একটি কৌশলপত্রে চীন ও রাশিয়াকে মূল সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে 'চিহ্নিত' করেছে যুক্তরাষ্ট্র৷ যুক্তরাষ্ট্রের এমুন আচরণকে 'সাম্রাজ্যবাদী' বলে আখ্যায়িত করেছে রাশিয়া৷ চীন বলছে, এটা তাদের 'স্নায়ুযুদ্ধের মানসিকতা'৷
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ 'জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল' শিরোনামের একটি নথি প্রকাশ করে৷ সেখানে চীন ও রাশিয়াকে সবচেয়ে বড় সামরিক হুমকি বলে উল্লেখ করে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে৷
'দিন দিন এটা স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে, চীন ও রাশিয়া এমন একটি কর্তৃত্বপূর্ণ মডেলে পুরো বিশ্বের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে, যেখানে জাতিগুলোর অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক সিদ্ধান্তে তারা হস্তক্ষেপ করতে পারে৷' প্রকাশিত নথির ১১ পৃষ্ঠার সংস্করণে এমনটিই লেখা ছিল৷
নতুন কৌশলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নীতিতে একটি মৌলিক পরিবর্তন আনার কথা বলা হয়েছে৷ ২০০১ সালের নাইন ইলেভেনের পর মধ্যাপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাস দমনে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা মোতায়েন ও যুদ্ধ করাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল এতদিনের প্রতিরক্ষা কৌশলে৷ কিন্তু সে জায়গা থেকে কিছুটা সরে আসার কথা বলা হচ্ছে এখন৷
কৌশলপত্রটি প্রকাশের সময় দেশটির প্রতিরক্ষা সচিব জেমস ম্যাটিস বলেন, 'চীন একদিকে তার লুটেরা অর্থনীতি দিয়ে প্রতিবেশীদের গ্রাস করে ফেলতে চাইছে, অন্যদিকে দক্ষিণ চীন সাগরে সামরিক প্রভাব বাড়াচ্ছে৷'
রাশিয়া সম্পর্কে বলেন, 'রাশিয়া তার নিকটতম রাষ্ট্রগুলোর সীমানা লঙ্ঘন করেছে৷'
ম্যাটিস ঘোষণা দেন, 'আমরা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশে যে যুদ্ধ চালাচ্ছি, তা চালিয়ে যাবো, কিন্তু এখন থেকে আমাদের মূল লক্ষ্য সন্ত্রাসবাদ নয়, বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে পাল্লা দেয়া৷' গেল ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও অনেকটা একই সুরে কথা বলেছিলেন৷
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন প্রতিরক্ষা কৌশলের পর আবারো স্নায়ুযুদ্ধের আভাস পাচ্ছে চীন৷ তারা একে যুক্তরাষ্ট্রের স্নায়ুযুদ্ধের মানসিকতা বলে উল্লেখ করেছে৷ রাশিয়া বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী চরিত্রই কেবল সামনে আসছে৷ সূত্র: ডয়েচে ভেলে
Thursday, February 1, 2018
মেক্সিকোয় সেনাদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৪
মেক্সিকোর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য সিনালোয়ায় বুধবার সকালে সেনাদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে চার সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ একথা জানিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা সিনহুয়া’র।
সিনালোয়া’র আন্ডার সেক্রেটারি ফর পাবলিক সিকিউরিটি ক্রিস্টোবাল ক্যাস্টানেডা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পুলিশ স্থানীয় সময় ৪টা ৫৫ মিনিটে সিনালোয়ার রাজধানী সুলিয়াকানের একটি হলে গোলাগুলির খবর পান। ক্যাস্টানেডা আরো বলেন, সশস্ত্র অপরাধ চক্রের সদস্যরা টহল সেনাদের লক্ষ্য করে বন্দুক হামলা চালালে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি সেনাদের নিয়ন্ত্রণে চলে এলে কর্তৃপক্ষ সেখান থেকে ছয়টি রাইফেল, চারটি গ্রেনেড উদ্ধার এবং দুটি গাড়ি জব্দ করে। নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি। সিনহুয়া।
