Social Icons

Friday, September 1, 2017

ব্রাজিলের জয়রথ চলছেই

ব্রাজিল সরকারের আমাজন অনুসন্ধান আটকে গেল




তিন তালাক বাংলাদেশের আইন কী আছে?

ভারতের সর্বোচ্চ আদালত মঙ্গলবার এক রায়ে মুসলমানদের তিন তালাক প্রথাকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করেছে। পর পর তিনবার তালাক উচ্চারণ করে অথবা চিঠি লিখে, সামাজিক মাধ্যম বা ফোনে তিনবার তালাক উচ্চারণ করে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেওয়া হয়, তার বিরুদ্ধে ৫জন মুসলিম নারী সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করেছিলেন। তারই প্রেক্ষিতে এক সাংবিধানিক বেঞ্চ এই রায় দিয়েছে।

এই রায় নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে ভারতের মুসলমান প্রধান এলাকাগুলোতেও। কিন্তু বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের মত মুসলমান-প্রধান দেশে তিন তালাক নিষিদ্ধ হয়েছে দীর্ঘদিন। 

মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল বলছেন, পাকিস্তান আমলে নারী আন্দোলন কর্মীরা তিন তালাক বন্ধের জন্য চাপ ছিল। তখন আইয়ুব খান ক্ষমতায় ছিল। নারী অধিকার কর্মীরা তখন হুমকি দিয়েছিল, তিন তালাকের বিষয়ে মুসলিম পারিবারিক আইনে যদি পরিবর্তন না আনা হয় তাহলে তারা আইয়ুব খান বিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলবে। ফলে ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইনে সংস্কার সাধন করেছিল আইয়ুব খান সরকার। তখন বলা হয়েছিল, মুখে-মুখে তিন তালাকের কোন আইনগত বৈধতা থাকবে না। 

সুলতানা কামাল বলেন, ‘মুসলিম বৈবাহিক আইনে 'তালাকে আহসান' এবং 'তালাকে ইহসান' বলে দুটো পদ্ধতি আছে। সে দুটো মিলিয়ে 'তালাকে তৌফিজ' পদ্ধতি সবার জন্য বৈধ করে দেয়া হলো। এ পদ্ধতির বলে স্বামী বা স্ত্রী যে কেউ তাদের বিবাহ বিচ্ছেদের ইচ্ছা প্রকাশ করতে পারেন। কিন্তু তিন মাসের মধ্যে তারা যদি মত পরিবর্তন করে ফেলে তাহলে সে তালাক কার্যকরী হবে না। তিন মাসের মধ্যে যদি তারা মত না বদলায় তাহলে তিনমাস পরে সে তালাক কার্যকরী হবে।’ 

আইয়ুব খান সরকার তালাকের ক্ষেত্রে যে সংস্কার এনেছিল সেটি এখনো বাংলাদেশে চালু আছে। তিনি বলেন বাংলাদেশে আদালতের মাধ্যমে এবং পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে বিবাহ বিচ্ছেদ সম্ভব। বাংলাদেশে কেউ যদি বিচ্ছেদের ইচ্ছা পোষণ করে তাহলে সেটি একটি সালিশি বোর্ডের কাছে চলে যাবে। এ সালিশি বোর্ড তিন সদস্য বিশিষ্ট হয়। সেখানে একজন জনপ্রতিনিধি এবং স্ত্রী ও স্বামীর পক্ষ থেকে একজন করে প্রতিনিধি থাকে। 

সুলতানা কামাল বলেন, যারা তালাকের জন্য ইচ্ছা পোষণ করেন, তারা যদি মনে করে তাহলে সালিশের মাধ্যমে একটি সমাধান নিতে পারে। যদি সেটা না হয়, তাহলে তিনমাস পরে সেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়ে যাবে।

বাংলাদেশে কেউ যদি তিন তালাকের বিরুদ্ধে আইনগত সুরক্ষা চায় তাহলে তাকে সেটি দেয়া হয়। কারণ তিন তালাক উচ্চারণের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ বাংলাদেশে বৈধ নয়। কিন্তু 'তিন তালাক' উচ্চারণের মাধ্যমে কেউ বিবাহ বিচ্ছেদ করতে চাইলে তাকে শাস্তি দেবার বিধান নেই। তবে সে তালাক আইনগত-ভাবে কার্যকরী হবে না। তখন স্ত্রীকে তার মর্যাদা দিতে হবে এবং তাকে ভরণ-পোষণ দিতে হবে। 

