের মোট ২৩টি প্রদেশের ১৫টিই বিদ্যুৎবিহীন। দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রধান বিদ্যুৎকেন্দ্র দখলে নিয়ে বিকল করে দিয়েছে বিরোধীরা। ভেনিজুয়েলার বিদ্যুৎমন্ত্রী লুই মোত্তা দোমিনগুয়েজ বলেছেন, ‘সরকারকে চাপে ফেলতেই বিদ্যুৎকেন্দ্র বিকল করে দিয়েছে বিরোধীরা। এটা বৈদ্যুতিক যুদ্ধ।’
আর বিদ্যুৎ বিভ্রাটের দায় সরকারের ওপর চাপিয়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন বিরোধী নেতা ও স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুয়াইদো। তিনি বলছেন, বছরের পর বছর বিনিয়োগের অভাব ও দুর্নীতিই ভয়াবহ এ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ। এই বিদ্যুৎহীনতার জন্য হাসপাতালগুলোতে জরুরি চিকিৎসাসেবা দিতে না পারায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে কোনো সেবা নেই। দেশের সেরা হাসপাতালগুলোর এই অবস্থা হলে, তাহলে প্রত্যন্ত এলাকায় কী অবস্থা।
লাতিন আমেরিকার অন্যতম প্রধান পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ভেনিজুয়েলার বলিভিয়া রাজ্যের গুরি পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমস্যার কারণেই দেশটির ২৩টি প্রদেশের ১৫টিই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। আর কয়েক দশকের মধ্যে লাতিন আমেরিকার দেশটিতে দেখা দেয়া সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী এ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বিরোধীদের দায়ী করছেন। তাদের ‘সৃষ্ট নাশকতাতেই’ গুরি পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রটির সরবরাহে বিঘœ ঘটেছে বলেও অভিযোগ তার। এর পেছনে ‘সাম্রাজ্যবাদের হাত আছে’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। আর সাইবার হামলার কারণে গুরি পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রটি অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা।
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র কারাকাসে তাদের দূতাবাস থেকে অবশিষ্ট সব কূটনৈতিক স্টাফকে প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে। গত সোমবার রাতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও এ কথা জানান। ভেনিজুয়েলার রাজনৈতিক সঙ্কট ঘনীভূত হওয়ার প্রেক্ষিতে এ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এক টুইট বার্তায় পম্পেও বলেন, ‘ভেনিজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতির অবনতির কারণেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দূতাবাসের কূটনৈতিক স্টাফদের উপস্থিতি মার্কিন নীতির সাথে সাংঘর্ষিক।’
উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ধসে পড়া অর্থনীতির ভেনিজুয়েলায় বিদ্যুতের আসা-যাওয়া এখন খুবই স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। খাদ্য ও ওষুধের ঘাটতি দেশটির ৩০ লাখেরও বেশি নাগরিককে দেশ ছেড়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
এর আগের যুুক্তরাষ্ট্রের ত্রাণবাহী সামগ্রী ভেনিজুয়েলায় প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। তা নিয়ে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে জড়িয়েছে দেশটির জনসাধারণ।
চলমান এসব সমস্যার মুখে দাঁড়িয়ে দেশটির জনগণ এখন সত্যিই অসহায় হয়ে পড়েছেন। সাধারণ নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ মাদুরো সরকার। আর গুয়াইদোর কাছেও জনগণ আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন না। এমন বিরূপ পরিস্থিতিতে দেশটির জনগণের ভাগ্যে কি আছে তা একমাত্র সময়ই বলে দেবে।

