Social Icons

Wednesday, September 27, 2017

দালালদের কাছে পদে পদে বিক্রি হচ্ছে বাংলাদেশিরা

 দিন দিন বাড়ছে অবৈধপথে বিদেশে পাড়ি দেওয়া বাংলাদেশির সংখ্যা। দালালদের খপ্পরে পরে সর্বশান্ত হচ্ছে তারা। অবৈধ পথে বিদেশ পাড়ি দিতে গিয়ে বেশিরভাগই বিভিন্ন দেশে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, তবুও কমছে না এ যাত্রা। উন্নত জীবন আর আর্থিক উন্নতির লক্ষ্যে প্রতিদিন সমুদ্রপথে ভূমধ্যসাগর বা পানামার ডেরিয়েন গ্যাপের মতো ভয়ংকর জঙ্গলও পাড়ি দিতে দ্বিধা করছে না বাংলাদেশিরা। আর তাই নিত্যনতুন রুটে বিদেশ পাড়ির স্বপ্ন নিয়ে প্রতিনিয়ত চরম ঝুঁকি নিচ্ছে হাজার হাজার বাংলাদেশি।
জার্মানি থেকে বাংলাদেশে ফেরত আসা নোয়াখালি জেলার তিন বাংলাদেশি জানিয়েছেন অবৈধ পথে জার্মানি যেতে কি ধরনের নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে তাদের। তারা জানান, প্রায় তিন লাখ টাকার বিনিময়ে এক দালালের মাধ্যমে ২০১৫ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশ থেকে জার্মানির উদ্দেশ্য রওনা হন। তারা জানান, সিলেটের বিমানবন্দর থেকে তুরস্কে যান তারা। সেখানে গিয়ে ওই দালাল তুরস্কের এক বাংলাদেশি দালালের কাছে বিক্রি করে দেয় তাদের। এ সময় নতুন দালাল জার্মানি নিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের কাছ থেকে আবার তিন লাখ করে টাকা নেয়। এই টাকা দিতে অস্বীকার করায় ভয়াবহ নির্যা।তন চলে তাদের উপর।
তিন বাংলাদেশির মধ্যে রশিদ নামে একজন জানান, তুরস্কে তাদের প্রায় ১ মাস থাকতে হয়। কারণ বাংলাদেশ থেকে টাকা না পৌছানো পযর্ন্ত তাদের সেই দেশে আটকে রাখে দালালরা। রশিদ জানান দালালরা  তাদের অমানবিক অত্যাচার করতো। ঠিক মতো তিনবেলা খেতে দিতো না। টাকা দিতে দেরি করায় তাদের লাঠি দিয়ে পেটাতো। এমনকি কখনো কখনো তাদের দুই হাত দড়ি দিয়ে টাঙ্গিয়ে রাখতো সারা রাত। রশিদ আরো জানান, তাদের সাথে পাকিস্তানি ও বাংলাদেশের আরো ত্রিশজন ছিলো। যাদেরকে একই ভাবে টাকার জন্য নির্যাতন করতো দালালরা। রশিদ জানান, তারা টাকার ব্যবস্থা করার পরও তাদের বিভিন্ন ভাবে আটকে রাখতো দালালরা। কিছুদিন পর পর পাঁচ-সাতজন করে জার্মানির উদ্দেশ্যে তুরস্ক থেকে গ্রিসে পাঠাতো তাদের। এভাবে প্রায় ১ মাস পর রশিদ সহ তার অন্য বন্ধুরা জার্মানির উদ্দেশ্যে গ্রিসে পৌছায়। গ্রিসে গিয়ে তুরস্কের দালালরা আবার তাদের বিক্রি করে দেয় নতুন দালালের কাছে। এ দালালরা ছিলো নাইজেরিয়ান। তুরস্ক থেকে আসা অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নতুন দালালের কাছ থেকে পালিয়ে যায়। কিন্তু ভাগ্য খারাপ থাকায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ধরে ফেলে নাইজেরিয়ান দালালচক্রটি।
এরপর টাকার জন্য আবার তাদের উপর অত্যাচার করতে থাকে নতুন দালাল চক্রটি। এবার প্রতিজনের থেকে দুই লাখ টাকা করে দাবি জানায় এ দালাল চক্রটি। রশিদ বলেন, তাদের আর টাকা দেওয়ার সার্মথ্য ছিলোনা। আর এরপরই নতুন দালালরা তাদের জঙ্গলে নিয়ে দিনের পর দিন আটকে রেখে মারধর করে। এসময় তাদের দিনে একবার খেতে দিতো, আবার কখনো কখনো খেতেই দিতো না।
এরপর অনেক কষ্টে আবার বাংলাদেশ থেকে টাকা জোগার করে সেই দালালদের মাধ্যমে জার্মানি পৌছায় তারা। রশিদ বলেন, অবৈধ প্রবাসীরা যে দেশেই যাক না কেনো অবৈধ হওয়ায় তারা কোন ভালো কাজ খুঁজে পায় না। ফলে তাদের পড়তে হয় নতুন সমস্যায়। তাই তিনি জানান, অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন না দেখে কোনো কাজে দক্ষ হয়ে বৈধ পথে বিদেশে যাওয়া উচিত। কারণ বিদেশে দক্ষ শ্রমিকদের জন্য প্রচুর ভালো কাজ আছে। কিন্তু অবৈধ ও অদক্ষ হলে বিদেশে গিয়েও ভালো আয় করা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি। রশিদের মত ভুক্তরভাগীদের মতে, বাংলাদেশ সরকারের উচিত দালালের মাধ্যমে অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়া রোধে কঠোর আইন করা। যেনো কোন বাংলাদেশিকে দালালদের মাধ্যমে বিদেশে যেতে না হয়। একই সাথে জনশক্তি রপ্তানি বাংলাদেশে অর্থনীতির একটি অন্যতম বড় খাত। তাই এ খাতটি যেনো দালাল চক্রের কারণে নষ্ট না হয়ে যায় সেদিকেও সজাগ দৃষ্টি দেওয়া উচিত বলেও মনে করেন অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়া প্রবাসীরা।

