কেউ বলে 'বনের শহর', কেউ আবার ডাকে 'আমাজন বনের হৃদয়'—ব্রাজিলের শহর মানাউসের পরিচয় এরকমই। নেগ্রো ও সলিমস নদীর প্রান্ত ঘেঁষে আমাজন বনের ঠিক মাঝে অবস্থিত এই শহরে বছর জুড়ে পাখির ডাক শোনা যায়।
ছায়া ঢাকা আর বন-বনানীতে ঘেরা শান্ত এই শহর একবার বিশ্বকাপের দোলায় জেগে উঠেছিল ১৯৭০ সালে। মেক্সিকো বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার আগে কিছুদিন আমাজনের এই শহরে থেকেছিল পেলের ব্রাজিল। আমাজনের রাজ্য দলের সঙ্গে একটি ম্যাচও খেলেছিল বিশ্বজয়ী সেই ব্রাজিল, জিতেছিল ৪-১ গোলে।
খুব বেশি নয়, মানাউসের আমাজনিয়ায় বিশ্বকাপের মাত্র ৪টি ম্যাচই হয়েছে। চারটিই গ্রুপ পর্বের ম্যাচ। তবে ব্রাজিলের উর্বর এই ভূমিতে পা পরেছে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জানলুইজি বুফ্ফনের। তার দল ইতালি এই মানাউসেই গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলেছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।
এই ম্যাচটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল সূচি হওয়ার পর থেকেই। মানাউসের উচ্চ তাপমাত্রা আর কঠিন আবহাওয়ার কারণে ইংল্যান্ড দলের চিন্তার শেষ ছিল না। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে এমন জায়গায় ম্যাচ আয়োজনের ঢের সমালোচনাও হয়েছে।
বাইরে থেকে আমাজনিয়ার শহর মানাউসে ঢোকার জন্য কোনো সড়ক যোগাযোগ নেই। দলগুলো এবং তাদের সমর্থকদের সেখানে যেতে হয়েছে নদীপথে অথবা আকাশ পথে।
তবে এসবই হয়েছে স্টেডিয়ামটির পুনসংস্কারের পর। ১৯৭০ সালে তৈরি স্টেডিয়ামটি কয়েক দফা সংস্কার করা হয়। যার সর্বশেষটি এই বিশ্বকাপের জন্য।
মানাউসের এই স্টেডিয়ামে ২০১৪ সালে পা পরেছে সময়ের অন্যতম সেরা তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর। গ্রুপ পর্বে তার দল পর্তুগাল যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হয়েছে এখানেই।
এক নজরে:
ধারণক্ষমতা: ৪২ হাজার ৩৭৪
নির্মাণ: ১৯৭০ (কয়েক দফা সংস্কারের পর ২০১৪ সালে আবার উদ্বোধন করা হয়)
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা: ৭২ মিটার (২৩৬ ফুট)
জলবায়ু: ক্রান্তীয় গরমের সঙ্গে ক্রান্তীয় ঝড়ের সম্ভাবনা। তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, জুন মাসে বজ্রপাতের সম্ভাবনা ৪০ শতাংশ। বাতাসের আর্দ্রতা থাকতে পারে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত।
অবস্থান: বিশ্বকাপে আয়োজক শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উত্তরে মানাউস, আমাজনাসের রাজধানী।
ম্যাচ: গ্রুপ পর্বের ৪টি ম্যাচ।


No comments:
Post a Comment