Labels:
আন্তর্জাতিক
বাড়িতে বাবার লাশ, অশ্রু মুছে পরীক্ষা দিলো তাহমিনা
একযোগে সারাদেশে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার। সব শিক্ষার্থী মা-বাবার দোয়া নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে আসে। কিন্তু বাড়িতে বাবার লাশ রেখে চোখে অশ্রু নিয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিতে এসেছে তাহমিনা।
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার বাড়িতে বাবার লাশ রেখে তাহমিনা আজকের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এক হাতে চোখের অশ্রু মুছে আর অন্য হাতে কলম চালিয়ে পরীক্ষা দেয় তাহমিনা।
বাবার লাশ রেখে পরীক্ষা দিতে এসেছে এক ছাত্রী এ খবর পেয়ে সহপাঠী, শিক্ষক ও সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পূরবী গোলদার পরীক্ষার হলে ছুটে আসেন। সেইসঙ্গে তাহমিনাকে সান্ত্বনা দেন ইউএনও।
বৃহস্পতিবার সদরপুর উপজেলার বেগম কাজী জেবুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্র বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষার দিন এ ঘটনা ঘটে। বাবুরচর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সহযোগিতায় ওই ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষার হলে ওই শিক্ষার্থীর সংবাদ পেয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূরবী গোলদার ওই শিক্ষার্থীর খোঁজখবর নিতে ছুটে আসেন।
এ সময় ইউএনও ওই ছাত্রীকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন। তখন তাহমিনার কান্নায় রুমের অনেকের চোখেই পানি চলে আসে। সুন্দরভাবে পরীক্ষা দেয়া ও বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করেন ইউএনও।
জানা যায়, তাহমিনার বাবা মো. তোফাজ্জেল হোসেন সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের মধ্য বাবুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। এক বছর আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত হন তিনি।
বৃহস্পতিবার নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন তোফাজ্জেল হোসেন। মৃত্যুকালে ওই শিক্ষক দুই কন্যা, এক ছেলে ও স্ত্রী লাইলি বেগমকে রেখে যায়। বড় মেয়ে তাহমিনা এবছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।
মেজো ছেলে আজিজুল ইসলাম এলাকার একটি মাদরাসায় পড়াশোনা করছে ও ছোট মেয়ে লাবনী বাবুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।
Labels:
শিক্ষা
বাংলাদেশে আসছেন সুইস প্রেসিডেন্ট
৪ ফেব্রুয়ারি তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকা আসছেন সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালেন বার্সেট। এটি হবে সুইজারল্যান্ডের কোন প্রেসিডেন্টর প্রথম বাংলাদেশ সফর।
ঢাকাস্থ সুইস দূতাবাসের এক সংবাদ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা ও দুইদেশের মাঝে নিবিড় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি এ সফরে আসছেন।
ঢাকাস্থ সুইস দূতাবাসের এক সংবাদ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা ও দুইদেশের মাঝে নিবিড় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি এ সফরে আসছেন।