লিথুনিয়ায় উচ্চশিক্ষা শেষে স্থায়ী বাসের সুযোগ

বাল্টিক সাগর তীরে দক্ষিণ ইউরোপের অপরূপ সৌন্দর্যের এক দেশ লিথুয়ানিয়া। ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় এখানকার জীবন যাত্রার ব্যয় অনেক কম। এ দেশে রয়েছে অনেক গুলো সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। আর ইউরোপের অন্যান্য দেশে যেমন ব্যাচেলর লেভেলে পড়তে গেলে সে দেশের ভাষায় পড়া লাগে, সে তুলনায় লিথুয়ানিয়াতে ব্যাচেলর লেভেলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ইংরেজি মাধ্যমে পড়ানো হয়ে থাকে, যা বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক উপকারি। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত এ দেশে সফলভাবে পড়াশোনা শেষে রয়েছে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ। সেনজেনভুক্ত একটি রাষ্ট্রে উন্নত পড়াশোনার মাধ্যমে আপনার সামনে খুলে যাবে পুরো ইউরোপের দরজা।

স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে লিথুয়ানিয়া। এর রাজধানী ভিলনিয়াস। লিথুয়ানিয়ার বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি স্বল্প খরচে মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ দিচ্ছে। ভর্তি ফি, টিউশন ফি, বিমানভাড়াসহ সাড়ে ৪ থেকে সাড়ে ৬ লাখ টাকা খরচ করেই লিথুয়ানিয়ায় উচ্চ শিক্ষা নিতে পারবেন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা।

কিছু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঝামেলা ছাড়াই একজন শিক্ষার্থী এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হতে পারেন। শিক্ষার্থীকে প্রথমে নিজের পছন্দের বিষয় বাছাই করতে হবে। লিথুয়ানিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্যের শিক্ষার্থীদের জন্যে রয়েছে আকর্ষণীয় সব বিষয়। বিজনেস ম্যানেজমেন্ট, ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, নার্সিং, হোটেল ম্যানেজমেন্টসহ বিশ্ববিদ্যালয়টিগুলোতে রয়েছে শতাধিক বিষয়।



