যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশ থেকে মোট আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাকপণ্য রফতানি করে । ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশে শ্রমনিরাপত্তাহীনতার কারণে এ দুই বাজার থেকে ক্রয়াদেশ ঘাটতিতে পড়েছেন পোশাক তৈরির শিল্প মালিকরা।
অনেকটা চাপে পড়েই বিকল্প বা অপ্রচলিত বাজার থেকে আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যবসা প্রসারে উদ্যোগী হয়েছেন তারা। লাতিন আমেরিকার বাজার ধরতে সম্প্রতি ব্রাজিল সফরে যান বেশ কয়েকজন উদ্যোক্তা।
তৈরি পোশাক রফতানি আয়ের মূল গন্তব্যের মধ্যে আছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৪ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রতি মাসেই আয় কমেছে দেশটি থেকে। এদিকে একক দেশ হিসেবে ইউরোপের জার্মানি থেকে পোশাক রফতানি আয় কমছে। ক্রেতারা ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশে শ্রমনিরাপত্তাহীনতার অজুহাতে বাংলাদেশে ক্রয়াদেশ দিতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। ফলে ক্রয়াদেশ ঘাটতিতে রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধি কমে চাপে রয়েছেন কারখানা মালিকরা। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে ব্রাজিল সহ লাতিন আমেরিকার বিকল্প বাজারগুলোয় মনোযোগী হতে হচ্ছে মালিকদের।অপ্রচলিত বা তুলনামূলক নতুন দেশগুলোকেই পোশাক বিক্রির সম্ভাবনাময় বিকল্প গন্তব্য হিসেবে মনে করছেন মালিকরা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ব্রাজিল, চিলি, মেক্সিকোসহ লাতিন আমেরিকা অঞ্চল। ব্রাজিলে প্রদর্শনীতেও অংশ নিয়েছেন গার্মেন্ট খাতের উদ্যোক্তারা। এ লক্ষ্যে ব্রাজিল সফরে রয়েছেন দুই ডজনেরও বেশি উদ্যোক্তা।
কারখানায় তৈরি পণ্য নিয়ে ব্রাজিলে প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছে এসআরটি ফ্যাশনস লিমিটেড, হ্যাঘ নিটওয়্যার লিমিটেড, এফজিএস ডেনিম ওয়্যার লিমিটেড, সেও ওয়ান বাংলাদেশ লিমিটেড, মিক সোয়েটার লিমিটেড ও অ্যামেজিং ফ্যাশনস লিমিটেড। সেখানে পণ্য প্রদর্শনীর পর আর্জেন্টিনা, চিলি, মেক্সিকোর মতো লাতিন আমেরিকার সম্ভাবনাময় বাজার সফরের কথা রয়েছে ১১ সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধি দলসহ মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ নেতাদের।
এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএর সহসভাপতি শহিদুল্লাহ আজীম বলেন, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনাসহ লাতিন আমেরিকার বাজার থেকে বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করা সম্ভব। এ দেশগুলো থেকে রফতানি আয়ও ক্রমেই বাড়ছে। প্রচলিত বাজারে সীমাবদ্ধ না থেকে এ বাজারগুলোর সম্ভাবনা আমরা আরো বেশি করে কাজে লাগাতে চাই। সে লক্ষ্যে ব্রাজিলের প্রদর্শনীতে যেমন অংশ নেয়া হচ্ছে, তেমনি পার্শ্ববর্তী দেশগুলো সফরের পরিকল্পনাও রয়েছে।
জানা যায়, সম্প্রতি ব্রাজিল থেকে পোশাক রফতানি আয় ১৬ কোটি ২৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার। প্রবৃদ্ধির পরিমাণ প্রায় ১৪ শতাংশ। এছাড়া চিলি থেকেও রফতানি প্রবৃদ্ধি অব্যাহত আছে। তবে মেক্সিকো থেকে প্রায় ২ শতাংশ রফতানি আয় কমেছে।
ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, চিলি ও মেক্সিকোর বাজারে রফতানি করছেন এমন শিল্প মালিকরা জানিয়েছেন, পোশাক রফতানির বাজার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে সীমাবদ্ধ থাকার মূল সমস্যা হলো বছরের তিন-চার মাস কারখানায় কাজ থাকে না। তবে একই সঙ্গে বিকল্প বা তুলনামূলক নতুন বাজারের ক্রয়াদেশ থাকলে সারা বছর কারখানা চালু রাখা যায়। এতে আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা যেমন কমে আসে, তেমনি যেকোনো চাপ এবং বিরূপ পরিস্থিতি সামাল দেয়া সহজ হয়।
ব্রাজিলে পোশাক রফতানি করে এমন একটি কারখানা এপক গার্মেন্টস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুস সালাম মূর্শেদী বলেন, সম্ভাবনাময় নতুন গন্তব্যগুলোয় টেকসই বাজার তৈরি করতে পারলে ব্যবসায়ীদের সুবিধা অনেক। এর মধ্যে অন্যতম হলো, সারা বছর কারখানা সচল রাখতে পারা। এছাড়া ক্রেতাদের সঙ্গে দরকষাকষির সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতিযোগী সক্ষমতাও বাড়ে।


No comments:
Post a Comment