ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টির গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫ উইকেট নিয়ে বিশ্বরেকর্ড করেছেন বাংলাদেশের পেস সেনশেসন মুস্তাফিজুর রহমান।তিনি এখন টি-টোয়েন্টির কনিষ্ঠতম ৫ উইকেটে শিকারী। শনিবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টসে হেরে ফিল্ডিং করে বাংলাদেশ। তবে নিউজিল্যান্ড ব্যাটসম্যানদের খুব একটা থিতু হতে দেননি টাইগার বোলাররা। মুস্তাফিজুর রহমান একাই নিয়েছে ৫ উইকেট। ইনিংসের শেষ ওভারে পরপর দুই বলে বোল্ড আউট করেন নাথান ম্যাককালাম ও স্টানারকে। আর এর মাধ্যমেই এক বিশ্বরেকর্ড করে ফেললেন তিনি।
এর আগে কিউই শিবিরে শুরুতেই আঘাত আনেন মুস্তাফিজ। হেনরি নিকলসকে বোল্ড করার পর আবার বোল্ড করেন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে।আউট হওয়ার আগে ৩২ বলে ৪২ রান করেন কেন। তার ইনিংসে ছিল ৫ চার ও একটি ছক্কা। এ্রর আগে দলীয় ২৫ রানে হেনরি নিকলসকে বোল্ড করেন মুস্তাফিজ। । আউট হওয়ার আগে ১১ বলে ৭ রান করেন নিকলস।
প্রথম দুটি বোল্ড করার পর আউট করলেন গ্র্যান্ট এলিয়টকে। সৌম্যর হাতে ধরা পরার আগে ৭ বলে ১২ রান করেন তিনি। এর আগে মুস্তাফিজের পর জোড়া আঘাতের পর ইনিংসের ১৫তম ওভারে আঘাত আনলেন পেসার আল-আমিন হোসেন। ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা কলিন মুনরোকে বোল্ড আউট করেন তিনি। আউট হওয়ার আগে ৩৫ রান করেন তিনি। ৩৩ বলের এই ইনিংসে ছিল একটি চার ও দুটি ছক্কা। মুস্তাফিজ ও আল-আমিনের পর উইকেট পান অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। ইনিংসের ১৬তম ওভারে এন্ডারসনকে শূন্য রানেই বোল্ড আউট করেন তিনি।
ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের দেয়া ১৪৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৭০ রানেই গুটিয়ে গেল টাইগাররা। ফলে ৭৫ রানের বড় ব্যবধানে হার মানতে হলো মাশরাফি বাহিনীর। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১৬ রান করেন শুভাগত হোম। সাব্বির(১২) আর মিঠুন(১১) ছাড়া আর কেউই দুই অঙ্কে পৌছাতে পারেননি।
নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ৩টি করে উইকেট নেন এলিয়ট ও সোধি।
ইনিংসে শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে বাংলাদেশ। দলীয় ৩৮ রানের মধ্যেই বাংলাদেশ হারিয়েছে দুই ওপেনার তামিম ইকবাল, মোহম্মদ মিঠুন, বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ও সাব্বির রহমানকে। প্রথম ১০ ওভারে তাদের সংগ্রহ ছিল ৪৩। হারাতে হয়েছে ৬টি উইকেট। ক্রিজে এসে ফিরে গেছেন তামিম, সাকিব, মিঠুন, সাব্বির ও সৌম্য সরকার ও মুশফিকুর রহিম। এরপর আরও চার ওভারের মধ্যে আউট হন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মাশরাফি বিন মর্তুজা।
১৫ তম ওভারে মুস্তাফিজ নেমে একটি ছক্কা মারেন। পরের বলেই কট বিহাইন্ড হয়ে আউট হন তিনি। ১৬ তম ওভারেই আল-আমিনকে ্আউট করে বাংলাদেশের েইনিংস শেষ করেন কিউই বোলার সোধি।
