Social Icons

Tuesday, January 30, 2018

সৌদিতে ১২ ধরণের প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পারবেন না প্রবাসীরা

সৌদি আরবে ১২ ধরণের প্রবাসীরা আর কাজ করতে পারবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয় । সৌদিকরণের ধারাবাহিকতায় এই ১২ রকমের দোকানে কেবলমাত্র সৌদি নাগরিকরাই কাজ করবে । এছাড়া মন্ত্রণালয়  নারী-পুরুষ বিক্রেতাদের জন্য এ ধরণের দোকানগুলো নির্দিষ্ট করে দিয়েছে । এই কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং আরবি নতুন বছরে পুরোপুরি কার্যকর করা হবে বলে জানা গেছে ।
১.নারী-পুরুষ, শিশুদের রেডিমেট সব কাপড়ের দোকান ২. আওয়ানি মঞ্জিলিয়া বা ক্রোকারিজ সামগ্রীর দোকান ৩. গাড়ির শোরুম বা বিক্রয়কেন্দ্র ৪. গাড়ির পার্টসের দোকান ৫.বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি এবং বিদ্যুৎ চালিত সামগ্রীর দোকান । ৬. হাসপাতাল সামগ্রী, যন্ত্রপাতির দোকান । ৭. চকোলেট বা মিষ্টান্ন জাতীয় দোকান ৮.বাড়ি বা গৃহ নির্মাণ সামগ্রী ৯. চশমার দোকান ১০. ঘড়ির দোকান ১১. কার্পেট, পাপোষ জাতীয় দোকান ১২. ফার্নিচার বা ডেকোরেশনের দোকান এই পেশাগুলোতে হাজার হাজার প্রবাসী যুক্ত । ব্যবসা এবং প্রবাসী চাকরির বাজার ক্রমে ধ্বসে যাওয়া ধারাবাহিকতায় এই ঘোষণা প্রবাসীদের শ্রমবাজারকে আরো বৃহদাকারে সঙ্কুচিত করলো ।

বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় গ্রেপ্তার

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর হাতিরঝিলের পুলিশ প্লাজার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 
তিনি গুলশান চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকে বৈঠক শেষে নিজ বাসায় ফিরছিলেন। তাকে মিন্টো রোডে গোয়েন্দা কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
গয়েশ্চর চন্দ্র রায়ের ব্যক্তিগত সহকারী আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রাত ১২টার দিকে ডিএমপির উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, তাকে (গয়েশ্বর চন্দ্র রায়) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে কি কারণে বা কোন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা নিশ্চিত করে বলেননি।

বিদ্রোহীদের দখলে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ, পালাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীও

জ্বলছে ইয়েমেন। খোদ প্রেসিডেন্টের বাসভবনই দখলে নিয়ে নিল দক্ষিণ ইয়েমেনের বিদ্রোহীরা। অবস্থা এতটাই সংকটজনক যে, প্রাণে বাঁচতে পালানোর চেষ্টা করছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রীও। তিনি সৌদি আরবে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। প্রেসিডেন্ট আগে থেকেই সৌদি আরবে আছেন।
রাতভর নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষের পরে মঙ্গলবার বিদ্রোহী দল সাউদার্ন ট্রানজিশন্যাল কাউন্সিল দখল নেয় এডেনে অবস্থিত ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেস ‘মাশিক’-এর। এই সাউদার্ন ট্রানজিশন্যাল কাউন্সিল চেষ্টা করছে, গোটা দেশ থেকে দক্ষিণ ইয়েমেনকে পৃথক করার। দক্ষিণ ইয়েমেনের এই বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থন জোগাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতও।
রবিবার থেকে শুরু হয় সংঘর্ষ। তার আগে সাউদার্ন ট্রানজিশন্যাল কাউন্সিল দেশের সরকারকে ডেডলাইন দেয় ক্ষমতা ছাড়ার। সরকার তা না মানায় রবিবার তারা বিশাল বাহিনী নিয়ে আক্রমণ করে। তীব্র সংঘর্ষ হয় সেনাদের সঙ্গে। ১২ সেনা সদস্য নিহত হয়। এছাড়া আরো ৩৬ জন নিহত এবং প্রায় দুই শ জন আহত হয়েছেন।
ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আবদে রাব্বুহু মনসুর আল হাদি এই ঘটনাকে ‘আকস্মিক অভ্যুত্থান’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন।
সৌদি আরব এবং আরব আমিরাত ও বাহরাইন গত তিন বছর ধরে ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট আবদে রাব্বুহু মনসুর আল হাদির দলকেই সহায়তা করে আসছিল। কিন্তু আরব আমিরাতের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট আবদে রাব্বুহু মনসুর আল হাদির কিছু ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল। তার জেরেই রবিবার সাউদার্ন ট্রানজিশন্যাল কাউন্সিলকে লেলিয়ে দেয় আরব আমিরাত।
হাদির সঙ্গে মিশরভিত্তিক মুসলিম ব্রাদারহুডের যোগাযোগ থাকায় তাকে সন্দেহের চোখে দেখত আরব আমিরাত। সৌদি আরব অবশ্য এই বিরোধে চুপ থেকেছে।

