Social Icons

Wednesday, August 30, 2017

জেনে নিন কোরবানির ইতিহাস, শিক্ষা ও গুরুত্বপূর্ণ আমল সমূহ


আলহামদুলিল্লাহ একটি বছর পরে আবার আমাদের মাঝে পবিত্র জিলহাজ মাস ফিরে এসেছে। এই মাসে সমগ্র দুনিয়া থেকে আল্লাহর বান্দাগণ কাবা ঘরের দিকে অভিমুখী হচ্ছে।
একদিকে হাজীরা হজের কার্যক্রম সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, অন্যদিকে আমরা আল্লাহর দেয়া বিধান কোরবানির প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। কোরবানি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে এক বিশেষ অনুগ্রহ। কেননা বান্দাহ কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর নিকটবর্তী হতে পারে। কোরবান শব্দটি কুরবুন শব্দ থেকে উৎকলিত। অর্থাৎ নিকটবর্তী হওয়া, সান্নিধ্য লাভ করা। শরিয়তের দৃষ্টিতে ১০ জিলহজ হতে ১২ জিলহজ সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পশু জবেহ করাকে কোরবানি বলে।
কোরবানির ইতিহাস
মানবসৃষ্টির শুরু থেকেই কোরবানির বিধান চলে আসছে। প্রত্যেক উম্মতের ইবাদতে এ কোরবানি ছিল একটি অপরিহার্য অংশ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কোরবানির এক রীতিপদ্ধতি নির্ধারণ করে দিয়েছি, যেন তারা ওই সব পশুর ওপর আল্লাহর নাম নিতে পারে, যেসব আল্লাহ তাদের দান করেছেন’ (সূরা হজ-৩৪)।
মানব ইতিহাসের সর্বপ্রথম কোরবানি হজরত আদম আ:-এর দুই ছেলে হাবিল ও কাবিলের কোরবানি। আন্তরিকতা ও উদ্দেশ্যের সততার কারণে হাবিলের কোরবানির কবুল হলো, কিন্তু নিষ্ঠার অভাব ও অমনোযোগিতার কারণে কাবিলের কোরবানি আল্লাহর কাছে প্রত্যাখ্যাত হলো।
কোরবানির ইতিহাসে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন হজরত ইবরাহিম আ: ও হজরত ইসমাঈল আ:। মহান আল্লাহর জন্য হজরত ইবরাহিম আ:-এর সর্বোৎকৃষ্ট ত্যাগ এবং হজরত ইসমাঈল আ:-এর আত্মোৎসর্গ আল্লাহর কাছে এতই পছন্দ হলো যে, তিনি ইব্রাহিম আ:-কে আপন বন্ধুরূপে (খলিলুল্লাহ) গ্রহণ করলেন। শুধু তা-ই নয়, মহান আল্লাহ তাকে মুসলিম জাতির পিতার আসনে অভিষিক্ত করলেন এবং তার ছেলে ইসমাঈল আ:-এর পবিত্র বংশধারায় সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হজরত মুহাম্মদ সা:-এর উত্থান ঘটালেন। তিনি হজরত ইব্রাহিম আ: ও হজরত ইসমাঈল আ:-এর ত্যাগের ইতিহাসকে চিরঞ্জীব করে রাখার জন্য সর্বকালের সব সচ্ছল মানুষের জন্য কোরবানিকে বাধ্যতামূলক করলেন।
কোরবানির মৌলিক শিক্ষা
আমাদের জীবন, আমাদের সম্পদ সব কিছুই মহান আল্লাহর দান। পরম প্রভুর জন্য প্রিয় বস্তুকে উৎসর্গ করতে পারাই কোরবানির শিক্ষা। কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর কাছে বান্দার গোলামি প্রকাশ পায়, তার প্রভুর জন্য তার ভালোবাসা ও ত্যাগের মাত্রা নির্ণীত হয়। আল্লাহর দান আল্লাহকে ফিরিয়ে দিতে আমরা কতটা প্রস্তুত, তারই একটি ক্ষুদ্র পরীক্ষা হলো কোরবানি। আমাদের জীবনসম্পদ আল্লাহর কাছে উৎসর্গ করার প্রতিশ্রুতিই গ্রহণ করি কোরবানির মাধ্যমে। কোরবানি দোয়ার মধ্যে মৌলিক যে কথাটি আমরা বলি তা হলো “আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু সারা জাহানের ‘রব’ আল্লাহর জন্য” (সূরা আনআম-১৬২)। মূলত আমাদের জীবন ও সম্পদের মালিক আল্লাহ। এ দুটো জিনিস আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী ব্যয় করাই ঈমানের অপরিহার্য দাবি এবং জান্নাত লাভের পূর্বশর্ত। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনের জীবন ও সম্পদ জান্নাতের বিনিময়ে কিনে নিয়েছেন’ (সূরা তওবা-১১০)। কাজেই জীবনসম্পদ আল্লাহর এবং তা আমাদের কাছে আমানত। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ও তার পছন্দনীয় পথে ব্যয় করাই ঈমানের দাবি। কোরবানি মানুষকে ঈমানের এ দাবি পূরণের উপযুক্ত হয়ে গড়ে উঠতে সাহায্য করে।
