Social Icons

Monday, September 25, 2017

হাইড্রোজেন বোমায় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ!

উত্তর কোরিয়া হুমকি দিয়েছে, তারা প্রশান্ত মহাসাগরে হাউড্রোজেন বোমার পরীক্ষা চালাতে পারে। যদি সত্যিই উত্তর কোরিয়া এই পরীক্ষা চালায় তাহলে কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম পরমাণু বোমার পরীক্ষা চালানোর ঘটনা ঘটবে। এই হুমকি ইতোমধ্যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে। আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চ জাতিসংঘে।
 
হুমকি মোতাবেক প্রশান্ত মহাসাগরে উত্তর কোরিয়া যদি হাইড্রোজেন বোমা ফেলে, তাহলে আমেরিকার সঙ্গে দেশটির যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর একবার যুদ্ধ বেধে গেলে তা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের ভবিষ্যদ্বাণী হচ্ছে, উত্তর কোরিয়ার ‘যুদ্ধবাজ’ প্রেসিডেন্ট এখন চিতাবাঘের পিঠে সওয়ার হয়েছেন, সেখান থেকে নামার সুযোগ কম। আবার ছোট্ট একটি দেশের হুমকি মুখ বুঝে মেনে নিতেও পারবেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এই অবস্থায় দুই দেশই গোপনে ও প্রকাশ্যে একে অপরের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সামরিক প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে।
 
উত্তর কোরিয়া কী পারে?: উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্রের আধুনিকায়নে প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। যাতে এই ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্র দেশগুলোতে আঘাত হানতে পারে। ছয়টি পরমাণু অস্ত্রের এবং একটি ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষার পর বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, পিয়ংইয়ং খুব কাছেই পৌঁছে গেছে। তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ লুইস জেফরি কিছুটা কৌতুকের সুরে বলেন, উত্তর কোরিয়ার সামর্থ্য বা তারা পরমাণু অস্ত্রে কতটা সক্ষম তা বোঝা যাবে তারা যখন পরীক্ষা বা হামলা চালাবে। মার্কিন সামরিক বাহিনী ধরে নিয়েছে, উত্তর কোরিয়া ইতোমধ্যে সামর্থ্য অর্জন করেছে। গত জুনে এক বক্তব্যে ইউএস প্যাসিফিক কমান্ডের (ইউএসপ্যাকম) অ্যাডমিরাল হ্যারি হ্যারিস বলেন, আমি জানি উত্তর কোরিয়ার সামর্থ্য নিয়ে কিছুটা বিতর্ক আছে। কিন্তু আমাদের আজকের জন্যই প্রস্তুতি নিতে হবে। আমি তার কথায় (কিম জং উন) বিশ্বাস করি। আমি তার আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে জানি।
 
উত্তর কোরিয়া কিভাবে করতে পারে?: সাধারণত হাইড্রোজেন বোমা ফেলা হয় বিমান থেকে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পিয়ংইয়ং মিসাইল আকারে বোমা ফেলতে পারে। কারণ তারা জটিল প্রযুক্তি তৈরিতে সফলতা দেখাতে চায়। পরমাণু নীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং এমআইটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রফেসর ভিপিন নারাং বলেন, পরমাণু অস্ত্র সজ্জিত মিসাইল সুযোগ বুঝে পরীক্ষা করা হতে পারে। আর এটা খুবই খারাপ হবে বিশ্বের  জন্য। এটা কেবল উস্কানিই হবে না, এটা বড় ধরনের একটা ভুল সিদ্ধান্তও হবে।
 
