১) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর উম্মতের মধ্য মধ্য থেকে ৭০ হাজার ব্যক্তি বিনা হিসেবে জান্নাতে যাবে।- [আহমদ, তিরমিজী, ইবনে মাজাহ- আবু ওমামা (রা.)]
২) যারা রাতে আরামের বিছানা থেকে নিজেদের পার্শ্বদেশকে দূরে রেখেছিল, এমন অল্প সংখ্যক লোক বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। অবশিষ্ট সকল মানুষ হতে হিসেব নেয়ার নির্দেশ করা হবে। [বায়হাকি- আসমা (রা.)]
৩) জান্নাতে জান্নাতবাসীরা প্রতি জুমাবারে বাজারে মিলিত হবে এবং জান্নাতে জান্নাতবাসীদের রূপ-সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে। [মুসলিম- আনাস রা.)]
৪) জান্নাতের স্তর হবে ১০০টি এবং জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তর জান্নাতুল ফেরদাউস। যখন তোমরা আল্লাহর কাছে জান্নাত চাইবে তখন জান্নাতুল ফেরদাউস চাইবে। [তিরমিজী ওবাই ইবনে সামেত (রা.)]
৫) জান্নাত সমস্ত পৃথিবী থেকে উত্তম। (মুয়াত্তা- আবু হুরাইরা (রা.)
৬) জান্নাতবাসীনী কোন নারী (হুর) যদি পৃথিবীর দিকে উঁকি দেয়, তবে গোটা জগত আলোকিত হয়ে যাবে এবং আসমান জমীনের মধ্যবর্তী স্থান সুগন্ধিতে মোহিত হয়ে যাবে। তাদের মাথার উরনাও গোটা দুনিয়া ও তার সম্পদরাশি থেকে উত্তম। [বুখারী- আনাস (রা.)]
৭) জান্নাতে একটি চাবুক রাখার পরিমাণ জায়গা গোটা দুনিয়া ও তার মধ্যে যা কিছু আছে তা থেকে উত্তম। [মুয়াত্তা- আবু হুরাইরা (রা.)]
৮) জান্নাতের একটি গাছের নিচের ছায়ায় কোন সাওয়ারী যদি ১০০ বছরও সাওয়ার করে তবুও তার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না। [বুখারী, মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.)]
৯) জান্নাতে মুক্তা দিয়ে তৈরী ৬০ মাইল লম্বা একটি তাঁবু থাকবে। জান্নাতের পাত্র ও সামগ্রী হবে সোনা ও রুপার। [বুখারী, মুসলিম আবু মুসা (রা.)]
১০) পূর্ণিমা চাঁদের মতো রূপ ধারণ করে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। (ক) তাদের অন্তরে কোন্দল ও হিংসা বিদ্বেষ থাকবে না। (খ) তারা কখনো রোগাক্রান্ত হবে না। (গ) তাদের পেশাব পায়খানা হবে না। (ঘ) তারা থুথু ফেলবে না। (ঙ) তাদের নাক দিয়ে ময়লা ঝরবে না। (চ) তাদের চিরুনী হবে সোনার চিরুনী। (ছ) তাদের ধুনীর জ্বালানী হবে আগরের। (জ) তাদের গায়ের গন্ধ হবে কস্তুরির মতো সুগন্ধি। (ঝ) তাদের স্বভাব হবে এক ব্যক্তির ন্যায়। (ঞ) তাদের শাররীক গঠন হবে (আদী পিতা) আদম (আ:) এর ন্যয়। [বুখারী, মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.)]
১১) জান্নাতীদের খাবারগুলো ঢেকুর এবং মিশকঘ্রাণযুক্ত ঘর্ম দ্বারা নি:শেষ হয়ে যাবে। [বুখারী, মুসলিমযাবির (রা.)]
১২) জান্নাতীরা সুখে শান্তিতে স্বাচ্ছন্দ্যে ডুবে থাকবে। হতাসা দুশ্চিন্তা ও দুর্ভাবনা থাকবে না। পোশাক পরিচ্ছেদ ময়লা হবে না, পুরাতন হবে না। তাদের যৌবনও নিঃশেষ হবে না। [মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.)]
১৩) জান্নাতবাসীরা সব সময় জীবিত থাকবে। কখনো মৃত্যুবরণ করবে না। সব সময় যুবক থাকবে বৃদ্ধ হবে না। [মুসলিম আবু সাঈদ (রা.)]
১৪) জান্নাতে (এমন) এক দল প্রবেশ করবে, যাদের অন্তর হবে পাখিদের অন্তরের মতো। [মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.)]
১৫) জান্নাতবাসীদের প্রতি আল্লাহ বলবেন, আমি তোমাদের উপর সন্তুষ্টি দান করেছি, তোমাদের উপর আর কখনো অসন্তুষ্ট হবো না। [বুখারী, মুসলিমআবু সাঈদ (রা.)]
১৬) জান্নাতের নহরে পরিণত হবে- সায়হান, জায়হান, ফোরাত ও নীল নদী। [মুসলিম – আবু হুরায়রা (রা.)]
১৭) জান্নাতে বান্দার আশা আকাঙ্খার দ্বিগুণ দেয়া হবে। [মুসলিম – আবু হুরায়রা (রা.)]
১৮) জান্নাতের দরওয়াজা ৪০ বছরের দুরত্বে সমান, এমন এক দিন আসবে যে তাও ভরপুর হয়ে যাবে। [মুসলিম-উতবা ইবনে খাজওয়ান (রা.)]