কোরবানির প্রাণশক্তি
কোরবানির উদ্দেশ্য আবশ্যই সৎ হতে হবে এবং তাতে ত্যাগের বহিঃপ্রকাশ থাকতে হবে। কোরবানি প্রদর্শন ইচ্ছা ও অহঙ্কারমুক্ত হতে হবে। অনেকেই বাহবা পাওয়ার জন্য ও আলোচিত ব্যক্তিত্ব হওয়ার লক্ষ্যে লক্ষাধিক টাকার গরু বা উট কিনে লাল ফিতা বেঁধে পথে পথে ঘোরান। এটা যেমন ঠিক নয়, তেমনি কোনো সচ্ছল ব্যক্তির জন্য জীর্ণশীর্ণ কম দামি পশু কোরবানিও অনুচিত। এ ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর বাণীর দিকেই আমাদের ফিরে যেতে হবে। আল্লাহ বলেন- ‘ওই সব পশুর রক্ত-গোশত আল্লাহর কাছে কিছুই পৌঁছে না, বরঞ্চ তোমাদের পক্ষ থেকে তোমাদের তাকওয়া তাঁর কাছে পৌঁছে ’ (সূরা হাজ )। এ আয়াত থেকে সুস্পষ্ট, উদ্দেশ্যের সততা ও খোদাভীতি কোরবানি কবুলের শর্ত। পশুটি কত বড় ও কত দামের সেটা আল্লাহর কাছে কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়। ভোগ নয়, ত্যাগেই আনন্দ- এটিও কোরবানির একটি শিক্ষা। কোরবানির গোশত গরিবদের মাঝে বিতরণ করে তাদের মুখে হাসি ফোটানোও কোরবানির অন্যতম লক্ষ্য। রাসূল সা: কোরবানির তিন ভাগের এক ভাগ গোশত গরিবদের মাঝে বিতরণ করাকে মুস্তাহাব করেছেন। ইচ্ছে হলে এর বেশি; এমনকি সবটাও দান করা বৈধ। কোরবানির গোশত খাওয়া ও সংরক্ষণ বৈধ, তবে তা করতে গিয়ে কোরবানির অন্যতম উদ্দেশ্য ‘অন্যের জন্য ত্যাগ’ যেন লঙ্ঘিত না হয়, সেদিকে আমাদের সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। শুধু পশু নয়, পশুত্ব কোরবানি করাও কোরবানির অন্যতম উদ্দেশ্য। পশুর রক্ত প্রবাহিত করার সাথে আমাদের ভেতরের পশুত্বকেও কোরবানি করতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ আমল সমূহ
কোরবানি সংক্রান্ত একটা বিশেষ মাছআলা হল- ৯ জিলহজ্জ ফজর থেকে শুরু করে ১৩ জিলহজ্জ আসর পর্যন্ত মোট ২৩ ওয়াক্ত ফরজ নামাযের পর তাকবীরে তাশরীক বলা ওয়াজিব। জামাআতে নামায হোক বা একাকী, সর্বাবস্থায় এটা বলতে হবে। পুরুষ হোক বা নারী সকলকে বলতে হবে। তাকবীরে তাশরীক হলো :- أَللّٰهُ أَكْبَرُ أَللّٰهُ أَكْبَرُ لَا إِلٰهَ إلَّا اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرُ أَللّٰهُ أَكْبَرُ وَلِلّٰهِ الْحَمْدُ
ঈদুল আযহার দিনে যে সমস্ত সুন্নাত রয়েছে, সেগুলোও আমরা খেয়াল করে আমল করি। ঈদুল আযহার দিনে বিশেষ ১৩ টা সুন্নাত রয়েছে :
১. ভোরে খুব তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা।
২. মেসওয়াক করা।
৩. গোসল করা।
৪. যথা সাধ্য উত্তম পোশাক পরিধান করা।
৫. শরীয়ত সম্মতভাবে সাজ-সজ্জা করা।
৬. খুশবূ লাগানো।
৭. ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে কোন কিছু না খাওয়া।
৮. আগে আগে ঈদগাহে যাওয়া।
৯. ঈদুল আযহার নামায সকাল সকাল পড়া।
১০. পারলে ঈদগাহে যেয়ে ঈদগাহে নামায পড়া উত্তম।
১১. পায়ে হেটে ঈদগাহে যাওয়া।
১২. যাওয়ার সময় এই তাকবীর জোরে জোরে পড়ে পড়তে যাওয়া- أَللّٰهُ أَكْبَرُ أَللّٰهُ أَكْبَرُ لَا إِلٰهَ إلَّا اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرُ أَللّٰهُ أَكْبَرُ وَلِلّٰهِ الْحَمْد
১৩. এক রাস্তায় যাওয়া, অন্য রাস্তা দিয়ে প্রত্যাবর্তন করা।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা আমাদের সব কিছু সহীহভাবে আমল করার তাওফীক দিন। পশু কোরবানির মাধ্যমে ঈমানের সাক্ষ্য প্রদান এবং পশুত্ব কোরবানির মাধ্যমে পরিপূর্ণ মানুষ হওয়াই কোরবানির দাবি। কোরবানির মাধ্যমে ক্রোধ, হিংসা, বিদ্বেষ, পরশ্রীকাতরতা, শত্রুতা ইত্যাদি পশুত্বকে দমন করে মানুষের সুকুমারবৃত্তিগুলোকে জাগিয়ে তুলতে পারলে আমাদের কোরবানি সার্থক হবে এবং সমাজে শান্তির সুবাতাস ছড়িয়ে পড়বে। পরিশেষে আল্লাহর কাছে সকলের কোরবানি কুবল ও সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।

