অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে খেলার শুরুতে হারালেও তাতে দমে যায়নি পর্তুগাল। বরং ইনজুরির কারণে ছিটকে পড়ে মাঠের বাইরে থাকা অধিনায়কের অনুপ্রেরণাতেই স্বাগতিক ফ্রান্সকে ১২০ মিনিটে গড়ানো খেলাটিতে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ইউরোর শিরোপা জিতল পর্তুগাল।
অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো খেলাটিতে ১০৯ মিনিটে গোলটি করেন বদলি স্ট্রাইকার এডের। এই জয়ের মধ্যদিয়ে প্রথম কোনো বড় আন্তর্জাতিক ট্রফি জিততে না পারার বন্ধ্যত্বও ঘুচালো ইউরোপের অন্যতম ফুটবল শক্তি কিংবদন্তি ইউসেবিও, লুই ফিগোদের দেশ। এ বন্ধ্যত্ব ঘুচতে পারত ২০০৪ সালের ইউরোতে। কিন্তু সেবার পর্তুগাল স্বাগতিক হয়েও ফাইনালে অপ্রত্যাশিতভাবে গ্রিসের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায়।
ফ্রান্সের জাতীয় স্টেডিয়াম স্টেড ডি ফ্রান্সে এবারের ইউরোয় পুরো টুর্নামেন্টের পাশাপাশি ফাইনালেও ফেভারিট ছিল স্বাগতিকরা। ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জেতানো জিনেদিন জিদানদের অধিনায়ক দিদিয়ের দেশ্যাম ছিলেন এবারের দলটির কোচ। কিন্তু তাকেও হতাশ করে গত রবিবার রাতে দুঃস্বপ্ন বয়ে এলো মাঠটিতে।
বর্তমান বিশ্বের সেরা দুই ফুটবলারের অন্যতম রোনালদোর ২৫তম মিনিটে ইজুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়ার সুযোগটিও কাজে লাগাতে পারেনি ফ্রান্স। যদিও নির্ধারিত সময়ের শেষদিকেই জয়ের সুযোগ এসেছিল তাদের। কিন্তু বদলি খেলোয়াড় আন্দ্রে পিয়েরে জিগনাকের শটটি পোস্টের ভেতরের অংশে লেগে ছিটকে না গেলে জয় হতে পারত ফরাসিদেরই।
এমনকি পর্তুগালের গোলটির আগের মিনিটে ফ্রিকিক থেকে বল ক্রসবারে লাগান রাফায়েল গুয়েরেইরো। পরের মিনিটেই আসে এডেরের ইতিহাস গড়া গোলটি। ২৫ গজ দূর থেকে মাটি কামড়ানো শটে ফ্রান্স অধিনায়ক ও গোলরক্ষক হুগো লরিসকে পরাস্ত করেন এই পর্তুগিজ স্ট্রাইকার। যিনি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল সোয়ানসিতে এ বছরের শুরুতেও ব্যর্থ সময় কাটানোর পর ফরাসি লিগের দল লিলিতে পাড়ি জমান।
এডের পরে জানান রোনালদো তার উপর আস্থা রেখেছিলেন, বলেছিলেন তিনিই নাকি জয়সূচক গোলটি করবেন। বাস্তবে হলোও তাই। রোনালদো অবশ্য নিজে পুরো সময় খেলতে না পারলেও পরবর্তী সময়ে আরো অভাবনীয় কাজ করেন। অতিরিক্ত সময়ের আগে বিরতিতে দল সঙ্গীদের মাঠে গিয়ে উত্সাহ দেন। শেষ দিকে তো মনে হচ্ছিল ফার্নান্দো সান্তোস নয় রিয়াল মাদ্রিদের তারকাটিই বোধ হয় পর্তুগাল কোচ। রেফারির শেষ বাঁশির পর মাঠ ছাড়ার সময়ের মতো আবারো অশ্রুসজল হন তিনি। কারণ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও রিয়ালের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতলেও জাতীয় দলের হয়ে শিরোপাহীন ছিলেন তিনি।
জয়ের এ আনন্দে শুধু রোনালদোই নন, আবেগে বানভাসি হওয়ার মধ্যেই অশ্রুসজল হয় আরো বহু পর্তুগীজ। কেননা এ ট্রফিটির জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষায় থাকতে হয়েছে তাদের। ২০০৬ বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল তারা, ২০০৮ সালের ইউরোয় কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে আর এগুতে পারেনি। ২০১২ সালের ইউরোয় শেষ চার থেকে বিদায় নিয়েছিল ইউসেবিওর দেশটি।


No comments:
Post a Comment