Social Icons

Thursday, June 29, 2017

জাতিসংঘের রিফিউজি ক্যাশ কার্ড বদলে দিচ্ছে লেবানিজ দোকানীদের ভাগ্য

লেবানিজ মুদি দোকানদার আলি খিয়ামি তিন বছরের মধ্যে তার দোকানে ছয় জন স্টাফ নিয়োগ দিয়েছেন, সম্পত্তি কিনেছেন এবং তার ছেলেমেয়েদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াচ্ছেন। সিরিয় শরণার্থীদের জন্যে জাতিসংঘের ডেবিট কার্ডের কল্যাণে তার দোকানের বিক্রি বেড়েছে, বদলে গেছে তার ভাগ্য।
 
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির আওতায় বাস্তুচ্যুত সিরিয় নাগরিকদের প্রত্যেককে মাসে ২৭ মার্কিন ডলার করে দেয়া হচ্ছে। শরণার্থীরা নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার জন্য ইলেক্ট্রনিক কার্ডের মাধ্যমে এই অর্থ ব্যবহার করে। আর এর মাধ্যমে শরণার্থীদের মতোই সমান উপকৃত হচ্ছেন লেবাননের দোকান মালিকরা ।
খাইমি বলেন, ‘জাতিসংঘের এই কর্মসূচী আমার জীবন বদলে দিয়েছে। আমি বৈরুতে একটি অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছি এবং আমার তিন সন্তানের কলেজের খরচ যোগাতে পারছি।’
 
বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে তার দোকানের মতো ৫শ’টি দোকান জাতিসংঘের ডব্লিউএফপি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। ৪০ লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত দেশ লেবাননে পার্শ্ববর্তী সিরিয়ার প্রায় ১০ লাখ শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে। দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর ২০১১ সাল থেকে বাড়িঘর ছেড়ে প্রাণ বাঁচাতে তারা লেবাননে পালিয়ে আসে। সিরিয় শরণার্থীদের ঢেউ লেবাননের পানি, বিদ্যুৎ ও স্কুল সংকটকে আরো তীব্রতর করেছে।
বিশ্ব ব্যাংক জানিয়েছে, সিরীয় সংকট আনুমানিক ২ লাখ লেবানিজকে দারিদ্র্যের হুমকির মধ্যে ফেলেছে। জাতিসংঘের এই স্কেম প্রোগ্রামের আওতায় সাত লাখ সিরিয় শরণার্থী উপকৃত হয়েছে।  শরণার্থীদের কারণে লেবাননের অর্থনীতির ওপর যে চাপ ছিল, তা কিছুটা কমেছে। ডব্লিউএফপি প্রোগ্রামের আওতায় শরণার্থীরা লেবাননের দোকান থেকে কেনাকাটা করায় দেশটির অর্থনীতিও কিছুটা চাঙ্গা হচ্ছে। ২০১২ সালে প্রোগ্রামটি শুরুর পর থেকে সিরিয় শরণার্থীরা লেবাননের নিবন্ধিত অংশীদার দোকানগুলো থেকে ৯০ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য ক্রয় করেছে। এমনিভাবে জাতিসংঘের ডব্লিউএফপি প্রোগ্রামের আওতায় ঘুরে গেছে বহু লেবানিজ দোকানীদের ভাগ্য ।

আফগানিস্তানে তালেবান হামলায় ২ নারী পুলিশ নিহত

আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় বাদাখশান প্রদেশে তালেবান জঙ্গিরা দুই নারী পুলিশকে গুলি করে হত্যা করেছে। বৃহস্পতিবার উত্তরাঞ্চলীয় মাহফোজুল্লাহ্ আকবরি এলাকার পুলিশের এক মুখপাত্র একথা জানান।
 
তিনি বার্তা সংস্থা সিনহুয়াকে বলেন, ‘দুই নারী পুলিশ কর্মকর্তা তাদের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে দুই দিন আগে স্পিনগুল গ্রামে যান। তালেবান জঙ্গিরা পরিচয় জানার পর বুধবার বিকেলে তাদের গুলি করে হত্যা করে।’
 
