Social Icons

Thursday, September 28, 2017

বর্ষসেরার লড়াইয়ে এমবাপেকে দেখছেন নেইমার

দলীয়করণে নষ্ট হচ্ছে নরওয়েতে বাংলাদেশিদের অবস্থান

নিশীথ সূর্যের দেশ নরওয়ে। আটলান্টিক মহাসাগর, সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের কোল ঘেষে গড়ে উঠেছে ইউরোপের দ্বিতীয় জনবহুল এ দেশটি। ৪৯ লাখ জনগনের এ দেশটিতে অনেক আগে থেকেই কাজের খোঁজে ভিড় জামিয়েছে বাংলাদেশিরা। ১৯৮৬ সাল থেকে খুব অল্প সংখ্যক বাংলাদেশি চাকরি ও পড়াশোনার জন্য পাড়ি দেয় এ দেশটিতে। এরপর থেকে অল্প অল্প করে প্রবাসী বাংলাদেশিরা আসতে শুরু করে এ দেশটিতে। বর্তমানে কাজের চাহিদা থাকায় ও পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের ক্ষেত্র গড়ে উঠায় প্রায় দুই হাজারের মতে প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছে নরওয়েতে।
নরওয়ের বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি নেতা মোহাম্মদ বদরুল ইসলাম বলেন, প্রথম দিকে নরওয়ে দেশটি সর্ম্পকে ভালো ধারণা ছিলো না বাংলাদেশিদের। যার কারণে এ দেশটিতে তেমন প্রবাসী বাংলাদেশি আসার আগ্রহ দেখাতো না। তিনি বলেন, মূলত প্রথম দিকে কিছু শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য নরওয়েতে এসেছে। কিন্তু পরবর্তীতে ১৯৯০ সাল থেকে ১৯৯৮ সাল পযর্ন্ত কাজের চাহিদা থাকায় অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি ইউরোপের অনেক দেশ থেকে এ দেশে বসবাস শুরু করে। তবে ২০০০ সাল থেকে আবার কমতে শুরু করেছে প্রবাসীর সংখ্যা। পরে ২০১২ সালের দিকে ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় নরওয়ের অর্থনৈতিক অবস্থা অনেক ভালো হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে আবার বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে এ সংখ্যা। তিনি বলেন, প্রথমদিকে কিছু বাংলাদেশি মিলে নরওয়েতে বাংলাদেশি এসোসিয়েশন অব নরওয়ে নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলে। সে সংগঠনটির মাধ্যমে নরওয়ে আসা অন্য বাংলাদেশিদের সর্ম্পকে জানতে পারত। তবে বর্তমানে এ সংগঠনটি বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে বলেও জানান তিনি।
উচ্চ শিক্ষার জন্য বাংলাদেশ থেকে নরওয়েত আসা হোসেন ইকবাল বলেন, নরওয়েত উচ্চ শিক্ষার জন্য অনেক সুবিধা রয়েছে। এ দেশে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাঋণ দেয় নরওয়ে সরকার। যার মাধ্যমে অনেক ভালো ভাবে পড়াশোনা করতে পারে শিক্ষার্থীরা। তিনি আরও বলেন, প্রবাসী অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষা শেষে এ দেশে নানা প্রতিষ্ঠানে ভালো বেতনে চাকরি করছে। তিনি বলেন, নরওতে উচ্চশিক্ষা শেষে স্থায়ীভাবে কাজের সুযোগ করছে। কোন শিক্ষার্থী প্রথম দুইবছর অস্থায়ীভাবে কাজ করার সুযোগ পায় নরওয়েতে। পরবর্তীতে তারা সেই প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী ভাবে কাজ করা শুরু করে। একই সাথে নরওয়ে সরকার তিন বছর কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রবাসীদের স্থায়ী বসবাসের সুযোগও প্রদান করে।
সুইডেন থেকে কাজের সন্ধানে আসা ফজলুর রহমান বলেন, ইউরোপের অন্য দেশের তুলনায় নরওয়েতে কাজের অনেক সুযোগ করছে বাংলাদেশিদের। এমনকি অন্য দেশের থেকে বেতন ভাতাও অনেক বেশি এ দেশটিতে। বর্তমানে প্রচুর বাংলাদেশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে এ দেশে কাজের সন্ধানে আসছে। তিনি আরও বলেন, দক্ষ কর্মী ছাড়া নরওতে কাজের সুযোগ নাই । তাই অবশ্যই অভিজ্ঞতা ছাড়া এ দেশে কাজ পাওয়া অনেক কঠিন। তবে কাজের মান ও বেতন কাঠামো অনেক ভালো হওয়ার কারণে ইউরোপের অন্য দেশ থেকে অনেক বাংলাদেশি কাজের সন্ধানে আসছে নরওয়েতে।
কমিউনিটি নেতা মোহাম্মদ বদরুল ইসলাম বলেন, অন্যান্য দেশ থেকে আমাদের দেশের কমিউনিটি একেবারে খারাপ অবস্থায় রয়েছে বাংলাদেশে। কারণ কমিউনিটিতে বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়ছে বাংলাদেশিরা। তিনি বলেন, ইউরোপের অন্যান্য দেশের থেকে ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশিরা কিন্তু দলীয় করণের মাধ্যমে নরওয়েতে আজ অনেক খারাপ কমিউনিটি হিসেবে পরিচিত হচ্ছে বাংলাদেশিদের। তাই তিনি মনে করেন, বিদেশে কোনো দল না করে সকল বাংলাদেশির একসাথে কাজ করা উচিত। তাই তিনি অনুরোধ করেন, দল ভিত্তিতে নয়, সকলে একসাথে বিদেশে থাকলে আমরা আগের তুলনায় অনেক উন্নত হতে পারবো।