তারা কী করবে?: নারাং বলেন, জাতিসংঘে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি খুব সতর্কতার সঙ্গে মন্তব্য করেছেন। তিনি পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার কথা বললেও তা কিম জং উনের হাতেই আছে বলে উল্লেখ করেছেন। আমার মনে হয় এটা তাদের চালাকি। কারণ তারা পরীক্ষার আগে খারাপ পরিণতি সম্পর্কে অবশ্যই চিন্তা করবে। প্রথমে তারা হয়তো ছোট মাপের পরীক্ষা চালাতে পারে। উদাহরণ হিসেবে আরেকটি আন্ত:মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইলের কথা বলা যায়। আর সত্যিই যদি বড় ধরনের কোনো পরীক্ষা চালায় তাহলে বিস্মিত হওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। তবে লুইস মনে করেন, রি তার দেশের বিস্তর কৌশলের সঙ্গে তাল মিলিয়েই হুমকি দিয়েছেন। কারণ উত্তর কোরিয়া তার ভবিষ্যত্ বিপদের কথা চিন্তা করছে না। আমরা ১৯৬৬ সালে চীনকে দেখেছি তাদের পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাতে। আমরা এখন উত্তর কোরিয়ার পরীক্ষার অপেক্ষায় আছি।
 
তারা করলে কী হবে?: ভৌগোলিক দিক থেকে উত্তর কোরিয়ার একটা গুরুত্ব আছে। তাই বোমার পরীক্ষা হলে সবচেয়ে বিরূপ প্রভাব পড়বে পরিবেশের ওপর। যারা বিকিনি অ্যাটলের কাছে বাস করেন তারা এখনো হুমকির মধ্যে আছেন। কারণ বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অনেকগুলো পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। ফলে তারা এখনো স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে আছেন। বিস্ফোরণ মাছ তথা পানির নিচে বাস করা প্রাণীর জীবন ধ্বংস করতে পারে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্স ইনস্টিটিউটের তথ্যানুসারে, বিশ্ব ১৯৮০ সালের পর এই ধরনের পরমাণু পরীক্ষা দেখেনি। ওই সময় চীন উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় লপ নুরকে কেন্দ্র করে অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছিল। সিটিবিটিও’র তথ্য অনুযায়ী, পরমাণু অস্ত্রের আবির্ভাবের পর দুই হাজারের বেশি পরীক্ষা চালানো হয়েছে। শতাধিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। মার্শাল দ্বীপপুঞ্জেও যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। সেখানেও জনগণের মধ্যে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছে, জন্মগত সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং থাইরয়েড সমস্যাও দেখা দিয়েছে।  ফ্রান্সের পলিনেসিয়ায়ও একই প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। পরীক্ষার কারণে ভূমিধস, সুনামি এবং ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছে বলে সিটিবিটিও জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, উত্তর কোরিয়া যদি বিচ্ছিন্ন কোথাও পরীক্ষা চালায় তাহলে হয়তো মানুষের ক্ষতি কম হবে। ক্ষতির পরিমাণটা নির্ভর করছে তারা কোথায় পরীক্ষা চালাবে এবং ওই সময়ের আবহাওয়া কেমন থাকবে, জানান সেন্টার ফর ননপ্রোলিফারেশন স্টাডিজের সিনিয়র গবেষক মেলিসা হ্যানহ্যাম। তিনি বলেন, এটা তো সত্য যে, পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষায় মানুষ এবং পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
 
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা!: উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রকে বাধা দেওয়ার সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। চীন এবং রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার ওপর অবরোধে সমর্থন দিলেও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চালানোর আহবান জানিয়েছে। চীন আগের চেয়ে উত্তর কোরিয়ার প্রতি কঠোর হচ্ছে। কিন্তু তাই বলে কোরীয় উপদ্বীপে কোনো যুদ্ধ বাধলে তাতে দুই দেশ জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষে অবস্থান নেবে এমনটা ভাবছেন না বিশ্লেষকরা। কোরীয় উপদ্বীপে কিংবা উত্তর কোরিয়ায় হামলা চালালে তাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং চীন। রাশিয়ায়ও পড়বে প্রভাব। আর রাশিয়া সুযোগ বুঝেই উত্তর কোরিয়ার পক্ষে অবস্থান নেবে। কারণ তারা সোভিয়েত ভাঙার কষ্ট এখনো ভুলতে পারেনি, আর পারবেও না বলে মনে করেন জেনেভা ভিত্তিক রাশিয়ান নিউক্লিয়ার ফোর্সেস রিসার্স প্রজেক্টের স্বাধীন বিশ্লেষক পাভেল পডভিগ। যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তা তার বিরোধী দেশগুলো মেনে নিতে পারবে না। ফলে উত্তর কোরিয়ার হুমকিতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ছে।