ভেনিজুয়েলায় গণতন্ত্র ফেরাতে বিকল্প ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, ভেনিজুয়েলায় গণতন্ত্র ফেরাতে সব বিকল্প নিয়ে ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। এ সংক্রান্ত সব বিকল্পই টেবিলে রয়েছে। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর কবল থেকে ভেনিজুয়েলার জনগণের পরিত্রাণ পেতে যা যা করার প্রয়োজন তা-ই করবে যুক্তরাষ্ট্র।
মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। এদিকে, মাদুরোকে উৎখাতের অঙ্গীকার করেছেন দেশটির স্বঘোষিত বিরোধীদলীয় নেতা জুয়ান গুইদো। মঙ্গলবার রাজপথে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষের সামনে তিনি এমন অঙ্গীকার করেন। খবর এএফপির।
নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগ আর অর্থনৈতিক সংকট ভেনিজুয়েলার জনগণকে তাড়িত করেছে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে। এ সুযোগে ২৩ জানুয়ারি নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন গুইদো। এরপরই তাকে স্বীকৃতি দেয় যুক্তরাষ্ট্রসহ ৫০টিরও বেশি দেশ।
প্রায় দুই মাস ধরে দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি শোডাউন চলছে। বিরোধীরা ভেনিজুয়েলার অর্ধেকেরও বেশি এলাকা ৮ মার্চ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেয় বলে অভিযোগ কর্তৃপক্ষের। এতে জনগণের জীবন স্তব্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যেই ভেনিজুয়েলায় গণতন্ত্র ফেরাতে সব বিকল্প নিয়ে চিন্তা-ভাবনার কথা বললেন পম্পেও।
এদিকে, মাদুরোবিরোধী বিক্ষোভে বারবার স্লোগান দেয়া সমর্থকদের উদ্দেশে গুইদো বলেন, ‘আমাদের কাজ করার জন্য একটি দফতর প্রয়োজন। দেশের সশস্ত্র বাহিনী পুরোপুরি আমাদের পক্ষে থাকায় আমরা মিরাফ্লোরেসে খুব শিগগিরই আমাদের দফতর খুঁজে বের করতে পারব।’ বিক্ষোভকারীরা রাজধানীর পূর্বে একটি স্কয়ারে জড়ো হয়।

Wednesday, March 13, 2019

ভেনিজুয়েলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট : জারি হতে পারে ‘সতর্ক অবস্থা’

বিদ্যুত্হীনতার কবলে থাকা ভেনিজুয়েলার জনদুর্ভোগ নিরসন এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ‘সতর্ক অবস্থা ঘোষণা’ করতে আইনপ্রণেতাদের আহ্বান জানাবেন দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুয়াইদো। গতকাল তিনি এ ইঙ্গিত দিয়েছেন। এছাড়া দেশটিতে বিদ্যুত্হীন অবস্থায় থাকা ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করে এ ঘটনায় ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে দায়ী করছেন তিনি। রোববার তিনি দাবি করেন, ১৬টি প্রদেশ সম্পূর্ণ বিদ্যুত্হীন এবং ছয়টিতে আংশিক বিদ্যুৎ সুবিধা থাকায় ৪০ কোটি ডলার ক্ষতি হয়েছে ভেনিজুয়েলার। খবর এএফপি ও সিএনএন।
ভেনিজুয়েলার জাতীয় সংসদের প্রধান গুয়াইদো বলেন, ‘এ জাতীয় বিপর্যয়ের দিকে এখনই আমাদের মনোযোগ দেয়া উচিত। আমরা এর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারি না।’
নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগ আর অর্থনৈতিক সংকট ভেনিজুয়েলার জনগণকে তাড়িত করেছে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে। বিক্ষোভের সুযোগে গত ২৩ জানুয়ারি নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট  ঘোষণা করেন ৩৫ বছর বয়সী গুয়াইদো। এর পরই তাকে স্বীকৃতি দেয় যুক্তরাষ্ট্রসহ ৫০টিরও বেশি দেশ। গত বৃহস্পতিবার থেকে অর্ধেকের বেশি অঞ্চল বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুহীন এ অবস্থায় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে হাসপাতালগুলো। গুয়াইদো বলেন, এ পরিস্থিতিতে প্রাণ হারানো ১৭ জনকে মূলত মাদুরো সরকার ‘হত্যা’ করেছে। ভেনিজুয়েলা একদম ধসে পড়েছে।
গুয়াইদো বলেন, ‘হাসপাতালে কোনো সেবা নেই। দেশের সেরা হাসপাতালগুলোর এ অবস্থা। যদি রাজধানীতে এ অবস্থা হয়, তাহলে প্রত্যন্ত এলাকায় কী অবস্থা! সেখানে জ্বালানি নেই, মৌলিক জিনিস  নেই। নেই যোগাযোগের ব্যবস্থা। তাই সজ্ঞানে আপনি বলতেই পারেন, ভেনিজুয়েলা ভেঙে গেছে।’
সিএনএনকে দেয়া সাক্ষাত্করে তিনি দাবি করেন, এখন পর্যন্ত ১৭টি হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়েছে বিরোধী দল। তিন বলেন, ‘আমি আর কিছু বলতে পারছি না। কল্পনা করুন, আপনি সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে জানছেন, চারদিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। কারণ বিদ্যুৎকেন্দ্রে চুরি হয়েছে এবং ১৭ জন মারা গেছে। এটা নিঃসন্দেহে হত্যা।’
বিদ্যুত্হীনতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করছেন মাদুরো। শনিবার এক জনসভায় সমর্থকদের তিনি জানান, দেশটির জাতীয় গ্রিডে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক হামলা চালানো হয়েছে। দেশের চলমান সংকটের জন্য ‘সাম্রাজ্যবাদকে’ দায়ী করেন তিনি। সিএনএনকে দেয়া সাক্ষাত্কারে মাদুরোর দাবিকে ‘হলিউডের মতো’ বলে অভিহিত করেন গুয়াইদো। তিনি বলেন, আমরা এমন একটি বিপর্যয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে আছি, যা কোনো হারিকেন বা সুনামির ফলে সৃষ্ট নয়। এটা হচ্ছে অদক্ষতা, অক্ষমতা ও শাসকগোষ্ঠীর দুর্নীতির ফল, যাদের কাছে ভেনিজুয়েলানদের জীবনের গুরুত্ব নেই।