দলীয় ৪ রানে তামিমের পর অল্প রানেই বিদায় নেন আরেক ওপেনার মোহাম্মদ মিঠুনও। ম্যাককেগ্লানের বলে আউট হওয়ার আগে ১৭ বলে ১১ রান করেন তিনি। এরপর দলীয় ৩১ রানে আউট হন সাকিব আল হাসান। সর্বশেষ দলীয় ৩৮ রানে নাথান ম্যাককালামের বলে সাজঘরে ফেরেন সাব্বির রহমান। আর ৪৩ রানে ফিরে যান সৌম্য সরকার। আর রানের খাতায় কোনো সংখ্যা যোগ না করে শূন্য রানেই এলিয়টের বলে বোল্ড হয়ে বিদায় নেন মুশফিক।
এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশকে ১৪৬ রানের টার্গেট দেয় নিউজিল্যান্ড। কেন উইলিয়ামসের ৪২ ও কলিন মুনরোর ৩৫ রানের উপর ভর করে ১৪৫ রান সংগ্রহ করে কিউইরা। বাংলাদেশের পক্ষে একাই ৫ উইকেট নেন বাংলাদেশের পেস সেনশেসন মুস্তাফিজুর রহমান।
পোস্টমর্টেম আমাদের কাছে একটি পরিচিত শব্দ। পোস্টমর্টেমকে বাংলায় বলা হয় ময়না তদন্ত। পোস্টমর্টেমের আরেকটি নাম রয়েছে, আর সেটি হচ্ছে ‘অটপসি’। অটপসি শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ অটপসিয়া থেকে। সাধারণভাবে অটপসি হলো আইনানুগ ভাবে মৃতদেহ পরীক্ষা করে মৃত্যুর কারণ উদঘাটন করা। পোস্টমর্টেম বা ময়না তদন্ত করা হয় মৃত মানুষের শরীরে। তবে এটি অন্যান্য জীবের শরীরে করাও সম্ভব।
ময়না তদন্তের মাধ্যমে মৃত শরীর পরীক্ষা করা হয় এবং তার মৃত্যুর কারণ উদ্ধার করা হয়। কেউ অপঘাত, আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা ইত্যাদি কারণে মারা গেলে বা এক কথায় অস্বাভাবিক মৃত্যু হলে তার মৃত দেহকে ময়না তদন্ত করা হয়। বহু প্রাচীনকাল থেকেই পোস্টমর্টেমের সঙ্গে ধর্ম, রাজনীতি, যৌক্তিক মতবাদ, আধিভৌতিক জাদুবিদ্যা প্রভৃতি নিবিড়ভাবে জড়িত ছিল।
পারিভাষিক সংজ্ঞা প্রদান করতে গেলে বলতে হয়, কোনও ব্যক্তি কখন, কিভাবে, কোথায়, কিসের দ্বারা মৃত্যু বরণ করেছে বা তার মৃত্যু কি স্বাভাবিক নাকি অস্বাভাবিক এই সকল তথ্য জানার জন্য মৃতদেহকে যে বিশেষ পরীক্ষা করা হয় তাকে পোস্টমর্টেম বা ময়না তদন্ত বলে।
ময়নাতদন্ত চিকিৎসাবিজ্ঞানের দীর্ঘ সাধনা ও গবেষণার সোনালি ফসল। ময়না তদন্তের ইতিহাসও ছোট নয়। খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ অব্দে মিসরীয়রা মমি তৈরির জন্য মৃতদেহকে ব্যবচ্ছেদ করত। তবে তারা শুধু ধর্মীয় কারণেই তা করত। মূলত মৃত্যুর কারণ জানার জন্য মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদের কথা জানা যায় খ্রিস্টপূর্ব ৩০০ অব্দে গ্রিসে। রোমান সাম্রাজ্যে এটি চালু হয় খ্রিস্টপূর্ব ১৫০ অব্দে। ইতিহাস থেকে জানা যায়, জুলিয়াস সিজারের মৃত্যুর পর তার অফিসিয়াল পোস্টমর্টেম হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব ৪৪ অব্দে। এ ছাড়া আরবদের মধ্যে আন নাফিসের কথা উল্লেখযোগ্য। আধুনিক পোস্টমর্টেম ব্যবস্থা চালু করেন ইভোননি মরগাগনি। যাকে পোস্টমর্টেম ব্যবস্থার জনক বলা হয়। ময়না তদন্ত ব্যবস্থার উপর ঐতিহাসিক কিছু বইয়েরও ইতিহাস জানা যায়। খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ অব্দে মিসরের ফারাও জোসের আমলে প্রধান চিকিৎসক হেব্রিয়ন ও ইমহোটেপ, খ্রিস্টপূর্ব ৪৬০-৩৬৫ অব্দে গ্রিসের হিপোক্রেট, ১১৭-১৩৮ খ্রিস্টাব্দে মিসরীয় চিকিৎসক হেব্রিয়ন, ১২০০-১২৫০ খ্রি. চীনে এবং ১৬০২ খ্রিস্টাব্দে ইতালির চিকিৎসক ফরচ্যুনিতো ফেদেলে পোস্টমর্টেমের উপর পুস্তক রচনা করেন।
মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ, মৃত্যুর ধরন, মৃত্যুকাল, মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য-প্রমাণাদি সংগ্রহ ও সংরক্ষণ, কোনও বহিঃ বস্তুর উপস্থিতি যেমন বুলেট, বোমার স্প্রিন্টার ইত্যাদি থাকলে তা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ, বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হলে তা কী বিষ, কীভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে, কখন প্রয়োগ করা হয়েছে তা নির্ধারণ ও অজ্ঞাত পরিচয় মৃতদেহ হলে ভবিষ্যৎ শনাক্তকরণের জন্য তার মোটিভ সংরক্ষণ সহ প্রভৃতি পোস্টমর্টেমের উদ্দেশ্য। ময়নাতদন্ত বা পোস্টমর্টেম চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি উচ্চ পেশাগত ও কারিগরি মরদেহ পরীক্ষা। আতশ কাচের সাহায্যে দেখে, লাশের প্রয়োজনীয় প্যাথলজিক্যাল, কেমিক্যাল, রেডিওলজিক্যাল, সেরোলজিক্যাল প্রভৃতিসহ সব জৈবাঙ্গ পরীক্ষণের মাধ্যমে মানুষের মৃত্যু রহস্য উদ্ঘাটন করা এর কাজ।
বর্তমানে বিশ্বে তিন ধরনের পোস্টমর্টেম বা ময়নাতদন্ত প্রচলিত আছে। যথা:
# মেডিক্যাল: কোনও ব্যক্তির অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটলে তাকে মেডিকেল পোস্টমর্টেম করা হয়।
# ক্লিনিক্যাল: কোনও ব্যক্তি অসুস্থতাজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করলে তাকে ক্লিনিক্যাল পোস্টমর্টেম করা হয়।
# একাডেমিক: মেডিকেল বা ডাক্তারি পড়া ছাত্র-ছাত্রীদের অধ্যয়নের জন্য মৃতদেহ পোস্টমর্টেম করা হয়।
ময়না তদন্তের নিয়ম সাধারণের কাজে ভয়ংকর মনে হতে পারে। যে স্থান বা গৃহে ময়না তদন্ত করা হয় সেই গৃহকে প্রচলিত ভাবে ‘লাশ কাটা ঘর’ বলে। প্রথমে মৃতদেহকে এই লাশকাটা ঘরে নিয়ে আসা হয়। এরপর যে ডাক্তার লাশ ময়না তদন্ত করবেন তিনি ময়না তদন্তের প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রাদি পরীক্ষা করেন এরপর তিনি সুরতহাল রিপোর্ট পরীক্ষা করেন। ময়না তদন্তের প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রাদির মধ্যে থাকে সুরতহাল রিপোর্ট, সংশ্লিষ্ট থানার চালান, নির্ধারিত ময়না তদন্ত রিপোর্ট ফরম ইত্যাদি। কাগজ পত্রাদি পরীক্ষা করার পর ডাক্তার বাহ্যিক ভাবে মৃতদেহকে পরীক্ষা করেন। বাহ্যিক পরীক্ষা শেষ করার পরই শুরু করা হয় আসল কাজ। এ পর্যায়ে মৃতদেহকে ব্যবচ্ছেদ করা হয়। মৃতদেহ যিনি ব্যবচ্ছেদ করেন তাকে ‘ডোম’ বলা হয়ে থাকে। ব্যবচ্ছেদ করার সময় মৃত দেহের গলা থেকে নাভির নিচ পর্যন্ত চিরে ফেলা হয় এবং মাথার করোটি খুলে ফেলা হয়। মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদ করার পর তার অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলো যেমন স্টমাক, কিডনি, হার্ট, লাঞ্চ, লিভার, ব্রেইন ইত্যাদি বাহির করে লবণ পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়। এরপর এই অঙ্গগুলো ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে পুনরায় মৃতদেহের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয় এবং পরিশেষে মৃতদেহের শরীর সেলাই করে দেয়া হয়।