ভারতে এত বাবা, এসব বাবাদের কার আয় কত জানলে আকাশ থেকে পড়বেন


দুই নারী শিষ্যাকে ধর্ষণের দায়ে স্বঘোষিত ধর্মগুরু রাম রহিমের ২০ বছর জেল ঘোষণার পর তার নানা অপকর্ম সামনে আসতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে তার মতো ধর্মগুরুদেরও মুখোশ উম্মোচন হচ্ছে। তাদের বার্ষিক আয় কত, সম্পত্তি কত তাও আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসছে।
বাবা রামদেব: পতঞ্জলি ব্র্যান্ড, পতঞ্জলি যোগপীঠ এবং দিব্যা যোগী মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা বাবা রামদেবের সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১১ হাজার কোটি রুপি।

মা অমৃতানন্দময়ী: দেশ-বিদেশে প্রায় তিন কোটি ভক্ত রয়েছে মাতা অমৃতানন্দময়ীর। তার সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। নিজের নামে স্কুল, কলেজ, টিভি চ্যানেলও রয়েছে তার।

শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর: আর্ট অব লিভিং ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী শ্রী রবিশঙ্করের বাৎসরিক আয় প্রায় হাজার কোটি। বিশ্বের ১৫১টি দেশে প্রায় তিন কোটি সদস্য রয়েছে আর্ট অব লিভিং ফাউন্ডেশনের।

শ্রী আসারাম বাপু:
আলোচিত এবং বিতর্কিত ধর্মগুরুদের মধ্যে অন্যতম আসারাম বাপু। এই মুহূর্তে ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত হয়ে জেলে রয়েছেন তিনি। সারা দেশে বাপুর ৩৫০টি আশ্রম রয়েছে। রয়েছে ১৭ হাজার বাল শঙ্কর কেন্দ্রও। এই মুহূর্তে তাঁর বাৎসরিক আয় প্রায় ৩৫০ কোটি রুপি।

গুরমিত রাম রহিম সিংহ:
সদ্য দু’টি ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত হয়ে ২০ বছর জেলের সাজা পেয়েছেন বাবা রাম রহিম। ডেরা সাচ্চা সৌদার কর্ণধার রাম রহিমের সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় এক হাজার কোটি রুপি। তার ডেরাতে রয়েছে ৭০০ একর চাষযোগ্য জমি, স্কুল, কলেজ, মাল্টিপ্লেক্স, রেস্তোরাঁ, রিসোর্ট, শপিংমল, হাসপাতাল এমনকি পেট্রোল পাম্পও। দেশ-বিদেশে ২৫০টি আশ্রম রয়েছে রাম রহিমের।

শ্রী মোরাই বাপু:
দেশ-বিদেশে রাম-কথা শোনান তিনি। এই সংক্রান্ত কোর্সও করান তিনি। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার বাৎসরিক আয় ১৫০ কোটি রুপি।

অদ্ভুত বাবা শিবানন্দজি মহারাজ:
বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বাবারও বাৎসরিক আয় প্রায় ৪০ কোটি টাকা।







এয়ার হোস্টেসদের দেহ ব্যবসা বিমানেই, কারন জানলে অবাক হবেন


কিছু দিন আগে মধ্যপ্রাচ্যের একটি বিমান সংস্থায় কর্মরত বিমানসেবিকা এক যাত্রীর সঙ্গে সঙ্গমরত অবস্থায় বিমানের মধ্যেই ধরা পড়েন।
তার স্বীকারোক্তি শুনে অনেকেরই চোখ ছানাবড়া হওয়ার জোগাড়। তিনি দাবি করেছেন, এ ভাবে যাত্রীদের সঙ্গে সেক্স করার বিনিময়ে চড়া দাম নিতেন তিনি।
রোজগার করেছেন প্রায় ৭ লাখ পাউন্ড। বেতন তো ছিলই তবে এ ভাবে উপরি আয়ের হাতছানি সহজে ছাড়তে পারেননি তিনি। তাই লং ডিসট্যান্স ফ্লাইটেই বেশি কাজ করতে পছন্দ করতেন।
দুবাইয়ের একটি সংবাদপত্রে প্রকাশ পেয়েছে, ওই এয়ার হোস্টেস সেক্সের বিনিময়ে দেড় হাজার পাউন্ড দাবি করতেন যাত্রীদের কাছে। এটাই শেষ নয়।
জাপানের এয়ার হোস্টেসরাও এই কাজে নাকি সিদ্ধহস্ত। মাঝ আকাশে বিমানচালক এবং অন্যান্য ক্রু মেম্বারদের সঙ্গে সেক্সের বিনিময়ে তারাও এ ভাবে রোজগারের অন্য পন্থা বার করেছেন।
কিন্তু এত জাঁকজমকের জীবনে, ভালো বেতনের সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে কি? উত্তরটা এয়ার হোস্টেসরাই দিয়েছেন।
অনেকেই জানিয়েছেন, শুধুমাত্র রোজগারই একমাত্র কারণ নয়। দীর্ঘদিন নিকটজনের কাছ থেকে দূরে থাকায় শারীরিক চাহিদাও এর পেছনে অন্যতম কারণ।