সফরকালে প্রেসিডেন্ট অ্যালেন বার্সেট বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ করবেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গেও সুইস প্রেসিডেন্টর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গেও সুইস প্রেসিডেন্টর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের সঙ্গে সংহতি এবং বহুপক্ষীয় ফোরামে সহযোগিতা হবে এ সফরের মুখ্য বিষয়। বার্সেট মঙ্গলবার কক্সবাজারে কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন ও সেখানে স্থানীয় একটি হাসপাতালের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করবেন।
বাংলাদেশে অবস্থানকালে সুইস প্রেসিডেন্ট সুশীল সমাজের সদস্য, বাংলাদেশে কর্মরত সুইস ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন এবং সুইস আর্ট কাউন্সিল প্রো হেলভেশিয়ার সহযোগিতায় হওয়া ঢাকা আর্ট সামিট পরিদর্শন করবেন।
বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক রয়েছে। দু’দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
২০১০ সালের পর দু’দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক লেনদেন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
২০১০ সালের পর দু’দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক লেনদেন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
Labels:
আন্তর্জাতিক,
বাংলাদেশ
‘কুমারীত্বের’ পরীক্ষা দিতে হয় ভারতীয় নারীদের
হিন্দুদের পুরাণ ‘রামায়ণ’-এ সীতাকে অগ্নি পরীক্ষা দিতে হয়েছিল। অনেক সীতাকে এখনও দিতে হয় অনেকটা সেইরকমই ‘অগ্নি পরীক্ষা’।
সীতাদের নাম হয়তো বদলে গিয়ে কোথাও হয়েছে অনিতা বা অন্য কিছু। ঘটনাও ‘রামরাজ্য’ অযোধ্যার পরিবর্তে হয়েছে মহারাষ্ট্রের কঞ্জরভাট নামে আদিবাসীদের সমাজ।
ওই সমাজের সদ্য বিবাহিত নারীদের পরীক্ষা দিয়ে প্রমাণ করতে হয় যে বিয়ের দিন পর্যন্ত তাদের কৌমার্য বজায় আছে।
নবদম্পতির বিছানায় পাতা সাদা চাদরে রক্তের দাগ লাগলেই পাওয়া যায় প্রমাণ। তবেই সমাজ মেনে নেয় যে বিয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
আর নিজের কৌমার্য প্রমাণে ব্যর্থ হলে নববধূর কপালে জোটে জুতাপেটা, অথবা বের করে দেয়া হয় শ্বশুরবাড়ি থেকে।
‘আমি তখন বেশ ছোট। বছর ১২ বোধহয় বয়স। একটা বিয়ে বাড়িতে গিয়ে দেখেছিলাম যে নববধূকে অনেক লোকে মিলে জুতাপেটা করছে। বুঝতেই পারিনি কেন মারছে সবাই মিলে ওই নতুন বউকে। কিছুটা বড় হয়ে গোটা বিষয়টা পরিষ্কার হয় আমার কাছে। সদ্য বিবাহিতা ওই নারী আসলে কৌমার্যের পরীক্ষায় পাশ করতে পারেন নি’- বিবিসিকে বলছিলেন মারাঠি যুবক বিবেক তামাইচিকার।
আর যাতে কোনও নববধূকে বিয়ের পরেই কৌমার্যের পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়ে জুতাপেটা না খেতে হয়, তার ব্যবস্থা করতে গিয়ে কয়েক দিন আগে বিবেক আর তার কয়েকজন বন্ধু নিজেরাই মার খেয়ে এসেছেন।
এই প্রথা বন্ধের উদ্দেশ্যে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছেন বিবেক। ‘স্টপ দ্য ভি রিচ্যুয়াল’ নামে একটা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও হয়েছে, যেটির ৬০ জন সদস্যের অর্ধেকই নারী। ‘ভি রিচ্যুয়াল’ অর্থ ভার্জিনিটি রিচ্যুয়াল, বা কৌমার্য পরীক্ষা।
পুনা শহরে একটা বিয়েবাড়িতে বিবেক আর তার কয়েকজন বন্ধু এই কৌমার্য পরীক্ষা বন্ধের স্বপক্ষে প্রচার চালাতে গিয়েছিলেন।
সেখানেই কঞ্জরভাট সম্প্রদায়ের মানুষজন মারধর করেন। পুলিশ সেখান থেকে চল্লিশ জনকে গ্রেপ্তারও করেছে।
ছোট আকারে প্রকাশিত সেই সংবাদটা দেখেই খোঁজখবর করতে গিয়ে জানা গেল যে কৌমার্য পরীক্ষার মতো একটা মধ্যযুগীয় বর্বর প্রথা এখনও চলছে।
কীভাবে নেয়া হয় কৌমার্যের পরীক্ষা?