মিয়ানমার সীমান্তে ভারতের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক

মিয়ানমার সীমান্তে এবার সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালিয়েছে ভারত। বুধবার ভোরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্যারা-কম্যান্ডো বাহিনী ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করেছে বলে সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে। এই বিধ্বংসী আক্রমণে নাগা জঙ্গি গোষ্ঠী এনএসসিএন (খাপলাং) বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বলেও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার
 
ভোর ৪ টা ৪৫ মিনিট নাগাদ ভারতীয় বাহিনী অভিযান চালিয়েছে। ভারত-মিয়ানমার সীমান্তের লাংখু এলাকায় এই অভিযান হয়। দু’পক্ষে তীব্র গোলাগুলি বিনিময় হয়েছে বলে সেনা সূত্রে জানা গেছে। এনএসসিএন (খাপলাং) বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বলে ভারতীয় বাহিনীর দাবি। কিন্তু যে প্যারা-কম্যান্ডো বাহিনী অভিযান চালিয়েছে, সেই বাহিনীর সদস্যরা প্রত্যেকেই অক্ষত ফিরেছেন বলেও সেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
 
নাগা জঙ্গি সংগঠনটির সঙ্গে ভারত সরকারের সংঘর্ষবিরতি চুক্তি প্রায় দেড় দশক বলবত্ ছিল। ২০০১ সালে সংঘর্ষবিরতি চুক্তিতে সই করেছিল সংগঠনটি। কিন্তু চুক্তির মেয়াদ পুনর্নবীকরণের ঠিক আগেই ২০১৫ সালে সংগঠনটি চুক্তি ভেঙে দেয়। নাগাল্যান্ড এবং মণিপুরে ভারতীয় বাহিনীর উপর হামলা চালাতে শুরু করে তারা। এতে অনেক হতাহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। নাগা জঙ্গিদের ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য সীমান্ত পেরিয়ে মিয়ানমারের ভেতরে ঢুকে আগেও অভিযান চালিয়েছে ভারতীয় বাহিনী। মিয়ানমারের সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই ভারত এই অভিযানগুলো চালায়। এবারের অভিযানের বিশদ তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। তবে ভারতীয় বাহিনী খুব বড় সাফল্য পেয়েছে বলে সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে।