Tuesday, March 12, 2019

ভেনেজুয়েলা থেকে কূটনীতিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের!

রাজনৈতিক সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের কূটনীতিকদের দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা থেকে ফিরিয়ে নিচ্ছে। আজ মঙ্গলবার এ  ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট। 
ভেনেজুয়েলায় বর্তমানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও বিরোধীদলের হুয়ান গুইদোর মধ্যে আন্দোলন চলছে। গত ২৩ জানুয়ারি গুইদো নিজেকে ‘অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা দিলে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানিসহ প্রায় ৫০টি দেশ তাকে সমর্থন করে। অন্যদিকে রাশিয়া, চীনসহ কিছু দেশ এখনও পর্যন্ত মাদুরোর পাশেই রয়েছে। 
এদিকে, আজ যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের ঘোষণায় বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলায় চলমান 'সংকটের' কারণে দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সব কূটনীতককে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। সেদেশের দূতাবাসে মার্কিন কর্মকর্তা থাকলে তা মার্কিন নীতির প্রতিবন্ধকতা হিসেবেও বলা হয়েছে।

Thursday, March 7, 2019

আমাজন রক্ষায় সেনা মোতায়েন করেছে পেরু

আমাজন বনাঞ্চলে অবৈধ খনি কার্যক্রমে বেশ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এ অবস্থায় সেখানে পরিস্থিতি পাল্টাতে সামরিক ইউনিট মোতায়েন করেছে পেরু।
গত মঙ্গলবার সেখানে চারটি সামরিক ঘাঁটি যাত্রা শুরু করে। এসব ঘাঁটিতে থাকা সেনা সদস্যরা ড্রোন ও স্যাটেলাইট ইমেজ ব্যবহার করে আমাজন রক্ষায় কাজ করবেন।
এর দুই সপ্তাহ আগে পেরু সরকার আমাজনের ভূমি ও নদী দূষিত করার অভিযোগে হাজার হাজার স্বর্ণখনি উচ্ছেদ করে। এর পরপরই তারা সেনা মোতায়েনের এ সিদ্ধান্ত নেয়।
যে চারটি ঘাঁটি স্থাপন করা হয়েছে, তার প্রত্যেকটিতে ১০০ সেনা সদস্য, ৫০ পুলিশ কর্মকর্তা এবং একজন প্রসিকিউটর থাকবেন। প্রথম ঘাঁটিটি স্থাপন করা হয়েছে পেরুর মাদ্রে ডি ডিঅস অঞ্চলে। কয়েক সপ্তাহ আগে সেখানে সোনার ব্যবসায়ীদের অবস্থান ছিল।
পেরুর অর্ধেকের বেশি অংশই পড়েছে আমাজন অংশে। এসব জায়গায় বেশ কিছুদিন ধরে চাষাবাদ, খামার ও অবৈধ খনির কারবার নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে।



