Social Icons

Saturday, December 2, 2017

বিমানে মার্ক জাকারবার্গের বোনকে যৌন হেনস্থা

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান সংস্থা আলাস্কা এয়ার গ্রুপ ইনকর্পোরেশনসের একটি বিমানে যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছেন ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের বোন র‌্যান্ডি জাকারবার্গ। বুধবার সেই ঘটনার কথা সবিস্তারে জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন তিনি। 
 
ওই পোস্টে বিমান কর্মীদের প্রতি অসহযোগিতার অভিযোগও এনেছেন র‌্যান্ডি। তার পোস্ট ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ানোর পর বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেন বিমান কর্তৃপক্ষ। ঘটনার বিস্তারিত জানতে ওই মার্কিন এয়ারলাইন তদন্ত শুরু করেছে।
র‌্যান্ডি জানিয়েছেন, তিনি লস অ্যাঞ্জেলস থেকে মাজাতলান যাচ্ছিলেন। বিমানের প্রথম শ্রেণিতে ঠিক তার পাশেই বসেছিলেন অভিযুক্ত। বিমান ছাড়ার কিছু পরই তাকে লক্ষ্য করে অশালীন মন্তব্য করতে শুরু করেন ওই ব্যক্তি। তাকে স্পর্শ করার জন্য, এমনকী চোখ বুজে তাকে নিয়ে যৌন কল্পনা করার জন্য র‌্যান্ডিকে বারবার উত্যক্ত করতে থাকেন। 
র‌্যান্ডির দাবি, প্রথম দিকে এসব একদমই আমলে নেননি তিনি। কিন্তু ওই ব্যক্তি বাড়াবাড়ি শুরু করলে তিনি বিমানসেবিকাকে বিষয়টি জানান। র‌্যান্ডির অভিযোগ, ওই ব্যক্তি তার আশেপাশে বসে থাকা অন্য নারীসহ যাত্রীদের প্রতিও অশালীন মন্তব্য করছিলেন। র‌্যান্ডির দাবি, বিমানসেবিকা তার অভিযোগকে একদমই গুরুত্ব দেননি। উল্টো ওই ব্যক্তির প্রতিই তিনি নাকি সহানুভূতিশীল ছিলেন। বিমানসেবিকা র‌্যান্ডিকে জানান, ওই ব্যক্তি তাদের ফ্লাইটে মাঝে মধ্যেই যান। অসুবিধা হলে র‌্যান্ডিকে পিছনের দিকের অন্য আসনে বসার ব্যবস্থাও করে দিতে পারেন বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, র‌্যান্ডি নিজেও ফেসবুকের একজন প্রাক্তন একজিকিউটিভ। যৌণ হেনস্থার শিকার হওয়ার পর বিমানসেবিকার আচরণে ভীষণই হতবাক হয়ে পড়েন তিনি। বাড়ি ফিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোটা জানান। এই পোস্টের পরই নড়েচড়ে বসেন বিমান কর্তৃপক্ষ। দ্রুত তদন্তও শুরু করে রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত ওই ব্যক্তির পরবর্তী ফ্লাইট বাতিল করে দিয়েছে। ব্লুমবার্গ।

ইঁদুর, তেলাপোকা ও পিঁপড়ায় আক্রান্ত হোয়াইট হাউজ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বাসভবন হোয়াইট হাউজে ইঁদুর, তেলাপোকা ও পিঁপড়ার উপদ্রব দেখা দিয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা- বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানাচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মকর্তারা হোয়াইট হাউজের রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীদের কাছে কয়েক ডজন সমস্যার কথা জানিয়েছিলে- যার মধ্যে ছিল ইঁদুর, তেলাপোকা ও পিঁপড়ার উপদ্রব আর সেই সঙ্গে টয়লেটের ভেতর ভাঙ্গা সিট।
 