বিয়ের ধর্মীয় রীতি রেওয়াজ শেষ হওয়ার পরে নববিবাহিত দম্পতিকে একটা হোটেলের ঘরে পাঠানো হয়, সঙ্গে দেয়া হয় একটা সাদা চাদর।
যদি হোটেলের ভাড়া দিতে নববিবাহিত দম্পতির পরিবার অক্ষম হয়, তাহলে পঞ্চায়েতই এগিয়ে এসে সেই ভাড়া মিটিয়ে দেয়। ঘরের বাইরে অপেক্ষায় থাকেন দুই পরিবারের আত্মীয় স্বজনরা।
বিবেক তামাইচিকার বলছিলেন, ‘অনেক সময়ে ঘরের ভেতরে পাঠানোর আগে বরকে শিক্ষিত করে তোলার নাম করে মদ খাওয়ানো হয় আর পর্ণোগ্রাফি দেখানো হয়।’
শারীরিক মিলনের শেষে যখন নবদম্পতি বাইরে আসেন, তখন দেখা হয় যে ওই সাদা চাদরে নববধূর রক্তের দাগ লেগেছে কী না।
দাগ থাকলে নববধূ যে বিয়ের সময় পর্যন্ত কুমারী-ই ছিলেন, সেটাই মনে করা হয়। তবেই পঞ্চায়েত ওই বিবাহকে স্বীকৃতি দেয়।
আর যদি সদ্য বিবাহিতা নারী সেই পরীক্ষায় ফেল করেন, তাহলে তার পরিণাম ভোগার জন্য তাকে তৈরি থাকতে হয়।
স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ সোনিয়া নায়েক বিবিসিকে বলছিলেন, ‘প্রথমবার শারীরিক সম্পর্কের সময়ে যে নারীর দেহ থেকে রক্ত বের হবেই, এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। অনেক সময়ে প্রথমবার শারীরিক মিলন হলেও কুমারী মেয়েদের শরীর থেকে রক্ত নাও বেরোতে পারে। এর অনেক কারণ রয়েছে। কিন্তু রক্ত না বেরোনো মানেই যে কোনও নারী কুমারী নন, এটা বলা অবৈজ্ঞানিক।’
‘কুমারী না হওয়ার অপরাধে’ নববধূকে বেইজ্জত তো করাই হয়, এমনকি পেটানোও হতে পারে। আর স্বামীটি পেয়ে যায় সদ্যবিবাহিত স্ত্রীকে সঙ্গে সঙ্গে ত্যাগ করার অধিকার।
কৌমার্যের পরীক্ষায় ফেল করে গিয়েছিলেন অনিতা। [পরিচয় গোপন রাখার স্বার্থে নাম পরিবর্তন করা হল]
তিনি বিবিসিকে বলছিলেন, ‘বিয়ের আগেই হবু স্বামীর সঙ্গে আমার শারীরিক সম্পর্ক হয়েছিল। তাই আমার স্বামীর একটা ভয় ছিল যে আমি হয়তো কুমারিত্বের পরীক্ষায় পাশ করতে পারব না। ভেবেছিলাম আমার স্বামী পাশে দাঁড়াবে, কিন্তু সেই রাতে যা ঘটল, তার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না একদমই।’
‘পরীক্ষা’ দিয়ে বেরোনোর পরে সকলের সামনে পঞ্চায়েত বসিয়ে তার স্বামীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, যে অনিতা ‘পবিত্র’ না ‘অপবিত্র’।
‘আমার স্বামী, নির্দ্বিধায় আঙ্গুল তুলে রক্তের দাগহীন সাদা চাদরটা দেখিয়ে দিল। অথচ তার কথাতেই রাজি হয়ে আমি বিয়ের মাস ছয়েক আগে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছিলাম। আর ওই কঠিন সময়ে সে আমাকেই অপবিত্র বলে দিতে একবারও দ্বিধা করল না! পঞ্চায়েত আমাকেই ‘প্রতারক’ বলে দিল’- বলছিলেন অনিতা।
পুলিশ আর স্থানীয় সামাজিক আন্দোলনের কয়েকজন নেতাকর্মীদের মধ্যস্থতায় অনিতার সঙ্গে থাকতে রাজি হয়েছিলেন তার স্বামী।
তবে স্বামীর ঘর করাটা দিনকে দিন অসহনীয় হয়ে উঠেছিল অনিতার কাছে। প্রতিদিনই মারধর করত অনিতার স্বামী। আবার পঞ্চায়েতও বেইজ্জত করত তাকে। কোনও ধর্মীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠানে যেতে দেয়া হত না।
‘আমি গর্ভবতী হওয়ার পরেও অবস্থা পাল্টায়নি। আমার স্বামী আমাকে সবসময়ে জিজ্ঞাসা করত যে পেটের বাচ্চাটার বাবা কে! সে তো জানত কার সন্তান রয়েছে আমার গর্ভে! শুধু স্বামী নয়, পঞ্চায়েতের লোকেরাও ওইসব বলত’- জানাচ্ছিলেন অনিতা।