নবীর কবর দেখতে পারলামনা, আল্লাহ্ তোমার কাছে বিচার দিলাম

হে আল্লাহ্, তোমার কাছে বিচার দেয়া থাকল, তোমার হাবিবের কবর দেখার অনেক ইচ্ছা ছিল, কিন্তু যেতে পারলামনা’ এভাবেই অসহায়ের মতো কান্নাজড়িত কন্ঠে আহাজারি করছিলেন হজে যেতে না পারা এক বয়বৃদ্ধ।
জীবনের শেষ সঞ্চয় দিয়ে শেষ ইচ্ছাটুকু না পূরণ হওয়ার জন্যেই তার এ আকুতি। অভিভাবকহীন এই মানুষগুলো এখন সবচেয়ে অসহায়ের মতো অবস্থা অনুভব করছে।
ভিসা থাকার পরেও টিকিট সংক্রান্ত জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত ১২২ জন হজে যেতে পারছেনা বলে নিশ্চিত হয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে সব ধরনের চেষ্টা করা হলেও শেষ ফ্লাইটে আর কোনো হজ যাত্রীকে বহনের অনুমতি দেয়নি সৌদি এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।
এ অবস্থায় সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এবার যারা হজে যেতে পারলেন না আগামীবতে তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
দায়ী হজ ও ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান জানালেন কর্তৃপক্ষ। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, হজ এজেন্টদেরকে ধরে
আনতে আমাদেরকে শেষ পর্যন্ত র‌্যাব এর সাহায্য নিতে হয়েছে। যে সমস্ত এজেন্সি এধরনের ভোগান্তির জন্যে দায়ী তাদের লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বছর ১ লাখ ২৭ হাজার ৫৯৮ জন হজ যাত্রীর হজে যাওয়ার কথা ছিল। শেষ পর্যন্ত হজে যেতে পেরেছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ১০৩ জন।

