Social Icons

Saturday, July 29, 2017

চারদিকে দুর্নীতি ছেয়ে গেছে : এরশাদ

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যর্থ, মানুষের জান ও মালের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ, চারদিকে দুর্নীতি আর সন্ত্রাস। ব্যাংকের টাকা লুট হচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও টাকা লুটপাট করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কিন্তু সরকার কিছু করছে না। চারদিকে আজ দুর্নীতি ছেয়ে গেছে। ঢাকা শহর বসবাসের অযোগ্য হয়ে গেছে। কোথাও শান্তি নেই। চারদিকে শুধু অশান্তি। এর থেকে দেশের মানুষকে বাঁচাতে হবে। জাতীয় পার্টিই পারবে দেশের মানুষকে বাঁচাতে। এজন্য তিনি আগামী নির্বাচনে লাঙ্গল মার্কায় ভোট দিয়ে জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় আনার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
আজ শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জাতীয় পার্টির যৌথ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ আহবান জানান।
সভায় অন্যদের মধ্যে বিরোধী দলীয় নেতা ও পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান বেগম রওশন এরশাদ এমপি, পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি, সৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, আব্দুর রশিদ সরকার, সাহিদুর রহমান টেপা, রত্না আমিন হাওলাদার এমপি, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, একিউ তাজ রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতা মাহজাবিন র্মোশেদ এমপি, নুরুল ইসলাম ওমর এমপি, মোহম্মদ নোমান মিয়া এমপি, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, জহিরুল আলম রুবেল, একেএম গোলাম মতুর্জা, মোস্তাকুর রহমান মোস্তফা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এসময় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আবুল কাশেম, তাজুল ইসলাম চৌধুরী এমপি, হাফিজউদ্দিন আহমেদ, কেন্দ্রীয় নেতা রেজাউল ইসলাম ভুঁইয়া, অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু, গোলাম মোহাম্মদ রাজু, জহিরুল ইসলাম জহির, আরিফ খান, দিদারুল আলম দিদার, আলমগীর শিকদার লোটন, আমির হোসেন এমপি, ফখরুল আহসান শাহজাদা, সুলতান আহমেদ, সুজন দে, আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এ যৌথ সভায় সারাদেশ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।
জাপা চেয়ারম্যান এরশাদ বলেন, সরকার কথায় কথায় বলে দেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। আমরা তো দেখি এখন মহাসড়কে শুধু পানি আর পানি। পানি দিয়ে সরকার কি উন্নয়ন করছে, তা তো দেশের মানুষ হারে হারে টের পাচ্ছেন।
তিনি বলেন, দেশের সব কিছুতে জট লেগেছে, উন্নয়নে জট, চাকরিতে জট, রাস্তাঘাটে জট, দুর্নীতিতে জট। এই জট খুলতে হবে। আওয়ামী লীগ বিএনপি এই জট লগিয়েছে। জাতীয় পার্টিই পারে এই জট খুলে দেশের মানুষকে শান্তি দিতে।
এরশাদ বলেন, সম্মিলিত জাতীয় জোটের ব্যানারে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা তিনশ’ আসনে প্রার্থী দেবো। আমরা বিশ্বাস করি, আওয়ামী লীগ-বিএনপির হাত থেকে দেশের মানুষ আমাদেরকে ভোট দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আনবে। ক্ষমতায় এসে আমরা আবারো দেশের মানুষকে শান্তি ফিরিয়ে দেবো। দুর্নীতি চিরতরে বন্ধ করবো। লুটপাট, সন্ত্রাস বন্ধ করবো।
এরশাদ বলেন, আগামী তিন মাস সারা দেশে জাতীয় পার্টি ও জোটের ব্যানারে সভা সমাবেশ হবে। শহর, বন্দর, গ্রামে গঞ্জে, পার্টিকে আরো সুসংগঠিত করতে হবে। এরপর আগামী নভেম্বর মাসে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জোটের পক্ষ থেকে মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দেন এরশাদ।

Friday, July 28, 2017

আফগানিস্তানে সামরিক অভিযানে ৫১ জঙ্গি নিহত

আফগানিস্তানে গত ২৪ ঘণ্টায় সামরিক বাহিনীর অভিযানে কমপক্ষে ৫১ জঙ্গি নিহত ও আরো ৪৬ জন আহত হয়েছে। শুক্রবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একথা জানায়। খবর সিনহুয়ার। 
 
মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় জঙ্গিদের বিভিন্ন গোপন ঘাঁটি লক্ষ্য করে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ২৬ দফা সামরিক অভিযান চালানো হয়। এসবের মধ্যে ১০টি বিশেষ অভিযান ছিল। নিহতদের মধ্যে কারী আসাদুল্লাহ নামে পরিচিত স্থানীয় তালেবান নেতা দাদুল্লাহও রয়েছে। দেশটির ৩৪টি প্রদেশের ১৬টিতে এ সামরিক অভিযান চালানো হয়।
 
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আফগান বিমানবাহিনীর সদস্যরাও এ  অভিযানে অংশ নেয়। তবে এ অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর কোন সদস্য হতাহত হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে বিবৃতিতে কিছু বলা হয়নি। বাসস

পদত্যাগ করলেন জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার আগেই পদত্যাগ করলেন দেশটির বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোমোমি ইনাডা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা- বিবিসির খবরে এর নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে।
 
বিবিসি জানাচ্ছে, দেশটির ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের বেশ ঘনিষ্ঠ এই নারী বিতর্কিত শান্তিরক্ষা স্থাপনার তথ্য ফাঁসের অভিযোগে পদত্যাগ করেছেন। যদিও জাতীয়তাবাদী এই নারী নেত্রীকে শিনজো আবের কর্মকাণ্ডকে ছড়িয়ে দেয়ার মূল কাণ্ডারি বলে অভিহিত করা হতো।
জানা গেছে, ৫৮ বছর বয়সী ইনাডার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী আবের নজরে আসায় এবং দেশটির অনেকেই এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার কারণেই তিনি পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। তাকে ভবিষ্যৎ জাপানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তার আগে, মাত্র একজন নারী দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বিবিসি।

ভেনিজুয়েলা থেকে দূতাবাস কর্মীদের পরিবারগুলোকে ফিরে আসার নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কারাকাসে তাদের দূতাবাস কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের বৃহস্পতিবার ভেনিজুয়েলা ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে এবং দেশটিতে চরম রাজনৈতিক সংকট দেখা দেয়ায় সেখানে থাকা মার্কিন কর্মীদের স্বেচ্ছায় চলে আসার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। 
 
পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনায় মার্কিন নাগরিকদের সামাজিক অস্থিরতা, সংঘাত ও খাদ্য এবং ঔষধের ঘাতটির কারণে দক্ষিণ আমেরিকার এদেশ সফরের ব্যাপারে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বিরোধীদলের সঙ্গে চরম বিবাদে জড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে এমন নির্দেশ দেয়া হলো। দেশটির বিরোধীদল আগামী রবিবার বিতর্কিত নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগে দেশব্যাপী ধর্মঘট পালনে সরকারের জারি করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিয়েছে।
আগামী রবিবার ভেনিজুয়েলার আনুষ্ঠানিক এক গণভোট হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে এমন একটি নতুন আইনসভার প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে আইন প্রণেতারা সংবিধান সংশোধন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিলুপ্তির ক্ষমতা রাখবে। সমালোচকরা বলছেন, নতুন এই আইনসভা মাদুরোর হাতকে বরং আরো শক্তিশালী করবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বুধবার ভেনিজুয়েলার বর্তমান ও সাবেক ১৩ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো প্রশাসনের এসব কর্মকর্তার যুক্তরাষ্ট্রে রাখা সব সম্পদ জব্দ, দেশটিতে তাদের ভ্রমণ নিষিদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রে তাদের ব্যবসা করার অধিকার খর্ব করা হলো। 
এদিকে মাদুরো ওই দিনই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞা অবৈধ, ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও নজিরবিহীন। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাদুরোকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, ভেনিজুয়েলায় রবিবার গণভোট অনুষ্ঠিত হলে দেশটির ওপর ‘শক্ত ও দ্রুত অর্থনৈতিক অবরোধ’ আরোপ করা হবে। এএফপি।

কে হচ্ছেন পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী

পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালতে অযোগ্য ঘোষিত হয়ে পদত্যাগ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ।  শুক্রবার পানামা পেপারস কেলেঙ্কারি মামলায় নওয়াজের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায় ঘোষণার কিছু সময় পর তিনি পদত্যাগ করেন।
 
এদিকে  তার পদত্যাগের পর কে  হচ্ছেন দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেশ কয়েকজনের নাম আসছে। এর মধ্যে সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন নওয়াজ শরীফের ভাই শাহবাজ শরীফ। তিনি বর্তমানে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।
 