এনবিসি ওয়াশিংটনের সংগ্রহ করা হোয়াইট হাউজ রক্ষণাবেক্ষণ কাজ ও আদেশের একটি তালিকা থেকে জানা গেছে এসব তথ্য। এর মধ্যে বারাক ওবামা প্রশাসনের শেষ বছরের কার্যাদেশও রয়েছে। এর আগে হোয়াইট হাউজে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের মেসে খাবার সরবরাহ করা হয় যেখান থেকে, সেখানে এবং হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমেও ইঁদুর দেখা গেছে বলে অভিযোগ করা হয়। গত দু’বছরে এসব সমস্যার সমাধানের জন্য কয়েকশো অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
ইউ এস জেনারেল সার্ভিসেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জি এস এ) রক্ষণাবেক্ষণ কাজগুলোর তদারকি করে। এর সাবেক ইন্সপেক্টর জেনারেল ব্রায়ান মিলার এনবিসি ওয়াশিংটনকে বলেন,‘সেগুলোতো খুব পুরনো ভবন। এরকম পুরোনো বাড়ি যাদের আছে, তারা জানে যে এরকম বাড়িতে কী পরিমাণ কাজ থাকে।’
এই কার্যাদেশ তালিকা দেখে বোঝা যাচ্ছে, ডাইনিং রুমে তেলাপোকা আর চিফ অব স্টাফ কোয়ার্টারগুলোতে পিঁপড়া খুব বড় সমস্যা। সাংবাদিকরা কাজ করেন যে প্রেস লবিতে, সেখানকার রান্নাঘরে তেলাপোকা আর পিঁপড়া, দুটিরই উপদ্রব। এ বছরের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা যখন হোয়াইট হাউজে আসেন, তখন এসব উপদ্রব মোকাবেলার পাশাপাশি আরও অনেক মেরামতের কাজের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। বিবিসি।

মোদীকে বলেছিলাম, দেশকে ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ না করতে: ওবামা

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বলেছিলেন, ধর্মের ভিত্তিতে দেশকে ভাগ করা উচিত নয়। তিনি বলেন, ভারতীয় সমাজে মুসলিমদের বিকশিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত এবং তারা যাতে নিজেদের ভারতীয় মনে করেন সেই ব্যবস্থা করা উচিত।
 
গতকাল শুক্রবার নয়াদিল্লিতে হিন্দুস্তান টাইমস লিডারশিপ সামিটে এই কথা বলেন ওবামা। খবর এনডিটিভি’র
 
প্রধানমন্ত্রী মোদী তার কথায় কোনো উত্তর দিয়েছিলেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ওবামা বলেন, ব্যক্তিগত আলোচনার এই বিষয়টি প্রকাশ করা তার উদ্দেশ্য নয়। তবে মুসলমানরা যাতে নিজেদের ভারতীয় মনে করেন দেশের সরকার এবং সংখ্যাগরিষ্ঠের সেই সুযোগ দেওয়া উচিত।
 
ওবামা বলেন, ভারতে মুসলিমরা অনেক ক্ষেত্রেই সফল এবং তারা নিজেদের সমাজে অন্তর্ভূক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার পর এই প্রথম ভারত সফরে এলেন ওবামা। মিশেল ওবামার ‘ওবামা ফাউন্ডেশন’ নামে একটি অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে তিনি ভারতে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে।

আনিসুল হকের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুনবার দুপুর পৌঁনে ২টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের বনানীর বাসভবনে যান। তিনি মরহুম আনিসুল হকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। 
 
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, প্রধানমন্ত্রী দুপুর ১.৪৫ মিনিটে আনিসুল হকের বনানীর বাসায় যান এবং তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
 
প্রেস সচিব বলেন, শেখ হাসিনা সেখানে গেলে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। এ সময় মরহুমের স্ত্রী,পুত্র ও কন্যারা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
পরে প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করেন। প্রধানমন্ত্রী এরপর মআনিসুল হকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একান্তে কথা বার্তা বলেন। তিনি প্রয়াত মেয়রের বাসভবনে প্রায় ৩০ মিনিট অবস্থান করেন।
 