স্ট্রোকের ঝুঁকি? খান শাকসবজি...

শাকসবজি বিশেষত যেগুলো সবুজ সেগুলো দারুন স্বাস্থ্য-হিতকর। টাটকা ও সবুজ শাকসবজি বহু জটিল রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। 
সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় সবুজ টাটকা শাকসবজি রাখলে তা 'স্ট্রেস' কমাতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, এর ফলে স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমে যায় অনেকটা। 
আমরা জানি, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের জন্য এবং উচ্চ রক্তচাপের কারণে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর নাগরিক জীবনে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুকিঁ থাকে আরো বেশি। বর্তমানে বিভিন্ন কারণে আমাদের মধ্যে স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে গেছে। 
একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাকসবজি খেয়ে থাকেন, তাদের মধ্যে স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি ৬৪ শতাংশ কম থাকে। 
এর ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকিও হ্রাস পায় অনেকটা। 
তাই, যদি স্ট্রোকের ঝুঁকি থেকে বাঁচতে চান, তবে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় টাটকা সবুজ শাকসবজি রাখুন, ভালো থাকুন।

তথ্যসূত্র: জি-নিউজ

ঘুরে আসুন শ্রীলঙ্কার নান্দনিক ৫টি স্থানে

ভ্রমণের জন্য সত্যিই অভূতপূর্ব একটি দেশ শ্রীলঙ্কা। ছোট দেশটিতে অনায়াসেই দেখতে পারবেন প্রকৃতি, পুরাতত্ত্ব, ভিন্ন স্বাদের খাবার এবং আরো অনেক কিছু। 

জেনে নিন শ্রীলঙ্কার কয়েকটি স্থানের কথা যেখানে শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই নয়, মিলবে প্রাচীন ইতিহাসের উদ্ভাসিত পুরাতত্ত্বের নিদর্শনও।

১. ত্রিনকোমালির কোনেসওয়ারাম টেম্পল
মধ্যযুগের এক দৃষ্টিনন্দন মঠ এটি। স্থাপত্যের অলংকরণ এখানে বিমুগ্ধতা এনে দেয়। মিথলজিতে নিয়ে যাবে দেয়ালের চিত্রকর্মগুলো। এর নিচেই পানিতে ডলফিনের ক্রীড়া উপভোগ করতে পারবেন।

২. কলম্বো
শ্রীলঙ্কার প্রাচীন ইতিহাসের পুরোটা উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে যদি যান 'দ্য ন্যাশনাল মিউজিয়াম'-এ। রয়েছে সমুদ্রমুখী গ্যালে ফেস গ্রিন। এটা সমুদ্রের ধারের এক শহুরে পার্ক। এখানে স্ট্রিট ফুডের ছড়াছড়ি। প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ স্বাস্থ্য পরিচর্যায় আসেন। ঘুড়ি ওড়াতেও আসেন অনেকে। 