স্বাধীন আরাকানের স্বপ্ন, রুখে দাঁড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানে অন্তত ৮০ বিদ্রোহীসহ শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কয়েক দশক ধরে চলা রোহিঙ্গা নির্যাতনের পর এবার মিলছে প্রতিরোধের আভাস। শুধু পালিয়ে বেড়ানো নয়, অস্ত্র হাতে রুখে দাঁড়াচ্ছেন রোহিঙ্গারা। খবর ডয়চে ভেলে।
গত ২৫ আগস্ট ভোরে বিদ্রোহীরা অন্তত ৩০টি পুলিশ ও সেনা ঘাঁটিতে হামলা চালায়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অন্তত ১২ জন সদস্য তাতে নিহত হন। এরপর থেকে রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় নিপীড়ন ও নির্যাতন। সীমানা পেরিয়ে আবারও দলে দলে বাংলাদেশে আসতে শুরু করেন রোহিঙ্গারা। তবে বরাবরের মতোই বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ফেরত পাঠাচ্ছে রোহিঙ্গাদের। ফলে নো-ম্যান্স ল্যান্ডে আটকা পড়েছেন শত শত রোহিঙ্গা। তবে এবার শরণার্থীদের ঢলে একটু পরিবর্তন দেখছেন বিজিবি সদস্যরাও।
অন্যবার পুরো পরিবারসহ রোহিঙ্গারা পালিয়ে এলেও এবার শরণার্থীদের দলে পুরুষদের সংখ্যা একেবারেই কম বলে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন বিজিবি কর্মকর্তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, পুরুষদের কী হয়েছে, আমরা তাদের (রোহিঙ্গা নারীদের) জিজ্ঞেস করেছিলাম। আমাদের জানানো হয়েছে লড়াই করার জন্য পুরুষরা রয়ে গেছে। নতুন সহিংসতায় পালিয়ে আসাদের ভাগ্য সহায় না থাকলেও সন্তানসম্ভবা হওয়ায় আয়েশা বেগম স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশে কক্সবাজারের একটি ক্যাম্পে। তবে ষষ্ঠ সন্তানের জন্ম দেখতে পারছেন না তার স্বামী। রোহিঙ্গাদের হয়ে যুদ্ধ করার আহ্বানে সাড়া দিয়ে মিয়ানমারের রাখাইনেই রয়ে গেছেন তিনি। তিনি জানান, ‘আমাদের তিনি (আয়েশার স্বামী) নদী পাড়ে এনে বিদায় দিয়েছেন। বলেছেন, বেঁচে থাকলে দেখা হবে স্বাধীন আরাকানে, মারা গেলে বেহেশতে।
আরাকান রোহিঙ্গা সলিডারিটি আর্মি (এআরএসএ)। অক্টোবর হামলার দায় স্বীকারের পর থেকেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে পরিচিত হয়ে উঠেছে এআরএসএ। দীর্ঘদিন ধরে জাতিগত নির্যাতনের শিকার হলেও সাধারণ রোহিঙ্গারা এতদিন সহিংসতা এড়িয়ে চলছিল। কিন্তু গত বছরের অক্টোবরে এবং চলমান সেনা অভিযানের পর সাধারণ রোহিঙ্গারাও হাতে তুলে নিচ্ছেন অস্ত্র। মিয়ানমারে গত অক্টোবরে ৯ পুলিশ হত্যার অভিযোগ ওঠে এক রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।