লিথুয়ানিয়ায় যে কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে গেলে প্রথমে শিক্ষার্থীকে এস কে ভি সি থেকে কোয়ালিটি এসেসমেন্ট সার্টিফিকেট নিতে হবে। সে জন্য ওয়েবসাইট থেকে ফরম ডাউনলোড করে তা পুরণ করে ১ কপি করে সত্যায়িত করা একাডেমিক ডকুমেন্টস আর পাসপোর্টের কপি সহ তা ডাকযোগে প্রেরন করতে হবে।

পাঠানোর ঠিকানা:

To the Centre for Quality Assessment in Higher Education (A. Goštauto g. 12, LT-01108 Vilnius, Lithuania)

এরা কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে সার্টিফিকেট প্রদান করতে সময় নিবে ২০-২৫ দিনের মতো। এই সার্টিফিকেট অন্যান্য কাগজপত্রের সাথে ভর্তির জন্য আপনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেরন করতে হবে। এর জন্য তারা কোনও ফি গ্রহণ করে না। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি। এসব প্রক্রিয়ার পরই ভারতের দিল্লির লিথুয়ানিয়া এম্বাসিতে ভিসার জন্যে আবেদন করবেন শিক্ষার্থী। এক সপ্তাহের মধ্যেই ভিসা হাতে চলে আসে। এরপরই লিথুয়ানিয়া যাওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়।

লিথুয়ানিয়ায় চাইলে শিক্ষার্থীরা পার্টটাইম চাকুরি করে নিজের খরচ চালাতে পারেন। অবশ্য শিক্ষার্থীর টিউশন ফির সঙ্গেই এক মাসের থাকা খাওয়ার খরচও দিতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়কে। টিউশন ফি ২ হাজার ১শ’ ইউরো থেকে ৪ হাজার ইউরো পর্যন্ত হয়। এখানেই ১ মাসের থাকা খাওয়ার খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকে। টিউশন ফি জমা দেওয়ার সময় শিক্ষার্থীকে ন্যূনতম ৮ লাখ টাকার ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখাতে হয়। আর প্রতিমাসে লিথুয়ানিয়া থাকতে একজন শিক্ষার্থীর জীবনযাপনের ধরনের ওপর নির্ভর করে ২০০ থেকে ৪০০ ইউরোর মতো খরচ হয়।

লিথুয়ানিয়া পড়াশোনার বড় সুবিধা হলো- এখানে সফলভাবে কোর্স সম্পন্ন করতে পারলে সেনজেনভুক্ত ২৬টি দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়া যায়। সেনজেনভুক্ত দেশগুলো হলো-অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, চেক রিপাবলিক, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, হাঙ্গেরি, আইসল্যান্ড, ইতালি, লাটভিয়া, লিথিউয়নিয়া, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও লিচেনস্টাইন।

ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্টের কাছে পরিচয়পত্র পেশ নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজের

ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট ট্রান দাই কুয়াংয়ের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেছেন হ্যানয়ে নবনিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ। মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
সোমবার হ্যানয়ে ভিয়েতনামে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন সামিনা নাজ। 
হ্যানয়ের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে প্রটোকল অনুযায়ী তাকে অভ্যর্থনা জানান ট্রান দাই কুয়াং। বৈঠকে বাংলাদেশের নবনিযুক্ত স্বাগত জানিয়ে তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নতুন রাষ্ট্রদূতের সময়ে বন্ধুত্বপূর্ণ দুই দেশের সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হবে।
রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ ভিয়েতনামের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা হো চি মিনকে স্মরণ করে বলেন, তিনি ভিয়েতনামে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শুভকামনা ও বন্ধুত্বের বার্তা নিয়ে এসেছেন।  বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের স্বাধীনতা সংগ্রামের মিলের কথা তুলে ধরে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান  ও হো চি মিনের শক্তিশালী নেতৃত্বের কথা স্মরণ করেন।
২০১৫ সালে রাষ্ট্রপতির ভিয়েতনাম সফরের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রদূত ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্টকে ২০১৮ সালের শুরুতে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরা নিয়ে সংশয় জাতিসংঘের