এ ছাড়া প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ, জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আইয়াজ সাদিক, নওয়াজ শরিফ পরিবারের খুব কাছের লোক হিসেবে পরিচিত সংসদ সদস্য আহসান ইকবাল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার আলী খানের নাম শোনা যাচ্ছে।
 
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে নওয়াজ শরিফ পদত্যাগ করলেও পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী বাছাইয়ে তিনি ভূমিকা পালন করতে পারবেন। কারণ তিনি ক্ষমতাসীন পিএমএল-এন দলটির প্রধান। তার মনোনীত প্রার্থীরই পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
 
নওয়াজ শরিফের মেয়ে মারিয়াম নওয়াজই তার বাবার পরবর্তী রাজনৈতিক উত্তসূরী হিসেবে বিবেচিত হন। তবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য না হওয়ায় এবার তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হতে পারবেন না।
 

মুসলমানরাই বায়তুল মোকাদ্দাসের প্রকৃত উত্তরাধিকারী

প্রথমে মুসলমানদের পরিচয় জানা দরকার, মুসলমান কারা? মুসলমান তারাই, যারা ঈমানদার। মুসলমান তারাই, যারা এক আল্লাহর ওপর বিশ্বাসী, যারা তাঁর বিধি-বিধান মেনে চলে, তাঁর পাঠানো নবীকে গ্রহণ করে আদর্শ হিসেবে। পাশাপাশি নবীর ওপর অবতীর্ণ কিতাবকে গ্রহণ করে জীবনবিধান হিসেবে। সে হিসেবে শুধু উম্মতে মুহাম্মদিই মুসলমান নয়। মুসলমান শব্দের এ ব্যাখ্যা কোরআন থেকে নেওয়া হয়েছে। খোদ নবী ইবরাহিম (আ.) তাঁর প্রতিপালকের কাছে প্রার্থনা করেছেন যেন তাঁকে ও তাঁর সন্তানদের মুসলিম বানানো হয়। (দেখুন : সুরা বাকারা, আয়াত : ১২৮)
আরো একটি পরিভাষা আমাদের কাছে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। সেটি হলো, বনি ইসরাইল মানে ইসরাইলের সন্তান। ইসরাইল হজরত ইয়াকুব (আ.)-এর নাম। হিব্রু ভাষায় এর অর্থ আল্লাহর বান্দা। হজরত ইয়াকুব (আ.)-এর পরবর্তী বংশধররা বনি ইসরাইল নামে প্রসিদ্ধ।
হজরত ইয়াকুব (আ.) যখন জীবনসায়াহ্নে, তখন এক প্রশ্নের জবাবে তাঁর সন্তানরা নিজেদের মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। (দেখুন : সুরা বাকারা, আয়াত : ১৩৩)
এটাও আমাদের কাছে স্পষ্ট হওয়া দরকার যে ইহুদি আর বনি ইসরাইল এক নয়। বরং ইহুদিরা বনি ইসরাইলের একটা অংশ। এরা হজরত মুসা (আ.)-এর উম্মত।