তারপর থেকে সেদেশে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর আবারও দমন-পীড়ন শুরু হয়। ফলে সত্তর হাজারের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তারা যেসব ক্যাম্পে বসবাস করেন, সেগুলোর একটি এই কুতুপালং। সীমান্তে আসা রোহিঙ্গা নেতা শাহ আলম জানান, আশপাশের তিন গ্রাম থেকে অন্তত ৩০ জন যুবক ‘স্বাধীনতার যুদ্ধে’ যোগ দিয়েছে এআরএসএতে।
তিনি প্রশ্ন করেন, ‘তাদের কী-ইবা করার ছিল! পশুর মতো খুন হওয়ার চেয়ে লড়াই করে মারা যাওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন তারা। মিয়ানমারের নেতা অং সান সু চি এআরএসএকে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী সংগঠন বলে উল্লেখ করেছেন। সংগঠনটির বিরুদ্ধে শিশু যোদ্ধা ব্যবহারের অভিযোগও করেছেন তিনি। তবে এআরএসএ এ ধরনের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবেই এখন বিশ্বজুড়ে এআরএসএকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে পরিচিত করানোর উদ্যোগ নিয়েছে মিয়ানমার সরকার। কঠোর বিবৃতি এবং এআরএসএ’র গুলিতে নিহত বেসামরিক নাগরিকদের ছবি প্রকাশ করে বিশ্বে জনমত গড়ে তোলারও চেষ্টা চালাচ্ছে মিয়ানমার। কিন্তু পাল্টা প্রচার চালাচ্ছে এআরএসএ-ও। শুধু মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যেই নয়, বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের কাছেও পৌঁছে গেছে যুদ্ধের ডাক। এআরএসএ বিদ্রোহীদের ভারি অস্ত্র বলতে কিছুই নেই। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে ছুরি, ঘরে তৈরি বোমা এবং আগ্নেয়াস্ত্র। ফলে মিয়ানমারের সুসজ্জিত সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে কতটুকু টিকতে পারবে বিদ্রোহীরা, সে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।
কিন্তু তাতে দমছেন না রোহিঙ্গারা। সীমান্তে এএফপিকে এক রোহিঙ্গা যোদ্ধা জানিয়েছেন, আমাদের শত শত যোদ্ধা পাহাড়ে অবস্থান নিয়েছে। আমরা আরাকানকে রক্ষায় শপথ নিয়েছি, সেটা চাকু এবং লাঠি দিয়ে হলেও আমরা করব। কুতুপালং ক্যাম্পে এক রোহিঙ্গা যুবকের মন্তব্য ছিল এমন, আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আমাদের তরুণরাও চিন্তা করছেন যুদ্ধে যোগ দেওয়ার। আমরা প্রতিজ্ঞা করেছি, প্রথম সুযোগেই আমরা সীমান্ত অতিক্রম করব। হাজেরা বেগম তিন ছেলেকে নিয়ে গত মাসে সীমানা অতিক্রম করে বাংলাদেশে এসেছেন। তার আরও দুই ছেলে রয়ে গেছেন যুদ্ধ করবেন বলে। বাংলাদেশে আসার এক সপ্তাহের মধ্যে তার আরেক ছেলেও যোগ দেন লড়াইয়ে।
এএফপিকে তিনি বলেন, ‘ওরা (মিয়ানমার সেনাবাহিনী) আমাদের এমনিতেই মারবে। এরা (এআরএসএ) আমাদের অধিকারের জন্য লড়াই করছে। আমি আমার ছেলেদের পাঠিয়েছি স্বাধীনতার জন্য লড়াই করতে। তিনি বলেন, ‘আমি তাদের উত্সর্গ করেছি, আরাকানের জন্য।’