তবে এখন পর্যন্ত তালেবানের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। যদিও তালেবান শাসনামলে বাড়ির বাইরে গিয়ে নারীদের শিক্ষা ও কর্ম নিষিদ্ধ ছিল। ২০০১ সালের শেষ দিকে দেশটিতে তালেবান শাসনের পতন হয়। সিনহুয়া।

মসুলে আইএসের খেলা শেষ হচ্ছে: যুক্তরাজ্য

ইরাকের মসুল শহরে তথাকথিত ইসলামী জঙ্গি গোষ্ঠীর খেলা শেষ হচ্ছে বলে জানাচ্ছে যুক্তরাজ্য। দেশটির প্রতিরক্ষা সচিব মাইকেল ফেলন এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘মসুলে ২০১৪ সালে ভয়াবহ যুদ্ধের যে খেলা শুরু করেছিলো আইএস, এখন এর শেষ ধাপে রয়েছে তারা।’
মাইকেল ফেলন আরো জানান, ‘ইরাকী বাহিনীর সঙ্গে এক হয়ে এখানে অন্তত ৭শ’টি সফল অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এর ফলে, ধীরে ধীরে সীমিত হয়ে পড়েছে আইএসের বলয়। ইতোমধ্যে সিরিয়ার রাক্কা শহর থেকেও তাদের বিতাড়িত করা হয়েছে।’
ন্যাটোর পরবর্তী বৈঠকের আগে এই ঘোষণা দিয়ে মাইকেল ফেলন আশা করছেন, আফগানিস্তানে আরো অন্তত ৮৫টি ব্রিটিশ সেনা ট্রুপ প্রেরণের। যদিও দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৫শ’ জনের মতো ব্রিটিশ কর্মকর্তা রয়েছে। 

বিবিসি।

সংসদে ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট পাস

২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয় ও  ৪১ সালের মধ্যে সমৃদ্ধ দেশ গড়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে চলমান উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় এবং উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের ধারা অব্যাহত রাখতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট পাস করা হয়েছে।
 
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে নির্দিষ্টকরণ বিল পাসের মাধ্যমে এ বাজেট পাস করা হয়।
 
গত ১ জুন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত এ বাজেট পেশ করেন। নির্দিষ্টকরণ বিল-২০১৭ সংসদে গৃহীত হওয়ার মধ্য দিয়ে এই বাজেট পাস করা হয়। বাজেট পাসের প্রক্রিয়ায় মন্ত্রীগণ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ব্যয় নির্বাহের যৌক্তিকতা তুলে ধরে মোট ৫৯টি মঞ্জুরি দাবি সংসদে উত্থাপন করেন। এই মঞ্জুরি দাবিগুলো সংসদে কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়।
 
প্রধান বিরোধীদল ও স্বতন্ত্র সদস্যগণ মঞ্জুরি দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে মোট ৩৫২টি ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এর মধ্যে ৫টি দাবিতে আনিত ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র সদস্যরা আলোচনা করেন। পরে কণ্ঠভোটে ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো নাকচ হয়ে যায়। এরপর সংসদ সদস্যগণ টেবিল চাপড়িয়ে নির্দিষ্টকরণ বিল-২০১৭ পাসের মাধ্যমে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন করেন।
 
গত ৫ জুন থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ, জাতীয় পার্টির হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও অন্যান্য মন্ত্রীসহ সরকারি ও বিরোধীদলের সদস্যরা মূল বাজেট ও সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।
 
বাজেটে মোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১৩ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে আয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা, যা জিডিপি’র ১১ দশমিক ২ শতাংশ। এছাড়া, এনবিআর বহির্ভূত সূত্র থেকে কর রাজস্ব ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৬২২ কোটি টাকা, যা জিডিপির শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। কর বহির্ভূত খাত থেকে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৩১ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ দশমিক ৪ শতাংশ।
 
বাজেটে অনুন্নয়নসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১০ দশমিক ৮ শতাংশ। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিবি) ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা যা জিডিপির ৬ দশমিক ৯ শতাংশ এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার ১০ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা। এর ফলে এডিপির মোট আকার হলো ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৫ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৭ দশমিক ৪ শতাংশ।
 