প্রথমবারের মতো গেলে যা দেখবেন তাতেই চমকে যাবেন আপনি। বাকরুদ্ধ হয়ে পড়বেন যখন চোখের সামনে দেখবেন গঙ্গারামাইয়া মঠ। বুদ্ধের হস্তনির্মিত মূর্তিতে পরিপূর্ণ এই মঠ। হাঁটা পথেই পৌঁছে যাবেন সিমা মালাকা মঠে। এর স্থাপত্যশৈলী মুগ্ধ করবে। ব্যস্ত শহরে অনাবিল আনন্দ এনে দেবে শ্রীলঙ্কার বিখ্যাত স্থপতি জিওফ্রি বাওয়ার নকশার করা এই মঠ দেখলে।

কলম্বো থেকে সাড়ে ৫ ঘণ্টার পথ পেরোলে পাবেন ত্রিনকোমালির ক্রমশ ফিকে হয়ে আসা অতীতের রাজনৈতিক অস্থিরতার ইতিহাস। এই বন্দর নগরী তার প্রাকৃতির সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত হয়ে উঠছে। এখানকার জলজ জীবন সত্যিই দেখার মতো। আর আছে পাখির রাজত্ব। স্টর্ক-বিলড কিংফিশার। ডাইভিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে এখানে।

৩. দ্য রয়াল রক কেভ টেম্পলস অব ডাম্বুল্লা
সিগিরিয়া থেকে ১৫ কিলোমিটারের পথ। বোদ্ধদের উপাসনালয়গুলো না দেখা বড় ভুল হয়ে যাবে। গুহার ভেতরে এদের অবস্থান। এসব গুহার ইতিহাস খ্রিস্টপূর্ব ১ শতকের বলে মনে করা হয়। অনেকের বিশ্বাস, এই মঠগুলো পবিত্র প্রাচুর্যে ভরপুর। 

৪. সিগিরিয়া
হারবানা থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। সেই পঞ্চম শতকের এক পাথুরে পাহাড়ের ওপর তৈরি দুর্গ। এটা ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের তালিকাভুক্ত এক স্থান। এক আগ্নেয়গিরির লাভা থেকে এর সৃষ্টি হয়েছে বলেই মনে করেন ভূতত্ত্ববিদরা।

৫. হাবারানা
ত্রিনকোমালি থেকে দেড় ঘণ্টার পথ। প্রকৃতির রোমাঞ্চ পেতে হাবারানার মতো স্থান আর হয় না। এখানকার ন্যাশনাল পার্কগুলোতে যত ঘুরবেন, কেবল বিস্ময়ে ছেয়ে যাবে মন। পাখি আর প্রাণীদের অবাধ বিচরণ স্থান এখানকার মিনেরিয়া এবং কাদুল্লা ন্যাশনাল পার্ক। এসব পার্কে ঘুরতে গাইডের সহায়তা নিতে পারেন। তারা এখানকার প্রাণীদের বিচিত্র আচরণ সম্পর্কে ধারণা দেবে।







গোয়া ভ্রমণের আগে জেনে নিন কিছু তথ্য


সোনালী কঙ্কন উপকূলে আরব সাগর জুড়ে বিখ্যাত গোয়া অবস্থিত। কঙ্কনী শব্দ ‘গোইয়ান’ থেকে এর নামকরণ হয়েছে যার অর্থ এক টুকরো লম্বা ঘাস, ভারতের শ্রেষ্ঠ পর্যটক আকর্ষণকারী স্থানগুলির মধ্যে অন্যতম। এটা ‘প্রাচ্যের মুক্তা’ নামে সুপরিচিত। 

ভারতের অন্যতম শান্তিপূর্ণ এবং নিরাপদ স্থানের অন্যতম। এখানে ভ্রমণের যথার্থ সময় নভেম্বর থেকে এপ্রিলl প্রায় ডজন খানেক মনোরম সৈকত ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এখানে। ‘আগুয়াডা ফোর্ট’, ‘তাজ ফোর্ট’, বেশকিছু গির্জা, মন্দির আর বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য। প্রতি বছর প্রায় ত্রিশ লাখ দেশি-বিদেশি পর্যটক আসেন এসব সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে। 

অনেকেই হয়তো সেখানে গিয়েছেন। আর যারা যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাদের জন্য কিছু তথ্য নিচে দেওয়া হল....