ইতিহাস সাক্ষী, কোরআনের আগের সব আসমানি কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে নির্দিষ্ট যুগ, অঞ্চল ও জাতির জন্য। ফলে সেসব উম্মত পরিচিত হয়েছে নিজ জাতীয়তা দিয়ে, মুসলিম হিসেবে নয়। যেমন—হজরত ঈসা (আ.) বলেছেন, ‘আমাকে শুধু ইসরাইল বংশের হারান মেষদের কাছেই পাঠানো হয়েছে। ’ (মথি, ১৫:২৫)
তিনি তাঁর ১২ জন শিষ্যকে ধর্ম প্রচারের কাজে পাঠানোর সময় আদেশ দিয়েছিলেন—‘তোমরা অ-ইহুদিদের কাছে বা শমরীয়দের কোনো গ্রামে যেয়ো না, বরং ইসরাইল জাতির হারান মেষদের কাছে যেয়ো। ’ (মথি, ১০:৬)
কিন্তু মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনকে নির্দিষ্ট জাতি, অঞ্চল বা কালের জন্য পাঠাননি। কোরআন সর্বজনীন ও সর্বকালীন। কোরআনের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে মহান আল্লাহ বিশ্ববাসীর জন্য রাসুল ও রহমত বলেছেন (দেখুন : সুরা আরাফ-১৫৮, সুরা আম্বিয়া-১০৭)
আরো একটি বিষয় জেনে রাখা জরুরি। বিষয়টি হলো, তাওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদের বিশ্বাসই হচ্ছে ইসলাম। এর অনুসারী সবাই মুসলমান, যদিও তারা সবাই মুসলমান হিসেবে পরিচিতি পাননি, যৌক্তিক কারণে বিভিন্ন নামে তারা পরিচিত হয়েছেন। এ জন্য কোনো যুগের নবীকে অস্বীকার বা অমান্য করে কেউ মুসলমান থাকতে পারে না। কাজেই প্রত্যেক নবী ও তাঁর অনুসারীরা মুসলমান। নতুন নবী আসার পর তাঁকে অমান্য করলে অমান্যকারীকে মুসলমান বলা যাবে না। যেমন—হজরত ঈসা (আ.)-এর আগমনের পর ইহুদিরা আর বৈধ ধার্মিক থাকেনি, গোষ্ঠীগত নামটি থেকে গেলেও শরিয়ত অমান্যকারী বেঈমান হিসেবে তারা আল্লাহর কাছে পরিগণিত। একইভাবে মহানবী (সা.)-এর আগমনের পর পৃথিবীর আর কোনো ধর্মই বৈধ থাকেনি, কারণ তিনি গোটা জাহানের নবী। তাঁর উম্মতরাই বর্তমান মুসলমান।
এবার আসুন এ প্রসঙ্গে—বায়তুল মোকাদ্দাস কার তৈরি এবং কেয়ামত পর্যন্ত তার বৈধ মালিকানা কাদের?
এর সহজ জবাব হলো, বায়তুল মোকাদ্দাস নবী সুলাইমান (আ.) বানিয়েছেন এবং কেয়ামত পর্যন্ত তাঁর বৈধ মালিকানা থাকবে বৈধ ধার্মিকদের হাতে। কেয়ামত পর্যন্ত এর বৈধ মালিকানা উম্মতে মুহাম্মদির। কেননা শেষ নবীর উম্মতরাই সর্বশেষ উম্মত। মুসলমানরা দখলদার নয়, বরং ফিলিস্তিন ও বায়তুল মোকাদ্দাস তাদের ধর্মীয় উত্তরাধিকার।
আজকে যদি শেষ নবী হতেন মুসা (আ.), তাহলে অবশ্যই এর বৈধ মালিকানা ইহুদিদের থাকত। কেননা শেষ নবীর উম্মতরাই শুধু নবী ইবরাহিম (আ.)-এর রাখা নাম ‘মুসলমান’ পরিচয়ে বেঁচে থাকবে কেয়ামত পর্যন্ত। (দেখুন : সুরা হজ-৭৮)