এ সময় স্পিকার শিরীন শারমীন চৌধুরী, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, মরহুমের ছোট ভাই সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হকসহ মন্ত্রিসভার সদস্য ও আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বাসস

চীনে ডাক্তারি পড়বেন? ভালো-মন্দ দুটোই জানুন

বাংলাদেশে এখন সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে শতাধিক মেডিকেল কলেজ। এরপরেও কিছু শিক্ষার্থী প্রতিবছর এমবিবিএস করতে যাচ্ছে বিদেশে। আর এক্ষত্রে এখন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পছন্দের দেশ চীন। ভালো-মন্দ মিলে চীনে এমবিবিএস এর সুযোগ সুবিধা কেমন এ নিয়ে রয়েছে যথেষ্ট মত-পার্থক্য। চীনে ডাক্তারি পড়াশোনা কেমন তার আগে চীনে পড়াশোনার পরিবেশ সম্পর্কে জানা যাক। চীন এখন উন্নয়নের মহাসড়কে দিন দিন তরতর করে এগিয়ে যাচ্ছে। তাদের নতুন লক্ষ্য হলো শিক্ষাক্ষেত্রে সারা বিশ্বে শীর্ষের দিকে থাকা। চীনে বিশ্বের অনেক দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা মেডিকেলে পড়তে আসছে। ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে শুরু করে যা প্রাচ্য-প্রতীচ্য হয়ে আফ্রিকা পর্যন্ত বিস্তৃত।
এখনে যেমন রয়েছে সুযোগ-সুবিধা তেমনি রয়েছে বেশ কিছু অসুবিধাও। এখানে পড়পশোনা হয় সেমিস্টার সিস্টেমে, যা বাংলাদেশের প্রফেশনাল পরীক্ষার সম্পূর্ণ বিপরীত। বছরে দুটো করে মোট দশ সেমিস্টার, সাথে এক বছরের ইন্টার্ণ-মোট ছয় বছরের কোর্স। সেমিস্টার সিস্টেম হওয়াতে পাশ করা অধিকতর সহজ। বাংলাদেশের মতো একেবারে পুরো সিলেবাস পরীক্ষা দিতে হয় না। চীনে সবগুলা অনুমোদিত মেডিকেল সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে নিজস্ব হাসপাতাল। তাছাড়া আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংও ভালোই। টিউশন ফি একবারে দিতে হয় না। প্রতি বছর বছর দেয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে তা ৪-৬ লাখ টাকা।
পড়াশোনার সুন্দর পরিবেশ, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, কো-কারিকুলাম এক্টিভিটিজও প্রচুর। সেশন জট বলে কিছু নেই। অপরাধওখুব কম, আইন খুব কড়া। পরীক্ষায় ফেল করলেও রয়েছে আবারও পরীক্ষা দেয়ার সুবিধা। বাংলাদেশের মতো বিভিন্ন আইটেম কার্ড, টার্ম এসব নাই, ভাইভাও খুব সীমিত। মিডটার্ম আর ফাইনাল এই দুটি পরীক্ষা শুধু। আর যদি মান নিয়ে কথা বলতে হয়, সেক্ষেত্রে এখানে যদি চাইনিজ ভাষা শিখতে না পারা যায় তাহলে শিক্ষকদের সাথে আলাপ আলোচনায় অনেক ঝামেলা হয়। সব চেয়ে মারাত্মক সমস্যাটা হয় হাসপাতালে গিয়ে, সেখানে না পারা যায় রোগীর হিস্ট্রি নিতে, না পারা যায় শিখতে। বাংলাদেশের সাথে তুলনা করলে, হাতে কলমে শেখার সুযোগ বাংলাদেশে অনেক অনেক বেশি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চীন থেকে পড়ে আসা বাংলাদেশের নোয়াখালির একজনের সঙ্গে কথা হয় ভয়েস বাংলার। তিনি বলেন, যারা চীনে আসতে চায় একটু গভীর ভাবে ভেবে দেখা উচিত। তবে ইদানীং যে সমস্যাটি সবচেয়ে প্রকট আকার ধারণ করেছে তা হলো চীন থেকে পাশ করে যাওয়ার পর বিএমডিসি একটি পরীক্ষার আয়োজন করে রেজিস্টার করার জন্যে। এই পরীক্ষায় অবশ্যই পাশ করতে হয় যারা বিদেশে এমবিবিএস করে। ছয় মাস পর পর এই পরীক্ষা হয়। এই পরীক্ষায় পাশ করা অনেক কঠিন। এই পরীক্ষা অনেকের জন্যে এক বড় মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
এই পরীক্ষায় পাশ করার পরেও আরো একবছর ইন্টার্নশিপ করতে হয়। তখনই মিলবে বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন।থারপর হাতে কলমে করা যাবে ডাক্তারি। যাদের স্বপ্ন ডাক্তার হওয়া এবং বাংলাদেশে ক্যারিয়ার গড়া, যারা ভাবছেন বিদেশে গিয়ে এমবিবিএস করবেন তাদের উচিত এসব বিষয় ভালো ভাবে জেনে সিদ্ধান্ত নেয়া। প্রকৃতপক্ষে যারা বাংলাদেশ থেকে চীনে পড়তে আসছে, দু’একজন বাদে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর অবস্থাই খুব খারাপ।

