ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার সরকারি অফিসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার শিকার হতে পারেন। তার বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে এরকম একটি প্রস্তাব পাসের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাবও পাস হতে পারে। বিরোধী নেতা জেরেমি করবিনও এই ধরনের প্রস্তাব পাসের ব্যাপারে সায় দিয়েছেন। সম্প্রতি ইরাক যুদ্ধে ব্রিটেনের অংশগ্রহণ নিয়ে চিলকট রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তবে তিনি এজন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তিনি ইরাক যুদ্ধের দায়ভার নিজের কাঁধে নিয়েছেন। খবর ইন্ডিপেন্ডেন্ট ও ডেইলি মেইল অনলাইনের।
প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন মিথ্যা তথ্য দিয়ে ইরাক যুদ্ধে অংশ নেয়ায় তাকে নিয়ে ব্রিটেনে এখন সমালোচনার ঝড় বইছে। তার উপ-প্রধানমন্ত্রীও সম্প্রতি বলেছেন, ইরাক যুদ্ধ ছিল অবৈধ। গত ৬ জুলাই ইরাক যুদ্ধ নিয়ে ‘চিলকট রিপোর্ট’ নামে ঐতিহাসিক এই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, ২০০৩ সালে ব্রিটেন মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে মিলে ইরাকে যে হামলা চালিয়েছে, তা কোনো যৌক্তিক বিবেচনার ভিত্তিতে ছিল না। দেশটিকে নিরস্ত্র করার শান্তিপূর্ণ উপায়গুলো পাশ কাটিয়ে ওই হামলা চালানো হয়। ভবিষ্যতে কোনো দেশে হস্তক্ষেপ কিংবা হামলা চালানোর আগে এই প্রতিবেদনের শিক্ষাগুলো মাথায় রাখতে ব্রিটিশ সরকারকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর ব্লেয়ারের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তদন্ত প্রতিবেদন তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল। ২০০৯ সালে সাবেক সরকারি কর্মকর্তা স্যার জন চিলকটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ব্লেয়ার যাতে কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে না পারেন এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য থাকতে না পারেন সেজন্য আইনি নিষেধাজ্ঞা জারির দাবিও উঠেছে ইতোমধ্যে। চলতি সপ্তাহেই পার্লামেন্টে স্পিকারের অনুমোদনের জন্য নিন্দা প্রস্তাবটি পেশ করা হতে পারে। এরপর প্রস্তাবকরা জানিয়েছেন, এতে সরকারি অফিসে ব্লেয়ারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির প্রস্তাব থাকতে পারে। প্রাইভেসি কাউন্সিল থেকে তাকে সরিয়ে দেয়া হতে পারে। লেবার নেতা করবিন গতকাল এই ধরনের প্রস্তাবে সমর্থন দিয়ে জানিয়েছেন, ব্লেয়ার ইরাক যুদ্ধ পার্লামেন্টের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন কিনা সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন এমপিরা।


No comments:
Post a Comment