রোহিঙ্গারা তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারবে কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার ফিলিপ গ্রান্ডি। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে অবস্থান করা আট লাখ রোহিঙ্গা বাড়ি ফিরতে পারবে কি না এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। গতকাল বুধবার জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার উদ্বেগের কথা জানান। এর আগে তিনি বাংলাদেশের উখিয়া ও টেকনাফ শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেন।

আগামী সপ্তাহে জেনেভায় রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রহীন অবস্থা নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন গ্রান্ডি। তিনি একে ব্যাপক জটিল ইস্যু আখ্যা দিয়েছেন। বলেন, এটা স্পষ্ট যে, এই সংকটের উত্পত্তি মিয়ানমারে। এর সমাধানও সেখানে।

এদিকে, মিয়ানমার সৈন্যরা রোহিঙ্গাদের যে বাড়িঘর ও ভিটা জ্বালিয়ে দিয়েছিল তা ‘বাজেয়াপ্ত করে’ দখলে নিচ্ছে সেদেশের সরকার। সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য এসব জমিজমা ও সম্পত্তি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক মন্ত্রী উইন মায়াত আয়্যা। গতকাল রাখাইনের রাজধানী সিট্যুতে এক সভায় ওই মন্ত্রী এ কথা বলেন।   জেনেভায় সংবাদ সম্মেলনে উত্তর রাখাইনে সহিংসতা বন্ধে মিয়ানমারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন গ্রান্ডি। যাতে পরিস্থিতির সমাধান নিয়ে আলোচনা চালানো যায়। তিনি বলেন, যেহেতু বিষয়টা এমন যে রোহিঙ্গাদের ফিরতে সময় লাগবে।

মিয়ানমারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন উল্লেখ করে মিয়ানমারের মন্ত্রী উইন মায়াত আয়্যা আরো বলেছেন, এই সংস্কার ও উন্নয়নকাজ খুবই কার্যকর হবে। ‘দুর্যোগে’ পুড়ে যাওয়া এলাকা পুনর্গঠন তদারকি করবে সরকারের ভূমি বিভাগ। ওই সভায় রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে একটি কমিটি করা হয়। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এমনটা দাবি করা হয়েছে।

মিয়ানমারের দৈনিক দি গ্লোবাল লাইট অফ মিয়ানমার এক প্রতিবেদনে বলেছে, মন্ত্রী বলেন, আইন অনুযায়ী পুড়ে যাওয়া গ্রামগুলোর মালিক সরকার, সরকারের সংস্থাগুলোই এগুলো দেখাশোনা করবে। মিয়ানমার সরকার দাবি করছে, যেসব ভূমি সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেয়া হবে সেগুলো রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরাই পুড়িয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা এক্টিভিস্ট ও নেতাদের পাশাপাশি মানবাধিকার সংস্থাগুলো স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, রাখাইনের মংডু জেলার সদর, বুথিডং ও রাথিডং থানায় অন্তত চারশ গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের অর্ধেক বাড়িঘর পুড়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছে। কিন্তু তারা বলছে- রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরাই এগুলো পুড়িয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও রোহিঙ্গা এক্টিভিস্টরা ১০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করা হলেও মিয়ানমার সরকার বলছে এই সংখ্যা মাত্র পাঁচশ। এরমধ্যে চারশত জনই আরসা ‘বিদ্রোহী’। একইসাথে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এই সংকটকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ নয় এবং জাতিগত নির্মূল নয় বলেও দাবি করছে। সেদেশের সংখ্যাঘরিষ্ঠ বৌদ্ধরা রোহিঙ্গাদের তাড়াতে সরকারের পাশে থেকে প্রচারণা চালাচ্ছে।

লন্ডনে বসবাসরত রোহিঙ্গা নেতা মং তুন খিন ইত্তেফাককে বলছিলেন, ‘সরকার যে এই ধরণের উদ্যোগ নিবে এটা আগে থেকেই অনুমান করা যায়। ১৯৯২ সাল থেকে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের তাড়াতে এই ধরণের নৃশংসতা চালিয়ে আসছে। মিয়ানমার সৈন্যদের নৃশংসতা থেকে বাঁচতে রোহিঙ্গারা পালিয়ে গেলে সরকার তাদের সম্পদগুলো দখলে নেয়। এভাবে লাখো রোহিঙ্গা গৃহহীন হয়ে উদ্বাস্তু হয়েছে। এবারো তাই হচ্ছে।’

