Saturday, April 23, 2016
জয়ের ফেসবুক মন্তব্যেই শফিক রেহমানকে গ্রেফতার : মির্জা ফখরুল
প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগকে কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জয়কে অপহরণ বা দৈহিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ মার্কিন আদালত আমলে নেয়নি। শুধু জয়ের ফেসবুকে দেয়া একটা পোস্টের ওপর ভিত্তি করে সাংবাদিক শফিক রেহমানকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। যা অমানবিক। আজ শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে সজীব ওয়াজেদ জয়কে ‘অপহরণ চক্রান্তে’ এফবিআই কর্মকর্তাকে ঘুষ দেয়ার মামলার বিচারে তার ৩০০ মিলিয়ন ডলারের সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য উঠে এসেছে। ওই বিচারের সূত্র ধরে শফিক রেহমানকে গ্রেফতার করা হলেও সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে সরকার টু শব্দটিও করছেনা কেনো? মন্তব্য করেন বিএনপির মহাসচিব। শনিবার সকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জমির উদ্দিন সরকার, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদ্ল্লুাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ড. ওসমান ফারুক, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ দফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, হাবিবুর রহমান হাবিব, চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবীর খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। জয়কে অপহরণ চক্রান্তের যে অভিযোগ শফিক রেহমানের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে তা কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন দাবি করে মির্জা ফখরুল সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমেরিকান নাগরিক রিজভী আহমেদ সিজারের বিরুদ্ধে আমেরিকান আদালতে যে মামলা হয়েছিল, তাতে ২০১১ সালে তিনি সজীব ওয়াজেদ জয় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার লক্ষ্যে একজন এফবিআই এজেন্টকে তার এক বন্ধুর মাধ্যমে এক হাজার ডলার ঘুষ দিয়েছিলেন এবং কিছু নথি পেয়েছিলেন। তার অপরাধ ছিল সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেয়া এবং এফবিআই কর্মকর্তার অপরাধ ছিল ঘুষ নেয়া ও বিনা অনুমতিতে সরকারি দলিল কোনো ব্যক্তিবিশেষকে হস্তান্তর করা। এই মামলা চলাকালে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আদালতে যে প্রতিবেদন পেশ করা হয়েছিল, তাতে ২০১৩ সালের ৯ মার্চ সজীব ওয়াজেদ জয় তার ফেসবুকে যে বক্তব্য পোস্ট করেছিলেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে রিজভী আহমেদ সিজারের দুটি উদ্দেশ্য উল্লেখ করা হয়। একটি হলো জয়ের জীবনযাপন ও দুর্নীতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া এবং অন্যটি তাকে অপহরণ ও দৈহিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা। বিএনপির মহাসচিব বলেন, বিচার চলাকালে জয়ও নিজেকে ‘ভিকটিম’ দাবি করে অভিযোগ করেন- সিজার তাকে অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু ২০১৫ সালের ৪ মার্চ দেয়া রায়ে জয়কে অপহরণ ও দৈহিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণযোগ্য ও যুক্তিগ্রাহ্য তথ্য না পেয়ে আদালত অভিযুক্ত রিজভী আহমেদ সিজারকে এই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন এবং জয়কে ভিকটিম হিসেবে মানতে রাজি হননি। এ সময় মির্জা ফখরুল ওই মামলার রায়ের কিছু অংশও তুলে ধরেন। তিনি আরো বলেন, মামলার রায়ে প্রমাণিত হয় যে রিজভী আহমেদ সিজার প্রকৃতপক্ষে জয় ও তার মা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে বিব্রত ও দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে উপস্থাপনের প্রমাণ হিসেবে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন এবং কিছুটা সফলও হয়েছিলেন। মির্জা ফখরুল দাবি করেন, ওই মামলায় জয় এবং ৩০০ মিলিয়ন ডলার নিয়ে সন্দেহজনক একটিভিটি রিপোর্ট এফবিআই মেমোর সাথে জমা ছিল। তিনি বলেন, আদালতে পেশকৃত মার্কিন সরকারের ডকুমেন্টে উল্লিখিত ইন্ডিভিজুয়্যাল ওয়ান অর্থাৎ সজীব ওয়াজেদ জয় ও ৩০০ মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে সরকার টু শব্দটি করছে না কেনো? শেয়ার মার্কেট ও ব্যাংকগুলোর যে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হয়েছে তারও কোনো বিচার হচ্ছে না। এই দুই বিষয়ের মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি-না, এটা জানার অধিকার অবশ্যই জনগণের আছে। আর তাই জনগণ এ ব্যাপারে নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত চায়। জনগণ জানতে চায় যে, সন্দেহজনক এই লেনদেনের ৩০০ মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার উৎস কি, এই বিপুল অর্থের প্রকৃত মালিক কে? কোনো বিশেষ ব্যক্তি না বাংলাদেশের জনগণ? আমরা আশা করি সরকার জনগণের এসব প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব দেওয়ার জন্য দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বিএনপির মহাসচিব দাবি করেন, শুধু জয়ের ফেসবুকে দেয়া একটা পোস্টের ওপর ভিত্তি করে ঢাকায় পুলিশ হেড কোয়ার্টারের নির্দেশে এফআইআর হলো, গোপনে তদন্ত ও মামলা হলো। মামলাকে ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিচার হওয়া মামলার অভিযোগপত্র, আদালতে জমা দেয়া সরকারের লিখিত প্রতিবেদন, অভিযুক্ত বা সাক্ষীদের কোনো জবানবন্দি, মামলার রায়, এমনকি ঢাকার রমনা থানায় করা এফআইআর বা পল্টন থানায় করা মামলার কোথাও সাংবাদিক শফিক রেহমান, মাহমুদুর রহমান বা বিএনপির কোনো নেতার নাম উল্লেখ নেই। অথচ শফিক রেহমানকে গ্রেফতার করে হয়রানি করা হচ্ছে, মাহমুদুর রহমানকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। একই কাল্পনিক অভিযোগে দেশ-বিদেশে থাকা বিএনপির ঊর্ধ্বতন নেতাদের সম্পর্কে যথেচ্ছ অভিযোগ করে বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। মির্জা ফখরুল আরো বলেন, সরকার হওয়ার কথা দেশের ও জনগণের। সেই জনগণের সম্পদ রক্ষার পরিবর্তে গুটি কতক মানুষকে অন্যায়ভাবে সম্পদের মালিক হতে দেয়ার অধিকার কোনো সরকারের থাকতে পারেনা। নির্বিঘ্নে এসব লুটপাট চলতে দেয়ার ফলে আজ দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ পর্যন্ত চুরি করা হয়েছে। এটা বন্ধ করা না গেলে আমাদের প্রিয় দেশটা ফতুর হয়ে যাবে। তিনি বলেন, মিথ্যা অভিযোগে আটক সাংবাদিক শফিক রেহমানের মুক্তি ও সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে অন্যায়ভাবে ফাঁসানোর চক্রান্ত বন্ধ করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানাচ্ছি। কাল্পলিক এবং মার্কিন আদালতে ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত অভিযোগে দেশে-বিদেশে অবস্থানরত বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা থেকে বিরত থাকার জন্য সরকার ও সরকারি দলের নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। একই সাথে এ ব্যাপারে বিএনপি নেতাদের অন্যায়ভাবে বিব্রত ও ক্ষতিগ্রস্থ করার লক্ষ্যে যে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করা হয়েছে তা প্রত্যাহার করার জন্য জোর দাবি জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, আমরা স্পষ্ট ভাষায় ফের উল্লেখ করতে চাই যে, বিএনপি একটি জাতীয়তাবাদী দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক দল হিসাবে অপহরণ কিংবা হত্যার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। বরং বর্তমানে ক্ষমতাসীনদের আমলেই বিএনপি এবং এর অঙ্গদল ও সহযোগী সংগঠনের হাজারো নেতা-কর্মী অপহরণ ও হত্যার শিকার হয়েছে- যার কোনো বিচার আজো হয়নি। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, আজ হোক কাল হোক এসব রাজনৈতিক অপহরণ ও হত্যার বিচার হবেই ইনশাআল্লাহ।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment