Social Icons

Wednesday, October 4, 2017

বাংলাদেশ ভ্রমণে কানাডার নাগরিকদের 'সতর্কতা'

কানাডা সেদেশের নাগরিকদেরকে বাংলাদেশ ভ্রমণ পরিহার এবং সতর্কতার পরামর্শ দিয়েছে।
 
কানাডা সরকার তথা পাবলিক হেলথ এজেন্সি অফ কানাডার এক ওয়েব বিজ্ঞপ্তিতে গত ২৫ সেপ্টেম্বর 'বাংলাদেশ- এ্যাভয়েড নন-এসেনশিয়াল ট্রাভেল' শীর্ষক এক বার্তায়https://travel.gc.ca/destinations/bangladesh মোতাবেক এই ভ্রমণ সতর্ক নোটিশ প্রদান করা হলেও তাতে কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
 
বিশেষ করে গর্ভবতী অর্থাৎ সন্তান সম্ভাবনাকারীদের 'জরুরি' না হলে বাংলাদেশ সফর নয়' বলে সতর্ক বার্তা দেয়া হয়েছে! নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক এক প্রবাসী নারী বলেন, হয়তো মারাত্মক চিকনগুনিয়া জ্বরের কারণে এই সিদ্ধান্ত হতে পারে আবার না-ও হতে পারে!
 
তবে সঠিক কারণ জন্য এ ব্যাপারে কানাডাস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বরাবরের মতো সাড়া দেননি!

রোহিঙ্গা নির্যাতনের মাত্রা ফের বাড়ল

*আগুন দেওয়া চলছেই *প্রত্যাবাসনের প্রস্তাব প্রশ্নের সম্মুখীন *ঘরে ঘরে গিয়ে রোহিঙ্গাদের চলে যেতে বলছে সেনাবাহিনী
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ ফের বেড়েছে। খাদ্য সংকট, নির্যাতন-নিপীড়ন ও হামলা আতংকে গ্রামের পর গ্রাম রোহিঙ্গা শূন্য হয়ে পড়েছে। প্রাণ বাঁচাতে হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশ অভিমুখে রওয়ানা হয়েছে। অবশিষ্ট রোহিঙ্গাদের দেশছাড়া করতে মিয়ানমার সেনাবাহিনী বলপ্রয়োগ তীব্রতর করেছে। খবর এএফপির।

এদিকে রাখাইনের কয়েকশ’ গ্রামে নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালানোর প্রমাণ পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংস্থাটি জানিয়েছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী বেছে বেছে পুরুষ ও কিশোরদের গুলি ও ছুড়িকাঘাত করে হত্যা করেছে। রোহিঙ্গা নারীদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালিয়েছে।

মাঝে কিছুদিন রোহিঙ্গাদের আগমন একটি স্থিতিবস্থায় থাকলেও এখন প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা আসছে। বাংলাদেশে প্রবেশের উদ্দেশে দশ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা মুসলমান মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকায় জড়ো হয়েছে বলে জানা গেছে।

নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বাড়ার কারণ হিসেবে সদ্য আসা রোহিঙ্গারা বলছে, রাখাইন রাজ্যের পশ্চিম অংশে যেসব রোহিঙ্গা রয়ে গিয়েছিল তাদের সরিয়ে দিতে নতুন করে অভিযান শুরু হয়েছে। গত কয়েকদিন যেসব এলাকায় সহিংসতা হয়েছিল, এসব এলাকা ছিল তা থেকে মুক্ত।

গত কয়েক সপ্তাহে মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের রাখাইন রাজ্যের অর্ধেক রোহিঙ্গা পালিয়েছে। নিরাপত্তাহীনতায় আরো অনেক রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আসার পথে।

গত সোমবার বাংলাদেশে আসা রাশিদা বেগম জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে স্থানীয় কর্মকর্তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছিল। তারা বলেছে, যদি আমরা গ্রামে থেকে যাই, তাহলে নিরাপদ থাকব। কিন্তু পরে সেনাবাহিনী ঘরে ঘরে আসে। বলল আমরা যেন দেশ               ছেড়ে চলে যাই।  গত শুক্রবার মংডুতে রোহিঙ্গা উচ্ছেদের বর্ণনা দিয়ে রাশিদা আরো বলেন, সেনাবাহিনী বলেছিল, আমাদের কোনো ক্ষতি করবে না। কিন্তু বাস্তবে তারা আমাদের ঘর থেকে বের করে দিয়ে তাতে আগুন জ্বালিয়ে দিল। রাশিদা বেগম তার মেয়েকে নিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন।

এদিকে মিয়ানমারের গণমাধ্যম বলছে, রোহিঙ্গারা নিরাপদে থাকবে-এমন নিশ্চয়তা দেওয়া সত্ত্বেও তারা স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়ছে।

শাহ পরীর দ্বীপে হাসিনা খাতুন (২৫) জানান, আমি চেয়েছিলাম আমার গ্রামে থেকে যেতে। স্থানীয় কর্মকর্তারা আমাদের বাংলাদেশে যেতে নিষেধ করেছিল।  বলল, সব কিছুই ঠিক হয়ে যাবে। আমরা তাদের বিশ্বাস করেছিলাম। কিন্তু পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। শেষমেষ আমাদের দেশ ছাড়তেই হলো।

ফজলুল হক নামে স্থানীয় একজন কাউন্সিলর জানান, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে নৌকাবোঝাই মানুষের আগমন প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সমপ্রতি এই প্রবাহ আবার শুরু হয়েছে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা সেনাবাহিনীর নির্যাতন ও বলপ্রয়োগের অভিযোগ করেছেন।  জাতিসংঘ গত মঙ্গলবার জানায়, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ৫ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে।

গ্রাম খালি করার জন্য সেনাবাহিনীর নির্দেশ পাওয়ার পর গত রবিবার বাংলাদেশে আসেন নুরুল আমিন। তিনি বলেন, সাপের মতো একেবেঁকে এক সারি রোহিঙ্গাকে তিনি উপকূলের দিকে যেতে দেখেছেন। তিনি আরো বলেন, আমরা যখন গ্রাম ছাড়ি, চারদিক থেকে গ্রামবাসীরা এসে আমাদের সঙ্গে যোগ দিল। সেনাবাহিনী কাউকে হত্যা করছে না, শুধুমাত্র বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিচ্ছে। বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে বাড়িঘরে আগুনের কালো ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে।

হত্যাকাণ্ডের প্রমান পেয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গতকাল তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা নারীদের ওপর সেনাবাহিনীর যৌন নিপীড়ন ও হত্যাকাণ্ডের নতুন তথ্য পেয়েছে তারা। রাখাইনের মাউং নু গ্রামে গত ২৭ আগস্ট সেনারা কয়েকশ’ রোহিঙ্গা মুসলিমকে হত্যা করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সেদিন সেনাবাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে নিরাপত্তার জন্য একটি আবাসিক কম্পাউন্ডে আশ্রয় নেওয়া গ্রামবাসীদেরকে পিটিয়ে, যৌন নিপীড়ন চালিয়ে, ছুরিকাঘাত এবং গুলি করে হত্যা করেছে সেনারা। তারা বেছে বেছে পুরুষ ও কিশোরদের গুলি, ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে। পরে সেনারা মৃতদেহগুলো সামরিক ট্রাকে করে দূরে নিয়ে যায়। কোনও কোনও প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, এই ট্রাকগুলোতে শত শত মরদেহ ছিল।

সংস্থাটি আরো বলেছে, স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে মাউং নু এবং পার্শ্ববর্তী হপং তো পিন গ্রাম প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। মাউং নু এবং আশেপাশের গ্রামে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নিপীড়ন থেকে বেঁচে গেছে এবং ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে এমন ১৪ ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছে এইচআরডব্লিউ।

উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, মরিচ্ছং পাড়ার চেয়ারম্যান শামশুল আলম বলেন, তার দোতলা একটি কাঠের ঘর, দুই শতাধিক গরু মহিষের খামার ছিল। গত মঙ্গলবার সকালে সেনাবাহিনী ওই গ্রামে প্রবেশ করে শতাধিক বাড়িঘর আগুন দেয়। তার বাড়িটিও পুড়িয়ে দেয়। এসময় গরু ও ছাগলগুলো জান্তারা লুটপাট করে নিয়ে যায়। রোহিঙ্গারা জানায়, মূলত রোহিঙ্গা গ্রামগুলো সেনারা অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। এখন তাদের চলে যেতে বলছে।

Tuesday, October 3, 2017

ধীর গতিতে চলছে রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন

ধীর গতিতে চলছে রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন কাজ। গেলো ১২ সেপ্টেম্বর থেকে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হলেও এ পর্যন্ত নিবন্ধিত হয়েছেন মাত্র ৪৯ হাজার রোহিঙ্গা।
সেনাবাহিনী ও বিজিবির সহায়তায় পাসপোর্ট অধিদপ্তর এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রযুক্তিগত কারিগরি সহায়তা বাড়ালে নিবন্ধন কার্যক্রমে আরো গতি আসবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ৫ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার পরিচয় নিশ্চিত ও তালিকা তৈরির জন্য বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধনের উদ্যোগ নেয় সরকার। যার ফলশ্রুতিতে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান টাইগার আইটির কারিগরি সহায়তায় বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের কাজ করছে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর।
কুতুপালং ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লে. কর্নেল মাহবুবুর রহমান খান বলেন,  ‘৪৮টি ওয়ার্ক স্টেশনের মাধ্যমে উখিয়ার কুতুপালং ও থাইংখালী এবং টেকনাফের নয়াপাড়ার তিনটি ক্যাম্পে চলছে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন কার্যক্রম। কারিগরি দিক ও ওয়ার্ক স্টেশন সংখ্যা বাড়ালে এ কাজ দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে।’
তিনি আরো বলেন, নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের নিবন্ধনের কাজ শেষ হলে পুরানোদের মধ্যে যারা বাদ গেছে তাদেরও নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে।

চালকের আসনে সৌদি নারী; বেকার হওয়ার শঙ্কায় প্রবাসীরা

সৌদি আরবে নারীদের গাড়ী চালানোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর উচ্ছসিত দেশটির নারীরা। এদিকে, সৌদি বাদশাহর এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক মহলেও বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। বাদশাহ সালমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প।
কিন্তু বাদশাহর এই ঘোষণায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে দেশটিতে চালক হিসেবে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের মধ্যে। নারীরা গাড়ি চালানো শুরু করলে চাকরি হারানোর শঙ্কায় এখন লাখো শ্রমিক।
সৌদি আরবের বাসাবাড়ির জন্য লাখ লাখ অভিবাসী চালক রয়েছে। দেশটির এক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু সৌদি নারীদের যাতায়াতের জন্য দেশেটিতে প্রায় ৮ লক্ষ চালক কাজ করে থাকেন। এদের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বাংলাদেশি। অধিকাংশ বাংলাদেশি মধ্যপ্রাচ্যেও দেশগুলোতে গাড়ি চালানোকেই প্রথম পছন্দ হিসেবে নেয়।
পরিসংখ্যানে জানা গেছে, গৃহকর্মে কাজের জন্য নতুন করে লোক নিয়োগের ভিসা দেওয়া শুরুর পর গত দেড় বছরে বাংলাদেশ থেকে অন্তত ৫০ হাজার শ্রমিক চালক হিসেবে সৌদি আরব গেছেন। অনেক বাড়িতে একাধিক চালক কাজ করেন। বর্তমানে একজন গাড়ি চালকের মুজুরি নুন্যতম ১৫’শ রিয়াল। অনেক সময় দেখা যায় তিনটি বাচ্চা তিনটি ভিন্ন ভিন্ন স্কুলে যায়, তাদের তিনজনের জন্যই আলাদা তিনজন গাড়ি চালক নিয়োগ দেয়া হয়। এদের অধিকাংশই বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান বা শ্রীলঙ্কার।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সৌদি নারীরা গাড়ি চালানো শুরু করলে বিপুল সংখ্যক প্রবাসীর চাকরি হুমকিতে পড়বে। সেই সঙ্গে ওই চালকের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোও বিপাকে পড়বে।
এরইমধ্যে সৌদীতে সুপার মার্কেটগুলোতেও মেয়েদের কাজে অংশগ্রহণ বেড়েছে। এতে বহু শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। এবার মেয়েরা গাড়ি চালানো শুরু করলে এর প্রভাব শ্রমবাজারে পড়বে বলেও শঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

ইউরোপের অভিবাসী বান্ধব দেশ পর্তুগাল


দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপের দেশ পর্তুগাল। আটলান্টিক মহাসাগরের দীর্ঘ উপকূল জুড়ে পর্তুগালের অবস্থান। ইউরোপে পর্তুগাল বিখ্যাত তার চমৎকার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতের জন্য, তাই এটিকে সাগর কন্যার দেশও বলা হয়ে থাকে। এছাড়াও সহনিয়  আবহাওয়ার কারণে পর্তুগালে সারা বছরই পর্যটকদের ভীর লেগে থাকে।  প্রাকৃতিক সৌন্দর্যরূপে যেমন সাবলীল পর্তুগাল তেমনি পর্তুগালকে ইউরোপে অভিবাসীদের স্বর্গরাজ্য হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। ইউরোপের অন্যান্য দেশে যেখানে অভিবাসীদের বিষয়ে কঠোর নীতি অনুসরণ করে, সেখানে পর্তুগাল অবৈধ অভিবাসীদের জন্য আছে সহজতম শর্তে বৈধ করণের প্রক্রিয়া। এখানেই পর্তুগালের বিশেষত্ব।

তবে ইউরোপ জুড়ে সন্ত্রাসী হামলা বেড়ে যাওয়ার জের ধরে ইইউ সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় এখন সতর্ক অবস্থানে। আর ইইউ`র চাপে পর্তুগালের অভিবাসন প্রক্রিয়াও দিনকে দিন কঠিন হতে শুরু করে। তার পরেও ইউরোপের অভিবাসী বান্ধব দেশ হিসেবেই বিশ্বজুড়ে এখনও পরিচিত পর্তুগাল। পর্তুগালে বাংলাদেশিদের আগমন খুব বেশিদিন আগের ঘটনা নয়। ১৯৯০ সালের দিকে প্রথম বাঙালীদের আগমন ঘটে ।
তবে ৯০ সালের দিকে সর্বসাকুল্যে ৫ জনের মত বোংলাদেশির বসবাস ছিল পর্তুগালে। ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় এখানে বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা কম। বর্তমানে পর্তুগালে কয়েক হাজার  বাংলাদেশির বসবাস। তবে এ ব্যবাপের সুনিদিষ্ট কোন তথ্য নাই। পর্তুগালে বেশ কয়েকটি বড় বড় শহরের মধ্যে রাজধানী শহর লিসবনে সর্বাধিক বাংলাদেশির বসবাস। এখানে মারতিম মনিজ নামক জায়গাকে বলা যায় একখন্ড ছোট্ট বাংলাদেশ। তাছাড়া দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর হচ্ছে পর্তু সিটি যা একসময়ে পর্তুগালের রাজধানী ছিল। এখানে লিসবনের পরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশির বসবাস।

এছাড়া ভ্রমন পিয়াসীদের জন্য অন্যতম আকর্ষনিয় শহর আলগারবে সেখানেও অল্পসংখ্যক বাংলাদেশিদের বসবাস রয়েছে। একসময়ের পর্তুগিজ কলোনি ব্রাজিল,মুজাম্বিক,কাবু-ভেরদে,গিনে-ভিসাও,পুর্ব তিমুর,মেকাও,ইন্ডিয়ার গোয়া প্রমুখ জায়গার অনেক লোকই পর্তুগালে বসবাস করছে অনেক দিন ধরে. এমনকি কারো কারো দুই পুরুষ ধরে এখানে বসবাস করছে। তার বাইরে ও এখানে বাংলাদেশ,ভারত,পাকিস্তান,নেপাল সহ আরো অনেক দেশের লোক বাস কর। তবে সবচেয়ে বেশি অভিবাসী হচ্ছে চীনের। বলতে গেলে এখানকার সব বড় বড় ব্যাবসা-বানিজ্যের নিয়ন্ত্রক তারাই।

যেহেতু পর্তুগাল ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশ, কাজেই এখানকার নাগরিকরা ইউরোপিয়ান আইন অনুযায়ী সহজেই ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোতে  চাকরি/ব্যবসা-বানিজ্য করতে পারে। পর্তুগালের অভিবাসন আইন অনুযায়ি যে কেউ যদি বৈধভাবে ইউরোপের যেকোন দেশে প্রবেশ করে এবং পর্তুগালে ছয়মাস অবস্থান করে সরকার নির্ধারিত ট্যাক্স পরিশোধ করে তাহলে সে এখানকার রেসিডেন্সির জন্য আবেদন করতে পারে। কেউ যদি ছয় বছর এই রেসিডেন্সি নিয়ে বসবাস করে এবং তার বিরুদ্ধে কোন অপরাধে জড়িত থাকার প্রমান না থাকে তাহলে সে পর্তুগালের নাগরিকত্ব পেতে পারে।
এ বিষয়ে কথা হয় পর্তগাল অভিবাসী বাংলাদেশি সেলিম উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি প্রায় ৭ বছর ধরে বসবাস করছেন পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে। রেস্টুরেন্ট ব্যবসার সাথে জড়িত তিনি। সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘ইউরোপের অন্যান্য দেশ যেমন ইতালি,গ্রিস,ফ্রান্স,স্পেনে নাগরিকত্ব পাওয়াটা অনেক জটিল এবং অনেক দীর্ঘ মেয়াদি প্রক্রিয়া। কাজেই যারা ইউরোপে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চায় তারা সাধারনত পর্তুগালকেই বেছে নেয়। পর্তুগিজ পার্সপোর্টধারী বাঙ্গালিদের অনেকেই এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে ইউকে, সুইজারল্যন্ড,নরওয়ে,সুইডেন সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাস করছেন। তাছাড়া ব্যবসা-বানিজ্য করাটাও এখানে অনেক সহজ। তাই বাংলাদেশিরা এখানে সহজেই নাগরিকত্ব পাওয়ার আগ পর্যন্ত থাকতে পারে, আর এই কারনেই মূলত এখানে বাংলাদেশিরা অভিবাসি হয়।’ রাজধানি লিসবনে প্রায় দেড় হাজারের মত বাংলাদেশির বসবাস আছে।

সেন্ট্রাল লিসবনের মারতিম মনিজ নামক স্থানেই মূলত বাঙ্গালিদের মূল আবাস। তাছাড়া আরিয়স নামক স্থানে ও অনেকের বসবাস রয়েছে। কাজের জায়গার সংকট,স্বল্প বেতন,ভাষাগত জটিলতা ইত্যাদি কারনে মূলত এখানকার বেশিরভাগ বাংলাদেশি ব্যবসা-বানিজ্যের সাথে জড়িত। তাছাড়া ব্যবসা করাটা এখানে অনেক সহজ। অনেক বড় বড় বাংলাদেশি হোল-সেলার রয়েছেন এখানে যারা বিশাল বিশাল বড় বড় শো-রুমের মালিক। এখানকার বাংলাদেশিরা মূলত কাপড়ের পাইকারি ব্যবসা,কসমেটিক্স,গ্রোসারি শপ,কাবাব শপ এবং ট্যুরিস্ট দোকানের ব্যবসার সাথে জড়িত। এর বাহিরে রেষ্টুরেন্ট,ইন্টারনেটের দোকান এবং বিভিন্ন মেলায় খেলনা,প্রয়োজনিয় দ্রব্যাদির স্টলের ব্যবসাও করে থাকেন অনেকে।

তাছাড়া বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকায় বেশ কয়েকটি মাছ-মাংসের ও অন্যান্য দেশি দ্রব্যাদির দোকানও রয়েছে। ব্যবসা-বানিজ্য ও কাজের ফাকে এখানে বাংলাদেশিরা বিভিন্ন জাতীয় দিবস,ধর্মীয় দিবস সমুহ পালন করে থাকে। প্রায় সব অনুষ্ঠানের শেষেই খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন থাকে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জেলা ভিত্তিক সংগঠন সমুহ এসব অনুষ্ঠানের আয়োজনের সাথে জড়িত থাকে। লিসবন শহরে বাংলাদেশিদের দুইটি মসজিদ রয়েছে। একটার নাম বায়তুল মোকাররাম জামে মসজিদ অন্যটা মারতিম মনিজ জামে মসজিদ হিসেবে পরিচিত। এছাড়া পর্তু শহরেও বাংলাদেশিদের একটি জামে মসজিদ রয়েছে। এভাবেই নানা ক্ষেত্রে আজ বাংলাদেশিরা সফলতার স্বাক্ষর রেখে চলেছে।

২০১৮ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ইতালির চার তারকা যুক্ত নতুন লোগো

রাশিয়ায় অনুষ্ঠেয় ২০১৮ বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে সোমবার চার তারকা যুক্ত নতুন লোগো উন্মোচন করেছে ইতালীয় ফুটবল ফেডারেশন (এফআইজিসি)। 
 
ব্রাজিল সর্বাধিক ৫টি বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করলেও একটি কম শিরোপা নিয়ে পরের অবস্থানেই রয়েছে ইতালি। ১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৮২ ও ২০০৬ সালে বিশ্বকাপের শিরোপা জয় করে আজ্জুরিরা। ফেডারেশনের সভাপতি কার্লো তাভেচ্ছিও বলেন,‘ আমাদের ইতিহাসকে সঙ্গী করে তিন বছর আগে শুরু হয়েছিল এফআইজিসি’র নতুন লোগো তৈরির কার্যক্রম। নতুন এই লোগোতে চার বারের বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের একটি দৃশ্যমান প্রমাণ উপস্থাপিত হবে। কারণ গোটা জাতিই এই গৌরবে গৌরবান্বিত।’
 