মুমিনজীবনে পরকালের প্রস্তুতিই মুখ্য

একজন মুমিনের অকাট্য বিশ্বাস হলো এই জীবনই শেষ নয়, মৃত্যুর পর আরো একটি জীবন রয়েছে। পার্থিব এই জীবন ক্ষণস্থায়ী। কিন্তু এরপর যে জীবন রয়েছে এর কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। এজন্য একজন বিশ্বাসী মানুষের কাছে দুনিয়ার চেয়ে পরকালের প্রস্তুতিই মুখ্য। পবিত্র কোরানের ভাষায় এই দুনিয়া হলো একটি খেলাঘরের মতো। দুনিয়ার জীবনটা আখেরাতের তুলনায় কিছুই নয়। বলা হয়, আটলান্টিক মহাসাগরে আঙ্গুল ডুবালে এর মাথায় যে এক দুই ফোঁটা পানি উঠে আসে সেটা হলো দুনিয়ার জীবন। আটলান্টিক মহাসাগরের পানির সঙ্গে যেমনিভাবে আঙ্গুলে ওঠে আসা এক দুই ফোঁটা পানির তুলনা হতে পারে না তেমনি দুনিয়ার জীবনের সঙ্গে আখেরাতের জীবনের কোনো তুলনা করা যায় না। এজন্য রাসুল (সা.) আমাদের আখেরাতমুখী জীবন, আখেরাতমুখী টার্গেট বানানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

একজন মুমিনের টার্গেট হওয়া উচিত আখেরাত। আমরা সবাই আখেরাতের যাত্রী। দুনিয়ার জাহাজে করে আল্লাহর পথে চলতে শুরু করেছি। আমরা এগিয়ে চলছি আল্লাহর দিকে। জান্নাত কিংবা জাহান্নামের দিকে। নবীজি বলেছেন, তোমরা দুনিয়াতে থাকো কিন্তু দুনিয়াকে অন্তর দিও না। দুনিয়াকে তোমরা মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার কর। দুনিয়াকে টার্গেট বানিও না।

আজরাইল (আ.) যখন আমাদের সামনে হাজির হয়ে যাবে তখন আর কিছু করার থাকবে না। আমাদের দুনিয়া ছেড়ে চলে যেতে হবে। এজন্য আল্লাহতাআলা আমাদের যে ফর্মুলা দিয়েছেন সে অনুযায়ী চললে দুনিয়ার জীবন সুন্দর হবে। দুনিয়ার জীবনে কোনো অন্যায় থাকবে না, কোনো অবিচার থাকবে না। দুনিয়ায় কেউ কারো ওপর জুলুম করলে কেয়ামতের দিন তার মাথায় জুলুমের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হবে। আল্লাহতাআলা সেদিন সমস্ত জুলুমের বদলা দেবেন। কেয়ামতের ভয় ছাড়া, গোনাহের ভয় ছাড়া, আখেরাতের জীবনের ভয় ছাড়া দুনিয়ার জীবনে কখনো শান্তি আসবে না।