ফেসবুকের বিরূদ্ধে ট্রাম্পের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান জাকারবার্গের

আবারো নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমের পিছনে লেগেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো সবসময়ই তার বিরুদ্ধে’ ট্রাম্পের এমন মন্তব্য উড়িয়ে দিয়েছেন ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ।
 
এক টুইট বার্তায় গতকাল বুধবার ট্রাম্প বলেছেন, ‘ফেসবুক সবসময় ট্রাম্প-বিরোধী। সামাজিক মাধ্যমগুলোই ট্রাম্প-বিরোধী, ভুয়া বার্তা দেয়। এমনকি নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং ওয়াশিংটন পোস্টও ট্রাম্প-বিরোধী হিসেবে ভূমিকা রাখছে। তাহলে কি সব যোগসাজশ?’ সামাজিক মাধ্যম নিয়ে এমন মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে জাকারবার্গ বলেন, রাজনীতির দুই পক্ষই ফেসবুকের নানা কিছু নিয়ে হতাশ হয়েছে কারণ এগুলো তাদের পক্ষে ছিলো না। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের উদারপন্থীরাও তাকে মিস্টার ট্রাম্পকে সহায়তার জন্য অভিযুক্ত করেছেন।
অভিযোগ আছে, যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৬ সালের নির্বাচনে রাশিয়া যে হস্তক্ষেপ করেছে তাতে ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমকে ব্যবহার করা হয়েছে। আর মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ ছিল কি না, সে বিষয়ে তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ও সাবেক আইনপ্রণেতা ও শীর্ষ কর্মকর্তারা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক কর্তৃপক্ষ খুব শিগগিরই এই তদন্ত কর্মকর্তাদের সাইটটিতে প্রদর্শিত তিন হাজারেরও বেশি রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন জমা দেবে।
ফেসবুক মনে করছে, ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ও পরে ওই বিজ্ঞাপনগুলোতে অর্থায়ন করেছে রাশিয়ার কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে আগামী ১লা নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের ইন্টেলিজেন্স কমিটির কাছে হাজির হতে বলা হয়েছে ফেসবুক, টুইটার ও গুগলকে। সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটিতে যাওয়ার নিমন্ত্রণ পাওয়ার বিষয়টি জানিয়েছে ফেসবুক ও গুগল কর্তৃপক্ষ। বিবিসি।

উখিয়ায় ট্রলারডুবি, ১৪ রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার

কক্সবাজার জেলার উখিয়ার উপকূলীয় এলাকা ইনানির পাটুয়ার টেকের মোহনায় অনুপ্রবেশকারী শতাধিক রোহিঙ্গা বোঝাই একটি ট্রলার ডুবির ঘটনায় মাঝি-মাল্লাসহ ৬৮জন নিখোঁজ রয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ, কোস্টগার্ড ও উপজেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ৯ জন শিশু, ৫ জন নারীসহ ১৪ জনের লাশ উদ্ধার করেছে। মুমূর্ষ অবস্থায় ৮ জন রোহিঙ্গাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে এবং ১০ জনকে উখিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
 
উদ্ধারকারী সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইতিপূর্বে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা বিভিন্ন সময়ে ট্রলার, ফিশিং বোটসহ ইঞ্জিন চালিত নৌকায় মিয়ানমার থেকে ইনানি উপকূল হয়ে উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। অনুরূপ বৃহস্পতিবার চার মাঝিমাল্লাসহ শতাধিক রোহিঙ্গা বোঝাই একটি ফিশিং ট্রলার মিয়ানমারের বুচিডং থেকে রওনা হয়ে সাগর পথে ইনানির কাছাকাছি পাটুয়ার টেক এলাকার সৈকতে উঠার চেষ্টা করে। এসময় প্রচন্ড ঢেউয়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী গ্রামবাসীর খবরের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন, ইনানি পুলিশ ফাঁড়ি, কোস্টগার্ড স্থানীয় গ্রামবাসীর সহায়তায় ৫ জন নারী ও ৯ জন শিশুসহ ১৪ জনের লাশ উদ্ধার করেছে। মুমূর্ষ অবস্থায় ১৮ জন রোহিঙ্গাকে কক্সবাজার ও উখিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 
 