সন্তান প্রসবের দুই মাসের মধ্যে সদ্যোজাতসহ অনিতাকে তাড়িয়ে দেয় তার স্বামী। অনিতা এখন নিজের বাবা-মায়ের কাছে থাকেন।
আর তাকে যেহেতু পঞ্চায়েত ‘অপবিত্র’ বলে রায় দিয়েছে, তাই অনিতার দুই বোনের বিয়ে দিতেও সমস্যা হচ্ছে।
‘আমার বিয়ে ঠিক হয়ে আছে এ বছরের শেষে। কিন্তু আমি তো পঞ্চায়েতকে ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছি যে আমার স্ত্রী কোনওমতেই ওই কৌমার্যের পরীক্ষা দেবে না। কিন্তু শুধু আমি বা আমাদের গ্রুপের সদস্যরা বললে তো হবে না। এগিয়ে আসতে হবে সমাজের বাকি অংশকেও’- বলছিলেন বিবেক তামাইচিকার।
Labels:
আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্রের 'সন্ত্রাসী তালিকায়' ফিলিস্তিনের নেতা ইসমাইল হানিয়া
'বিশ্ব সন্ত্রাসী তালিকায়' ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক দল হামাসের জ্যৈষ্ঠ নেতা ইসমাইল হানিয়াকে অন্তর্ভূক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার একটি প্রেস রিলিজে এ তথ্য জানায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর।
ইসমাইল হানিয়ার সঙ্গে 'হামাসের সন্ত্রাসী শাখার সঙ্গে সম্পর্ক' আছে এবং তিনি 'বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অভিযানে' মদদ দিয়েছেন বলে অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এ নিষেধাজ্ঞার মানে হলো ইসমাইল হানিয়া এখন আর ইচ্ছেমতো ভ্রমণ করতে পারবেন না, যুক্তরাষ্ট্রে তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নাগরিক তার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবে না।
১৯৮৭ সালে হামাস প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি ইসরাইল অধিকৃত গাজা পরিচালনা করে। ইজ আল-দিন আল-কাসাম ব্রিগেডস নামে এর সামরিক শাখাও আছে। গত বছরের মে মাসে এর রাজনৈতিক প্রধান নির্বাচিত হন হানিয়া। তার জন্ম গাজার শরণার্থী শিবিরে। ইসরাইলের প্রতি নমনীয় এই নেতা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাও চান।
গত বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে বসার আগ থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইসরাইলপ্রীতি বিশ্বের নজর এড়ায়নি। পবিত্র শহর জেরুজালেমকে ইসরাইলের একক রাজধানী ঘোষণা করে সেটার চূড়ান্ত পরিণতি দেন ট্রাম্প। কিন্তু এতে অশান্ত হয়ে উঠে মধ্যপ্রাচ্য। রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে ফিলিস্তিনের সাধারণ জনগণ গত ডিসেম্বরে দেয়া ট্রাম্পের সেই ঘোষণা এখনো মেনে নেয়নি। হানিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এ নিষেধাজ্ঞাকে এসব ঘটনা থেকে আলাদা করে দেখছে না হামাস। দলটির নেতাদের বক্তব্য, এটা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ফিলিস্তিনবিরোধী কর্মসূচিরই একটি অংশ।
সূত্র: আল জাজিরা
Labels:
আন্তর্জাতিক
শীতে বাড়ে হৃদরোগের ঝুঁকি