আমাজন রেইনফরেস্ট বা চিরহরিৎ বন প্রায় ৭৯০০ বর্গ মাইল এলাকা নিয়ে যা কিনা লন্ডন শহরের চেয়েও অন্তত ৫ গুণ বড়। -
ব্রাজিলের আমাজন নদী অববাহিকার রেইনফরেস্ট গত এক দশকে সবচেয়ে বেশি হারে উজাড় হয়েছে বলে সাম্প্রতিক এক তথ্যে জানা গেছে।
আমাজন রেইন ফরেস্ট বা চিরহরিৎ বনের প্রায় ৭, ৯০০ বর্গ মাইল এলাকা যা কি-না লন্ডন শহরের চেয়েও অন্তত ৫ গুণ বড়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে ২০১৭ সালের আগস্ট মাস থেকে ২০১৮ সালের জুলাই পর্যন্ত।

অবৈধভাবে গাছ কাটাকেই এর অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেছেন ব্রাজিলের পরিবেশ মন্ত্রী এডসন ডুয়ার্ট।
দেশটির নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জায়ের বোলসোনারোর কিছু নীতির কারণেই বনাঞ্চল হ্রাসের হার উদ্বেগজনক অবস্থায় পৌঁছেছে।
২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় মি. বোলসোনারো বনাঞ্চলের ক্ষতির জন্যে জরিমানা কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আর সেই সাথে পরিবেশবাদী সংস্থাগুলোর ক্ষমতাকে করেছিলেন সীমিত।
রাষ্ট্রপতির পক্ষে তার সহকারী এমন ঘোষণাও দিয়েছিলেন যে কৃষি ও বন মন্ত্রণালয়কে একীভূত করা হবে, বিশ্লেষকরা মনে করেন এই নিবিড় বনভূমি এসব কারণেই বিপন্ন।
সাম্প্রতিক সরকারি তথ্য মতে, দেশটির মাতো গ্রসো এবং পারা রাজ্যেই সবচেয়ে বেশি পরিমাণ বনভূমি ধ্বংসের মুখোমুখি। আর এই হ্রাসের হার গত বছরের তুলনায় ১৩.৭ শতাংশ বেশি।
এই মাতো গ্রসো হলো ব্রাজিলের সবচেয়ে বেশি শস্য উৎপাদনকারী অঞ্চল, আর সমালোচকদের মতে এ কারণেই এ অঞ্চলের রেইনফরেস্ট বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে মি. ডুয়ার্ট দোষারোপ করেছেন অবৈধভাবে গাছ কাটার একটি ‘সংঘবদ্ধ চক্রের উত্থান’কে। আর সেই সাথে মনে করেন দেশটির উচিৎ ‘পরিবেশগত সীমা লঙ্ঘন পরিহার এবং জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখার টেকসই সমাধানে’ যাবার।
বনভূমি উজাড় পর্যবেক্ষণ প্রকল্প ‘প্রোডাস’ স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্য থেকে তারা বার্ষিক জরিপ করেছে।
বনভূমি হ্রাসের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে, এই বনাঞ্চল হ্রাসের হার তার আগের ১২ মাসের তুলনায় ১৬শতাংশ কমেছিল। ২০০৪ সালে এই হার কমেছিল ৭২ শতাংশ, সেসময় ব্রাজিলের ফেডারেল সরকার বন ধ্বংসের বিরুদ্ধে প্রায় যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল।
সেসময় হাইতির সমপরিমাণ বনাঞ্চল যার আয়তন ২৭ হাজার বর্গ কিলোমিটারেরও বেশি- ধ্বংস করে ফেলা হয়েছিল।
আমাজনের এই অঞ্চলটিতে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় চিরহরিৎ বনাঞ্চল অবস্থিত। আর এই সুনিবিড় বনভূমিতে এখনো এমন সব উদ্ভিদ আর প্রাণীর প্রজাতি আছে যা রয়ে গেছে মানুষের জানাশোনার বাইরে। গবেষকরা প্রতিনিয়তই নতুন কোনো জীব খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।
আর এই রেইনফরেস্টের বেশিরভাগই- লাখ লাখ বর্গ কিলোমিটার অংশ ব্রাজিলের অভ্যন্তরে। যেখানে এখনো ১৯৬৫ সালের আইন প্রচলিত। যার অধীনে ভূমির মালিকেরা তাদের জমির কিছু অংশে বনায়ন করতে বাধ্য।