উদ্ধার হওয়া বুচিডং এলাকার লালু মিয়া (৪৫) জানান, তাদের ভাড়া করা ফিশিং বোটে মাঝিমাল্লাসহ শতাধিক নারী পুরুষ শিশু ছিল। বোটটি পাটুয়ার টেক উপকূলে উঠার সময় ঢেউয়ের আচঁড়ে ডুবে যায়। 
 
ইনানি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ষ্টালিং বড়ুয়া সাংবাদিকদের জানান, উদ্ধার করা শিশুদের বয়স ৩-৬ বছর পর্যন্ত হতে পারে। তারা পাটুয়ার টেক নিচে এলাকায় উঠার সময় ট্রলারটি ডুবে যায়। 
 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাঈন উদ্দিন জানান, ট্রলার ডুবির ঘটনায় মৃত ও জীবিত উদ্ধার করা সকলেই রোহিঙ্গা নাগরিক। 
 
উখিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মো. কায়কিসলু জানান, উদ্ধার অভিযান এখনো পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার করা ১৪ জনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। 

Wednesday, September 27, 2017

দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের সকল দেশগুলো ও রাজধানী এবং মুদ্রার নাম জেনে নিন


এক  নজরে পড়ে নিন দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের দেশগুলো ও রাজধানী এবং মুদ্রার নাম সমূহ।
ক্রমিকদেশের নামরাজধানীমুদ্রা
১।আর্জেন্টিনাবুয়েনস আয়ারসপেসো
২।ইকুয়েডরকুইটোসুক্রা
৩।উরুগুয়েমন্টিভিডিওপেসো
৪।কলম্বিয়াবগোটাপেসো
৫।গায়ানাজর্জটাউনডলার
৬।চিলিসান্টিয়াগোপেসো
৭।প্যারাগুয়েআসুনসিওনওয়ারনি
৮।বলিভিয়ালাপাজবলিভিয়ানো
৯।ব্রাজিলব্রাসিলিয়ারিয়েল
১০।ভেনিজুয়েলাকারাকাসবলিভার
১১।সুরিনামপারামারিবোগিল্ডার
১২।পেরুলিমাইন্টি
১৩।ফ্রেঞ্চগায়ানাকেনিইউরো