নতুন লোগো প্রকাশের পাশাপাশি আধুনিক ডিজাইনের ২০১৮ সালের বিশ্বকাপের জন্য জাতীয় দলের নতুন জার্সিও তৈরির কাজ চলছে, যেটি চলতি মাসের শেষদিকে জনসম্মুখে উপস্থাপন করা হবে। ১৯১১ সালে প্রথমবারের মত নীল জার্সি পড়তে শুরু করে আজ্জুরিরা। 

বাসস।

Monday, October 2, 2017

নতুন কর আইনে শঙ্কায় আমিরাত প্রবাসীরা

আগামী ১ জানুয়ারি থেকে আরব আমিরাতে নতুন কর আইন চালু হতে যাচ্ছে। এতে করে বাড়বে পণ্য ও সেবার দাম। এ নিয়ে উৎকন্ঠায় দিন কাটছে বিভিন্ন দেশের প্রবাসীসহ বাংলাদেশিদের মধ্যে। জানা গেছে, নতুন কর আইনে সব ধরনের সিগারেট ও তামাকজাত পণ্য এবং এনার্জি ড্রিঙ্কের উপর ৫০ শতাংশ কর বাড়ানো হবে। এ কর বৃদ্ধি দেশটির ফেডারেল আইন নং ৭ অনুযায়ী কার্যকর হতে যাচ্ছে।
ফেডারেল ট্যাক্স কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব ব্যবসায় তিন লাখ পঁচাত্তর হাজার দিরহাম বা তার বেশি আয় হয় সেসব প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাটের আওতায় আনা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন বছর থেকে খুচরা বাজারে বিভিন্ন পণ্যের উপর ৫% কর আরোপ করা হবে। তবে প্রাথমিকভাবে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যকে এ আইনের আওতার বাইরে রাখার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছেন, কর বাড়ালেও সাধারণের উপর খুব বেশি তার প্রভাব পরবে না।
আমিরাত প্রবাসী বাংলাদেশি আব্দুস সালাম জানান, নতুন এই কর আইনে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস আওতার বাইরে থাকার কথা বলা হলেও কর বৃদ্ধির পরোক্ষ প্রভাব সাধারণ মানুষের উপর থেকে যাবে। এই প্রবাসীর মতে, যেহেতু আমিরাতে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশির কর্মসংস্থান রয়েছে । তাই নতুন ট্যাক্স আইনের প্রভাব তাদের জীবিকার উপর পড়বে এটাই স্বাভাবিক। সালাম জানান, আমিরাতে একজন প্রবাসী গড়ে আড়াই হাজার দিরহাম বেতন পান। বাসস্থান ও খাবার মিলে অর্ধেকের মত চলে যায়। বাকিটা হয়তো দেশে পাঠান।
অন্যদিকে, যাদের আয় একেবারে নিম্ন পর্যায়ের তারা সর্বোচ্চ পাঁচ’শ থেকে এক হাজার দিরহাম আয় করেন। এই প্রবাসী আরো জানান, অনেক প্রবাসী তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বহন নিয়ে শঙ্কিত। যাদের উচ্চ আয় তাদের হয়তো খুব বেশি কষ্ট হবেনা। তবে বেশিরভাগ প্রবাসীর যে গড় আয় তা নিয়ে নতুন করারোপে শঙ্কার কারণ থেকে যায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ থেকে যাওয়া মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ কর্মীর মাথায় থাকে বড় অঙ্কের ঋণের বোঝা। সেখানে তারা খেয়ে না খেয়ে থেকেও দেশের ঋণের টাকা পরিশোধের চিন্তা করেন। কিন্তু নতুন এই কর বৃদ্ধিতে প্রত্যক্ষ না হলেও পরোক্ষ প্রভাব থেকে বাদ পড়বে না প্রবাসীরা।
 

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

সম্পাদকীয় কার্যলয়

Rua padre germano mayar, cristo rio -80040-170 Curitiba, Brazil. Contact: +55 41 30583822 email: worldnewsbbr@gmail.com Website: http://worldnewsbbr.blogspot.com.br

সম্পাদক ও প্রকাশক

Jahangir Alom
Email- worldnewsbb2@gmail.com
worldnewsbbbrazil@gmail.com
 
Blogger Templates