কোনও মানুষের অপমৃত্যু হলেই তাকে দাফনের আগে তার পোস্টমর্টেম করা হয়। দেহের যে কোনও অঙ্গের পোস্টমর্টেম হতে পারে। এমনকি থেঁতলানো বা মণ্ডে পরিণত দেহাবশেষের, নরকঙ্কাল, একটি একক হাড়, দেহ বিচ্যুত যে কোনও অঙ্গ, এমনকি একটি আঙ্গুলেরও ময়নাতদন্ত হতে পারে। লাশ পচা বা-গলিত হলেও তার পোস্টমর্টেম হতে পারে। ময়না তদন্ত কাজে সরকারের চারটি বিভাগ সম্মিলিত ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে সংশ্লিষ্ট থাকে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ফরেনসিক চিকিৎসা বিভাগ, আইনজীবীগণ তথা আইন মন্ত্রণালয়, বিচার বিভাগ এবং সর্বোপরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ বিভাগকে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকতে হয় ময়নাতদন্ত কার্যে।
পোস্টমর্টেম বিচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পোস্টমর্টেমের ভুলের কারণে একজন নিরপরাধ লোকের শাস্তি হতে পারে, আবার একজন অপরাধী ছাড়াও পেতে পারে। তাই খুব সতর্কতার সঙ্গে এই রিপোর্ট তৈরি এবং আদালতে উপস্থাপন করা হয়। যে ডাক্তার মৃতদেহের ময়না তদন্ত করে থাকেন তাকে মামলা চলার সময় আদালতে ময়না তদন্ত সম্পর্কে স্বীকারোক্তি দিতে হয়
ইউরোপজুড়েই চলছে অভিবাসী সঙ্কট।ব্রাসেলস এবং প্যারিস হামলার পর শরণার্থীদের আশ্রয়ের ব্যাপারে বেঁকে বসেছে ইউরোপের ধনী রাষ্ট্রগুলো। বিশ্বব্যাপী মুসলিম এবং অভিবাসীদের স্থান দেয়ার বিরোধী এই অনুভূতি সৃষ্টির মুহূর্তে অভিবাসীদের পা ধুয়ে দিলেন ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস।
বৃহস্পতিবার ইতালীর কাস্টেলনুভো ডি পোর্টোতে পোপ বিভিন্ন ধর্মালম্বী অভিবাসীদের পাঁ ধুইয়ে দেন এবং পায়ে চুমু খান। এসময় তিনি বলেন, সব মানুষই একই ইশ্বরের বান্দা।
ক্রশবিদ্ধ হওয়ার আগে যিশু খ্রিষ্ট তার শিষ্যদের পাঁ ধুইয়ে দেন। ইস্টার সপ্তাহর আগে বৃহস্পতিবার পা ধুয়ে অভ্যর্থনা জানানো তাদের ধর্মীয় প্রথা। সেই প্রথাই পালন করলেন পোপ। পোপকেও উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান শরনার্থীরা।
ক্যাম্পে প্রবেশের সময় বিভিন্ন ভাষায় ‘স্বাগতম’ লেখা ব্যানার নিয়ে পোপকে অভ্যর্থনা জানান হয়। এলাকাটিতে এখন প্রায় ৮৯২ জন অভিবাসী অবস্থান করছেন এবং অনেকেই মোবাইলে পোপের এ কাজের ভিডিও ধারন করেন।
ভ্যাটিকানের নিয়মানুযায়ী অনেক বছর ধরেই এ অনুষ্ঠানে শুধুমাত্র পুরুষদের অংশগ্রহণ করার নিয়ম থাকলেও জানুয়ারিতে ফ্রান্সিস নারী ও কিশোরীদের এ অনুষ্ঠান উদযাপনের অনুমতি দেন।
ভ্যাটিকানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে পা ধুয়িয়ে দেয়ার জন্য চারজন নারী এবং আটজন পুরুষকে নির্বাচিত করা হয়। নারীদের মধ্যে একজন ইতালীয়ান এবং তিনজন ইরিত্রিয়ান খ্রিষ্টান নারী ছিলেন। পুরুষদের মধ্যে চারজন নাইজেরিয়ার ক্যাথলিক, মালি, সিরিয়া এবং পাকিস্তান থেকে তিনজন মুসলমান পুরুষ এবং ভারতের একজন হিন্দু পুরুষ।