আবারো কমছে সোনার দাম

এক সপ্তাহের ব্যবধানে সোনার দাম আবারো কমছে। বুধবার থেকে ভরিপ্রতি ৮৭৫ টাকা থেকে এক হাজার ১৬৬ টাকা পর্যন্ত কমছে অলংকার তৈরিতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহূত এ ধাতুর দাম।
 
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এ মূল্য সম্পর্কে জানিয়েছে। এর আগে চলতি মাসের ২০ তারিখে স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দেশের বাজারে সোনার দাম নির্ধারণ করা হয় বলে দাবি বাজুসের।
 
বাজুস নির্ধারিত নতুন মূল্য তালিকায় দেখা গেছে, সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাত্ ২২ ক্যারেটের সোনা প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) বিক্রি হবে ৪৭ হাজার ৮২২ টাকা দরে। গত বুধবার থেকে সোমবার পর্যন্ত এ মানের সোনার ভরিপ্রতি বিক্রিমূল্য ছিল ৪৮ হাজার ৯৮৯ টাকা। অর্থাত্ প্রতি ভরিতে এ মানের সোনার দাম এক হাজার ১৬৬ টাকা কমছে।
 
আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে পরবর্তী দাম নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত ২১ ক্যারেটের সোনা ভরিপ্রতি বিক্রি হবে ৪৫ হাজার ৭২৩ টাকা দরে। আজ পর্যন্ত এ মানের প্রতি ভরি সোনার বিক্রিমূল্য ছিল ৪৬ হাজার ৭৭৩ টাকা। এ মানের সোনায় ভরিপ্রতি এক হাজার ৫০ টাকা কমেছে। আর ১৮ ক্যারেটের সোনা ৮৭৫ টাকা কমে ভরিপ্রতি বিক্রি দর দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ২৪১ টাকা। আজ পর্যন্ত এ মানের সোনার ভরিপ্রতি দাম ছিল ৪১ হাজার ১১৬ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির সোনা ভরিপ্রতি ২৬ হাজার ২৪৪ টাকার বদলে আগামীকাল থেকে বিক্রি হবে ২৫ হাজার ৩৬৯ টাকায়। অর্থাত্ ভরিতে ৮৭৫ টাকা কমেছে। এদিকে সোনার দাম কমলেও অপরিবর্তিত রয়েছে রূপার দাম। ২১ ক্যাডমিয়ামের প্রতি ভরি রুপার বিক্রিমূল্য এক হাজার ৫০ টাকা।

