Social Icons

Tuesday, January 5, 2016

সমাবেশে সৈয়দ আশরাফ - আসুন, শান্তিপূর্ণ রাজনীতি এগিয়ে নিয়ে যাই

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, ‘আসুন শান্তিপূর্ণ রাজনীতি এগিয়ে নিয়ে যাই। দেশে নির্বাচন হবে, সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। ওই নির্বাচনে একটিও হত্যার প্রয়োজন হবে না। জননেত্রী (শেখ হাসিনা) সেই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন। আমরাও এটাই চাই।’ গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ৫ জানুয়ারিকে গণতন্ত্রের বিজয় দিবস হিসেবে পালনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ আশরাফ গত বছরের ৫ জানুয়ারি ঘিরে বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের সমালোচনা করেন। খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘কিসের জন্য এই আন্দোলন? ৬৫ জনকে হত্যা করলেন, দেড় হাজার মানুষকে আহত করলেন। অর্থনীতির ক্ষতি হলো ১৭ হাজার ১৫০ কোটি টাকার। গাড়ি পোড়ালেন ৭০০। পরীক্ষা বন্ধ করলেন। কিসের জন্য? গণতন্ত্রের জন্য? গণতন্ত্রের জন্য মানুষ হত্যা করতে হয় না। গাড়ি পোড়াতে হয় না। আসলে আপনি দেশটা অকার্যকর করতে চেয়েছিলেন, যাতে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে না পারি। এ জন্য আপনি রক্তের হোলিখেলা খেলেছিলেন। বাংলাদেশের মানুষ আপনার অপকর্ম কোনো দিন ভুলে যাবে না।’ সমাবেশে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় বেশ কয়েকজন নেতা ও মন্ত্রী বক্তব্য দেন। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, ‘৫ জানুয়ারির নির্বাচন না হলে দেশে সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হতো। আর সে জন্যই ৫ জানুয়ারি নির্বাচন করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যে সংবিধান তৈরি হয়েছে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে তা রক্ষা হয়েছে। এই সংবিধানকে সারা বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে পরিগণিত করা হয়।’ শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ আজ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে চলেছে। ষড়যন্ত্রকারীদের তা পছন্দ হচ্ছে না। তারা চায় পাকিস্তান-আফগানিস্তানের মতো বাংলাদেশও ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হোক। তারা দেশে জঙ্গিবাদ-উগ্রবাদ সৃষ্টি করে বাইরের শক্তিকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। সেই ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে আজ আমাদের শপথ নিতে হবে।’ কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বর পৌর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে বিএনপি প্রমাণ করল যে গাধা পানি ঘোলা হলে খায়। তারা ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার ভুলের মাসুল দিচ্ছে।’ মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তিনি পাকিস্তানের প্রেমে এতটাই মশগুল যে তাদের মেহমানদারী এখনো ভুলতে পারছেন না। তাই তিনি আমাদের শহীদদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর চামচারা আরো কুিসতভাবে সেটা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।’ সমাবেশে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, মাহবুব-উল-আলম হানিফ, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য দেন। আলোচনার আহ্বান নাকচ করলেন শেখ সেলিম : গতকাল বিএনপির সমাবেশ থেকে দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সরকারের প্রতি আলোচনায় বসার যে আহ্বান জানিয়েছেন তা নাকচ করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। তিনি বলেছেন, ‘সন্ত্রাসী, নাশকতাকারী, জঙ্গিদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হতে পারে না। বিশ্বের অন্য দেশে সন্ত্রাসীদের যেভাবে দমন করা হয় আমরাও তাদের সেভাবে দমন করব। এখানে কোনো আলোচনা হতে পারে না। খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনি তো সবই পারেন, এখন আলোচনা কেন?’ শেখ সেলিম গতকাল বিকেলে রাজধানীর রাসেল স্কয়ারে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন। গণতন্ত্রের বিজয় দিবস উদ্যাপনে সমাবেশটির আয়োজন করা হয়। সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, ‘খালেদা জিয়া বলেছেন উনি আলোচনা চান। আরে কান্দার কী আছে! চোখের জল, নাকের জল এক হয়ে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা দশম জাতীয় সংসদের আগে তাঁকে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন। উনি ভেবেছিলেন শেখ হাসিনা বোধ হয় দুর্বল হয়ে গেছেন। আর একটু ধাক্কা দিলেই সরকার পড়ে যাবে। এ জন্য আরো জ্বালাও-পোড়াও শুরু করেন। কিন্তু সরকার পতনে ব্যর্থ হন।’ শেখ সেলিম বলেন, ‘উনার সঙ্গে কিসের আলোচনা? ৪৪ বছর পরে যদি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্ভব হয়ে থাকে তাহলে ২০১৪ সালে এ দেশে মানুষ পুড়িয়ে মেরে খালেদা জিয়া যে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন তারও বিচার হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘যারা একসময় জঙ্গি তৎপরতায় জড়িয়ে পড়ে তারা আর কোনো দিন ফিরে আসে না। যত জঙ্গি, সন্ত্রাসী এদের নেতা খালেদা জিয়া। জামায়াত, আল-কায়েদা, আইএস, জেএমবি—এদের সবার নেতা খালেদা জিয়া।’ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে শিল্পমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত এ দেশকে নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র করেছে। ভবিষ্যতে আরো অনেক ষড়যন্ত্র হবে। সে বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। ২০১৯ সালে নির্বাচন হবে। পৌরসভা নির্বাচনের মতো সে নির্বাচনেও আমরা আবার বিজয়ী হব।’ খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনে কেউ ব্যর্থ হলে সে আর জিততে পারে না। আপনি ব্যর্থ হয়েছেন, সে জন্য এখন আর আপনি জিততে পারবেন না। আর আপনার আন্দোলন সত্যিকারের আন্দোলন ছিল না। আপনি তো আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছেন।’ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ‘পৃথিবীতে এখন ক্ষমতা বদলের একটাই পথ, নির্বাচন। আপনাকে নির্বাচনের পথেই চলতে হবে।’ খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সংবিধান পড়ে দেখবেন। সেখানে অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণ করলে তাদের মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। ফলে এই ভেজালে এখন আর কেউ আসবে না।’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘২০১৯ সালে সংসদ নির্বাচন হবে। আমি বলে রাখছি, খালেদা জিয়া অবশ্যই সেই নির্বাচনে ধানের শীষ নিয়ে অংশ নেবেন।’ সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা সাহারা খাতুন, দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আহমদ হোসেন, হাছান মাহমুদ, মুহাম্মদ ফারুক খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক প্রমুখ।

No comments:

Post a Comment

 

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

সম্পাদকীয় কার্যলয়

Rua padre germano mayar, cristo rio -80040-170 Curitiba, Brazil. Contact: +55 41 30583822 email: worldnewsbbr@gmail.com Website: http://worldnewsbbr.blogspot.com.br

সম্পাদক ও প্রকাশক

Jahangir Alom
Email- worldnewsbb2@gmail.com
worldnewsbbbrazil@gmail.com
 
Blogger Templates