মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে হিলারি ক্লিনটন জিহাদিদের অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন বলে দাবি করেছেন আলোচিত দুর্নীতিবিরোধী ওয়েব-সাইট উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। তিনি দাবি করেছেন, এই জিহাদিদের মধ্যে ইরাক ও সিরিয়া ভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটও (আইএস) রয়েছে। তবে হিলারি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। যদিও অ্যাসাঞ্জ দাবি করেছেন, তার কাছে প্রমাণ আছে। হিলারির ফাঁস হওয়া ই-মেইল থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে ডেমোক্রেসি নাউকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে এমন দাবি করেছে তিনি। গতকাল মঙ্গলবার পলিটিক্যাল ইন-সাইডারসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। অন্যদিকে বেনগাজিতে মার্কিন কনস্যুলেটে ২০১২ সালে হামলায় নিহত একজনের পরিবার হিলারির বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
অ্যাসাঞ্জ দাবি করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দ্বিতীয় মেয়াদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে হিলারি কাতারে অস্ত্র পাঠানোর অনুমতি দিয়েছিলেন। এই দেশটি মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুড এবং লিবিয়ার বিদ্রোহীদের বন্ধু হিসেবে পরিচিত। লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিদ্রোহীদের কাছে অস্ত্র পাঠানো হয়। এরপর সেই অস্ত্র সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আল-কায়েদার কাছে সরবরাহ করা হয়। হিলারি তথাকথিত ‘ফ্রেন্ডস অব সিরিয়া’কেও (আল কায়েদা/ আইএস) অস্ত্র সহায়তা দেন। উদ্দেশ্য সিরিয়ায় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টিলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) কর্মকান্ডকে যাতে আল-কায়েদা ও আইএস সমর্থন করে। লিবিয়ার বেনগাজিতে মার্কিন দূতাবাসে হামলার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির কাছে ২০১৩ সালে দেওয়া সাক্ষ্যে হিলারি এই অস্ত্র পাঠানোর বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন। কিন্তু এরপরও অ্যসাঞ্জ দাবি করেছেন, লিবিয়া, সিরিয়া, আল-কায়েদা এবং আইএসের সঙ্গে তার সম্পর্ক থাকা সংক্রান্ত ১৭০০ ই-মেইল তাদের কাছে আছে। বেনগাজি ইস্যুতে পরে হিলারি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন হিলারির ব্যক্তিগত সার্ভার থেকে আদান-প্রদান করা ৩০ হাজারেরও বেশি ই-মেইল গত মার্চ মাসে ফাঁস করে উইকিলিকস। উইকিলিকস হিলারির ই-মেইল ফাঁস করেছে কেন সেই বিষয়ে ডেমোক্রেসি নাউ এর পক্ষ থেকে অ্যাসাঞ্জের কাছে জানতে চাওয়া হয়। উত্তরে তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে হিলারির ভূমিকার চেয়ে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিভাবে চলে।
লিবিয়ায় মার্কিন অভিযানকে ‘সর্বনাশা’ উল্লেখ করে অ্যাসাঞ্জ বলেন, ‘গাদ্দাফি সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে লিবিয়ার একটি বিশাল অংশজুড়ে আইএসের উত্থান হয়েছে। সেখান থেকে হিলারির অনুমোদন সাপেক্ষে সিরিয়ায় আইএসসহ অন্য জিহাদিদের কাছে অস্ত্র সরবরাহ হয়েছিল। আর এগুলো তার ই-মেইলে পাওয়া গেছে। এর আগে জুলাইয়ে ডেমোক্র্যাট দলের কর্মীদের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া ১৯ হাজারেরও বেশি ই-মেইল ফাঁস করে উইকিলিকস। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হিলারির প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে বার্নি স্যান্ডার্সকে পরিকল্পিতভাবে হারানো হয় বলে ওইসব ই-মেইলে তথ্য পাওয়া যায়। উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের আমলে মার্কিন জিম্মিদের উদ্ধারে ইরানের কাছে অস্ত্র বিক্রি করা হয়েছিল যার অর্থ কন্ট্রা বিদ্রোহীদের দেওয়া হয়েছিল। এই কেলেঙ্কারি সারা বিশ্বের আলোচিত কয়েকটি কেলেঙ্কারিগুলোর মধ্যে অন্যতম।
হিলারির অর্থনৈতিক নীতি
হিলারি ক্লিনটন ধনীদের উপর কর বৃদ্ধি করতে চান। চাকরির প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে তিনি আরো অর্থ ব্যয় করতে চান। যেসব কোম্পানিতে বেশি আমেরিকান কাজ করবেন সেগুলোর উপর করের বোঝা কমাতে চান হিলারি।


No comments:
Post a Comment