১৯) জান্নাতের ইট স্বর্ণ ও রোপ্য দ্বারা তৈরী। কঙ্কর হলো মনি মুক্তা, আর মসল্লা হলো সুগন্ধীময় কস্তুরী। [তিরমিজী – আবু হুরায়রা (রা.)]
২০) জান্নাতের সকল গাছের কা- হবে সোনার। [তিরমিজী – আবু হুরায়রা (রা.)]
২১) জান্নাতের ১০০ টি স্তর আছে, দু’স্তরের মধ্যে ব্যবধান শত বছরের। [(তিরমিজী – আবু হুরায়রা (রা.)]
২২) জান্নাতের ১০০ স্তরের যে কো এক স্তরে সারা বিশ্বের সকল লোক একত্রিত হলেও তা যথেষ্ট হবে। [তিরমিজী আবু সাঈদ (রা.)]
২৩) জান্নাতের উচ্চ বিছানা (সুরুরুম মারফুআ) আসমান জমীনর মধ্যবর্তী ব্যবধানের পরিমাণ- ৫০০ শত বছরের পথ। [তিরমিজী আবু সাঈদ (রা.)]
২৪) জান্নাত প্রত্যেক ব্যক্তিকে ১০০ পুরুষের শক্তি দান করা হবে। [(তিরমিজ – আবু হুরায়রা (রা.)]
২৫) জান্নাতবাসীগণ কেশবিহীন দাড়িবিহীন হবে। তাদের চোক সুরমায়িত হবে। [তিরমিজ – আবু হুরায়রা (রা.)]
২৬) জান্নাতবাসীগণ ৩০ বা ৩৩ বছর বয়সীর মতো জান্নাতে প্রবেশ করবে। [তিরমিজী, ময়াজ ইবনে জাবাল (রা.)]
২৭) জান্নাতে অবস্থিত কাওসার এর পানি দুধ অপেক্ষা অধিক সাদা এবং মধুর চেয়েও মিষ্টি হবে। [তিরমিজীআসান (রা.)]
২৮) জান্নাতবাসী উট ও ঘোড়া চাইলে দুটোই পাবে এবং তা ইচ্ছেমতো দ্রুত উড়িয়ে নিয়ে যাবে। তাতে তুমি সে সব জিনিস পাবে যা কিছু তোমার মন চাইবে এবং তোমার নয়ন জুড়াবে। [তিরমিজী-আবু বুরাইদা (রা.)]
২৯) জান্নাতবাসীদের ১২০ কাতার হবে। তার মধ্যে ৮০ কাতার হবে এ উম্মতের। অবশিষ্ট ৪০ কাতার হবে অন্যান্য উম্মতের। [তিরমিজী- বুরাইদা (রা.)]
৩০) জান্নাতে একটি বাজার আছে সেখানে ক্রয়-বিক্রয় নেই। সেখানে নারী-পুরুষের আকৃতিসমূহ থাকবে। সুতরাং যখনই কেউ কোন আকৃতিকে পছন্দ করবে তখন সে সেই আকৃেিত রূপান্তরিত হবে। [(তিরমিজী- আলী (রা.)]
৩১) জান্নাতবাসীদের উপর এক খণ্ড মেঘ আচ্ছন্ন করে ফেলবে। তাদের উপর এমন সুগন্ধি বর্ষণ করবে যে, অনুরূপ সুগন্ধি তারা আর কখনো পায়নি। জান্নাতের বাজারে একজন আরেকজনের সাথে সাক্ষাত করবে এবং তার পোশাক পরিচ্ছদ দেখে আশ্চার্যান্নিত হবে। কিন্তু তার কথা শেষ হতে না হতেই সে অনুভব করবে যে, তার পোশাক তার চেয়ে আরো উত্তম হয়ে গেছে। এটা এ জন্য যে, জান্নাতে দুশ্চিন্তার কোন স্থান নেই। তাদের স্ত্রীদের কাছে ফিরে আসলে তারা বলবে তুমি আগের চেয়ে সুন্দর হয়ে ফিরে এসেছ। [তিরমিজী, ইবনে মাজাহ- সাইধ ইবনে মুসায়েব (রা.)]
৩২) নিম্নমানের জান্নাতবাসীর জন্যে ৮০ হাজার খাদেম ও ৭২ জন স্ত্রী হবে। ছোট্ট বয়সী বা বৃদ্ধ বয়সী লোক মারা গেলে জান্নাতে প্রবেশের সময় ৩০ বছর বয়সী হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এ বয়স কখনো বৃদ্ধি হবে না। জান্নাতবাসীগণ যখন সন্তান কামনা করবে, তখন গর্ভ, প্রসব ও তার বয়স চাহিদা অনুযায়ী মুহূর্তের মধ্যে সংঘটিত হয়ে যাবে। [তিরমিজী, ইবনে মাজাহ, আবু দাউদ- আবু সাঈদ (রা.)]
৩৩) জান্নাতে হুরদের সমবেত সংগীত শুনা যাবে। এমন সুরে যা আগে কখনো শুনা যায় নি। তারা বলবে-
আমরা চিরদিন থাকবো, কখনো ধ্বংস হবো না।
আমরা সুখে আনন্দে থাকবো, কখনো দুঃখ দুশ্চিন্তা হবে না।
আমরা সব সময় সন্তুষ্ট থাকবো, কখনো নাখোশ হবো না।
সুতরাং তাকে ধন্যবাদ যার জন্যে আমরা এবং আমাদের জন্য যিনি। [তিরমিজী- আলী (রা.]