উচ্চশিক্ষার নতুন গন্তব্য শ্রীলংকা

উচ্চশিক্ষা গ্রহণে প্রতিবছর ইউরোপ এবং আমেরিকার উড়াল দিচ্ছে বাংলাদেশ থেকে প্রচুর সংখ্যক শিক্ষার্থী। বিদেশের মাটিতে পছন্দের এসব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্কলারশীপ পেতে  মরিয়া হয়ে উঠেছে এসব শিক্ষার্থীর অনেকেই। কিন্তু সেই সুযোগ কেউ পেয়ে যাচ্ছে অতি সহজে, আবার কারো কারো তা হয়ে উঠছে শত প্রচেষ্টার পাহাড়। কিন্তু তাই বলে কি থেমে যাবেন? মোটেও না।
বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ের তালিকায় থাকা ইউরোপ-আমেরিকার পরেই আছে দ. এশিয়ার দেশ শ্রীলংকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। যেখানে আপনি একই ধরণের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে পড়াশুনা করতে পারবেন। পাবেন বাড়তি সুবিধাও। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে দেশটিতে প্রতি বছর ছুটে আসছে বহু সংখ্যক শিক্ষার্থী। তাই উচ্চশিক্ষায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছেও দেশটি হতে পারে নতুন গন্তব্য। সংস্কৃতি, আবহাওয়া, জলবায়ুতে বাংলাদেশের সাথে বেশ মিল রয়েছে দারুণভাবে। এছাড়া টিউশন ফি, সেশন চার্জ,আবাসন ফি রয়েছে মধ্যবিত্তদের ধরাছোয়ার ভিতরে।
শ্রীলংকায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা সম্পর্কে হাইকমিশনার  জানান, ২০২০ সালের মধ্যে শ্রীলংকাকে উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এগোচ্ছে দেশটির সরকার।
বাংলাদেশের আবহাওয়া, জলবায়ু এবং এখানকার সংস্কৃতির সঙ্গে শ্রীলংকার অনেকটা মিল রয়েছে উল্লেখ করে ইয়াসোজা গুনাসেকেরা বলেন, দুদেশের শিক্ষার্থীরা সহজে নিজেদের দেশের মতো করে পরিবেশ মানিয়ে নিতে পারবে। এ ছাড়া শ্রীলংকায় বাংলাদেশিদের জন্য ইউরোপ কিংবা এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মতো ভিসা সংক্রান্ত কোনো জটিলতা নেই। অন-অ্যারাইভাল ভিসা রীতি প্রচলিত আছে। বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার মধ্যে মুদ্রা বিনিময়ের হারেও বেশি তফাত নেই। শ্রীলংকান সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে ইউরোপীয় সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ বিনিময়ের সুযোগ রয়েছে। পছন্দের বিষয়ে উচ্চশিক্ষা-গবেষণার জন্য শ্রীলংকা থেকে ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সহজে স্থানান্তর হতে পারে শিক্ষার্থীরা।
চলতি বছরে শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট ঢাকা সফরকালে দুই দেশের মধ্যে উচ্চশিক্ষা কমিশনের একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এতে তাদের শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশে বাড়তি সুবিধা চাওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশিদের জন্য শ্রীলংকায় বিশ্ব র‌্যাংকিংভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও প্রতিবছর শ্রীলংকান অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনার জন্য বাংলাদেশে আসছে। বিশেষ করে এদেশে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বেশি আসছে তারা।
শিক্ষা, গবেষণা, জ্ঞান স্থানান্তর এবং আন্তর্জাতিক মানদন্ডে টাইমস উচ্চশিক্ষা ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিংয়ে ২০১৬-১৭ প্রতিবেদনে শ্রীলংকান সরকারি ও বেসরকারি বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে কলম্বো বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব পারাদেনিয়া, ইউনিভার্সিটি অব মোরাতুওয়া, ইউনিভার্সিটি অব শ্রী জয়ওয়ার্দিনপুরা, ইউনিভার্সিটি অব রুহুনা, ইউনিভার্সিটি অব কেলানিয়া অন্যতম।
দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ সাক্ষরতার হার এবং সর্বোপরি এশিয়ার সর্বোচ্চ সাক্ষরতার হারের মধ্যে একটি শ্রীলংকা একটি। শ্রীলংকার সংবিধানে ‘শিক্ষা’কে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশটির জনসংখ্যার সাক্ষরতার হারও ৯২ শতাংশ। তাই দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে বাড়তি সুবিধা।
উল্লেখ্য, ইউনেস্কোর তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশ থেকে বিদেশে শিক্ষার্থীদের গমন বেড়েছে। এক বছরেই তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ শতাংশের বেশি। ২০১৫ সালে মোট ৩৩ হাজার ১৩৯ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যান। আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ২৪ হাজার ১১২ জন। দুই বছরের হিসাবে দেখা যায়, ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে ৩৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেশি শিক্ষার্থী বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমিয়েছেন। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মালয়েশিয়ায় ৬ হাজার ৫৩৪ জন, এরপর যুক্তরাষ্ট্রে ৫ হাজার ৪৪১ জন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৬৪৪ জন। এ ছাড়া যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া এমনকি ভারতেও যাচ্ছেন অনেক শিক্ষার্থী।