বাজেটে সার্বিক বাজেট ঘাটতি ১লাখ ১২ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে, যা জিডিপির ৫ শতাংশ। এ ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক সূত্র থেকে ৫১ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা, যা জিডিপির ২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৬০ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা, যা জিডিপি’র ২ দশমিক ৭ শতাংশ। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ২৮ হাজার ২০৩ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ দশমিক ৩ শতাংশ এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য ব্যাংক বহির্ভূত উৎস থেকে ৩২ হাজার ১৪৯ কোটি টাকার সংস্থানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
 
বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৪ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
 
বাজেটের লক্ষ্য হলো অর্থনীতির সকল খাতের সুষম ও সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়ন। সরকার সাধারণ একটি মধ্যমেয়াদী সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামোর আওতায় বাজেট কাঠামো প্রস্তুত করে এ লক্ষ্য অর্জন করতে চায়। এছাড়া মধ্য মেয়াদী সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামো প্রতি বছরই হালনাগাদ করা এবং এ ক্ষেত্রে সামষ্টিক অর্থনীতির অন্যান্য খাত যথা প্রকৃত, মুদ্রা ও বহিঃখাতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি আয় ও ব্যয় সীমা নির্ধারণ করা। সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার স্বার্থে বাজেটের আয় ও ব্যয়ের পরিমাণকে একটি নিরাপদ সীমার মধ্যে নির্ধারণ করা । পাশাপাশি, সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বাজেট ঘাটতির পরিমাণ ও ঘাটতি অর্থায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
 
বাজেটে মোট বরাদ্দের শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ, জনপ্রশাসন খাতে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ, পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ, সুদ প্রদান খাতে ১০ দশমিক ৪ শতাংশ, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ, প্রতিরক্ষা খাতে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ, কৃষি খাতে ৬ দশমিক ১ শতাংশ, সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাতে ৬ শতাংশ, জনশৃংখলা ও নিরাপত্তা খাতে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ, স্বাস্থ্য খাতে ৫ দশমিক ২ শতাংশ, শিল্প ও অর্থনৈতিক সার্ভিস খাতে ১ শতাংশ, বিবিধ ব্যয় খাতে ২ দশমিক ৭ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
 
বাজেটে পদ্মা সেতু, একটি বাড়ি একটি খামারসহ দশটি মেগাপ্রকল্প তথা যোগাযোগ অবকাঠামো, ভৌত অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, কৃষি, মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।-বাসস।

সীমান্তে মুখোমুখি অবস্থানে ভারতীয় ও চীনা সৈন্য

*ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে ভারতকে :চীনা সেনাবাহিনীর হুঁশিয়ারি *সিকিম সীমান্ত পরিদর্শনে ভারতীয় সেনা প্রধান


ভারত ও চীনের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। সীমান্তে দুই দেশের সেনাবাহিনী মুখোমুখি অবস্থানে আছে। ভারতকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহবান জানিয়েছে চীনা সেনাবাহিনী। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে সৈন্যদের প্রস্তুতি দেখতে গতকাল বৃহস্পতিবার সিকিম সীমান্ত পরিদর্শন করেন ভারতীয় সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত। অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই সমুদ্রে শক্তি দেখিয়েছে চীন। গতকাল সাংহাই বন্দরে নিজেদের সবচেয়ে শক্তিশালী রণতরীটিকে সামনে নিয়ে এসেছে চীন। ভারত চীনকে মোকাবেলায় বাণিজ্যকে ব্যবহার করতে পারে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