১.দামি পোশাক ও গহনা পরতে সবারাই ভালো লাগে। কিন্তু আরাম-আয়েশে ছুটি কাটাতে এগুলো নেওয়ার তেমন প্রয়োজন পড়ে না। তা ছাড়া হারিয়ে যাওয়া বা নষ্ট হওয়ারও ভয় থাকে। 

২. ছায়ার জন্য হ্যাট বা ক্যাপ নিন, চশমা নিলে আরো ভালো। এগুলো আপনাকে তীব্র রোদ থেকে বাঁচাবে।

৩. আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খায় এমন পোশাক আর জুতো নিয়ে নিন। গোয়ার রাস্তা আর ফুটপাথ কিন্তু খুব বেশি মসৃণ নয়।

৪. যদি গ্রীষ্মে এই সমুদ্রসৈকতে ভ্রমণ করতে যান তবে অবশ্যই সানস্ক্রিন নিতে ভুল করবেন না। যদি নিতে ভুলেও যান তো সেখান থেকে কিনে নিন।

৫. বেশি বেশি নগদ অর্থ বহনের দরকার নেই। ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের ব্যবস্থা নিয়ে যান। এটা নিরাপদ উপায়।

৬. যথেষ্ট পরিমাণ পানি খেতে হবে নিয়মিত। লেবু-পানির তো তুলনাই নেই। অন্যান্য ফলের রস খাবেন পর্যাপ্ত পরিমাণে।

৭. সৈকতে অবস্থানের সময় সব সময় লাইফগার্ডের নির্দেশনা মেনে চলুন। সাগরের অনেক শান্ত ঢেউয়ে নিজেকে ভাসিয়ে দিতে মন চায়। কিন্তু এটা কখন বিপজ্জনক হয়ে ওঠে তা লাইফগার্ডই বলতে পারেন।

৮. খাবার নিয়ে আপনার বাছ-বিচার থাকলে রেস্টুরেন্টের ওয়েটারের কাছ থেকে খাবার সম্পর্কে জেনে নিন।

মাত্র পাঁচ হাজার টাকায় কলকাতা থেকে সরাসরি গোয়ায় ভ্রমণ করা যাবে। সময় লাগবে আড়াই ঘণ্টা। এক্ষেত্রে ট্রেনে কিংবা বিমানে করেও যেতে পারেন।

ঘুরে অাসুন থিম্পুর কয়েকটি দর্শনীয় স্থান থেকে

ভূটান এক অপার সৌন্দর্যের লিলাভূমি। নাম শুনলেই যেতে ইচ্ছে করে। কম খরচে অনেক কিছু উপভোগ করা যায়। তাই ভ্রমণ পিপাসুদের প্রথম পছন্দ এই আপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশটি। যারা ভূটান যাবেন বলে ঠিক করেছেন তাদের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু গাইডলাইন।

সুবিশাল হিমালয়ের কল্যাণে উঁচু পর্বতমালা, ঘন বনজঙ্গল, সবুজ ভ্যালি ভূটানের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অর্ন্তগত। প্রকৃতির অকৃত্রিম মমতা এবং সবুজে ছাওয়া বিস্তৃত অঞ্চল পর্যটকদের কাছে মনোহরী। ভূটানের ‘ল্যাণ্ড অব দ্য পিসফুল থাণ্ডার ড্রাগনস’ শান্তিময় ভ্রমণের স্বর্গরাজ্য।

ভূটানের মোহময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ট্যুরিষ্ট অ্যাট্রাকশন যারা ভ্রমণ ভালোবাসেন-তারা কিছুতেই উপেক্ষা করতে পারেন না। সব মিলিয়ে সার্কভূক্ত ক্ষুদ্র এই রাষ্ট্র ভ্রমণ পর্যটকদের জন্য বয়ে আনতে পারে সুখকর এবং নতুন এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।

