Social Icons

Monday, July 11, 2016

গুলশান হামলা দাওয়াতুল ইসলামের কাজ!

*ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা রুমালে লেখা—দাওয়াতুল ইসলাম বাংলাদেশে টিকে থাকবে*হিযবুত, জেএমবি ও এবিটির সদস্যরা থাকতে পারে দাওয়াতুল ইসলামে

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে রোমহর্ষক জঙ্গি হামলা ও পরে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে কমান্ডো অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে অন্যান্য আলামতের সঙ্গে একটি রুমাল উদ্ধার করা হয়েছে। সাদা কাপড়ের এই রুমালে বাংলায় কালো অক্ষরে লেখা রয়েছে, ‘দাওয়াতুল ইসলাম বাংলাদেশ টিকে থাকবে’। জঙ্গিদের নারকীয় হত্যাযজ্ঞে সেদিন (১ জুলাই) রক্তাক্ত হয় হলি আর্টিজানের নীচতলার প্রায় পুরো মেঝে। তবে মেঝে থেকে উদ্ধার করা রুমালে কোনো রক্তের দাগ ছিল না। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, জঙ্গিরা তাদের সংগঠনের পরিচয় জানান দিতেই মেঝের ওই জায়গাটি পরিষ্কার করে সেখানে রুমালটি ফেলে রাখে।
 
আর্টিজান বেকারিতে হামলার ঘটনায় গুলশান থানায় এসআই রিপন কুমার দাস বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় ঘটনাস্থল থেকে জব্দকৃত মালামালের তালিকায় এক নম্বরে রয়েছে এই রুমাল। তবে রুমালে কি লেখা রয়েছে সে সম্পর্কে মামলায় কিছু বলা হয়নি। রুমাল ছাড়া জব্দ তালিকায় আরো রয়েছে ৫টি নাইন এমএম পিস্তল, তিনটি একে ২২ মেশিনগান, ১৩টি ম্যাগাজিন, নাইন এমএম ক্যালিবারের ৬টি তাজা গুলি, সেভেন পয়েন্ট সিক্সফাইভ ক্যালিবারের ২৮টি গুলি, একে-২২ এর ৩৫টি গুলি, পয়েন্ট টুটু বোরের ৪৪টি গুলি, ৬ পয়েন্ট ১৬ ক্যালিবারের ১২টি গুলি, সেভেন পয়েন্ট সিক্সটু ক্যালিবারের দুইটি গুলি, একই ক্যালিবারের ১৯৫টি গুলির খোসা, নাইন এমএম ক্যালিবারের গুলির ১০৫টি খোসা, নয়টি গ্রেনেড সেফটি পিন, দুটি ছোরা, একটি চাপাতি ও একটি চাকু। অস্ত্রশস্ত্রের পাশাপাশি জব্দ তালিকায় শুধু রুমালটিই গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে স্থান পেয়েছে।
 
গুলশানের এই হামলার ঘটনাটি মনিটরিং করছে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট। এই ইউনিটের একজন কর্মকর্তা বলেন, হামলাকারী ৫ জঙ্গির মধ্যে ২ জন জেএমবির সদস্য। বাকি ৩ জন উচ্চবিত্ত ঘরের সন্তান হলেও এদের সঙ্গে হিযবুত    তাহরীরের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তবে একাধিক জঙ্গি সংগঠনের সমন্বয়ে আরো একটি জঙ্গি সংগঠন গঠন হতে পারে যেখানে জেএমবি, হিযবুত তাহরীর ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সদস্যরা জড়িত থাকতে পারে।
 
ঘটনাস্থল থেকে একটি সাদা কাপড়ের রুমাল উদ্ধার প্রসঙ্গে ওই কর্মকর্তা বলেন, রুমালে লেখা রয়েছে—দাওয়াতুল ইসলাম বাংলাদেশ টিকে থাকবে। এই লেখার সঙ্গে নিশ্চয়ই তাদের কোন ম্যাসেজ রয়েছে। তারা নিজেদেরকে দাওয়াতুল ইসলাম বাংলাদেশ নামের সংগঠনের সদস্য বলে জানান দিতে চেয়েছে।
 
ইন্টারনেটে ঘেঁটে দেখা গেছে ফেসবুকে দাওয়াতুল ইসলাম বাংলাদেশ নামে একটি পেজ খোলা আছে। সেটিতে মাত্র একজন লাইক দিয়েছেন। দাওয়াতুল ইসলাম বাংলাদেশ সংগঠনটি সম্পর্কে জুয়েল রানা নামে এক যুবক নিজেকে প্রকৌশলী পরিচয় দিয়ে ব্লগে ২০১৪ সালের ৩১ জানুয়ারি একটি লেখা লিখেছেন। সেখানে কোরআন ও ক্কিতাল জিহাদের কথা উল্লেখ করে মুসলমানদের অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ে পৃথক সৈন্যদল গঠন করে বেরিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহর রাস্তায় লড়াই করে অত:পর মৃত্যুবরণ করে কিংবা বিজয় অর্জন করে, আমি তাদেরকে মহাপূণ্য দান করব’।
 
আন্তর্জাতিকভাবে দাওয়াতুল ইসলাম সংগঠনটি ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডে সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। বাংলাদেশে দাওয়াতুল ইসলাম বাংলাদেশ কারা চালায় এ ব্যাপারে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
 
উকিপিডিয়াতে দাওয়াতুল ইসলাম সম্পর্কে বলা হয়েছে, এটি লন্ডনভিত্তিক একটি সংগঠন। পাকিস্তানের জামায়াত-ই-ইসলাম ও ইউকে ইসলামী মিশন সংগঠনটিকে অর্থায়ন করে।

No comments:

Post a Comment

 

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

সম্পাদকীয় কার্যলয়

Rua padre germano mayar, cristo rio -80040-170 Curitiba, Brazil. Contact: +55 41 30583822 email: worldnewsbbr@gmail.com Website: http://worldnewsbbr.blogspot.com.br

সম্পাদক ও প্রকাশক

Jahangir Alom
Email- worldnewsbb2@gmail.com
worldnewsbbbrazil@gmail.com
 
Blogger Templates