চীন ভারতীয় সেনাদের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের অভিযোগ তুলেছে। ভারতও পাল্টা অভিযোগ করেছে এবং চীন ভারতের দুটি বাঙ্কার উড়িয়ে দিয়েছে বলেও অভিযোগ আছে। এরপর দুই দেশের মধ্যে দু’বার ফ্ল্যাগ মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু তারপরও কাটছে না ২৩ দিনের অচলাবস্থা। সিকিম-তিব্বত-ভুটান সীমান্তে ডোকা লা এলাকায় সেনাবাহিনী মুখোমুখি অবস্থানে। ভারত তার সীমান্তে চার হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। চীনও পাল্টা সমসংখ্যক সেনা মোতায়েন করেছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘নো ওয়ার-নো পিস অবস্থা অর্থাত্ না যুদ্ধ, না শান্তি’। তবে পরিস্থিতি যে কোনো সময় ভিন্ন দিকে ঘুরে যেতে পারে বলেও জানান ওই সেনা কর্মকর্তা।

চীনা সেনাবাহিনীর হুঁশিয়ারি

চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির মুখপাত্র উ কিউইয়ান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ভারতকে ১৯৬২ সালের যুদ্ধের পরাজয় থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। নয়াদিল্লির উচিত অবিলম্বে সিকিম সীমান্ত থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করা। তিনি বলেন, চীন তার নিজের এলাকায় নতুন রাস্তা তৈরি করছে। ভুটানের জায়গায় নয়। মুখপাত্র ভারতীয় সেনাবাহিনীর মন্তব্য নিয়েও কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। সমপ্রতি ভারতীয় সেনাপ্রধান বলেন, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ইস্যুতে চীন ও পাকিস্তানকে মোকাবেলা করতে প্রস্তুত ভারত। কিউইয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাসিক ব্রিফিংয়ে বলেন, এই ধরনের মন্তব্য চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন। আমরা আশা করি, ভারতীয় সেনাবাহিনীর ওই ব্যক্তি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেবেন এবং যুদ্ধাবস্থা তৈরির চেষ্টা বন্ধ করবেন। ব্রিফিংয়ে কিউইয়ান চীনের আক্রমণাত্মক অবস্থানের বিষয়টির দিকেও ইঙ্গিত দেন। চীনা সেনারা তিব্বত স্বায়ত্ত্বশাসিত অঞ্চলে ৩৫ টন ওজনের ট্যাংক চলতে পারে এমন রাস্তা তৈরি করছে। এই রাস্তা কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হচ্ছে না বলেও এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে জানান কিউইয়ান। তিনি বলেন, আমরা কেবল পরীক্ষা করছি। তিনি অভিযোগ করেন, ভারতীয় সেনারা অবৈধভাবে ডোকা লা এলাকায় প্রবেশ করে আমাদের সেনাবাহিনীর স্বাভাবিক কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা আমাদের কাজটি করেছি। ডোকা লা এলাকায় চীন ও ভুটানের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই বলেও জানান মুখপাত্র কিউইয়ান। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও পৃথক এক ব্রিফিংয়ে সিকিম সীমান্ত থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের জন্য ভারতের প্রতি আহবান জানিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লু ক্যাং বলেন, সমঝোতার পূর্বশর্ত এটি। তিনি সাংবাদিকদের চীনা সেনাবাহিনীর কাজের একটি মানচিত্রও দেখান।       