৩৪) জান্নাতে রয়েছে, ১. পানির সমূদ্র ২. মধুর সমুদ্র ৩. দুধের সমুদ্র ৪. শরাবের সমুদ্র। তার পর তা থেকে আরো বহু নদী প্রবাহিত হবে।- [তিরমিজী- হাকিম ইবনে মুয়াবিয়া (রা.)]
৩৫) জান্নাতে একজন কৃষি কাজ করতে চাইবে। তার পর সে বীজ বপণ করবে এবং চোখের পলকে অংকুরিত হবে, পোক্ত হবে এবং ফসল কাটা হবে। এমন কি পাহাড় পরিমাণ স্তুপ হয়ে যাবে। আল্লাহ বলবেন, হে আদম সন্তান! নিয়ে যাও, কোন কিছুতেই তোমার তৃপ্তি হয়না। [বুখারী - আবু হুরায়রা (রা.)]
৩৬) জান্নাতে এক ব্যক্তি ৭০টি তাকিয়ায় হেলান দিয়ে বসবে। এ শুধু তারই স্থান নির্ধারিত থাকবে। একজন মহিলা এসে সালাম দিয়ে বলবে, “আমি অতিরিক্তের অন্তর্ভুক্ত” তার পরনে রং বেরং এর ৭০ খানা শাড়ী পরিহিত থাকবে এবং তার ভিতর দিয়েই তার পায়ের নলার মজা দেখা যাবে। তার মাথার মুকুটের আলো পূর্ব থেকে পশ্চিম প্রান্তের মধ্যবর্তী স্থান রৌশনী করে দিবে। [আহমদ- আবু সাঈদ (রা.)]
৩৭) জান্নাতবাসীগণ নিদ্রা যাবে না। নিদ্রাতো মৃত্যুর সহোদর আর জান্নাতবাসী মরবে না। [বায়হাকী- যাবের (রা.)]
৩৮) আল্লাহ তায়ালা হিজাব বা পর্দা তোলে ফেলবেন, তখন জান্নাতবাসীরা আল্লাহর দিদার বা দর্শন লাভ করবে। আল্লাহর দর্শন লাভ ও তার দিকে তাকিয়ে থাকার চেয়ে অধিকতর প্রিয় কোন বস্তুই এযাবত তাদেরকে প্রদান করা হয়নি। [মুসলিম- সুহায়ব (রা.)]
৩৯) বারা বিন আযেব (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন: কবরে মুমিন বান্দার কাছে দু‘জন ফেরেশতা আসে তাকে উঠিয়ে বসাবেন। তার পর তাকে জিজ্ঞেস করবেন: তোমার রব কে? সে উত্তর দেয় আমার রব ‘আল্লাহ’। তারা জিজ্ঞেস করবেন, তোমার দ্বীন কি? সে উত্তর দেয়, আমার দ্বীন ‘ইসলাম’। তারা জিজ্ঞেস করবেন, তোমাদের মাঝে যিনি প্রেরিত হয়েছিলেন তিনি কে? সে উত্তর দেয়, তারা উত্তর দেয়, তিনি হলেন ‘আল্লাহর রাসূল’। তারা জিজ্ঞেস করবেন, তুমি এসব কিভাবে জানলে? সে উত্তর দেয়, আমি আল্লাহর কিতাব পড়েছি, তাঁর উপর ঈমান এনেছি ও তাঁকে সমর্থন করেছি। তখন আকাশ থেকে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবেন- আমার বান্দা সত্য বলেছে, আমার বান্দার জন্য জান্নাতের একটি বিছানা বিছিয়ে দাও, তাকে জান্নাাতের পোশাক পরিয়ে দাও এবং তার জন্য জান্নাতের একটি দরজা খুলে দাও। তখন তা খুলে দেওয়া হয়। রাসূল (সা.) বলেন: ফলে তার দিকে জান্নাতের স্নিগ্ধ বাতাস এবং সুগন্ধি আসতে থাকে। তার জন্য কবরের স্থানকে দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়। (আহমদ আবু দাউদ)
৪০) যে ব্যক্তি কুরআন পড়েছে, তাকে (সমাজে কুরআনের বিধান) প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে, কুরআনে বর্ণিত হালালসমূহকে হালাল জেনে মেনেছে, হারামগুলোকে হারাম মনে করেছে। আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং তার পরিবারের জাহান্নামযোগ্য ১০ জনে বিষয়ে সুপারিশ করতে পারবেন। (তিরমিযী হযরত আলী হতে)
Saturday, December 2, 2017
এই ৫টি কারণে পুরুষের যৌনক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়
প্রাপ্তবয়স্ক একজন পুরুষের যৌনাকাঙ্ক্ষা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বর্তমানে এতো ভেজাল এবং অলসতা আমাদেরকে ঘিরে ধরে আছে যে এর মধ্যে যৌনক্ষমতা কমে যেতে থাকা খুব একটা অস্বাভাবিক নয়।
একসময় ৫০-৬০ বছরেও পুরুষের যৌনক্ষমতা অটুট থাকতো, কিন্তু এখন বয়স ৩০ এর উপরে গেলেই সবাই যৌনাকাঙ্ক্ষা এবং শক্তি হারাতে শুরু করে। এর জন্য দায়ী কি আমরা নিজেরাই না?