সূত্র: বিবিসি।

‘মুসলমানদের বিরুদ্ধে নির্যাতন সহ্য করবে না ইরান’

মায়ানমারের রোহিঙ্গা নির্যাতন নিয়ে হতাশা ও উদ্বেগের কথা তুলে ধরে ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি বলেছেন, বিশ্বের যেকোনো জায়গায় মুসলমানদের বিরুদ্ধে নির্যাতন হোক না কেন ইরান তা সহ্য করবে না।  

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের সঙ্গে বৃহস্পতিবার টেলিফোনে আলাপালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে ইরানি প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন, যেসব বিচ্ছিন্নতাবাদী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে তা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থ রক্ষা করবে না বরং এসব পদক্ষেপের কারণে আঞ্চলিক দেশগুলো ক্ষতির মুখে পড়বে।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট সঙ্গে ফোনালাপে ড. রুহানি বলেন, এ অঞ্চলের দেশগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে কিছু দেশ তাদের ইচ্ছা চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। 

দুই প্রেসিডেন্ট দৃশ্যত ইরাকের কুর্দিস্তানে আসন্ন গণভোটের নামে বিচ্ছিন্নতাবাদী পদক্ষেপের কথা বলেছেন। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর ওই গণভোট অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছেন ইরাকের কুর্দি নেতারা।

ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, এ ধরনের বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রবণতা ও পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে যে সমস্যা তৈরি করা হয়েছে তা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য তৈরি করা হয়েছে বলে ইরান কখনো বিশ্বাস করে না। 

আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের নিরাপত্তাহীনতা ও সহিংসতায় দুঃখ প্রকাশ করে ড. হাসান রুহানি বলেন, এ অবস্থায় ইরান ও তুরস্কের আরো জোরালো ভূমিকা পালন করা উচিত।

ফোনালাপে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে তুরস্কের সহযোগিতা বাড়বে -সে বিষয়ে তিনি আস্থাশীল। এরদোগানও মায়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নির্যাতনে দুঃখ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি আঞ্চলিক সমস্যা সমাধানে ইরান ও তুরস্কের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাখাইনে সহিংসতায় নিহত ৪০০: মিয়ানমার সেনাবাহিনী


মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের উপর নতুন করে শুরু হওয়া সহিংসতায় কমপক্ষে ৪০০ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী । জাতিসংঘ সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রাখাইনে রোহিঙ্গা জঙ্গিদের চেকপোস্টে হামলা পরবর্তী সামরিক প্রতি আক্রমণ শুরু হওয়ার পরে ৩৮ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
 
রয়টার্সকে জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা জানান, আগস্টের ৩১ তারিখ পর্যন্ত ৩৮ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দাবি, তারা উগ্রবাদী জঙ্গি নির্মূলে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ পরিচালনা করছে এবং সেনাবাহিনীকে বলা হয়েছে বেসামরিক জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিম্চিত করতে। কিন্তু বাংলাদেশে পলায়নরত রোহিঙ্গারা জানিয়েছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী অগ্নিসংযোগ ও হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার পায়তারা করছে।
 
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সর্বশেষ শুরু হওয়া সংঘর্ষে এক সপ্তাহে ৩৭০ রোহিঙ্গা জঙ্গি, ১৩ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, দুই জন সরকারি কর্মকর্তা ও ১৪ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। এর আগে ২০১২ সালে রাখাইন প্রদেশের রাজধানী সিতওয়েতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় ২০০ জন নিহত হয়েছে, প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিল।