ভেনিজুয়েলায় আটক মার্কিন সাংবাদিকের মুক্তি

আটক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক কডি ওয়েডল মুক্তি দিয়েছে ভেনিজুয়েলা সরকার। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে বুধবার সকালে আটক হওয়ার ১২ ঘণ্টা আটক থাকার পর দেশটির সরকারি কর্তৃপক্ষ এই ঘোষণা দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মিয়ামি হেরাল্ড ও এবিসি নিউজসহ যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে কাজ করেন ওয়েডল। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা ত্রাণ সামগ্রীর জন্য তিনি কারাকাসের বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থান করছিলেন। ওই প্রতিষ্ঠান থেকে বেশ কয়েক বছর ধরে ভেনিজুয়েলায় কাজ করেন ওয়েডল। টুইটারে মিয়ামি হেরাল্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভেনিজুয়েলা কর্তৃপক্ষ ওয়েডলকে আটকের পর মুক্তি দিয়েছে।
ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলো মাদুরোর একজন সমালোচক হিসেবে পরিচিত সিনেটর মার্কো রোবিও বলেন, আমরা জেনেছি সেনা গোয়েন্দা সংস্থা সীমান্তে সম্প্রচারের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওয়েডলকে তুলে নিয়ে গেছে।
গত ১০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন নিকোলাস মাদুরো। বিরোধী দলগুলোর বর্জনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় এই নির্বাচন। তাই অন্য রাজনৈতিক দলগুলো মাদুরোর পদত্যাগের দাবি করে আসছেন। এই দাবির পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছন হুয়ান গুয়াইদো। যিনি দেশটির আইনসভার প্রধান এবং গত ২৩ জানুয়ারি নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। তাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রায় অর্ধশত রাষ্ট্র স্বীকৃতি দিয়েছে।
এ অবস্থায় বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহকালে ভেনিজুয়েলার নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে আটক হন সাংবাদিক ওয়েডল। এরপর তার মুক্তি দাবিতে বিবৃতিও দেয় যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ।

ভেনেজুয়েলায় জার্মান রাষ্ট্রদূতকে বহিস্কার করেছেন ।


ভেনেজুয়েলায় জার্মান রাষ্ট্রদূতকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশে দিয়েছে নিকোলাস মাদুরোর সরকার। বুধবার রাষ্ট্রদূত ড্যানিয়েল ক্রিনারের বিরুদ্ধে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে এ সময় বেঁধে দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরিয়েজা এক বিবৃতিতে বলেছেন, ভেনেজুয়েলার ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বারবার হস্তক্ষেপের কারণে’ ক্রেনারকে বহিষ্কারের এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের এই তৎপরতা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়; তারা এমন একজন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে জোট বেঁধে ভেনিজুয়েলার ভেতরে কাজ করছেন যিনি চরমপন্থিদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের ষড়যন্ত্র করছেন।
এদিকে, জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রদূত বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এ ব্যাপারে জার্মানির জবাব কী হবে তা নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অন্য মিত্রদের মধ্যে পরামর্শ চলছে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
উল্লেখ্য, কারাকাস বিমানবন্দরে সোমবার ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদো অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন ক্রিনারসহ কয়েকজন ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূত। এর দুদিনের মাথায় ক্রিনারকে বহিষ্কার করা হলো।

Tuesday, March 5, 2019

মাদুরোর বিরুদ্ধে আরো অবরোধ আরোপ করা হবে : গুয়াইদো

ভেনিজুয়েলার বিরোধী দলীয় নেতা হুয়ান গুয়াইদো বলেছেন, নিকোলাস মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে নতুন করে আরো অবরোধ আরোপ করা হবে। সোমবার তিনি এ কথা বলেন। খবর এএফপি’র।
গুয়াইদোর বরাত দিয়ে ভিপিআই টিভি জানায়, ভেনিজুয়েলা সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অবরোধ আরো বাড়ানো হবে। এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশ সফর করে দেশে ফিরে আসা বিরোধী দলীয় এ নেতা নতুন নিষেধাজ্ঞা কখন থেকে কার্যকর করা হবে সে ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করেননি।
যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহে ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে নতুন করে অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। ২০১৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ভেনিজুয়েলায় মানবিক ত্রাণ সরবরাহে বাধা দেয়ায় মার্কিন প্রশাসন দেশটির ন্যাশনাল গার্ড ও পুলিশ বাহিনীর অনেক সদস্যের নামের তালিকা করেছে।
গত জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলার রাষ্ট্র পরিচালিত তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ’র ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ২৩ জানুয়ারি ভেনিজুয়েলার জাতীয় পরিষদের স্পিকার গুয়াইদো দেশের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজেকে দাবি করে। লিমা গ্রুপের দেশগুলো মেক্সিকো ব্যতীত) ভেনিজুয়েলার অন্তবর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে গুয়াইদোকে স্বীকৃতি দেয়।
ভেনিজুয়েলার এমন ঘোলাটে পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ মহাসচিব সংলাপের আহবান জানান।