এজন্য পার্থিব জীবন সুন্দর করতে সবার আগে দরকার পরকালের ভয়। কারো মধ্যে পরকালের ভয় থাকলে সে কোনো অন্যায় কাজে জড়াতে পারে না। অল্প কিছুদিনের এই দুনিয়া যেভাবেই কাটুক তা মেনে নিয়ে অনন্ত অসীম কালের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণই হলো একজন মুমিনের প্রধান দায়িত্ব। যারা এই পার্থিব জীবনকে কাজে লাগাতে পারবেন তাদের জন্যই রয়েছে পরকালের মুক্তি ও পুরস্কার।

মানবজাতির জন্য অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব মুহাম্মাদ (সা.)

সমসাময়িক বিশ্ব ঘটনাবলির দিকে যিনিই তাকাবেন তিনিই লক্ষ করবেন, পেশিশক্তির ওপরে যুক্তির প্রাধান্য বিরাজ করছে না, আমাদের মূল্যবোধ ইতোমধ্যে ক্ষয় পেতে শুরু করেছে, আর আমাদের এমন কোনো নেতা নেই যার ওপর আমরা ভরসা করতে পারি। আমরা সঙ্কটের মধ্যে আছি। বর্তমান পরিস্থিতি একজন লোকের কথা মনে করিয়ে দেয়, যিনি এই গানটি লিখেছিলেন ‘Where are all the flowers gone, in an English country garden? ’ এই লোকটি যদি আজ বেঁচে থাকতেন তাহলে উনি আর একটি গান গাইতেন, ‘Where have all the values and valor gone? ’ ইতিহাসে এর আগে কখনো একজন আদর্শ নেতার সঙ্কট এত প্রকটভাবে অনুভূত হয়নি। যেমনটি আজ দেখা দিয়েছে। এ যুগের চাহিদা একজন নেতার যিনি সমগ্র মানব সম্প্রদায়ের জন্য অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হতে পারেন। যেকোনো শিক্ষাব্যবস্থার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত এ ধরনের অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বকে চিহ্নিত করা এবং ছাত্রছাত্রীদের এসব ব্যক্তিত্বের জীবন ও শিক্ষায় অনুপ্রাণিত করা। মানবজাতি সবসময় এমন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বের সন্ধানে রয়েছে এবং বিভিন্ন সমাজ এ উদ্দেশ্যে তাদের চিহ্নিত করেছে। এখন প্রশ্ন হলো- এই ব্যক্তিরা কি সত্যিই সময়ের বিচারে উত্তীর্ণ হয়েছেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে হলে ওই সব ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা যায়, যাদের অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে উচ্চমর্যাদা দেয়া হয়েছে। যেমন- জর্জ ওয়াশিংটন, আব্রাহাম লিংকন, মাও সেতুং, মহাত্মা গান্ধী এবং তাদের মতো অন্যান্য। তাদের চরিত্রের বিস্ময়কর গুণাবলির জন্য মানুষ তাদের স্মরণ করে, কিন্তু যদি কেউ রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, গতিশীল নেতৃত্ব, চরিত্রের সাহসিকতা, সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা এবং স্রষ্টার প্রতি আনুগত্য, কৃতজ্ঞতা প্রভৃতি দিক বিবেচনা করে তাহলে বলা যাবে না যে, এসব মহৎ লোক যুগের সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। তারা কেবল একটি বিশেষ সময়ের জন্য অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ স্যার উইনস্টন চার্চিলের কথা বলা যায়। মানুষ আজো শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে কী করে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ব্রিটিশ দ্বীপগুলোর অধিবাসীদের ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন এবং তাদের মনোবল চাঙ্গা করে রেখেছিলেন। এর পরও যখন একই ব্যক্তি চার্চিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পরেই নির্বাচনে প্রার্থী হলেন, তিনি তাতে হেরে গেলেন! জনগণ ব্যাপারটি এভাবে বিচার করল : চার্চিল হলেন যুদ্ধকালীন নেতা, শান্তিকালীন নেতা নন। এভাবে ব্রিটিশদের কাছে চার্চিল একজন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন একটা বিশেষ সময়ের জন্য, সব সময়ের জন্য নয়। এবার ধরা যাক, মাও সেতুংয়ের কথা। কে না জানে তিনি চীনের মূল ভূখণ্ডে কত বড় সাংস্কৃতিক বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন? কিন্তু ইতিহাসের কী পরিহাস! মাও সে তুংয়ের মৃত্যুর পর ‘দ্য গ্যাং অব ফোর’, যারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে জননন্দিত হয়েছিলেন, তাদেরকে গা-ঢাকা দিতে হয়েছিল। এমনকি মাও সে তুংয়ের স্ত্রীর জীবনেও নেমে এসেছিল বিপর্যয়। আবারো আমরা দেখতে পাচ্ছি যে আগের অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বদের নেতৃত্ব পরবর্তী সময়ে বিনা প্রশ্নে গ্রহণ করা হলো না।
বর্ণবৈষম্য দূরীকরণে বিশেষ অবদানের জন্য নেলসন ম্যান্ডেলাকে একজন অবিস্মরণীয় নেতা মনে করা হয়। কিন্তু তার জীবনের কিছু দিক, যা একান্তই তার ব্যক্তিগত, তার সময়ের অনেক লোকের পছন্দ নয়। তাই এ কথা সুস্পষ্ট যে এমন কোনো নেতা পাওয়া মুশকিল, যিনি সর্বযুগে সব মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবেন। যুগে যুগে অনেক ধার্মিক ব্যক্তিত্ব বিভিন্ন দেশে এসেছেন। তাদের চরিত্র ছিল বিতর্কের ঊর্ধ্বে, তাদের সততা ছিল দৃষ্টান্তমূলক। কিন্তু তারা রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণ করেননি। মানুষ চায় এমন আদর্শ ব্যক্তিত্ব, যিনি রক্তমাংসে গড়া, যিনি সত্য কথা বলেন, যিনি হিংসাবিদ্বেষের ঊর্ধ্বে, যিনি মানুষকে বর্ণ, ধর্ম ও বিশ্বাস নির্বিশেষে ভালোবাসেন এবং যিনি মানুষকে রাষ্ট্র পরিচালনাসহ সব কাজে নেতৃত্ব দিতে পারেন।
এ ধরনের আদর্শ ব্যক্তিত্ব কি পৃথিবীতে এসেছিলেন? হ্যাঁ, এসেছিলেন এবং তাঁর নাম হজরত মুহাম্মাদ সা:। পবিত্র কুরআনের ২১ নম্বর সূরার ১২১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, তাঁকে সমগ্র সৃষ্টির জন্য পাঠানো হয়েছে, কোনো বিশেষ মানবগোত্রের জন্য নয়। তাঁর কাছে যে মহাগ্রন্থ অবতীর্ণ করা হয়েছে তা-ও সর্বজনীন এবং সমগ্র মানবসম্প্রদায়ের জন্য। পবিত্র কুরআনে ৩৩ নম্বর সূরার ২১ নম্বর আয়াতে আরো বলা হয়েছে, আল্লাহ ও আখেরাতের ওপর যার বিশ্বাস রয়েছে