ভারতের পক্ষ থেকে জানা গেছে, ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের পর ১৪ হাজার ফুট উপরে ভারত, ভুটান ও চীন সামান্তে ডোকা লা মালভূমি এলাকায় ইন্দো টিবেটান বর্ডার পুলিশ (আইটিবিপি) মোতায়েন থাকে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে তাদের শিবির ১৫ কিমি ভিতরে। কিন্তু সেনাবাহিনীও ওই চত্বরে নিয়মিত লং রুট পেট্রলিং করে। সমপ্রতি সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়াররা ডোকা লা (পাস বা গিরিবর্ত্ম) পর্যন্ত সুন্দর রাস্তাও তৈরি করেছে। সেনাবাহিনীর সূত্র জানায়, ডোকা লা ভারতীয় সীমান্তের মধ্যে হলেও চীন ওই এলাকায় রাস্তা নির্মাণের ছক কষেছে। ফলে ওই সীমান্তে টহল বাড়িয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। ১৯৬২ সালের যুদ্ধের পর থেকেই ওই অঞ্চলে অনেক অস্থায়ী বাঙ্কার রয়েছে। টহলদারির সময় সেখানে সেনারা বিশ্রাম নেন। মাস দু’য়েক আগে চীনা সীমান্ত বাহিনী ডোকা লা’র লালটেন এলাকার বাঙ্কারগুলো ভেঙে দিতে বলে। ভারত তাতে পাত্তা দেয়নি। এরপর থেকেই দুই বাহিনীর মধ্যে তত্পরতা বাড়তে থাকে। একেবারে উত্তরের ‘ফিঙ্গার টিপ’ অঞ্চল ছাড়া সিকিম সীমান্তে আর কোথাও কখনো আগে যা হয়নি। দু’পক্ষের সেনা ডোকা লা অঞ্চলে বারবার সামনাসামনি চলে আসতে থাকায় উত্তেজনা বাড়ে। ভারত সীমান্তে প্রবেশ করে চীন কেন রাস্তা তৈরি করছে, তা নিয়েও প্রতিবাদ জানায় ফোর্ট উইলিয়াম। গত ৬ জুন এ নিয়ে ফ্ল্যাগ মিটিংও হয়। কিন্তু তার দু’দিন পরই ৮ জুন চীনা সেনাবাহিনী ভারতের ভূখণ্ডে ঢুকে দু’টি বাঙ্কার গুড়িয়ে দেয়। এরপরই ভারতের  সেনাবাহিনীর গ্যাংটকের ১৭ নম্বর ব্ল্যাক ক্যাট ডিভিশন থেকে এবং পরে সুকনার কোর কমান্ডারের অফিস থেকে বাড়তি সেনা পৌঁছায় ওই এলাকায়। সব মিলিয়ে কয়েক দিনের মধ্যেই চার ব্যাটেলিয়ন সৈন্য মোতায়েন করা হয়। চীনও বাড়তি সেনা মোতায়েন করে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ভারত ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের অনুরোধ করে। কিন্তু কোনো জুনিয়র অফিসারের উপস্থিতিতে বৈঠক করতে চায়নি চীন। শেষ পর্যন্ত ২০ জুন ভারতের এক ব্রিগেডিয়ার এবং চীনের এক মেজর জেনারেলের উপস্থিতিতে সেই বৈঠক হয়। কিন্তু তাতেও সমস্যা মেটেনি। কারণ চীন কোনোমতেই আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে পিছিয়ে যেতে নারাজ। ফলে ভারতীয় সেনাও পূর্ণ প্রস্তুতি বজায় রাখছে।

সিকিম সীমান্ত পরিদর্শনে ভারতীয় সেনাপ্রধান

সিকিম পরিদর্শন করেছেন ভারতের সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত। সেনাবাহিনী সূত্র জানিয়েছে,  জেনারেল রাওয়াতের এই সিকিম সফর আসলে রুটিনমাফিক। কিন্তু ভারত-ভুটান-চীন সীমান্তে উত্তেজনা হঠাত্ করে যেভাবে বেড়েছে, তার প্রেক্ষিতে সেনাপ্রধানের সিকিম যাওয়া এবং বাহিনীর প্রস্তুতি ও বিন্যাস খতিয়ে দেখার  কর্মসূচিকে বিশেষ তাত্পর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। ভারতীয় বাহিনী সিকিমে ঠিক কতটা প্রস্তুত তা নিজেই খতিয়ে দেখবেন সেনাপ্রধান। কোন অঞ্চলে বাহিনীর বিন্যাস কেমন, সীমান্তে কত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, সেসব নিয়ে বাহিনীর অন্য পদস্থ কর্তাদের সঙ্গে সেনাপ্রধানের আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।