সাত লাখ রোহিঙ্গাকে খাদ্য সহায়তা দিতে পারবে জাতিসংঘ

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া সাত লাখ পর্যন্ত রোহিঙ্গাকে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে জাতিসংঘ। এদের মধ্যে চার লাখ ৮০ হাজারই গত এক মাসে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-এর একজন সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, আগামী সপ্তাহগুলোতে বাংলাদেশমুখী এই জনস্রোত অব্যাহত থাকলে ব্যাপক খাদ্য ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা দিতে আমরা প্রস্তুত। আগে থেকে বাংলাদেশে বসবাসরত তিন লাখ রোহিঙ্গার জন্যও কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। সেক্ষেত্রে ১০ লাখ মানুষ ডব্লিউএফপি’র সেবা পাবে। মানবিক সহায়তা থেকে কেউই বাদ যাবে না। তবে এজন্য আমাদের ৮ কোটি ডলারের তহবিল দরকার।

চীনের ত্রাণ চট্টগ্রামে

চট্টগ্রাম অফিস জানায়, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য চীন সরকার ৫৭ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে। গতকাল সকালে ত্রাণবাহী উড়োজাহাজটি চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. হাবিবুর রহমানের হাতে এসব ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন বাংলাদেশে চীন দূতাবাসের কর্মকর্তা জং জিয়াজু।

রোহিঙ্গা ফেরত পাঠাতে উদ্যোগ নেবে তুরস্ক

কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, তুরস্কের উপ-প্রধানমন্ত্রী নোমান কুত্তোলমাস বলেছেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে উদ্যোগ নেবে তুরস্ক। একই সাথে রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের পাশে তুরস্ক সব সময় থাকবে।  গতকাল দুপুরে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

লক্ষাধিক মানুষের নিরাপদ পানি নিশ্চিত করেছে ব্র্যাক

উখিয়া ও টেকনাফের ১০টি আশ্রয়কেন্দ্রে মঙ্গলবার পর্যন্ত ব্র্যাক ৩৯২টি নলকূপ স্থাপন করেছে। এই সেবার আওতায় পড়বেন ১ লক্ষ ৩৫২ জন মানুষ। ৩০ হাজার ৬০০ মানুষের ব্যবহারের জন্য ৭৬৫টি ল্যাট্রিন স্থাপন করা হয়েছে। আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে ১৫ হাজার ল্যাট্রিন ও এক হাজার একশ বিশটি টিউবওয়েল বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে ব্র্যাকের।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে আরো একজনের মৃত্যু

লামা (বান্দরবান) সংবাদদাতা  জানান, নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের জিরো পয়েন্টের কাছে স্থলমাইন বিস্ফোরিত হয়েছে। এতে  নুরুল ইসলাম নামে এক রোহিঙ্গা যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সীমান্তের ৪৩ নম্বর পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নুরুল ইসলাম (২৫) বলিবাজারের পুরান মাইজ্যা এলাকার মোহাচ্ছের আলীর ছেলে।

টেকনাফ (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, গত দুইদিনে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ১২ দালাল ও ৮ মাদক সেবীকে সাজা দিয়েছে।