ব্রাসেলস হামলা সম্পর্কে প্যারিস হামলার মূল সন্দেহভাজন সালেহ আবদেসালাম কিছুই জানতেন না বলে জানালেনতার আইনজীবি ম্যারি। তিনি বলেন, সালেহ আবদেসালাম আমাকে জানিয়েছিলেন তিনি যত দ্রুত সম্ভব ফ্রান্স ছাড়তে চান।
গত ১৮ মার্চ সালেহ আবদেসালামকে বেলজিয়ামের একটি শহর থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার করা হয়। এর কয়েকদিন পরই ব্রাসেলসে হামলা হয়। তাই ধারণা করা হচ্ছিল আবদেসলামের ওই হামলার সঙ্গে যুক্ত। ২২ মার্চ ২০১৬ মঙ্গলবার ব্রাসেলসের ব্যস্ততম জাভেনতেম বিমানবন্দর ও একটি মেট্রো স্টেশনে এক ঘণ্টার ব্যবধানে এ জোড়া হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনার পর বেলজিয়ামে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়। ইউরোপজুড়ে জোরদার করা হয় নিরাপত্তাব্যবস্থা।
সালেহ আবদেসালামের সঙ্গে ওই হামলার ওয়ারেন্টভুক্ত মনির আহমেদ আল হাদজ নামের আরও একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত নভেম্বর মাসে প্যারিস হামলার পর থেকে পালিয়ে ছিলেন আবদেসালাম। গ্রেফতারের আগে ব্রাসেলসের পাশের শহরের একটি ফ্ল্যাটে আবদেসালামের আঙ্গুলের ছাপ পাওয়া যায়। আর সেদিনই ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হলেও তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। এরপর মোলেনবেক শহরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযানের সময় পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলি হলে আবদেসালাম পায়ে গুলিবিদ্ধ হন।
সিরিয়া সংকট নিরসনে চলতি বছরের আগস্ট মাসের মধ্যে সিরিয়ায় নতুন একটি সংবিধান দেখতে চায় বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া। বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দীর্ঘ সময় আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি।
তিনি বলেন, সিরিয়ার নতুন সংবিধানের ব্যাপারে রাশিয়া ও তার দেশ একমত হয়েছে। আগামী আগস্টের মধ্যেই তা দেখতে চায় উভয়পক্ষ। তিনি আরো জানান, শান্তি আলোচনা ত্বরান্বিত করতে সিরীয় সরকার ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগ করার ব্যাপারেও একমত হয়েছে দুই দেশ।
জেনেভায় এরই মধ্যে এক দফায় সিরীয় সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার শেষ হওয়া এ শান্তি আলোচনাকে ‘পরোক্ষ’ বলছেন সবগুলো পক্ষ। মধ্যস্থতাকারী জাতিসংঘের দূত স্ট্যাফান ডে মিস্তুরা বৈঠক শেষে জানান, উভয়পক্ষই এ আলোচনায় অনেকগুলো বিষয়ে একমত হয়েছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পদত্যাগ চেয়ে একটি খোলাচিঠি প্রকাশ করায় ১৭ ব্যক্তিকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ। শুক্রবার এ কথা জানায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
চলতি মাসের শুরুর দিকে রাষ্ট্র পরিচালিত ওয়েবসাইট বুজি নিউজে চিঠিটি প্রকাশিত হয়। প্রকাশের পরপরই তা আবার মুছেও (ডিলিট) ফেলা হয়। তবে গুগল ক্যাশে এর একটি ভার্সন এখনো পাওয়া যাচ্ছে।
চিঠিতে লেখা ছিল, ‘প্রিয় কমরেড শি জিনপিং, আমরা কমিউনিস্ট পার্টির বিশ্বস্ত কর্মী। আমরা দল ও দেশের সব ধরনের পদ থেকে আপনার প্রতি পদত্যাগের আহ্বান জানাচ্ছি।’ টাইমস অফ ইন্ডিয়া