যে কাজগুলো আপনার যৌনক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে
১। ধূমপান ও মদ্যপান
দিনে দিনে ধূমপান যেন নিঃশ্বাস নেওয়ার মতোই স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে আর মদ্যপান আভিজাত্যে। অনেকে তো এর সাথে সাথে আরও মারাত্মক ক্ষতিকারক নেশায় আক্রান্ত হয়ে পড়ছে।
গবেষণায় দেখা গেছে যে সকল পুরুষের ইডি বা লিঙ্গের উত্থান জনিত সমস্যা আছে তাদের বেশির ভাগই ধূমপান বা মদ্যপান করেন।
২। দুশ্চিন্তা
পুরুষের জীবন সঙ্গী এখন আর তার স্ত্রী নন বরং দুশ্চিন্তা। এটি ধীরে ধীরে আপনার শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম নষ্ট করে দিতে থাকে যার থেকে বাদ যায় না যৌনক্ষমতাও।
৩। ওজন নিয়ন্ত্রণ
ওজন বেশি থাকলে যৌন সঙ্গমের ইচ্ছাও কমে যেতে থাকে। তাই বলে ভাবছেন ওজন কম থাকা ভালো? সেটাও না। ওজন স্বাভাবিকের থেকে কম থাকলে সেটাও যৌন ক্ষমতা কমিয়ে আনে।
৪। ব্যায়াম না করা
গবেষণায় দেখা গেছে যে, যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন তাদের যৌনক্ষমতা অন্যান্যদের তুলনায় বেশি হয়ে থাকে। নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীরের রক্ত সঞ্চালনের পরিমাণও বৃদ্ধি পায় যা আপনার যৌনাকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
৫। ড্রাগ
অনেকেই ড্রাগ নিয়ে থাকেন যার ক্ষতিকারক দিক সম্বন্ধে কম বেশি সবাই জানেন। তবে এছাড়াও কিছু কিছু ঔষধ (যেমন- ব্যথানাশক, গর্ভরোধী ঔষধ) আছে যেগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আপনার যৌনক্ষমতা কমিয়ে আনে।
Labels:
স্বাস্থ্য
Friday, December 1, 2017
সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
হুথি আনসারুল্লাহ যোদ্ধা সমর্থিত ইয়েমেনের সেনাবাহিনী সৌদি আরবের একটি সামরিকঘাঁটি লক্ষ্য করে মধ্যম পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এ নিয়ে গত এক মাসের মধ্যে সৌদি আরবে এ ধরনের দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইয়েমেন।
ইয়েমেনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সামরিক সূত্র বৃহস্পতিবার রাতে আরবি টিভি চ্যানেল আল মাসিরাকে জানিয়েছে, মঙ্গলবার দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্রটি সৌদি আরবের নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। তবে সৌদি আরবের ঠিক কোন ঘাঁটি লক্ষ্য করে এটি নিক্ষেপ করা হয়েছে সূত্রটি তা জানায়নি।
ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি সামরিকঘাঁটির ক্ষতি বা সৌদি সেনাদের হতাহতের তাৎক্ষণিক কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় আসির প্রদেশের ‘খামিস মুশাইত’ শহর লক্ষ্য করে ইয়েমেন থেকে নিক্ষিপ্ত একটি ক্ষেপণাস্ত্রকে আকাশে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন কথিত সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল মালিকির বরাত দিয়ে ওই এজেন্সি দাবি করেছে, ‘কোনো ক্ষতি ছাড়াই ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।’
Labels:
আন্তর্জাতিক
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ। মানবজাতির শিরোমণি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাত দিন। ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল মহানবী ইসলামের শেষ নবী হিসেবে আরবের মরু প্রান্তরে মা আমিনার কোল আলো করে জন্মগ্রহণ করেন। ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে মাত্র ৬৩ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকালও করেন।
একটা সময় গোটা আরব জাহান ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। মানুষ হয়ে পড়েছিল বেদীন। তারা আল্লাহকে ভুলে গিয়ে নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়েছিল। সর্বত্র দেখা দিয়েছিল অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা।
এ যুগকে বলা হতো আইয়ামে জাহেলিয়াত। তখন মানুষ মারামারি আর হানাহানিতে লিপ্ত ছিল এবং মূর্তিপূজা করত। এ থেকে মানুষকে মুক্তিসহ তাদের আলোর পথ দেখাতে মহান আল্লাহতায়ালা হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে এই ধরাধামে পাঠান।
মহানবী অতি অল্প বয়সেই আল্লাহর প্রেমে অনুরক্ত হয়ে পড়েন এবং প্রায়ই তিনি হেরা পর্বতের গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকতেন। পঁচিশ বছর বয়সে মহানবী (সা.) বিবি খাদিজা নামে এক ধনাঢ্য মহিলার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ৪০ বছর বয়সে তিনি নবুয়তপ্রাপ্ত হন। আল্লাহতায়ালার নৈকট্য লাভ করেন।