এবং যে আল্লাহর প্রশংসায় মশগুল থাকে, সে রাসূলুল্লাহ সা:-এর মধ্যে জীবন পরিচালনার একটি সুন্দর আদর্শ খুঁজে পাবে। রাসূলুল্লাহ সা:-কে যে সমগ্র মানবজাতির অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে, তা তাঁর সব কথায় ও কাজে সুস্পষ্ট। শুধু তা-ই নয়, এ কথা ও কাজগুলোকে যদি ছাত্রদের সামনে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়, তা তাদের চরিত্র গঠনে বিশেষ অবদান রাখবে। হজরত মুহাম্মদ সা: ছিলেন একাধারে একজন আদর্শ পিতা, একজন আদর্শ স্বামী, একজন আদর্শ যোদ্ধা, একজন আদর্শ রাষ্ট্রনায়ক ও একজন আদর্শ ধর্মপ্রচারক। তাঁর জীবন ও চরিত্র ইতিহাসে এত স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ হয়েছে যে, তাঁর কথা ও কাজের বিবরণ সম্পর্কে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।
পবিত্র কুরআনের আদর্শের তিনি ছিলেন জীবন্ত নিদর্শন এবং তাঁকে অনুসরণ করে যে কেউ সর্বশ্রেষ্ঠ উপায়ে মানবতার সেবা করতে পারে। নবীজির একটি বড় আদর্শ, যা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান নির্বিশেষে সব ছাত্রকে জানানো উচিত, তা হলো অন্য ধর্মাবলম্বীদের সাথে তাঁর ব্যবহার। যদিও পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ইসলামই একমাত্র জীবনবিধান (দ্বীন)। মুসলমানদের বলা হয়েছে অন্য ধর্মাবলম্বীদের সাথে খারাপ ভাষা ব্যবহার না করতে, যাতে তারা আল্লাহ সম্পর্কে কুমন্তব্য করার সুযোগ না পায়। অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি মুসলমানদের আচরণবিধি কী হবে, তা হজরত মুহাম্মাদ সা: তাঁর নিজের জীবনে দেখিয়ে গেছেন। মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পর যে রাষ্ট্র তিনি গঠন করেছিলেন তার ভিত্তি কী ছিল? এটাই ঐতিহাসিক ‘মদিনা সনদ’, পৃথিবীর সর্বপ্রথম লিখিত গঠনতন্ত্র, সংবিধান। এই গঠনতন্ত্রের একটি ধারা ছিল- বিভিন্ন ধর্মের লোক নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারবে এবং কেউ অন্যের ধর্ম পালনের বিষয়ে বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না। এটা শুধুই একটা ‘ধারা’ ছিল না, এই ধারাটি বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। পবিত্র কুরআনে এত সুস্পষ্ট উদাহরণ থাকার পরও কোনো মুসলমানকে সাম্প্রদায়িক হিসেবে চিহ্নিত করা যায় কি? এ ছাড়া পবিত্র কুরআনে বারবার জোর দিয়ে বলা হয়েছে, মানবসম্প্রদায় এক ও অভিন্ন জাতি। তাই যদি কোনো মুসলমানকে সাম্প্রদায়িক বলা হয়, তাহলে তার এটা গ্রহণ করা উচিত এবং বলা উচিত যে তার সম্প্রদায় সমগ্র মানবগোষ্ঠীকে নিয়ে গঠিত। ধ্যানধারণা ও কাজে গোষ্ঠী-মানসিকতার প্রতিফলন ঘটানো কোনো মুসলমানের পক্ষে অসম্ভব। বস্তুত যে কেউ পবিত্র কুরআন পাঠ করেছেন এবং হজরত মুহাম্মাদ সা:-এর জীবনী পাঠ করেছেন, তিনি অবিলম্বে এই উপসংহারে পৌঁছবেন যে ইসলাম ও