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের বিড়ম্বনা বাড়ছে

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন দেশ থেকে শরণার্থী প্রবেশের ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা নিষেধাজ্ঞা বিস্তৃত পরিসরে বাস্তবায়নে অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট । ওই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের এক আবেদনে সম্মতি দিয়েছেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা। নিষেধাজ্ঞা নিয়ে নিম্ন আদালতের একটি সিদ্ধান্ত আটকে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিলো এই আবেদনে। নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তে ট্রাম্পের রক্ষণশীল শরণার্থী নীতি সহজীকরণ করা হয়।
মার্কিন বিচার বিভাগের মতে, ওই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী মাসের আগে অতিরিক্ত ২৪ হাজার পর্যন্ত শরণার্থী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেত। সুপ্রিম কোর্টের এ আদেশ ট্রাম্পকে তাঁর শরণার্থী নীতিতে আংশিক বিজয় এনে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। গত বছরের অক্টোবরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে এক বিতর্কিত নির্বাহী আদেশে সই করেন। তবে এ আদেশের সাংবিধানিক বৈধতা প্রশ্নে মার্কিন হাইকোর্টে গুরুত্বপূর্ণ এক শুনানির প্রস্তুতি চলছে। ব্যাপক সমালোচনার মুখে ট্রাম্প এ বছরের ৬ মার্চ শরণার্থীদের প্রবেশ নিয়ে যে সংশোধিত নির্বাহী আদেশে সই করেন তাতে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ছয় দেশ ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিকদের ৯০ দিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। একই আদেশে অন্যান্য দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের জন্য ১২০ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এই নির্বাহী আদেশ জারির পেছনে যুক্তি হিসেবে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘সন্ত্রাসী’ আক্রমণ ঠেকাতে এ পদক্ষেপ নেওয়াটা জরুরি হয়ে পড়েছে। মার্চে ওই নির্বাহী আদেশ জারির আগে গত জানুয়ারিতে ট্রাম্প একই আদেশের আরও কঠোর সংস্করণ জারি করলে দ্রুত এর বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়। ফলে ফেব্রুয়ারিতে নিম্ন আদালত তা স্থগিত করে দেয়. গত মার্চে ট্রাম্প সংশোধিত নির্বাহী আদেশ জারির পর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আদালত এর কার্যকারিতার আওতা সীমিত করে। আদালত রুলিং দেয়, ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা মার্কিন সংবিধান ও ফেডারেল অভিবাসন আইনের লঙ্ঘন। হাইকোর্ট এই রুলিং পুনর্বিবেচনা করতে সম্মত হয়েছে।
নিম্ন আদালতের বিচারকেরা গত জুনে দেওয়া রুলিংয়ে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে পারে না। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার বিতর্কিত নীতি বাস্তবায়নে আরো বেশি কাজের সুযোগ পাবে তা নিঃসন্ধেহে বলা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলেসে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ আতাউল খান রিপন এ বিষয়ে ভয়েস বাংলাকে জানান, ‘এর ফলে বিমান বন্দরে কড়াকড়ি আগের চেয়ে আরো বেড়ে যাবে। এখন থেকে অনেক বেশি যাচাই বাচাই করবে তারা। সামান্যতম সন্দেহ হলে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতেও দিবে না। যাদের ভিসা আগে হয়েছে তাদের আবার যাচাই বাছাই করে ঢুকতে অনুমতি দিবে। এর ফলে অভিবাসী হয়রানির শেষ হবে না অচিরেই।’ তিনি আরো বলেন, ‘কিছুদিন আগে একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী দেশে গিয়ে ফেরার সময় বিমান বন্দর থেকে তাকে ফেরত পাঠিয়ে দেয় ইমিগ্রেশন। কারণ হিসেবে জানা যায় স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে এসে নিয়মিত কাজ করত সে। মূলত পড়াশুনা করতে এসে কেন কাজ করত এই অজুহাতে তাকে ফিরে আসতে হয়। এখন ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন বিরোধী যে কোন নীতি বাস্তবায়নে আরো বেশি কঠোর হবে বলে তিনি মনে করেন। ফলে অভিবাসী জীবনে নানা বিড়ম্বনা আরও বেড়ে যাবে ।