চীনের শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই সমুদ্রে শক্তি দেখাল চীন। গতকাল সকালে সাংহাই বন্দরে নিজেদের সবচেয়ে শক্তিশালী রণতরীটিকে সামনে নিয়ে আসে বেইজিং। ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধ জাহাজগুলোর তুলনায় এটি অনেক বেশি শক্তিশালী বলেই প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। ভারত মহাসাগরে চীনের নৌ বাহিনীর ডুবোজাহাজগুলোর তত্পরতাও ভাবাচ্ছে নয়াদিল্লিকে। এই সময়েই শক্তি দেখাল চীন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নরেন্দ্র মোদীর বৈঠকের ঠিক পরেই। চীন এমন চারটি ডেস্ট্রয়ার তৈরি করতে চলেছে, যার প্রথমটি গতকাল সামনে আনা হলো। প্রায় ১২ হাজার টন অস্ত্র বোঝাই এই রণতরী বিশ্বের প্রথমসারির যুদ্ধ জাহাজগুলোর অন্যতম। এতে প্রায় ১২০টি ক্ষেপণাস্ত্র রাখা যেতে পারে। তবে ভারত এখনো পর্যন্ত যেসব আধুনিক রণতরীর পরিকল্পনা করেছে, সেগুলোতে প্রায় ৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র নেওয়া সম্ভব বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

 তথ্যসূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস, এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকা।

Wednesday, June 28, 2017

অস্ট্রেলিয়ায় বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৩ জনের প্রাণহানি

অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে একটি হালকা বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ৩ জনের মৃত্যু  ও অপর একজন আহত হয়েছে। বুধবার সকালে আঞ্চলিক নগরী মাউন্ট গাম্বিয়েরের বাইরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
 
অস্ট্রেলিয়ান ট্রান্সপোর্ট সেফটি ব্যুরো (এটিএসবি) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একটি টিবি-১০ টোবাগো বিমান আঞ্চলিক প্রধান নগরীর বাইরে একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়। 
 
স্থানীয় কাউন্টি ফায়ার সার্ভিস জানাচ্ছে, দুর্ঘটনাস্থলের কাছে গেলে বিমানটি থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখেন স্থানীয়রা। এতে ধারণা করা হচ্ছে, বিধ্বস্ত হওয়ার পর বিমানটি বিস্ফোরিত হয়। এটিএসবি জানিয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছে। আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সিনহুয়া।

Tuesday, June 27, 2017

প্লেনে অক্সিজেন মাস্ক কেন দরকার হয়

অনেক সময় বিদেশি মুভিতে আমরা দেখি বিমানে কোন কারণে সমস্যা হলে যাত্রীদের মাথার উপর থেকে হলুদ রং এর অক্সিজেন মাস্ক নেমে আসে, সেটা দ্রুত পড়ে নিতেও দেখা যায় সবাইকে। আসলে কেন করতে হয় এটা? আসন্ন ঈদের ছুটিতে অনেকেই হয়ত বিমানে করে দেশের বাইরে ঘুরতে যাব। বিমানে ওঠার আগে জেনে নেই অক্সিজেন মাস্ক কি কাজে লাগে। 
 
আমরা জানি যে মাটি থেকে যত উপরে উঠতে থাকি, বাতাসের ঘনত্ব ততই কমতে থাকে এবং একই সাথে অক্সিজেন এর ঘনত্বও কমতে থাকে। একজন মানুষের সঠিকভাবে দম নেবার জন্য যে অক্সিজেন দরকার হয়, তা পনের বা বিশ হাজার ফুট উপরে উঠে গেলেই পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। পঁচিশ থেকে ত্রিশ ফুট উচ্চতায় সেটার অবস্থা হয় আরও খারাপ, প্রায় থাকে না বললেই চলে।
 
বর্তমান সময়কার আধুনিক জেট এয়ারলাইনার গুলো চলে প্রায় চল্লিশ হাজার ফুট উচ্চতায়। এই উচ্চতায় চলার কারণ হল, বাতাসের ঘনত্ব কম থাকায় প্লেন এর ফুয়েল অনেক কম খরচ করে অনেক বেশি দুর যাওয়া যায়, ফলে খরচ কমে আসে। জেট প্লেন এর ভেতরে কৃত্রিম ব্যবস্থা আছে, যার ফলে বাইরে বাতাসের চাপ যত কমই হোক না কেন, ভেতরে সবসময়ই সেটা দশ বা বারো হাজার ফুট উচ্চতার বাতাসের চাপ এবং অক্সিজেন ঘনত্ব ধরে রাখা হয়।
 