Thursday, August 31, 2017

দ.আফ্রিকায় অর্থনৈতিক মন্দা; ফিরে আসছে অনেক বাংলাদেশি


আফ্রিকা মহাদেশের প্রধান শিল্প প্রধান ও সম্পদশালী দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার নাগরিক জীবিকা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সন্ধানে ছুটে যায় দেশটিতে। বাংলাদেশ থেকেও প্রায় দেড় লাখের মতো প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছে সেখানে। যাদের অধিকাংশই অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশ করে ব্যবসা বাণিজ্য করছে দীর্ঘ দিন ধরে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির অর্থনৈতিক মন্দা আর মুদ্রামানের দরপতন থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যের সুদিন হারিয়েছে ব্যবসায়ীরা। যার বড় ধরণেল প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের । অতিরিক্ত উপার্জন আর বেঁচাকেনা না হওয়ায় নিরুপায় হয়ে ব্যবসা বন্ধ করে দিয়ে বহু বাংলাদেশি ফিরে আসছে দেশে। স্বপ্ন আর বাস্তবতার এই বিস্তর ফাঁরাকে কেউ কেউ সর্বস্ব হারিয়ে আত্মহত্যার মত পথও বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে।
কিন্তু কি এমন কারণ যার জন্যে দ. আফ্রিকা থেকে ফিরতে হচ্ছে বাংলাদেশিদের? ভুক্তভোগী এমনই একজন প্রবাসী ব্যাক্তির সন্ধান মিলল ঢাকার দোহারে। যার নাম মোযাফফর হোসেন। যিনি অনেক স্বপ্ন আর বুকভরা প্রত্যাশা নিয়ে চার মাস আগে দ.আফ্রিকায় গিয়েছিলেন। নিজের এক আত্মীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ. আফ্রিকায় কেপটাউন শহরে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের দোকান দেন। যেখানে তিনি পাঁচ লাখের মত বাংলাদেশি টাকা বিনিয়োগ করেন। কিন্তু সারাদিনে যে পরিমান বেঁচা-কেনা হয় তাতে তিনি দেখেন যে তার থাকা-খাওয়াটা কোনভাবে চলে যায়। দেশে টাকা পাঠানো আর হয়না। এমন পরিস্থিতি দেখে এক পযায়ে তিনি দোকান বিক্রি করে চলে আসেন দেশে। ঢাকার মোযাফফরের মতো মানিকগঞ্জের আমজাদ ও ফারুক হোসেনেরও অবস্থা একই। অতিরিক্ত মুনাফা আর ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে দ.আফ্রিকায় গিয়েছিলেন প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ করে। কিন্তু ভাগ্যের বিড়ম্বনা আর দেশটির সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক দুর্দশায় তাদেরকে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হতে হয়।
সম্প্রতি দেশটির অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পড়ে হাজার হাজার বাংলাদেশিকে দেশে ফিরে আসতে হচ্ছে। কারণ দ. আফ্রিকায় শতকরা ৮০ ভাগ প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসা-বাণিজ্যের সাথে জড়িত। যাদের কেউ দোকান মালিক আবার কেউ সেই দোকানের কর্মচারী। বাকী ২০ ভাগ বাংলাদেশি দেশটিতে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত। বাংলাদেশ থেকে যেসব শ্রমিক দক্ষিণ আফ্রিকায় যায় তাদের শতকরা ৮০ ভাগ দেশটির প্রত্যন্ত অঞ্চলে দোকান ভাড়া নিয়ে বা ক্রয় করে ব্যবসা করে। আর যাদের আত্মীয়-স্বজন রয়েছে তারা যৌথভাবে দেশটির শহরে ব্যবসা করছে। মূলত প্রবাসী বাংলাদেশিরা দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান, কেপটাউন, জোহানেসবার্গ কিংবা প্রিটোরিয়ার মত প্রশাসনিক রাজধানীতে ব্যবসা করে থাকে। এভাবে ব্যবসা গুটিয়ে বাংলাদেশিদের দেশে ফিরে আসার কারণ জানতে চাইলে প্রবাসী সাংবাদিক আলম আল-আমিন ভয়েস বাংলাকে জানান, দুটি কারণে মূলত প্রবাসী ব্যবসায়ীরা দেশে ফিরে যাচ্ছে, তার মধ্যে প্রথমটি হলো- সাম্প্রতিক সময়ে দ.আফ্রিকার অর্থনৈতিক মন্দা ও মুদ্রামানের নিম্নগতি এবং দ্বিতীয়টি হলো ডাকাতদের অত্যাচার ও লুটপাট।