তনুর মতো রূপাকেও আমরা ভুলে যাব

টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে কলেজ ছাত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা আরও একবার কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার তনুকে মনে করিয়ে দিয়েছে। ওই ঘটনা বাংলাদেশের বিবেকে নাড়া দিয়েছিল। পাশবিক ঘটনাগুলো বার বার ফিরে অাসলেও অপরাধীরা বিচারের আত্ততায় আসে না।
সেই সংকোচ নিয়ে সাংবাদিক শেখ মামুন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন: ধর্ষিত হলো রূপা নামের মেয়েটি। চলন্ত বাসে ধর্ষিত হলো, এরপর জীবনও দিলো। কাজটি যারা করল, তাদের মধ্যে কোনো বিকার ছিল না।
ধর্ষণ ও হত্যার মতো এত বড় একটা অপরাধ ঘটানোর পরও অপরাধীরা নির্বিকারভাবে প্রকাশ্যে বুক ফুলিয়ে চলছিল। ভাবখানা এমন, কি হবে ? কিছুইতো হবে না।
দেশে ধর্ষণের ঘটনা যেন ডালভাত। তনুর কথা মনে আছে ? দুদিন পর রূপার কথাও ভুলে যাব। নতুন কোনও ধর্ষিতার কাহিনী আমরা লিখব, এ নিয়ে খানিকটা ঝড় উঠবে। এরপর সব ভুলে যাব। কোনও অসুখ নয়, বিসুখ নয়, কোনো দুর্যোগের আলামতও নেই, এর মধ্যে আচমকা ‘নেই’ হয়ে গেল রূপা। আসুন রুপাদের বাচাই, রূপাদের পাশে দাঁড়াই।