শীতের পিঠা-পুলি খাওয়ার মজার সঙ্গে সঙ্গে কিছু অস্বস্তিকর ব্যাপারও ঘটে থাকে যেমন ত্বকের সমস্যা, জ্বর, সর্দি, কাশি ইত্যাদি। সবচেয়ে মারাত্মক ব্যাপার হল শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের ব্যথা, হার্ট অ্যাটাক ও এর মৃত্যু ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের তথ্য থেকে জানা যায়, প্রতিবার শীতকালে হার্ট অ্যাটাকের রোগী ৩০% থেকে ৫০% বৃদ্ধি পায়। শীতের প্রভাবে রক্তচাপের পরিমাণ ১২ থেকে ১৮ মিলিমিটার বাড়তে পারে যা গবেষণায় প্রমাণিত। শীতের প্রভাবে রক্তনালি সংকোচিত হওয়ার ফলে রক্তচাপ বৃদ্ধি ঘটে।
শীতের প্রভাবে রক্ত উপাদানে অনেক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়। রক্ত জমাট বাঁধার জন্য দায়ী রক্তকনিকা, প্লাটিলেট, লোহিত কনিকা, ফিব্রিনোজেন এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পায় ফলে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বৃদ্ধি পায় শতকরা ২০ ভাগ পর্যন্ত। রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের প্রবণতা অনেক গুণে বৃদ্ধি পায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, বেশি শীতের প্রকোপে হার্টের অনিয়মিত হৃদস্পন্দন শুরু হতে পারে যার ফলে তাৎক্ষণিক মৃত্যু ঘটাও অস্বভাবিক নয়। পেট ভরে খেয়ে ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় হাঁটাহাঁটি করলে খুব সহজেই এনজিনার ব্যথা শুরু হয়ে যায়, যার জন্য রক্তনালির সংকোচনকেই দায়ী করা হয়। যারা সুস্থ-সবল লোকজন তারা খুব সহজে ঠাণ্ডাজনিত এসব পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারেন, কিন্তু যারা শারীরিকভাবে দুর্বল, বয়সের ভারে ন্যুব্জ বিভিন্ন অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত তারা খুব সহজেই এসব পরির্বতনের ফলে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে থাকেন। এ ধরনের সমস্যা থেকে মুক্ত থাকার জন্য আপনার প্রস্তুতি এবং সতর্কতা আপনাকে ঝুঁকিমুক্ত থাকতে সাহায্য করবে।
সতর্কতা ও করণীয়
* চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হৃদরোগীরা নিয়মিত ওষুধ সেবন করবেন।
* শীতের শুরুতে আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ গ্রহণ করে ওষুধপত্রের মাত্রা ঠিক করে নিন।
* ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় বাইরে যাওয়ার সময় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং কাপড় সঙ্গে রাখুন।
* বাইরে হাঁটাহাঁটি করতে যাওয়ার সময় গরম কাপড়, জুতা, ছাতা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে নিয়ে বের হবেন।
* বয়স্ক হৃদরোগীরা প্রতিদিন গোসল না করে একদিন পর পর হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করবেন। মনে রাখবেন, খুব বেশি গরম পানি দিয়ে গোসল আপনার স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।
* পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের পরিমাণ বিশেষ করে শর্করা জাতীয় খাবার ১৫% থেকে ২০% বৃদ্ধি করা উচিত। বয়স্ক হৃদরোগীর শীতকালীন বৃষ্টির সময় ঘরের বাইরে না যাওয়াই উত্তম।
* নিয়মিত আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে রাখুন যাতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারেন।
লেখক : হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ
Labels:
লাইফস্টাইল
Subscribe to:
Posts (Atom)