সাম্প্রদায়িকতা পাশাপাশি থাকতে পারে না। একমাত্র সেই সমাজেই সাম্প্রদায়িকতা বিরাজ করতে পারে যেখানে ইসলাম যথাযথভাবে পালিত হয় না, যেখানে সামাজিক ন্যায়বিচার নেই, যেখানে স্রষ্টার প্রতি আনুগত্য ও কৃতজ্ঞতা নেই। ‘সাম্প্রদায়িক’ শব্দটির বর্তমান সময়ের অর্থে একজন মুসলমান কী করে সাম্প্রদায়িক হতে পারে, যখন সমগ্র মানবজাতিকেই ইসলামে এক জাতি আখ্যায়িত করা হয়েছে?
এ কথাটি ছাত্রদের বোঝাতে হবে যে, বর্তমান সময়ে যদি কেউ একজন আদর্শ শিক্ষক, একজন আদর্শ রাষ্ট্রনায়ক, একজন আদর্শ ধর্মপ্রচারক, একজন আদর্শ সমাজসংস্কারক এবং একজন মানবতাবাদীকে খুঁজতে চায় তাহলে তার অনুসন্ধান তাকে নিয়ে যাবে হজরত মুহাম্মাদ সা:-এর কাছে। তিনি বুঝতে পারবেন যেসব মানুষের জন্য এবং মানুষের সব কর্মের জন্য নবীজি মানবজাতির আদর্শ- সর্বকালের অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। এরূপ চিহ্নিতকরণ শুধু মুসলমানই করবে না, বরং যেকোনো ধর্মের যেকোনো বিবেকবান লোকই এটা করবেন।
জর্জ বার্নার্ড শ থেকে একটি উদ্ধৃতি দিয়ে শেষ করছি : ‘আমি সবসময় মুহাম্মাদের ধর্মকে উচ্চমর্যাদা দিয়েছি এর আশ্চর্য জীবনীশক্তির জন্য। এটিই একমাত্র ধর্ম, যার পরিবর্তনশীল দুনিয়ার সাথে খাপ খাওয়ানোর মতা আছে বলে আমার মনে হয়। আর এ ধর্ম সর্বযুগেই সমাদৃত হতে পারে। আমি এ বিস্ময়কর লোকটিকে বুঝতে চেষ্টা করেছি এবং আমার মতে, তিনি অ্যান্টি-ক্রাইস্ট তো ননই বরং তাঁকে মানবজাতির ত্রাণকর্তা বলা উচিত। আমার বিশ্বাস, তাঁর মতো একজন মানুষ যদি বর্তমান বিশ্বের একনায়ক হতেন তাহলে তিনি এ সমস্যাগুলোর এমন সমাধান দিতে সক্ষম হতেন, যা পৃথিবীতে শান্তি ও সুখ এনে দিত। মুহাম্মাদের ধর্মের ব্যাপারে আমি এরূপ ভবিষ্যদ্বাণী করছি যে, এটি যেমন বর্তমান ইউরোপে গ্রহণযোগ্য হতে শুরু করেছে তেমনি আগামী দিনের ইউরোপেও তা গ্রহণযোগ্য হবে’ (জর্জ বার্নার্ড শ, দ্য জেনুইন ইসলাম, সিঙ্গাপুর, ভলিউম ১, ১৯৩৬)।
এখন যখন মানবসম্প্রদায় নানা যুদ্ধবিগ্রহে জড়িয়ে পড়ছে এবং ‘শক্তিশালী’ ও ‘উগ্র’ এই দুই শক্তির দ্বন্দ্বে ছিন্নভিন্ন এবং নীরব সংখ্যাগরিষ্ঠরা চরম ভয়ভীতি ও অস্বস্তিতে দিন কাটাচ্ছে, তখন এমন লোকের আবির্ভাব, যিনি মানবজাতির ত্রাণকর্তার অনুসারী, সবার কাছেই একটি স্বাগত সংবাদ হবে। মানবজাতির অনুকরণীয় আদর্শ নবীজি হজরত মুহাম্মাদ সা:-এর শুভ জন্মদিনে মহান আল্লাহর কাছে আমাদের প্রার্থনা হোক মানবজাতির পরিত্রাণ।
 

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

সম্পাদকীয় কার্যলয়

Rua padre germano mayar, cristo rio -80040-170 Curitiba, Brazil. Contact: +55 41 30583822 email: worldnewsbbr@gmail.com Website: http://worldnewsbbr.blogspot.com.br

সম্পাদক ও প্রকাশক

Jahangir Alom
Email- worldnewsbb2@gmail.com
worldnewsbbbrazil@gmail.com
 
Blogger Templates