Monday, March 4, 2019

ব্রাজিল গত কয়েক মাসে প্রায় ১১ লক্ষ শরণার্থী কে আশ্রয় দিয়েছে।


বর্তমানে ব্রাজিলে রিফিউজি আবেদনকারীদের আবেদন খুবই দ্রুত নিষ্পত্তি হচ্ছে । একই সাথে রিফুজি আবেদনকারীদের সাবধান করা হয়েছে , যদি কোন তথ্য মিথ্যে প্রমাণিত হয় তবে তাকে কারাভোগ করতে হবে শেষে তার দেশে ফেরত পাঠানো হবে । অন্যদিকে পুলিশিয়া ফেডারেল সূত্রে জানানো হয়েছে যদি কেউ তার বর্তমান ঠিকানা পরিবর্তন করেন - তবে অবশ্যই পরিবর্তনের পর তার নিকটবর্তী পুলিশিয়া ফেডারেলে  এসে তার নতুন ঠিকানা পরিবর্তন করতে হবে । অন্যথায় যে কোন সময় তার রিফুজি আবেদন বাতিল হতে পারে । ফেডারেল সূত্রে আরো জানানো হয়েছে - নতুন করে যারা রিফিউজি আবেদন করবেন তাদের আবেদনপত্রে যে ইমেইল এর ঠিকানা লেখা হবে সেই ঠিকানায় যাচাই-বাছাইয়ের পরে ইমেইল যাবে অবশ্যই প্রতিটি আবেদনকারীকে তাদের ইমেইল নিয়মিত যাচাই করতে হবে ।

বর্তমানে প্রতিটি  রিফিউজি আবেদনকারীর আবেদনপত্র আইন মন্ত্রণালয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য পাঠানো হয় ।  তারপর আইন মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাইয়ের পরে পূর্ণাঙ্গ ফাইল পাঠানো হয় কনারিতে ।
কনারি নিজ দায়িত্বে প্রতিটি রিফুজি আবেদনকারীকে যত্ন সহকারে তাদের তথ্য সরবরাহ করে । শেষ পর্যায়ে ফাইনাল প্রতিবেদন পুলিশিয়া ফেডারেলে পাঠান । 

গত কয়েক মাসে ব্রাজিল প্রায় ১১ লক্ষ শরণার্থী কে আশ্রয় দিয়েছে। 
প্রতিদিন শরণার্থীর সংখ্যা বাড়ছে ব্রাজিলে । 

Saturday, March 2, 2019

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্র, চিলি ও ইসরাইল সফরে যাচ্ছেন।


ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো এ মাসে যুক্তরাষ্ট্র, চিলি ও ইসরাইল সফরে যাচ্ছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশ তিনটিতে এটি হবে তার প্রথম সফর। এটি ডানপন্থী এ নেতার বন্ধুত্ব জোরদারের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত। শুক্রবার সরকারি সূত্র একথা জানায়। খবর এএফপি’র।
ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্নেস্তো আরাউজোর বরাত দিয়ে সরকারি মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম আজেনিসিয়া ব্রাসিল জানায়, গত পহেলা জানুয়ারি দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করা সেনাবাহিনীর সাবেক এ ক্যাপ্টেন ১৮ থেকে ২২ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র এবং ২৩ মার্চ চিলি সফর করবেন।
আরাউজো আরো জানান, মার্চের শেষদিন বোলসোনারো ইসরাইল সফরে যাবেন। ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বুধবার বলেন, ব্রাজিলের এ নেতা ৩১ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল ব্রাজিল সফর করবেন।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে বোলসোনারোর এটি হবে তার প্রথম সরকারি সফর।
জানুয়ারিতে তিনি দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের সম্মেলনে অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডে যেতে চান।

Monday, February 25, 2019

ভেনিজুয়েলার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য আমেরিকাকে সব ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তাব দিবো।