Monday, September 25, 2017

দেরিতে বিয়ে হলে যে ৭ মানসিক সমস্যায় ভোগেন নারীরা

শিরোনামটি পড়ে অনেকেই ক্ষেপে উঠতে পারেন। তবে সত্য এটাই যে, সমাজে এখনও একজন নারীর শেষ গন্তব্য ও সাফল্য বিবেচনা করা হয় বিয়ে ও সংসারকেই।
আর তাই, একটি নির্দিষ্ট বয়সের মাঝে বিয়ে না হলে, বেশিরভাগ নারীই কিছু মানসিক সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন। এমনকি যারা ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন নারী, তাদের মাঝেও দেখা যায় কিছু কিছু ব্যাপার। কখনও কাজ করে ঈর্ষা, কখনও সামাজিক চাপ, কখনও একাকীত্ব। সব মিলিয়ে অনেকেই নিজের মাঝে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।
জেনে নিন এমন কিছু সমস্যা সম্পর্কে, যেগুলো তৈরি হয় বিয়ে দেরিতে হলে। সমস্যাগুলি চিহ্নিত করা গেলে সেটা থেকে বের হয়ে আসাও সহজ।
১. একাকীত্ব থেকে বিষণ্ণ হয়ে যাওয়া : সমবয়সী সকল বোন বা বান্ধবীদের বিয়ে হয়ে গেছে, আর স্বভাবতই বিয়ের পর সকলেই নিজের পৃথিবী নিয়ে একটু বেশিই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এক্ষেত্রে যার বিয়ে হয়নি, তিনি হয়ে পড়েন একলা। প্রিয় বোন বা বান্ধবীদের খুব একটা কাছে পান না, কাটানো হয় না ভালো সময়। সবমিলিয়ে বিষণ্ণ হয়ে পড়েন, আর সেই বিষণ্ণতা থেকেই মনের মাঝে জন্ম নেয় হতাশা ও শূন্যতা। আর এই বোধ থেকে বের হয়ে আসার সেরা উপায় হচ্ছে নতুন বন্ধু-বান্ধব তৈরি করা, যার কাছে আপনার জন্য পর্যাপ্ত সময় আছে।
২. নিজেকে অযোগ্য মনে করা : সমবয়সী সকলে নিজের জীবন সঙ্গী পেয়ে গেছেন, আপনি হয়তো বারবার চেষ্টা করেও পারছেন না। হয়তো প্রেম সফল হয়নি কিংবা পরিবার থেকে চেষ্টা করেও ফল হচ্ছে না। বিশেষ করে আমাদের দেশে পাত্রী দেখাবার প্রক্রিয়াটা খুব অপমানজনক। এক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যাত হবার পর নিজেকে অনেকেই অযোগ্য মনে করতে শুরু করেন। এত অযোগ্য যে, কোনো ছেলেরই তাকে পছন্দ হচ্ছে না। এমনটা ভাবা মানে অকারণেই নিজেকে ছোট করা। মনে রাখবেন, কোনো পুরুষের আপনাকে পছন্দ হয়নি মানেই আপনি অযোগ্য নন। এটা নিয়ে কষ্ট পাবার কিছু নেই। সম্ভব হলে ঘটা করে পাত্রী দেখার আয়োজনটা এড়িয়ে যান, অনেকটাই স্বস্তি পাবেন।
৩. খুব কাছের বোন বা বান্ধবীর প্রতিও ঈর্ষা হওয়া: এটাও খুব সাধারণ একটা আবেগ। আমরা মানুষ, এমনটা হতেই পারে আমাদের সাথে। খুব কাছের বোন বা বান্ধবীটি হয়তো এখন আর আপনাকে সেভাবে সময় দিতে পারেন না, নিজের সংসার নিয়েই ব্যস্ত ও সুখী। এমন অবস্থায় ঈর্ষার একটা বোধ খোঁচা দিতেই পারে আপনাকে। এক্ষেত্রে নিজেকে বিষয়টা বোঝান। প্রথমত এটা ভাবুন যে তার জীবনে মোটেও আপনার গুরুত্ব কমেনি। আর দ্বিতীয়ত, একদিন আপনারও এমন চমৎকার একজন জীবনসঙ্গী হবে, তাই মন খারাপের কিছুই নেই।