পবিত্র কোরআন শরিফে বর্ণিত আছে, ‘মহানবীকে সৃষ্টি না করলে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পৃথিবীকে সৃষ্টি করতেন না।’ এ কারণে এবং তৎকালীন আরব জাহানের বাস্তবতায় এই দিনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনেক বেশি।
বাংলাদেশসহ বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায় এ দিনটি ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) হিসেবে পালন করে থাকে। দিনটি উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন।
কর্মসূচি : পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সরকারি, আধাসরকারি ভবন, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন ও সশস্ত্র বাহিনীর সব স্থাপনাসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। জাতীয় পতাকা ও ‘কালিমা তায়্যিবা’খচিত ব্যানার ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক আইল্যান্ড ও লাইটপোস্টে প্রদর্শনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাতে সরকারি ভবনসমূহ ও সামরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আলোকসজ্জা করা হয়েছে।
সারা দেশে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বেসরকারি সংস্থাসমূহে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল হবে। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার দিবসটির যথাযোগ্য গুরুত্ব তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে। শিশু একাডেমি শিশুদের জন্য বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু সদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হবে।
এছাড়া বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনসমূহে যথাযথভাবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালন করা হবে। সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।
Labels:
ধর্ম ও জীবন
যুগ পরিবর্তন ও মহানবী (সা.)-এর জীবন
হিজরি বছরের হিসাবে রবিউল আউয়াল মাস শুরু হয়ে গেছে। ১২ রবিউল আউয়াল মহানবী (সা.)-এর জন্মদিবস তথা ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী। দিবসটির প্রধান চরিত্র বা প্রধান উপলক্ষ হলেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)।
গোটা পৃথিবীর মুসলমানগণকে পবিত্র কোরআনের ভাষায় মিল্লাত-এ-ইবরাহিম বলা হয়। কিন্তু দ্বীন ইসলাম পরিপূর্ণ রূপ পেয়েছে আমাদের নবী তথা বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে।
অতএব, আমরা যারা নিজেদের দ্বীন ইসলামের অনুসারি বলে ঘোষণা করি, আমাদের জন্য আবশ্যক আমরা যেন নবী (সা.) সম্বন্ধে জানতে চেষ্টা করি। আমরা তাঁর উম্মত, অতএব আমাদের নবীকে জানা জরুরি। এই জানা-জানির বিষয়টি কোনোমতেই শুধু আলেম-ওলামা এবং মাদ্রাসার ছাত্রদের বিষয় নয়। মুসলিম জাতির দায়িত্ব নবীজী (সা.)কে জানা। জানতে হলে পড়তে হবে। জানার জন্য বিশেষ কোনো সময় নেই। জ্ঞান অর্জন সর্বাবস্থায় সম্ভব। কিন্তু কোনো কোনো সময় উপলক্ষটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। যেহেতু রবিউল আউয়াল মাস এসেই গেছে, তাই এই সময়টিতে মহানবী (সা.)-এর জীবনকে জানার জন্য, তার জীবন থেকে শিক্ষা আহরণ করার জন্য, তাঁর শিক্ষাগুলোকে প্রচার করার জন্য, রবিউল আউয়াল মাস একটি উপলক্ষ হতেই পারে।
মহানবী (সা.)-এর জীবনী নিয়ে বহু পুস্তক লেখক বা কলাম লেখক বা প্রবন্ধকারকেই দেখেছি একটি পুস্তকের রেফারেন্স দিতে। পুস্তকটির নাম ‘দি হান্ড্রেড : এ র্যাংকিং অফ দি মোস্ট ইনফ্লুয়েনশিয়াল পারসনস ইন হিস্ট্রি’। এই বইয়ের লেখক পাশ্চাত্যের একজন অমুসলিম পণ্ডিত যার নাম মাইকেল এইচ হার্ট। মাইকেল হার্ট পৃথিবীর ইতিহাসে বা সভ্যতার ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বা সর্বাধিক প্রভাব বিস্তারকারী একশ’জন ব্যক্তিত্বের তালিকা ও জীবনী প্রকাশ করেছেন তার বইয়ে।
মাইকেল হার্টের মতে এবং তার বইয়ে প্রকাশিত তালিকা মোতাবেক, এই একশ’জনের মধ্যে ক্রমিক নম্বর ১ হচ্ছেন বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.), তথা মাইকেল হার্টের ভাষায় মুহাম্মদ (সা.) হচ্ছেন মানবসভ্যতার ওপরে, মানব ইতিহাসের ওপরে- সর্বাধিক প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তিত্ব।
অতএব তিনিই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। মাইকেল হার্ট জানতেন, তার এই বিবেচনা বা সিদ্ধান্ত প্রশ্নের মুখে পড়বে। তাই তিনি মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনী নিয়ে যে অধ্যায় তার পুস্তকের শুরুতেই আছে, সেই অধ্যায়ের শুরুতেই এই সিদ্ধান্তের স্বপক্ষে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ব্যাখাটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু এর মর্ম ব্যাপক।