Sunday, September 24, 2017

পাতে পড়ুক এঁচোড় চিংড়ি

কী লাগবে
৫০০ গ্রাম এঁচোড়,৩০০ গ্রাম মাঝারি চিংড়ি মাছ, আলু ২টি বড়,আদা বাটা দুই টেবিল চামচ, জিরে গুঁড়ো দুই টেবিল চামচ, লঙ্কাগুঁড়ো আন্দাজমত, টকদই ৫০ গ্রাম, নুন আন্দাজমত, হলুদ গুঁড়ো আন্দাজমত, গোটা জিরে আধ টেবিল চামচ, শুকনো লঙ্কা ২টো, তেজপাতা ২টো, সরষের তেল ১৫০ গ্রাম, গরম মশলা গুঁড়ো ৫গ্রাম, ঘি ২ চামচ।
রান্না করুন:
এঁচোড় ছোটো ছোটো করে কেটে রাখুন। তারপর আলু ডুমো ডুমো করে কেটে নিন। মাছের খোসা ছাড়িয়ে ভালো করে ধুয়ে, হলুদ মাখিয়ে রেখে দিন।
এখন একটি পাত্রের মধ্যে দই, আদা, জিরে ও লঙ্কাগুঁড়ো, নুন, চিনি এবং হলুদগুঁড়ো দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে রাখুন।
কড়াইতে সরষের তেল গরম হলে চিংড়ি মাছ ভেজে নামিয়ে রাখুন। ওই তেলের মধ্যেই জিরে, শুকনো লঙ্কা ফোড়ন দিয়ে এঁচোড় ও আলু ছেড়ে নাড়তে থাকুন। খানিকক্ষণ পর মেশানো মশলা দিয়ে কষতে থাকুন। কষা প্রায় হয়ে গেলে ভাজা চিংড়ি মাছগুলো দিয়ে নাড়াচাড়া করুন এবং খানিকটা জল দিয়ে ফুটতে দিন। এরপর গা মাখামাখা হয়ে এলে গরম মশলা ও ঘি ছড়িয়ে নামিয়ে নিয়ে পরিবেশন করুন।

ঘরেই তৈরি করুন চিকেন মোমো

খুব অল্প সংখ্যক মানুষ রয়েছেন, যারা মোমো খেতে ভালোবাসেন না ৷ বিকেলে হালকা খাওয়ারে জন্য মোমো বেশ জনপ্রিয় ৷ তবে এই মোমো তৈরি করা মোটেই কঠিন কাজ নয় ৷ বাড়িতে অনায়েসেই তৈরি করতে পারেন মোমো ! কীভাবে ? জেনে নিন ঝটপট ৷
কী কী লাগবে
ময়দা ২ কাপ, তেল ২ টেবিল চামচ, মুরগির কিমা দেড় কাপ, রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ, আদা কুচি ৩ চা-চামচ, পেঁয়াজ কুচি ২টি, নুন স্বাদমতো, সয়াসস ২ চা-চামচ, গোলমরিচ গুঁড়ো আধা চা-চামচ, লেবুর খোসা কুচি আধা টেবিল চামচ, মাখন ১ টেবিল চামচ।
বানিয়ে ফেলুন
ময়দার সঙ্গে আধা চা-চামচ লবণ, তেল ও পরিমাণমতো জল মিশিয়ে ময়ান দিতে হবে। কিমার সঙ্গে পেঁয়াজ, আদা-রসুন কুচি, সয়াসস, নুন ও গোলমরিচ গুঁড়ো মিশিয়ে মেখে রাখতে হবে। ফ্রাইপ্যানে মাখন গলিয়ে কিমার মিশ্রণ অল্প আঁচে রান্না করুন। কিমার জল শুকিয়ে গেলে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে নেড়ে আরও ২ থেকে ৩ মিনিট ঢেকে রাখুন। এবার ঢাকনা খুলে কাঁচা লঙ্কা কুচি ও লেবুর খোসার কুচি দিয়ে নেড়ে আবার ঢেকে দিয়ে মৃদু আঁচে দু’মিনিট রাখুন।
এদিকে ময়দা দিয়ে ছোট আকৃতির রুটি বেলুন। রুটির কিনার বেশি পাতলা থাকবে। রুটির মাঝখানে ১ টেবিল চামচ করে কিমার পুর দিয়ে অর্ধেকটা মুড়ে দিয়ে ও পেঁচিয়ে এনে বাকি অর্ধেক চেপে দিন, যেন মুখ খোলা না থাকে। সব গুলো মোমো তৈরি হয়ে গেলে মাইক্রোওয়েভ বা জল ভর্তি বড় পাত্রের মুখে কাপড় বেধেও ভাপ দিয়ে নিতে পারেন। পাত্রের মুখে ভাপ দিতে হলে মিনিট দশেকই যথেষ্ট। ভালোভাবে ভাপ দেয়া হলে নামিয়ে এনে স্যসের সঙ্গে গরম গরম পরিবেশন করুন মোমো।