৪. বিয়ে করার জন্য তাড়াহুড়া করতে গিয়ে নিজেকে হাস্যকর করে ফেলা : অনেক নারীই এই কাজটি করে ফেলেন নিজের অজান্তেই। আর তা হল, একটি বিয়ে করার জন্য “ডেস্পারেট” হয়ে যান। ক্রমাগত সামাজিক ও পারিবারিক চাপ থেকে এটা হয়। মনের মাঝে ক্রমাগত ঘুরতে থাকে যে “বয়স পার হয়ে যাচ্ছে”! আর এই পার হয়ে যাওয়া বয়সকে টেক্কা দিতে একজন জীবনসঙ্গীর জন্য আকুল হয়ে ওঠেন অনেকেই। বারবার ঘটকের কাছে যাওয়া, অফিসে বা পরিচিত মহলে নিজেকে পাত্রী হিসাবে উপস্থাপন ইত্যাদি করতে গিয়ে নিজেকে হাসি ও করুণার পাত্রে পরিণত করে ফেলেন তারা। আপনিও কি এমন করছেন? তাহলে জেনে রাখুন, এসব করে কেবল সামাজিক মর্যাদাতেই খাটো হচ্ছেন আপনি। এসবে তেমন কোনো ফল নেই।
৫. চাপের মুখে ভুল মানুষকে বেছে নেওয়া : ক্রমাগত পারিবারিক ও সামাজিক চাপের কারণে অনেক নারীই ভুল মানুষটিকে বেছে নেন বিয়ের জন্য। ব্যাপারটা এমন হয়ে দাঁড়ায় যে, যাকে সামনে পেলাম, তাকেই বিয়ে করে ফেললাম। কিংবা যে রাজি হল, তাকে পছন্দ না হলেও বিবাহের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যাওয়া। অনেকেই এই ব্যাপারটিকে ভালোবাসা ভেবে নিজেকে শান্তনাও দিতে চান। আবার অনেকে পরিবারকে খুশি করার জন্য নিজেকে রীতিমত চাপ দিয়ে বিয়েতে রাজি করায়। এই ভুলটি কখনও করবেন না। একটাই জীবন এবং এই জীবনে একটি ভুল বিয়ে আপনার অশান্তি কমাবে না বরং বাড়বে।
৬. কারও ভালো সহ্য করতে না পারা : এটাও একটি সাধারণ সমস্যা, যা অনেকের মাঝেই দেখা যায়। যখন বিয়ে না হবার কারণে একজন মানুষ ক্রমাগত হয়রানির শিকার হতে থাকেন। তখন স্বভাবতই তার মাঝে জন্ম নেয় ক্ষোভ ও ক্রোধ। আর এই ক্ষোভ ও ক্রোধের কারণেই বিবাহিত সকলকে মনে হতে থাকে শত্রু। নিজের অজান্তেই একজন খিটখিটে মানুষে পরিণত হয়ে যাই আমরা, যার কাছে পৃথিবীর কারও ভালোটা ভালো লাগে না। কারও সাফল্য বা সুখ সহ্য হয় না। এই ব্যাপারটা দূর করার জন্য কাউন্সিলিং ভালো কাজ দিতে পারে।
৭. আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলা : যে সমাজে একজন মেয়ের সফলতা বা বিফলতা নির্ভর করে তার স্বামী ও সংসারের স্ট্যাটাসের ওপরে এবং সঠিক সময়ে বিয়ে না হলে মেয়েটি হয়ে ওঠে সকলের চক্ষুশূল, সেই সমাজে বিয়েতে দেরি হলে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। যখন ক্রমাগত নিজের কাছের মানুষেরাই বলতে থাকে যে “তুমি এত অযোগ্য যে পাত্র জোটে না”, তখন অনেক নারীই নিজের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেন আর ক্রমশ গুটিয়ে নিতে থাকেন জীবন থেকে। ভুলেও এই কাজটি করবেন না। জীবন আপনার। আর আপনার জীবনে মাথা উঁচু করে আপনাকেই বাঁচতে হবে। একবার ঘাড় নুইয়ে ফেললেই পরাজিত আপনি।
ভালো থাকুন নারীরা। নিজেকে বিয়ের বা সংসারের মাপকাঠিতে মাপবেন না। আপনি মানুষ, নিজেকে মাপুন কেবল নিজের যোগ্যতার মাপকাঠিতে।