মাইকেল হার্ট লিখেছেন, ‘ইতিহাসে মুহাম্মদই একমাত্র ব্যক্তি যিনি ধর্মীয় অঙ্গনে এবং জাগতিক অঙ্গনে তথা উভয় ক্ষেত্রে চরমভাবে সফল হয়েছিলেন। বাকি ৯৯ জনের মধ্যে বেশিরভাগই কোনো না কোনো সভ্যতার কেন্দ্রে বা জনপদে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং উৎসাহব্যঞ্জক বা জ্ঞানবান্ধব পরিবেশে বড় হয়েছেন। কিন্তু ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে যখন মুহাম্মদ আরব উপদ্বীপের মক্কা নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তখন চতুর্দিকের জনপদগুলো, তাদের লেখাপড়ার স্তর এবং তাদের ধর্মীয় চিন্তা-চেতনার স্তর তৎকালীন পৃথিবীর পরিচিত মানদণ্ডে নিন্মস্তরে ছিল। এমন নিন্মস্তরে থেকেও তিনি একটি নতুন চিন্তা-চেতনা, নতুন সভ্যতার উন্মেষ ঘটিয়েছিলেন।’
আমি মাইকেল হার্টের সিদ্ধান্তের কারণেই মুহাম্মদ (সা.)কে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ মানুষ বলব না, বরং আমার নিজের বিশ্লেষণ ও নিজের বিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্তেই আমি তাঁকে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ মানুষ বলব। পাঠকের প্রতিও বিনীত নিবেদন, আসুন আমরা জানি এবং নিজেরাই মূল্যায়ন করি তাঁকে।
ভাঙন সৃষ্টি করা বা ভেঙে দেয়া সহজ, জোড়া লাগানো বা গঠন করা কঠিন। সমালোচনা করা খুব সহজ, সমালোচনার উত্তর দেয়া কঠিন। সমালোচনা করা খুব সহজ কেন? এই জন্যই সহজ যে, গুজবের ওপর ভিত্তি করে, কান-কথার ওপর ভিত্তি করে, চটকদার সংবাদ পড়ে, ভিত্তিহীন রচনা পড়ে যেই হালকা জ্ঞান অর্জন করা হয় সেই হালকা জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করেই সমালোচনা করা যায়।
কিন্তু সমালোচনার উত্তর দিতে গেলে, গভীর এবং ব্যাপক লেখাপড়া করতে হবে, সুপ্রতিষ্ঠিত পণ্ডিতের সুপরিচিত লেখা পড়তে হবে এবং যে কোনো তথ্যের বা মতামতের গোড়ায় যেতে হবে। আল্লাহতায়ালা, কোরআনের পাঠক এবং বিশ্বাসীর সামনে নবীজী (সা.)-এর পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন এভাবে : ‘তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের কাছে এক রাসূল এসেছেন। তোমাদের যা উদ্বিগ্ন করে সেগুলো তাঁর জন্য কষ্টদায়ক। তিনি তোমাদের কল্যাণকামী, মোমিনদের প্রতি তিনি দয়ার্দ্র এবং পরম দয়ালু।’
অনুসন্ধিৎসু বা অনুসন্ধানী মনসম্পন্ন যে কোনো সচেতন মুসলমানেরই জানতে চাওয়ার কথা, স্বাভাবিক যুক্তিতে, কী কারণে বা কী যুক্তিতে বা কী প্রেক্ষাপটে আল্লাহতায়ালা তাঁর প্রিয় বন্ধু সম্বন্ধে এসব বাক্য উপস্থাপন করেছিলেন। সম্মানিত পাঠক খেয়াল করুন, আমি পূর্ববর্তী বাক্যে লিখেছি দুটি শব্দ : স্বাভাবিক যুক্তিতে। কিন্তু সাম্প্রতিক বিশ্বে মুসলমানদের সামনে স্বাভাবিক যুক্তিগুলোকে অস্বভাবিকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। সহনীয় বিষয়গুলোকে অসহনীয় করে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
সুন্দর সুস্মিত বিষয়গুলোকে অসুন্দর ও কঠোর করে উপস্থাপন করা হচ্ছে। কে করছে? পাশ্চাত্য বিশ্ব; বন্ধুবেশী শত্রুগণ এবং অল্প বিদ্যায় আপ্লুত অহঙ্কারী মুসলমানগণ। আমি নিজে প্রার্থনা করি আল্লাহতায়ালা যেন আমাকে বা আমাদের সঠিক উপস্থাপনার তৌফিক দেন। এ সমালোচনার বা এ অযৌক্তিকতার সঠিক উত্তর দিতে গেলেই আমাদের পড়তে হবে, জানতে হবে। জানলে আমরা নৈতিকতার শিকড় খুঁজে পাব। মানবতাবাদের শিকড় খুঁজে পাব। অর্থনৈতিক সাম্যের শিকড় খুঁজে পাব।
সে জন্যই এই কলামের পাঠকদের কাছে আমার বিনীত নিবেদন, আমরা যেন দ্বীন ইসলাম সম্বন্ধে এবং মহানবী (সা.) সম্বন্ধে মৌলিকভাবে জানতে চেষ্টা করি। এ কথাটি সাম্প্রতিক এক দশকের ফেসবুকের রচনাবলীর ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য তেমনই দেড় হাজার বছরের পুরনো দ্বীন ইসলামের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। দুঃখজনক বাস্তবতা হল, শুধু আজকে বলে নয়, গতকাল এবং গত পরশু তথা গত দশক বা গত শতাব্দী বা তার আগেও একটি প্রবণতা যেমন ছিল, সেই একই প্রবণতা আজও আছে। প্রবণতাটা কী? প্রবণতা হল, সাধারণভাবে মুসলিম তরুণ-তরুণীদের লেখাপড়া থেকে দূরে থাকা, গবেষণা থেকে দূরে থাকা, কানকথা ও গুজবের ওপর নির্ভর করা, দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে লেখাপড়াকে পশ্চাৎমুখিতা মনে করা এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনী পড়াকে অনুৎপাদনশীল শ্রম মনে করা। এ প্রবণতার কারণে, মুসলমান সমাজের তরুণ-তরুণীরা, সাধারণভাবে, অর্থাৎ ব্যতিক্রম ছাড়া সাধারণগণ, আমরা যে কোনো বিষয়ের মৌলিক জ্ঞান থেকে যোজন যোজন দূরে পড়ে আছি।