এর বাইরে তিনি আরও জানান, প্রবাসী বাংলাদেশি হত্যা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা হওয়ার পেছনে আর যে কারণটি গুরুতর, তা হলো নারী ঘটিত ব্যাপার । বেশিরভাগ প্রবাসী ব্যবসায়ী বিশেষ করে যারা শ্রমিক হিসেবে প্রবেশ করে দেশটিতে ব্যবসা করছে, তারা দেশটির মেয়েদের সাথে এক ধরণের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। যার ফলে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়ে নির্মম অত্যাচার কিংবা জীবন হারাতে হয়েছে।তবে ভিন্ন চিত্র রয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের অনেকেরই। যারা দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা-বানিজ্য করছেন। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে কেপটাউন শহরে ব্যবসা করছেন ঢাকার দোহারের সাইফুল ইসলাম। যিনি এখন পরিবার নিয়ে সেখানে ব্যবসা বানিজ্য করছেন। ভয়েস বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ‘সার্বিক দিক বিবেচনা করলে আসলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা অনেক সমস্যার মধ্যে রয়েছে। তবে অনেকেই আবার ভালো অবস্থানে রয়েছে। ৯৬ এর প্রথম দিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েছিল তাদের অনেকেই খুব ভাল অবস্থান করে নিয়েছেন। সেখানে বাড়ি, গাড়ি, বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। আবার অনেকেই স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে আগে যে পরিমান ইনকাম ছিল এখন সে পরিমান নেই।
তার কারণ হিসেবে তিনি জানান, দেশটির মুদ্রামান, অর্থনৈতিক অবস্থা এবং আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রবাসী দেশটিতে প্রবেশ করা।তবে এখন যারা যাচ্ছে, তাদের বেশিরভাগই দালালদের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে যাচ্ছে। সেখানে গিয়ে সে টাকা তুলতে না পারায় হতাশ হচ্ছে। উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে দ.আফ্রিকায় বাংলাদেশ দূতাবাস চালু হলেও কূটনৈতিক তৎপরতা না থাকায় বৈধভাবে শ্রমিক প্রবেশের কোন অনুমতি আজও মেলেনি। যার কারণে লাখ লাখ টাকা খরচ করে এজেন্টদের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবেশ করছে বাংলাদেশি শ্রমিকরা। তারপর সেখানে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে বছরের পর বছর ঝুঁকি নিয়ে কাটিয়ে দিচ্ছে এসব প্রবাসীরা।
তবে সেখানকার বাংলাদেশি কমিউনিটির দাবি, যদি বাংলাদেশ সরকার এবং দূতাবাস তৎপর হয় তাহলে দেশটিতে অবস্থানরত দেড় লক্ষাধিক প্রবাসীর জীবনমানের একটা নিশ্চয়তা তৈরী হবে, তৈরী হতে পারে নতুন কোন শ্রমবাজার। এতে বৈধভাবে দেশে রেমিটান্স পাঠানো সম্ভব হবে, ফলে বেড়ে যাবে দেশের রেমিটেন্স প্রবাহ।