ব্রিটেনের সর্বপ্রথম মসজিদ

আবদুল্লাহ কুইলিয়াম ব্রিটেনের প্রথম মুসলমান ছিলেন তা নয়, তবে ব্রিটেনের লিভারপুল শহরে ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি যে মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন, সেটা ছিল সর্বপ্রথম মসজিদ। মসজিদটির নাম শাহজাহান মসজিদ। এরপর ধারাবাহিকভাবে মসজিদ নির্মিত হতে থাকে এবং আজ অবধি হচ্ছে। বর্তমানে পুরো ব্রিটেনে দেড় হাজারেরও বেশি মসজিদ রয়েছে।  
কুইলিয়াম একজন বড় শিক্ষাবিদ এবং প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী ছিলেন। ইসলাম গ্রহণের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ইসলামই ছিল তার জীবনের প্রথম, প্রধান ও একক বিষয়। তার দৃঢ় ঈমান এবং শক্তিশালী যুক্তি ৬ শতাধিক ব্রিটেনবাসীকে ইসলাম গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। সেজন্য সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদ তাকে ব্রিটেনের ‘শায়খুল ইসলাম’ আখ্যায়িত করেছেন।
হেনরি কুইলিয়াম ১৮৫৬ সালের ১০ এপ্রিল লিভারপুল শহরে বিত্তশালী এক খ্রিস্টান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাল্যকাল থেকেই কুইলিয়াম ধর্মপরায়ণ ছিলেন। কখনও মদ পান করেননি; বরং মদ্যপায়ীদের বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার ছিলেন।
১৮৭৮ সালে তিনি লেখাপড়া শেষ করেন এবং অ্যাডভোকেট ও সলিসিটর হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। কিছুদিনের মধ্যেই তার সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র; তার স্পষ্টভাষিতা এবং আইন বিষয়ে অগাধ পাণ্ডিত্যের কারণে।
একসময় তিনি জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়লেন। বিজ্ঞ ডাক্তাররা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্পেন যেতে পরামর্শ দিলেন। তিনি ঠিকই স্পেনের উদ্দেশে বের হয়ে পড়লেন। সমুদ্রপথে ছিল তার যাত্রা। যাত্রাপথে তিনি দেখতে পেলেন কিছু মুসলমান জাহাজে নামাজ আদায় করছে। সে দৃশ্যটি তার হৃদয়ে গভীরভাবে রেখাপাত করে। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমি দেখলাম, একদল মুসলমান খুব সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়াল এবং অত্যন্ত মনোযোগ ও শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ পড়তে শুরু করল। জাহাজের এদিক-ওদিক হেলা কিংবা বাতাসের প্রকম্পন তাদের নামাজের মনোযোগ বিঘ্নিত করতে পারল না। তাদের মুখাবয়বে ঈমানের সত্যতার যে জ্যোতি আমি অবলোকন করলাম, সেটা আমার হৃদয়জগৎকে নাড়া দিল। ’
বস্তুত তার মাঝে ইসলাম সম্পর্কে আরও পড়ার ও জানার আগ্রহ সৃষ্টি হয়ে গেল। ফলে ১৮৮৭ সালে তিনি মরক্কো ভ্রমণের সিদ্ধান্ত করলেন। সেখানে পবিত্র কোরআনের অনুবাদ পাঠ করলেন। মহামানবদের নিয়ে লেখা স্কটিশ দার্শনিক ও প্রখ্যাত লেখক টমাস কার্লাইলের বইটিও তিনি পড়লেন; যেখানে লেখক শেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে তার মুগ্ধতা ও ভালো লাগার কথা তুলে ধরেছেন।
তাঞ্জিয়ায় মুসলমানদের সঙ্গে মিলেমিশে থাকার দরুন ইসলাম কবুল করতে তার হৃদয় উন্মুখ হয়ে ওঠে। ৩১ বছর বয়সে তিনি ইসলাম গ্রহণ করে নেন। পরবর্তী বছর লিভারপুল ফিরে আনুষ্ঠানিকভাবে তার ইসলাম গ্রহণের কথা প্রকাশ করেন। নিজের নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম দেন আবদুল্লাহ।
ইসলামের দাওয়াত প্রচারের জন্য কুইলিয়াম একটা বড় শক্তিতে পরিণত হলেন। সম্ভাব্য সব উপায় কাজে লাগিয়ে তিনি ইসলাম প্রচারে ব্রত হলেন। কুইলিয়াম শুধু ব্যক্তিগত দাওয়াত দিয়েই ক্ষান্ত হননি, তিনি বরং মানুষকে ইসলাম চিনিয়ে দিতে লেখালেখিও করেন। ‘দ্য ফেইথ অব ইসলাম’ নামে ১৮৮৯ সালে তিনি একটি গ্রন্থ রচনা করেন। গ্রন্থটির কয়েক হাজার কপি ছাপানো হয়। তেমনিভাবে একাধিক ভাষায় সেটার অনুবাদও প্রকাশিত হয়। ফলে ব্রিটেনবাসী তাদেরই এক সন্তানের লেখা থেকে ইসলাম সম্পর্কে অবগতি লাভ করে। এজন্য গ্রন্থটির প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী।
লিভারপুল শহরেই কুইলিয়াম ব্রিটেনের সর্বপ্রথম মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন। ১৮৮৯ সালের ২৫ ডিসেম্বর মসজিদটির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। বিলাসিতা ও আড়ম্বরপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতার বদলে মসজিদটির সূচনা হয় ১৩০ জন দরিদ্র মুসলিম শিশুকে খাবার প্রদানের মাধ্যমে। এভাবে মসজিদটি ইউরোপের প্রাচীনতম মসজিদ হিসেবে গড় ওঠে। বস্তুত এটি ছিল ব্রিটেনে ইসলামের নতুন এক ইতিহাসের সূচনা। ১৯৩২ সালের ২৩ এপ্রিল আবদুল্লাহ কুইলিয়াম এ নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে আপন মাওলার সান্নিধ্যে পাড়ি জমান। আল্লাহ তায়ালা যেন তাকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করেন।  
লেখক: আলোচক, ইকরা টিভি, লন্ডন
 

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

সম্পাদকীয় কার্যলয়

Rua padre germano mayar, cristo rio -80040-170 Curitiba, Brazil. Contact: +55 41 30583822 email: worldnewsbbr@gmail.com Website: http://worldnewsbbr.blogspot.com.br

সম্পাদক ও প্রকাশক

Jahangir Alom
Email- worldnewsbb2@gmail.com
worldnewsbbbrazil@gmail.com
 
Blogger Templates