ভেনিজুয়েলার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য আমেরিকাকে সব ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তাব দিবো। সীমান্তে মার্কিন ত্রাণ নিয়ে সংঘর্ষের জেরে এসব কথা বলেন ভেনিজুয়েলার বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদো।
এক টুইটার বার্তায় গুয়াইদো বলেন, শনিবারের ঘটনা আমাকে এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাব তুলে ধরব যাতে আমাদের দেশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত করার জন্য সব ব্যবস্থা নেয়ার পথ খোলা থাকে।
ভেনিজুয়েলার সামরিক বাহিনীর সঙ্গে গত শনিবার তুমুল সংঘর্ষ বাধে গুয়াইদো সমর্থকদের। আমেরিকার দেয়া ত্রাণ ভেনিজুয়েলাতে প্রবেশ করাকে কেন্দ্র করে গুয়াইদোর সমর্থকদের ওপর টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।
তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাদুরোর অভিযোগ ট্রাম্প প্রশাসন এসব লোক দেখানো ত্রাণ পাঠানোর নামে ভেনিজুয়েলায় সামরিক অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা করছে। মাদুরো ঘোষণা দেয় কোনভাবেই এসব ত্রাণ ভেনিজুয়েলায় ঢুকতে পারবে না।
ত্রাণ প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবারের সংঘর্ষে ৭ জন নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।

ভেনিজুয়েলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ৫ জন নিহত

ভেনিজুয়েলা সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৫ জন নিহত এবং আড়াইশ’র বেশি আহত হয়েছে। কলম্বিয়া থেকে মার্কিন ত্রাণবাহী গাড়ি আনার সময় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। প্রেসিডেন্ট মাদুরো যে কোনো মূল্যে মার্কিন ত্রাণবাহী ট্রাক আটকানোর অঙ্গীকার করেছেন। স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট গুয়াইদো প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে উত্খাতের হুমকি দিয়েছেন। খবর সিএনএন ও রয়টার্সের।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পিও মাদুরোকে ‘অসুস্থ অত্যাচারী শাসক’ বলে উল্লেখ করেছেন। প্রেসিডেন্ট মাদুরো কলম্বিয়ার সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। এদিকে ভেনিজুয়েলার সঙ্গে যুদ্ধে না জড়াতে ওয়াল স্ট্রিটে সমাবেশ করেছেন একদল বিক্ষোভকারী।
সীমান্তে সংঘাত অব্যাহত
ভেনিজুয়েলা সীমান্তের কাছে কলম্বিয়ার ওয়্যারহাউসে মার্কিন খাবার ও ঔষধবাহী কয়েকটি ট্রাক পৌছেছে। সেখান থেকে ট্রাকগুলো ভেনিজুয়েলায় আনার চেষ্টা করেন গুয়াইদোর সমর্থকরা। এর আগে শনিবার কলম্বিয়া সরকার জানিয়েছিল, সীমান্ত থেকে মানববন্ধনের মাধ্যমে ত্রাণ ভেনিজুয়েলায় পাঠানো হবে। কিন্তু ট্রাকগুলোর সীমান্তে আনার পর প্রেসিডেন্ট মাদুরোর সেনাবাহিনী আটকে দেয়। এই সময় বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গুয়াইদোর সমর্থক এবং এমপি আদ্রিয়ানা পিচারডো জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে শনিবার অন্তত ৫ জন নিহত এবং ২৮৫ জন আহত হয়েছে। তবে তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রভাবশালী মিডিয়া সিএনএন। বিক্ষোভের সময় দুটি ট্রাকে আগুন ধরে যায়। কিভাবে আগুন ধরলো তা জানা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মুখোশ পরা অনেক বেসামরিক নাগরিককেও বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে দেখা যায়।
মাদুরো-গুয়াইদোর পাল্টাপাল্টি হুমকি
ত্রাণ আটকে দেওয়া এবং হতাহতের ঘটনায় গুয়াইদো এক টুইটার বার্তায় বলেছেন, শনিবারের ঘটনার পর আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, আমাদের স্বাধীনতা রক্ষায় আন্তর্জাতিক বিশ্বের সব বিকল্প হাতে রাখা উচিত। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, ভেনিজুয়েলা সংকটে সামরিক হস্তক্ষেপসহ সব বিকল্প আমার টেবিলে আছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা বিশ্ব গুয়াইদোকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাদুরো মার্কিন ত্রাণকে সামরিক হস্তক্ষেপের একটি ইঙ্গিত বলে উল্লেখ করেছেন। শনিবার কারাকাসে এক সমাবেশে মাদুরো গুয়াইদোকে ভাঁড় এবং যুক্তরাষ্ট্রের পুতুল বলে উল্লেখ করেন। তিনি যে কোনো মূল্যে ত্রাণ আটকে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। কলম্বিয়া সরকার জানিয়েছে, শনিবার সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ৬০ জন সদস্য মাদুরোর পক্ষ ত্যাগ করেছে।
অসুস্থ ও অত্যাচারী শাসক
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাদুরোকে অসুস্থ অত্যাচারী শাসক বলে উল্লেখ করেছেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স আজ সোমবার ল্যাতিন আমেরিকার লিমা গ্রুপভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সোমবার বোগোতায় হুয়ান গুয়াইদোর সঙ্গে বৈঠক করবেন মাইক পেন্স। লিমা গ্রুপের বৈঠকে গুয়াইদোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের কথা বলবেন মাইক পেন্স। সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনও টুইটার বার্তায় গুয়াইদোকে সমর্থন জানিয়েছেন। ত্রাণ প্রবেশে বাধা দেওয়ায় কয়েকজন মার্কিন সিনেটর এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন মাদুরোর নিন্দা জানিয়েছেন।
ওয়াল স্ট্রিটে সমাবেশ
প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে সমর্থন জানিয়ে নিউ ইয়র্কের ওয়াল স্ট্রিটের সামনে বিক্ষোভ করেছে একদল প্রতিবাদকারী। তারা ভেনিজুয়েলায় যুদ্ধে না জড়াতে মার্কিন প্রশাসনের প্রতি আহবান জানিয়েছে। ভেনিজুয়েলার আর্থিক সংকটের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে তারা।