আমি ব্যক্তিগত জীবন থেকে একটি উদাহরণ দিই। ছোটকালে এসএসসি বা এইচএসসি লেভেলে ছিলাম কলা বিভাগের (বা মানবিক বিভাগের) ছাত্র। স্নাতক করেছি কলা বিভাগে অর্থাৎ বিএ। মাস্টার্স করেছি কলা এবং বিজ্ঞানের মাঝামাঝি তবে কলার দিকে প্রাধান্য বেশি; মাস্টার্স ইন ডিফেন্স স্টাডিজ। আমি কোমরে ব্যথা কেন হয়, গলব্লাডারে পাথর কেন হয়, চোখে কেন ছানি পড়ে ইত্যাদি নিয়ে গবেষণা করে কূল পাব না।
তাই জ্ঞানী ডাক্তারদের সিদ্ধান্তই মেনে নিই। কিন্তু পৃথিবীর উষ্ণতা কেন বেড়ে যাচ্ছে সেটি সম্বন্ধে কিছু না কিছু জানতে চেষ্টা করি কারণ, পুরোটা বুঝব না, কিন্তু কিছুটা বুঝব। বাংলাদেশ থেকে টাকা কীভাবে পাচার হয়, বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান নাম দিয়ে কীভাবে বড় বড় মাত্রার টাকা চুরি করা হয় ইত্যাদি চিন্তা করলে আমি হয়রান হই না, তাই চিন্তা করি; কারণ রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে এটা আমাকে বুঝতেই হবে। উদাহরণ শেষ; এখন মৌলিক প্রসঙ্গটি উপস্থাপন করি।
রাসূলুল্লাহ (সা.) তথা নবীজীর জীবনী বা তাঁর জীবনের কর্ম সম্বন্ধে জানার জন্য সুযোগের কোনো অভাব নেই। বইপুস্তকের অভাব নেই। যে ভাষায় মানুষের ইচ্ছা সেই ভাষাতেই যথেষ্ট বইপুস্তক এবং লেখাপড়ার উপাদান আছে। গত পাঁচ ছয় দশকে, বাংলা ভাষায় অনেক জ্ঞানী-গুণীর কলামে মহানবী (সা.)-এর জীবনী লেখা হয়েছে বা তাঁর জীবনে মূল্যায়নমূলক গ্রন্থ লেখা হয়েছে বা অন্যান্য ভাষা থেকে মূল্যবান পুস্তক বাংলায় অনুবাদ করে প্রকাশ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনী গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম যুগপৎ প্রাচীন ও নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ হল ইবনে হিশাম লিখিত ‘সিরাত’। গ্রন্থটি বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
অতি সম্প্রতি বাংলা ভাষায়ও এর অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রকাশিত ‘মহানবীর জীবন চরিত’ নামক গ্রন্থটিও একটি অনুবাদ; আলোচ্য বইটি মিসরের প্রখ্যাত লেখক ও গবেষক ডক্টর মুহাম্মদ হোসাইন হায়কলের আরবি ভাষায় প্রণীত ‘হায়াতে মুহাম্মদ (সা.)’ নামক গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ; অনুবাদক প্রখ্যাত সাংবাদিক ও ইসলামী চিন্তাবিদ মওলানা আবদুল আউয়াল। সঙ্গীতশিল্পী মোস্তফা জামান আব্বাসী লিখেছেন জীবনী গ্রন্থ ‘মুহাম্মদ-এর নাম’ এখনও অতি জনপ্রিয় এসব গ্রন্থ। ইন্টারনেট মানুষের জ্ঞান অর্জনের প্রশস্ত রাস্তা খুলে দিয়েছে।
গুগলে মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের কোনো ঘটনা নিয়ে সার্চ দিলে বা জীবনী গ্রন্থগুলো তালিকার প্রসঙ্গে সার্চ দিলে, বিশাল তথ্য ভাণ্ডার উপস্থিত হবে। এখানে খুবই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে; কেননা ইন্টারনেটে প্রাপ্ত লেখাগুলোর লেখকের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সাবধান থাকতে হবে তরুণদের।
Labels:
ধর্ম ও জীবন
পরিচয় মিলেছে আমিরাতে তিন মাস পড়ে থাকা বাংলাদেশি লাশের
সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি হাসপাতালের হিমঘরে তিন মাস ধরে পড়ে থাকা এক ব্যক্তির বেওয়ারিশ লাশের পরিচয় মিলেছে। তার নাম মোহাম্মদ সৈয়দ ও পিতার নাম আবদুল জলিল। ওমান থেকে অবৈধ পথে আসা মোহাম্মদ সৈয়দ আমিরাতের আলআইন পুলিশের হাতে নিজেকে সোপর্দ করে দেশে যেতে চেয়েছিলেন।গত ৩০আগস্ট এদেশে এসে ১ সেপ্টেম্বর পুলিশে ধরা দেন তিনি। ২সেপ্টেম্বর অসুস্থ হয়ে পড়লে পরদিন তাকে আল আইন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে অসুস্থ অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান।
এদিকে লাশের সঠিক নাম-ঠিকানা পাওয়া গিছেয়ে বলে তা বাংলাদেশে পাঠানোর সকল কাযক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে আবুধাবি বাংলাদেশ দূতাবাস।
প্রবাসী এক বাংলাদেশি জানান, ভাগ্য বদলের জন্য তিনি ওমানে আসেন। কিন্তু সে স্বপ্ন তার অধরাই থেকে গেছে। একসময় ওমানে তিনি অবৈধও হয়ে পড়েন। বৈধ ওয়ার্ক পারমিট না থাকায় নেই কাজ। আর এভাবেই হয়তো অনাহারে অর্ধাহারে দুর্বিসহ পরবাস কাটাতে কাটাতে একসময় হাঁপিয়ে ওঠেন তিনি।
Labels:
আন্তর্জাতিক
ব্রিটিশ ভিসা নীতির কারণে চরম বিপযর্য় কারি শিল্পে