আসামি রুবির সেই ভিডিও তদন্তের নির্দেশ


চিত্রনায়ক সালমান শাহ অপমৃত্যুর মামলায় আসামি রাবেয়া সুলতানা রুবির সেই ভিডিওর বিষয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে আগামী ২০ নভেম্বর তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম মাহমুদা আক্তার এ আদেশ দেন।
এর আগে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী আইনজীবীর মাধ্যমে ওই ভিডিওবার্তা আদালতে সিডি আকারে উপস্থাপন করেন। এ ছাড়া এ মামলার নারাজি আবেদনের আরেক আসামি রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ অন্য মামলায় কারাগারে থাকায় তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়। তবে এ বিষয়ে বিচারক কোনো আদেশ দেননি। এ বিষয়ে বাদী পক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ জানান, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়ায় থাকা রুবি গত ৭ আগস্ট ফেসবুকে এক ভিডিওবার্তায় সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে কথা বলেন, যা এখন ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। আসামি রুবির ভিডিওবার্তা সাক্ষ্য-প্রমাণ হিসেবে এবং ঘটনার তদন্তে খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিচারক এসব বিষয়ে তদন্ত করে আগামী ২০ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে রাজধানীর নিউ ইস্কাটন গার্ডেন এলাকায় ভাড়া বাসায় পাওয়া যায় অভিনেতা সালমান শাহর লাশ। পরে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় সালমানের বাবা কমরউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী রমনা থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেন। এর ১০ মাস পর তদন্ত এক নাটকীয় মোড় নেয়। সালমানের বাবা কমরউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ১৯৯৭ সালের ১৯ জুলাই রিজভী আহমেদ নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে বাসায় অনধিকার প্রবেশের অভিযোগে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। সেই মামলায় গ্রেফতার হয়ে রিজভী আহমেদ আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে দাবি করে বসেন, সালমানকে খুন করা হয়েছে। তার দাবি, এই হত্যার পেছনে আছেন সালমানের স্ত্রী সামিরা হক, তার শাশুড়ি লতিফা হক, চলচ্চিত্রের খল চরিত্রের অভিনেতা ও সালমানের বন্ধু আশরাফুল হক ওরফে ডন ও চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই। এদের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে তিনি (রিজভী) নিজেও ভাড়াটে খুনি হিসেবে যুক্ত হন। পরে সালমানের বাবা কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে আদালতে নালিশি হত্যা মামলা করেন। আদালত দুটি অভিযোগ একসঙ্গে তদন্তের নির্দেশ দেয়। ২০০২ সালে মারা যান সালমান শাহর বাবা।

ফেসবুকে ভূয়া খবরের ব্যাপারে জাকারবার্গকে সতর্ক করেছিল ওবামা


যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গকে ২০১৬’র নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত একটি সভায় ফেসবুকে ভূয়া খবর ছড়িয়ে প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে পড়ার ব্যাপারে সতর্ক করেছিলেন।
 
ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, ১৯ নভেম্বর পেরুর লিমাতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের এক বৈঠকের পর ওবামা-জাকারবার্গের এই সাক্ষাত ঘটে। ট্রাম্পের অভিষেকের দুই মাস আগে এবং রাশিয়া থেকে নির্বাচন নিয়ে নানা ধরণের প্রপাগান্ডা ফেইসবুকে প্রচার হচ্ছে- এই সংবাদ জাকারবার্গ উড়িয়ে দেওয়ার পর ফেইসবুক প্রতিষ্ঠাতাকে এই ব্যাপারে সতর্ক করেছিলেন ওবামা।  
 
হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, জাকারবার্গ এই প্রপাগান্ডা প্রচারের বিষয়টি পরে স্বীকার করেছিলেন। তবে তিনি ওবামাকে তখন বলেছিলেন ভূয়া খবরগুলো ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়ায়নি এবং এটির কোনও সহজ সমাধানও ফেইসবুকের কাছে তখন ছিল না।
 
ওবামার জাকারবার্গকে সতর্ক করার এই খবর এলো এমন এক সময়ে, যখন রাশিয়ান ফেইক অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়ানো প্রপাগান্ডা ও বিজ্ঞাপনের নথি কংগ্রেসে ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ জমা দেবে বলে খবর এসেছে। ওয়াশিংটন পোস্ট।
 

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

সম্পাদকীয় কার্যলয়

Rua padre germano mayar, cristo rio -80040-170 Curitiba, Brazil. Contact: +55 41 30583822 email: worldnewsbbr@gmail.com Website: http://worldnewsbbr.blogspot.com.br

সম্পাদক ও প্রকাশক

Jahangir Alom
Email- worldnewsbb2@gmail.com
worldnewsbbbrazil@gmail.com
 
Blogger Templates