ইতালির ভারি শিল্পে ধস; ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীরা

এক সময়ের অন্যতম ধনী দেশ ইতালি বর্তমানে  ইউরোপের অনেক দেশের অর্থনীতির থেকে পিছিয়ে পড়েছে । মূলত অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পড়া দেশটি এখনও আগের অবস্থায় ফিরে আসতে পারেনি। এর ফলে ইতালিতে বসবাসরত প্রবাসীরাও অনেক বছর ধরে দুর্দিনের মধ্যে জীবনযাপন করছে। ইতালিতে থাকা বাংলাদেশিদের মধ্যে বেশিরভাগই রেস্টুরেন্টে চাকরি করেন। এছাড়া অনেকেই জাহাজ নির্মাণ শিল্পে কাজ করেন। আবার কেউ কেউ বিভিন্ন মেটাল ফ্যাক্টরিতেও কাজ করেন। বাকী যারা আছেন তাদের অনেকেই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
মূলত ইতালিতে যারা বিভিন্ন চাকরির সঙ্গে জড়িত তাদের বেতন অনেক কম। তাছাড়া প্রচুর পরিমাণে অবৈধ শ্রমিক ঢুকছে ইতালিতে, এটাও অন্যতম একটি কারণ।  ফলে চাকরির বাজার হয়ে পড়ছে অস্থিতিশীল। মরার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে অনেককেই সমপরিমাণ টাকা ইতালি সরকারকে ট্যাক্স হিসেবেও দিতে হয়। এক সময়ের শিল্পোন্নত দেশ ইতালি ভারি শিল্পের অন্যতম উৎপাদন ক্ষেত্র ছিল। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে তাদের টিকে থাকাটা এক ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বিশেষ করে চীনের তৈরি পণ্যের মূল্য অনেক কম হওয়ায় ইতালির পণ্য গুণগত মানে ভালো হয়েও টিকতে পারছে না। এ ধরণের নানাবিধ কারণে ইতালির অনেক ভারি শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে।  অন্যদিকে চীনা তৈরি পণ্যের জয়জয়কার পৃথিবীব্যাপী। আবার তাদের পণ্যের উৎপাদন খরচও অনেক কম। তারা কম মূল্যে পণ্য উৎপাদন করে বিশ্ব বাজার ধরে ফেলছে। ফলে দিনকে দিনকে তাদের পণ্যের চাহিদাও বাড়ছে।  এর প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের মত দেশগুলোর অভিবাসী শ্রমিকদের উপর। বৈধ বা অবৈধ প্রবাসী বাংলাদেশিরা অনেকেই কাজ হারিয়েছেন। তাদেরকে টিকে থাকতে ইতালিতে অনেক কম বেতনে বিভিন্ন ধরণের কাজ করতে হচ্ছে।
বাংলাদেশি কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী খোকন প্রায় পাঁচ বছর ধরে ইতালিতে আছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ইতালিতে আসার আগে প্রায় আট বছর বাহরাইন ছিলাম। ওখানে অনেক ভালোই ছিলাম। কিন্তু চিন্তা করলাম ইউরোপে গেলে আরো ভালো থাকতে পারবো । তখন ইতালির অবস্থা ভালোই ছিল। তবে যখন ভিসা হাতে পেলাম তখন বুঝলাম ইতালির অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। তবে ইতালিতে পার্মানেন্ট হতে পারলে ইউরোপের অনেক দেশে গিয়েই বসবাস করা যায়। এ ক্ষেত্রে ব্রেক্সিট  পূর্ববর্তী সময়ে যেমন ব্রিটেন যাওয়ার প্রবণতা ছিল অভিবাসী বাংলাদেশিদের। আর এখন এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে জার্মানি অভিমুখী। কিন্তু কোথাও গিয়ে এখন আর স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে না।’
অন্যদিকে ইতালিতে যেসব বাংলাদেশি অভিবাসী ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তারা অনেকটা নিরাপদ জীবনযাপন করে থাকেন। তারপরও তারা তাদের বাড়ি গাড়ি ফেলে ইউরোপের অন্যান্য দেশ যেমন ব্রিটেন বা জার্মানিতে যাওয়ার চেষ্টা করেন। মূলত ইতালির ব্যবসা বাণিজ্যেও আগের মত নিশ্চয়তা আর নেই। ফলে এখন প্রবাসীরা নিরাপদ জীবনের সন্ধানে এক দেশ থেকে আরেক দেশে ছুটে বেড়ান।
ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশি খোকন ভয়েস বাংলাকে আরো জানান, ‘সত্যি বলতে ভারি শিল্পের দেশ ইতালিতে নিয়মিত ভাবেই শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা কর্মহীন হয়ে পড়ছে। মূলত চীনা পণ্যের কারণে ইতালির ভারি শিল্পে এসেছে দুঃসময়। শিল্পোন্নত ইতালির উৎপাদন ব্যবস্থায় পিছিয়ে পড়ার একটি অন্যতম কারণ এটি। যার প্রভাবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা হয়ে পড়ছে বেকার’।
এ ধরণের বিভিন্ন কারণে ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রতি মূহুর্তেই অনিশ্চয়তায় ভোগে। ইতালির মানবাধিকার ব্যবস্থা ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক ভালো হলেও এখানে বর্ণবাদী মানসিকতাও এখন চোখে পড়ে। এক সময়ের শিল্পোন্নত দেশ ইতালি যেমন ধুঁকছে, তার সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ধুঁকছে প্রতি মূহুর্তের বিপন্নতাকে সঙ্গী করে।
 

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

সম্পাদকীয় কার্যলয়

Rua padre germano mayar, cristo rio -80040-170 Curitiba, Brazil. Contact: +55 41 30583822 email: worldnewsbbr@gmail.com Website: http://worldnewsbbr.blogspot.com.br

সম্পাদক ও প্রকাশক

Jahangir Alom
Email- worldnewsbb2@gmail.com
worldnewsbbbrazil@gmail.com
 
Blogger Templates