থিম্পু
প্রত্যেকটি রাষ্ট্রের রাজধানীকে সে দেশের সরকার দর্শনীয় স্থান হিসেবে উল্লেখযোগ্য করে গড়ে তুলতে আপ্রাণ চেষ্টা করেন। ভূটানের রাজধানী থিম্পুও এর ব্যতিক্রম হয়নি। বরং বলা যায় সমস্ত ভূটানের সবথেকে আকর্ষণীয় এবং নান্দনিক সৌন্দর্যের অবস্থানই হলো এই থিম্পুতে। থিম্পু নদীর তীরে সিলভান ভ্যালিতে অবস্থিত এথনিক ভূটানিজ কলা, স্থাপত্যশিল্প, সংস্কৃতির পীঠস্থান। থিম্পুতে আছে ইউনিক ফ্লেভার যা আপনাকে এখানে আসতে বারবার বাধ্য করবে।

থিম্পুতে কী দেখবেন
সিমতোখা জং ১৬২৭ সালে তৈরি এই জং থিম্পু ভ্যালির গেটওয়ে। থিম্পুর সবথেকে পুরনো এই জঙয়ে আছে রিগনে স্কুল ফর জঙঘা এ্যাণ্ড মোনাষ্টিক ষ্টাডিস। ফ্রেশকো এবং স্লেট কার্ভিংস সিমতোখার বিশেষ আকর্ষণ।

থিম্পু জং - (ফোট্রেস অব দ্য গ্লোরিয়াস রিলিজিয়ন)- থিম্পু জং হলো ভূটানের রাজধানী থিম্পু শহরের প্রাণকেন্দ্র। ১৬৬১ সালে এটি তৈরি। এখানে আছে সরকারি ডিপার্টমেণ্ট,দ্যা ন্যাশনাল এসেম্বলি,রাজার থ্রোন রুম এবং সেন্ট্রাণ মনাষ্টিক বডির গ্রীস্মকালীন হেডকোয়ার্টাস।

মেমোরিয়াল কর্টেন - এটি মূলত স্মৃতিস্তম্ভ। ভূটানের তৃতীয় রাজা জিগমে দরজি ওয়াঙচুকের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ১৯৭৪ সালে এই স্তুপ তৈরি হয়েছিলো। এর ভেতরের বিভিন্ন পেইণ্টিং এবং স্ট্যাচু বৌদ্ধ 
ফিলোসফির প্রতিবিম্ব।

থিম্পু পুনাখা- দোচুলা পাস হয়ে ড্রাইভ করে পৌঁছানো যায় থিম্পু শহর থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পুনাখায়। আকাশ পরিস্কার থাকলে ৩০৫০ মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট এই পাস থেকে আপনি পৃথিবীর সর্বোচ্চ প্রাকৃতিক নির্দশন হিমালয়কেও দেখতে পারবেন। পুনাখা ভূটানের সবথেকে উর্বর ভ্যালি। আরো দেখতে পাবেন ফো ছু এবং মো ছু নদী। সেই সঙ্গে পুনাখা জং।

এছাড়াও রয়েছে ন্যাশনাল লাইব্রেরি,হ্যাণ্ডিক্রাফট এম্পোরিয়াম,পেন্টিং স্কুল এবং ট্রাডিশনাল মেডিক্যাল ইনষ্টিটিউট। কয়েক পা বাড়ালেই যেগুলো দেখে আসতে পারেন।

থিম্পুর বাইরে
পারো কেবল থিম্পুই নয়, প্রাকৃতিক দর্শনীয় স্থাপনার সাম্রাজ্য ভূটানে আরো অজস্র দর্শনীয় স্থান রয়েছে। এক্ষেত্রে প্রথমে হিমালয়ের কোলে অবস্থিত ছোট্র শহর পারোর কথা বলা আবশ্যক। পারো জুড়ে আছে নানারকম গল্পকথা। তাছাড়া এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও ভোলার মত নয়। বিশেষ করে বসন্ত ঋতুতে পারোর রুপ হয়ে ওঠে অতুলনীয় এবং দর্শন সুখকর। পারোতে দেখতে পাবেন পারো জং,ন্যাশনাল মিউজিয়াম। তবে পারোর সবথেকে বড় আকর্ষণ টাইগার্স নেষ্ট। 