যুক্তরাজ্যে খাবার আর রসনা বিলাসে (কারিশিল্প) ব্যাপক জনপ্রিয়তা বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট গুলোর। প্রতিবছর ৩.৬ বিলিয়ন পাউন্ডের ব্যবসা হয় এই শিল্পে। আর এসব ব্যবসার আশি ভাগেরও বেশি নিয়ন্ত্রিত হয় ব্রিটিশ বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের হাতে। পঞ্চাশের দশকে শুরু হওয়া এই শিল্প একদিকে যেমন যুক্তরাজ্যের মানুষের মন জয় করেছে, তেমটি এই শিল্পের সাথে জড়িত ব্রিটিশ বাংলাদেশিরা পরিচয় করিয়েছে বাংলা খাবারকে। আর তার প্রমান মিলেছে কারি এ্যাওয়াডে।
আয়োজকরা জানান এই শিল্প শুধুমাত্র একটি শিল্প নয়, এটি বাংলাদেশের একটি পরিচয়ও। শুধু তাই নয়,দেশটির রাজপরিবার থেকে শুরু করে অতি সাধারণের মানুষের কাছে কারি শিল্পের কদর রয়েছে।যার কারণে এ খাতে প্রতিবছর বড় অঙ্কের বাণিজ্য করছে শিল্প সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও মালিকেরা। তবে বাণিজ্য থাকলেও সমস্যা রয়েছে অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয়ে।যা এবারের কারি অ্যাওয়ার্ড উঠে এসেছে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা এনাম আলীর বক্তব্যে। তিনি জানান, বৃটেনে কারি শিল্পকে ফুটিয়ে তুলতে কাজ করছে দক্ষ রন্ধন কর্মীরা কিন্তু ব্যবসা বাড়লেও জনবল নিয়োগের সুযোগ নেই। তার অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি ব্রিটিশ ভিসা-নীতিকে দায়ী করেছেন। এই নীতির কারণে কারি-শিল্পের কর্মী-সংকট চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ব্রিটেনের অর্থনীতির স্বার্থে কারি-শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। সে জন্য রেস্টুরেন্ট কর্মী আনার সুযোগ সৃষ্টি করতে ব্রিটিশ সরকারকেই। কারি-শিল্পের চলমান সংকট নিরসনে ১০০ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন সরকারের কাছে দাখিল করা হয়েছে বলে জানান তিনি। নেই। যেখানে শ্রমিক আমদানি থেকে শুরু করে করে এ শিল্পের কাঁচামাল আমদানির সুযোগ কথা উল্লেখ আছে। তিনি আরও জানান, কারি শিল্পে মূলত বাঙালি খাবারের পসরা বেশি থাকে। তাই বাঙালি বিশেষ করে বাংলাদেশি শ্রমিকরা এ খ্যাতে সবচেয়ে বেশি দ্রুত প্রসার ঘটাতে পারে। তাই বাংলাদেশি শ্রমিকদেরকে উপেক্ষা করার কোন সুযোগ নেই।
কারি শিল্পের এই অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে এ শিল্পের সংকটের সাথে সুর মিলিয়ে লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের নেতা ভিন্স ক্যাবল বলেন, ব্রেক্সিট (ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ) গণভোটের আগে বেশ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে ইইউর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে গেলে এশিয়া থেকে রেস্টুরেন্ট কর্মী আনার পথ সুগম হবে। কিন্তু এখন প্রতিশ্রুতিদাতাদের ভাব দেখে মনে হয়, তাঁরা ওই ধরনের কোনো প্রতিশ্রুতিই দেননি। ভিন্স ক্যাবল জানান, তিনি স্বল্পমেয়াদি ভিসা চালু করে রেস্টুরেন্ট কর্মী আনার পক্ষে।
এ লক্ষ্যে তিনি বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে মিলে কাজ করবেন। বাঙালিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বারো হাজার রেষ্টুরেন্ট নিয়ে ১৯৬০ সালে গড়ে উঠা প্রভাবশালী সংগঠন বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশন (বিসিএ)। প্রতিষ্ঠানটি রেষ্টুরেন্ট ব্যবসা সংশ্লিষ্ট মালিক, কর্মীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। এই সংগঠনের বর্তমান সভাপতি খন্দকার পাশা জানান, কারি শিল্প এখন শুধুমাত্র একটি ব্যবসা নয়, এটি ব্রিটিশ অর্থনীতির অপরিহায একটি অংশ। লক্ষাধিক কর্মীর কর্মসংস্থান এখানে। এটি এখন শুধু বাঙালি শিল্পের নয়, বরং বিট্রেনের সংস্কৃতিতে মিশে গেছে এই কারি শিল্পের মাধুর্যতা।
সম্প্রতি বৃটিশ সরকার অলিম্পিকে বাঙ্গালী পাড়া ব্রিকলেনকে অফিসিয়াল কারি ক্যাপিটাল হিসাবে অন্তর্ভূক্তি করে। অলিম্পিকে হালাল ফুড সাপ্লাইয়ের কন্ট্রাক্টও পেয়েছিল বাঙ্গালী প্রতিষ্ঠান। তাই এবারের কারি আওয়াডে কারি শিল্প সংগঠনগুলোর দাবি সরকার চিহ্নিত সমস্যা সমাধানে আমাদের সহায়তা করুক।সেই সাথে এ শিল্পের কাঁচামাল আমদানির পথ উম্মুক্ত করার আহবান জানান সংগঠনগুলো।
ব্রিটেন সরকারের আশ্বাস পেলে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিয়ে এসে এ শিল্পকে সারা ব্রিটেনে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন নেতারা। এছাড়া কারি ব্যাবসার উপর ভ্যাট কমানো এবং ইমিগ্রেশন আইনের কড়াকড়ি একটা সহনশীল পর্যায়ে নিয়ে আসতে সরকারের সহায়তা কামনা করেন।
Labels:
আন্তর্জাতিক
Subscribe to:
Posts (Atom)