Sunday, February 24, 2019

কলম্বিয়া সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে ভেনিজুয়েলা


কলম্বিয়া সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোর সরকার। অন্যদিকে স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুয়াইদো এবং তার সমর্থকরা যুক্তরাষ্ট্রের ত্রাণ দেশের ভেতর আনতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষও চলছে। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গুয়াইদো কলম্বিয়ায় গেছেন। সীমান্ত অতিক্রমে সেনাবাহিনী সহায়তা করেছে বলে তিনি জানিয়েছেন। খবর বিবিসি ও ব্লুমবার্গের।
প্রেসিডেন্ট মাদুরো জানিয়েছেন, কলম্বিয়া সীমান্তের আংশিক বন্ধ করা হয়েছে। তবে গুয়াইদো জানিয়েছেন, খাবার এবং ঔষধবাহী গাড়ি দেশের ভেতর ঢুকতে দিতে হবে। তিনি এসব ত্রাণ আনার অঙ্গীকার করেছেন। ভেনিজুয়েলার অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, সীমান্তে সেনাবাহিনী বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, একদল লোক কলম্বিয়ায় প্রবেশ করতে গেলে সেনাবাহিনী তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। কলম্বিয়ার একটি অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, শনিবার তিন সেনা সদস্য পোস্ট ত্যাগ করেছেন। ত্রাণ প্রবেশে সহায়তা চাইলে তারা পোস্ট ছেড়ে চলে যান। এর আগে শনিবার ব্রাজিল সীমান্তে সেনাবাহিনীর গুলিতে দুইজন নিহত হয়।
ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শুক্রবার কলম্বিয়া গেছেন গুয়াইদো। তিনি এসব নিষেধাজ্ঞা মানেন না বলে জানিয়েছেন। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একটি কনসার্টেও অংশ নেন তিনি। গুয়াইদো জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী তাকে কলম্বিয়া যেতে সহায়তা করেছে। কলম্বিয়া সীমান্ত বন্ধ করায় গুয়াইদো নিজ দেশে ফিরে আসতে পারবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। তবে তিনি দেশে ফিরে আসার অঙ্গীকার করেছেন, এমনকি গ্রেপ্তারের আশংকা থাকলেও।
 

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

সম্পাদকীয় কার্যলয়

Rua padre germano mayar, cristo rio -80040-170 Curitiba, Brazil. Contact: +55 41 30583822 email: worldnewsbbr@gmail.com Website: http://worldnewsbbr.blogspot.com.br

সম্পাদক ও প্রকাশক

Jahangir Alom
Email- worldnewsbb2@gmail.com
worldnewsbbbrazil@gmail.com
 
Blogger Templates