এই মনাষ্ট্রি পারো থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে একটি ক্লিফের উপর অবস্থিত। হেঁটে ওঠার পথটিও খুব সুন্দর। ভূটান ট্যুরিজম দর্শনার্থীদের গলা ভেজাতে এখানে একটি সুন্দর কফি হাউজ তৈরি করে দিয়েছে। পারোতে অবশ্য থাকার ব্যবস্থা কম। ভুটান ট্যুরিজম নিয়ন্ত্রিত একটি হোটেল অবশ্য আছে কিন্তু আপনাকে অবশ্যই আগে থেকে এই হোটেলে বুকিং দিয়ে রাখতে হবে। নইলে পরে একটু ঝামেলায় পড়বেন।

বুমথাং
বুমথাংকে বলা হয় ভূটানের আধ্যাত্মিক হুদয়ভূমি। কারণ,ভূটানের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ জং,মন্দির এবং মহল এই অঞ্চলে অবস্থিত। এখানে এলে দেখতে পাবেন ওয়াংগডিচোলিং প্যালেস,জাম্বে লাখাং মন্দির,এবং সবথেকে বড় ভূটানিজ মন্দির জাকার। এর পাশাপাশিই একটু হাঁটলে দেখতে পাবেন হট এরিয়া। জার্নিটা একটু ধকলের হলেও যাবার পথটা খুবই সুন্দর। এই পথ আপনার ক্লান্তিময় জার্নিকে অনায়াসেই সুখকর করে তুলতে পারে। এই এলাকায় ব্লু শিপ,মাস্ক ডিয়ার,হিমালয়ান ভাল্লুক চোখে পড়তে পারে। সমস্ত বুমথাংয়ে একমাত্র জাকারেই ভালো রেস্তরাঁ পাবেন।

ট্রাভেল চেকলিষ্ট
কোথায় থাকবেন থিম্পুতে হোটেলের সংখ্যা খুব বেশি না হলেও থাকার সমস্যা হয় না। পাইনউড হোটেল বা রিভারভিউ হোটেলে থাকতে পারবেন। বেশিরভাগ হোটেলই পাওয়া যাবে আধুনিক সকল সুযোগ-সুবিধা। অধিকাংশ হোটেলই তৈরি হয়েছে ভূটানিজ ঐতিহ্যের ষ্টাইলে। এই হোটেলগুলিতে থাকলে পেয়ে যাবেন এথনিক গ্রামে থাকার ফ্লেভার।

খাওয়াদাওয়া
এখানে নিরামিষ খাবারের প্রচলন বেশি। ডর্টসি বা গরুর দুধের পনির এবং এমা ডর্টসি বা গলানো পনিরে রান্না করা লাল মরিচ এখানকার অত্যন্ত পছন্দের খাবার।

কীভাবে যাবেন
কলকাতা থেকে বিমানে করে পারো ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে চলে যান। পারো ঘুরে মিনিবাস করে থিম্পু পৌঁছে যাবেন। থিম্পু থেকে ভূটানের অন্যান্য শহরে যাতায়াতের ব্যবস্থা আছে।

কখন যাবেন
ভূটান যাবার সবথেকে ভালো সময় হলো বছরের অক্টোবর এবং নভেম্বর মাস। কারণ এ সময়টায় আকাশ পরিস্কার থাকে এবং পাহাড়,নদী,বনাঞ্চল বেশ ভালো পরিস্কার দেখা যায়। পাশাপাশি আবহাওয়াও ভালো থাকে এবং এই সময়টাতেই ভূটানের অধিকাংশ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।   


 

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

সম্পাদকীয় কার্যলয়

Rua padre germano mayar, cristo rio -80040-170 Curitiba, Brazil. Contact: +55 41 30583822 email: worldnewsbbr@gmail.com Website: http://worldnewsbbr.blogspot.com.br

সম্পাদক ও প্রকাশক

Jahangir Alom
Email- worldnewsbb2@gmail.com
worldnewsbbbrazil@gmail.com
 
Blogger Templates