কুয়েতে দালালদের কাছে জিম্মি নারী শ্রমিকরা


মধ্যপ্রাচ্যের তেল সমৃদ্ধ দেশ কুয়েতের শ্রমবাজার বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয় ১৯৭৮ সালে। সরকারি হিসেব অনুযায়ী কুয়েতে বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশি নারী ও পুরুষ কর্মী রয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, পুরুষ কর্মীদের তুলনায় নারী কর্মীদের জীবন যাপন আরও বেশি মানবেতর।
কুয়েতে দীর্ঘদিন ধরে বাস করছেন বাংলাদেশি নাসরিন আক্তার মৌসুমী। তিনি কুয়েত বাংলা রেডিও পরিবারের একজন সক্রিয় সদস্য। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজের সাথেও জড়িত। এই কুয়েত প্রবাসী নারী জানান, কুয়েতে কর্মরত নারী শ্রমিকদের অর্ধেকেরও বেশি বিভিন্ন ক্লিনিং কোম্পানিতে কাজ করে। তাদের জীবন যাত্রা অন্ত্যন্ত নিম্ন মানের।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কুয়েতি নারী কর্মী বলেন, আমরা এখানে ছোট্ট একটা রুমে ডাবল ডেকার বেডে একসাথে ৬/৭ জন থাকি। ছয় সাত মাসেও কখনো মাংস খেতে পাই না। ৫ জনের বাজারে ১৫ জনের খাবার চলে। তাও আবার সবজি আর ডাল ভাত। বিশ্লেষকরা বলছেন, ঠিকমতো খাবার ও সুস্থ্য বাসস্থানের অভাবে অনেক নারী শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পরে। কর্মক্ষেত্রে গিয়ে ভালো পরিশ্রম না দিতে পারায় অনেকে চাকরি হারায়।
কুয়েত প্রবাসী মৌসুমী বলেন, বাংলাদেশ থেকে যেসব নারী কুয়েতে কাজের জন্য যায়, তারা সাধারনত সেখানে গিয়েও দালালচক্রের কাছে জিম্মি হয়ে থাকেন। আবাসন, খাবার থেকে শুরু করে আকামা পর্যন্ত সব কিছুই পরিচালিত হয় ওইসব দালালদের নির্দেশে। ফলে নিজেদের জীবন যাপনের উপর তাদের কোন কর্তৃত্ব থাকে না ।
এই প্রবাসী নারী জানান, বাংলাদেশি নারীরা কর্মীরা বেশিরভাগই অশিক্ষিত। এ কারণে তাদেরকে বাইরে গিয়েও দালাল নির্ভরশীল হয়ে থাকতে হয়। সামান্য কোন বিষয়ে কাগজ পত্র নিয়ে হাজির হতে হয় দালালের কাছে। এই সুযোগে দালালরা তাদের সর্বস্ব দখল করে বসে। এমনকি ভুয়া জায়গায় অসহায় কর্মীদের সই নিয়ে বেতন ও বোনাস তুলে নেয়ারও অনেক অভিযোগ রয়েছে নারী কর্মীদের কাছে। এই কুয়েত প্রবাসী আরও জানান, স্থানীয় কুয়েতিরা বাংলাদেশিদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেনা। বিদেশি কর্মীদের প্রতি তারা সহানভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে।
বরং কুয়েতে এক শ্রেণির দালাল চক্র গড়ে উঠেছে যারা দেশীয় একটি সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত। এই চক্রগুলো বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের অসহায় ও অশিক্ষিত নারীদের বিদেশে বেশি টাকা বেতনের চাকরির লোভ দেখিয়ে নিয়ে এসে বিপদে ফেলে। প্রতিটা স্তরে নিজেদের লোক দিয়ে এরা নারী কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করে। ওই দালাল চক্রেরই একটি অংশ নারী কর্মীদের কোম্পানিতে কাজের সুযোগ তৈরি করে দেয়। এরপর বেতন, ভাতা, বোনাস সবকিছুতেই তাদের একটা শেয়ার থাকে। এমনকি এসব টাকা সরাসরি নারী কর্মীরা পায়না। কোম্পানির কাছ থেকে দালালের হাত ঘুরে তাদের কাছে আসে। ফলে কোম্পানি না ঠকালেই শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়। লাভবান হয় মধ্যস্বত্তভোগী বিদেশে থাকা দালাল শ্রেণি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্যান্যের মত নারী কর্মীদেরও ট্রেনিং দিয়ে দক্ষ করে তারপর বিদেশ পাঠাতে হবে। তাহলে তারা ভিনদেশে গিয়ে আর দালালের জিম্মায় থাকবে না। অন্যদিকে, যারা সিন্ডিকেট তৈরি করে বিদেশে কর্মীদের জিম্মি করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিত।
 

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

সম্পাদকীয় কার্যলয়

Rua padre germano mayar, cristo rio -80040-170 Curitiba, Brazil. Contact: +55 41 30583822 email: worldnewsbbr@gmail.com Website: http://worldnewsbbr.blogspot.com.br

সম্পাদক ও প্রকাশক

Jahangir Alom
Email- worldnewsbb2@gmail.com
worldnewsbbbrazil@gmail.com
 
Blogger Templates