পাসপোর্ট ‘যাচাই-বাছাই’ নিয়ে হয়রানি

দালাল না ধরে বা ঘুষ না দিয়ে মাসুম রানা পাসপোর্ট করাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দালাল ছাড়া কাজ করাতে পারলেও পুলিশি যাচাই-বাছাইয়ের (ভেরিফিকেশন) সময় ঘুষ থেকে রেহাই পাননি। মাসুমের প্রশ্ন, ‘আমি যদি পাসপোর্টের জন্য সকল ভ্যালিড ডকুমেন্টস সাবমিট করি, তাহলে আবার ভেরিফিকেশন কেন?’
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মাসুম রানা গত মে মাসে পাসপোর্ট করতে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য দেড় হাজার টাকা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পাসপোর্ট অফিসে কোনো রকম ভুল না হলে ঝামেলা ছাড়াই প্রথম ধাপ শেষ করা যায়। কিন্তু বিপত্তি বাধে পুলিশের যাচাই-বাছাইয়ে। টাকা ছাড়া কোনোভাবেই সঠিক প্রতিবেদন দিতে চান না বা অযথাই দেরি করেন। তিনি আরও বলেন, তাঁর বর্তমান ঠিকানা রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আর স্থায়ী ঠিকানা কুমিল্লায়। দুই জায়গায় যাচাইয়ের জন্য তাঁকে দেড় হাজার টাকা দিতে হয়েছে।
ঘুষের ঝামেলায় ক্ষুব্ধ মাসুম প্রথম আলোকে বলেন, ‘অপরাধীদের ডেটাবেইস পাসপোর্ট অফিসকে দিয়ে দিলেই হয়। তাহলে বেশির ভাগ মানুষকে ভোগান্তির শিকার হতে হয় না।’
সালমা খাতুনকে স্থায়ী-অস্থায়ী ঠিকানার তদন্তের জন্য ৩ হাজার ৮০০ টাকা দিতে হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ১ হাজার ৫০০ টাকা। সালমা বলেন, ‘যিনি তদন্তের জন্য এসেছিলেন, তিনি সরাসরি বলেছেন, টাকা না দিলে রিপোর্ট দেরি করে দেবে।’
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) গত ২১ আগস্ট সংবাদ সম্মেলন করে ‘পাসপোর্ট সেবায় সুশাসন: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, ৭৫ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ পুলিশি তদন্তের প্রতিবেদনের জন্য ঘুষ দেন। ঘুষের গড় পরিমাণ ৭৯৭ টাকা। ৭৬ শতাংশ গ্রাহকই পুলিশি তদন্তে অনিয়ম ও দুর্নীতির শিকার হন। প্রতিবেদনটিতে দালাল বা অন্যের মাধ্যমে পাসপোর্ট করানোর চিত্রও উঠে এসেছে। ৪১ দশমিক ৭ শতাংশ সেবাগ্রহীতা দালাল বা অন্যের সহযোগিতা নিয়েছেন।
পাসপোর্টে পুলিশি তদন্তের প্রয়োজন আছে কি না, তা জানতে চাইলে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাসুদ রেজওয়ান  বলেন, এখনো অনেক ভুয়া জন্মসনদ হয়। এর জন্যই প্রয়োজন আছে। তবে তিনি এও বলেন, সবার স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র হয়ে গেলে পুলিশি তদন্তের প্রয়োজন আছে কি না, সে ব্যাপারে চিন্তা করা হতে পারে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তা থেকেই দালালেরা ছেঁকে ধরেন। তাঁদের একজন মো. নাসির। কীভাবে তাঁরা পাসপোর্ট করিয়ে দেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাধারণভাবে করতে গেলে ৮ হাজার ও জরুরি করতে গেলে ১৩ হাজার টাকা লাগে। আঙুলের ছাপ দেওয়ার জন্য লাইন ধরতে হবে না। পুলিশি তদন্তের ভারও তাঁদের ওপর। তাঁরাই স্থায়ী-অস্থায়ী ঠিকানায় তদন্তের প্রতিবেদন আনবেন।
পুলিশি এই তদন্ত নিয়ে অভিযোগ অনেকেরই। ভুক্তভোগী কয়েকজন বলেন, সব কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরেও এই তদন্ত ভোগান্তি বাড়ায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন পাসপোর্টগ্রহীতা বললেন, ‘এটা ভেরিফিকেশন না, হয়রানির করে ঘুষ খাওয়ার একটা উপায়।’
যাচাই-বাছাইয়ের হয়রানির বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এক কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে দুদিন সময় দিয়েও ব্যস্ততার কারণে কথা বলতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন।

 

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

সম্পাদকীয় কার্যলয়

Rua padre germano mayar, cristo rio -80040-170 Curitiba, Brazil. Contact: +55 41 30583822 email: worldnewsbbr@gmail.com Website: http://worldnewsbbr.blogspot.com.br

সম্পাদক ও প্রকাশক

Jahangir Alom
Email- worldnewsbb2@gmail.com
worldnewsbbbrazil@gmail.com
 
Blogger Templates