বিমান ছাড়ার আগে এয়ার-হোস্টেস সবার উদ্দেশ্যে একটি ডেমোনস্ট্রেশন এর ব্যবস্থা করেন। ছবি: সংগৃহীত।
 
কোন কারণে বিমানে সমস্যা হলে বা হঠাৎ করে ভেতরে বাতাসের চাপ কমে গেলে তখন হয়ে দাড়ায় বিপদ। হতে পারে সেটা কোন যান্ত্রিক সমস্যা, হতে পারে কোন দুর্ঘটনা। আসলে হতে পারে অনেক কিছুই, তবে যেকোনো ভাবেই হোক না কেন, একবার কেবিনের এয়ার প্রেশার কমে গেলে সাথে সাথে বিপদ বার্তা দেখাতে থাকে পাইলটের কাছে এবং তিনি দ্রুত সেভাবে ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন।
 
ঠাণ্ডা মাথায় তিনি সবার আগে যাত্রী এবং নিজের জন্য অক্সিজেন মাস্ক এর ব্যবস্থা করেন, এর পরে দ্রুত এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল এর সাথে যোগাযোগ করে নিজেদের সমস্যার কথা জানিয়ে সাথে সাথেই নিচে নামতে শুরু করেন। বেশ অল্প সময়ের মাঝেই তিনি বিমানটিকে দশ হাজার ফুট এর ইমারজেন্সী উচ্চতায় নিয়ে আসেন এবং আশে পাশে কোথায় এয়ারপোর্টে জরুরী অবতরণ করা যায় সেটা নিয়ে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল এর সাথে যোগাযোগ করতে থাকেন।
 
কি হবে যদি কোন যাত্রী কোন কারণে অক্সিজেন মাস্ক পড়তে অপারগ থাকেন? বিশ সেকেন্ডের মাঝেই তিনি মাথায় হালকা অনুভব করতে থাকবেন, আরও দশ সেকেন্ডের মাঝে তার কাছে মনে হতে থাকবে আসলে কোন কিছুই কোন ব্যাপার না, তারও পাঁচ থেকে দশ সেকেন্ডের মাঝেই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলবেন, এবং যদি আর কিছুক্ষণ এর মাঝে তাকে মাস্ক পড়িয়ে দেয়া না যায়, তাহলে ব্রেন ড্যামেজ থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
 
সবার আগে নিজে মাস্ক পড়ুন, এর পরে আপনার সাথে থাকা কারও দিকে মনোযোগ দিন। ছবি: সংগৃহীত।
 
সুতরাং, আপনি যখন বিমানে ভ্রমণ করবেন, তখন যদি কোন সমস্যার কারণে পাইলট অক্সিজেন মাস্ক নিতে বলেন, সবার আগে আপনি নিজের জন্য মাস্ক এর ব্যবস্থা করবেন, এর পরে দেখবেন আশে পাশে কারও সমস্যা হচ্ছে কি না, কারও সহায়তা লাগবে কি না। আপনি যদি আগে অন্যদের দিকে নজর দিতে যান, তাহলে খুব মূল্যবান কিছু সেকেন্ড আপনি হারাবেন, একই সাথে আপনার বিচার বুদ্ধিও লোপ পেতে পারে অক্সিজেন এর অভাবে।
 
অক্সিজেন মাস্কগুলোতে কেমিক্যাল বার্ন এর মাধ্যমে অক্সিজেন দেয়া হয়, এবং এটা দশ থেকে পনের মিনিট আপনাকে অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারবে। এটুকু সময়ই আসলে যথেষ্ট পাইলটের জন্য আপনাকে নিরাপদ উচ্চতায় নামিয়ে নিয়ে আসতে।
 

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

সম্পাদকীয় কার্যলয়

Rua padre germano mayar, cristo rio -80040-170 Curitiba, Brazil. Contact: +55 41 30583822 email: worldnewsbbr@gmail.com Website: http://worldnewsbbr.blogspot.com.br

সম্পাদক ও প্রকাশক

Jahangir Alom
Email- worldnewsbb2@gmail.com
worldnewsbbbrazil@gmail.com
 
Blogger Templates