এক ইঞ্জেকশনেই গর্ভধারণের আশঙ্কা ছাড়াই নিশ্চিন্ত মিলন

ইঞ্জেকশন নিন একদিন। নিশ্চিন্তে থাকুন নব্বই দিন। মহিলাদের জন্য নতুন গর্ভনিরোধক ইঞ্জেকশন ‘অন্তরা’ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে সরকারি হাসপাতাল থেকে। পোষাকি নাম ডেপো মেডরক্সি প্রোজেস্টেরন অ্যাসিটেট বা ডিএমপিএ। কেন্দ্রীয় সরকার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক অন্তরা ব্যবহারের ব্যাপারে নির্দেশিকা জারি করলেও তেমন সাড়া নেই মহিলাদের মধ্যে। চিকিৎসকদের ভাবাচ্ছে এই বিষয়টি-ই।
এখন গর্ভনিরোধক হিসেবে মহিলারা ব্যবহার করেন ট্যাবলেট। পুরুষরা ব্যবহার করেন কন্ডোম। কপার-টি-সহ আরও কিছু পদ্ধতি রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্তরা ইঞ্জেকশনের সবচেয়ে সুবিধা হল , একবার নিলে তিনমাস নিশ্চিন্ত। পার্শ্বপ্রক্রিয়াও সামান্য। প্রথমবার একটু পেটের সমস্যা হতে পারে। দ্বিতীয়বার থেকে তাও হয় না।
অন্তরার খুঁটিনাটি
---ইঞ্জেকশনের মেয়াদ ৩ মাস
---টানা ২ বছর নেওয়া যায়
---তারপর শারীরিক পরীক্ষা করাতে হবে
---হাতে বা নিতম্বের পেশিতে নিতে হয় ইঞ্জেকশন
--- সন্তান প্রসবে পর প্রসূতিদের ইঞ্জেকশন দেওয়া হবে
এর ফলে একদিকে প্রসূতি ও শিশু মৃত্যুর হার কমবে। অন্যদিকে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কৃত্তিমভাবে প্রোজেস্টেরন হরমোন থেকে ডিএমপিএ গর্ভনিরোধক ইঞ্জেকশন তৈরি হয়। ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু উৎপাদনে বাধা দেয় এই হরমোন।
কিছু সাবধানতা
---ইঞ্জেকশন নেওয়ার জায়গা ম্যাসাজ করা যাবে না
---গরম শেক দেওয়া যাবে না
---না হলে কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যাবে
--কন্ডোমের মত এইডস বা সেক্সুয়াল ট্রান্সমিটেড ডিজিস আটকানোর ক্ষমতা নেই অন্তরার
অন্তরা নিয়ে হইচই-ও হচ্ছে। অনেকের দাবি, এই ইঞ্জেকশন ঋতুচক্রে প্রভাব ফেলে। হাড়ে ক্ষয় ধরায়। এমনকি বাড়িয়ে দেয় ক্যানসারের সম্ভাবনাও। যদিও, ডিএমপিএ নিয়ে এমন সম্ভাবনার কথা অস্বীকার করেছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।


 

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

সম্পাদকীয় কার্যলয়

Rua padre germano mayar, cristo rio -80040-170 Curitiba, Brazil. Contact: +55 41 30583822 email: worldnewsbbr@gmail.com Website: http://worldnewsbbr.blogspot.com.br

সম্পাদক ও প্রকাশক

Jahangir Alom
Email- worldnewsbb2@gmail.com
worldnewsbbbrazil@gmail.com
 
Blogger Templates