অস্ট্রেলিয়া যে কোনো ধরনের খেলাতেই দল নিয়ে বাংলাদেশে আসতে আপত্তি করছিলো।
মজার ব্যাপার হলো, ক্রিকেট দল যুব বিশ্বকাপ বর্জন করতে পারলেও নিরাপত্তার সেই অজুহাত দিয়েও পার পায়নি ফুটবল দল। কাছাকাছি সময়ে তাদের বাংলাদেশ সফরে আসতে বাধ্য করেছিলো ফিফা। আইসিসি এই জায়গায় নিজেদের আরও একবার কর্তৃত্বহীন সংস্থা হিসেবে প্রমাণ করলো। এখনও শক্ত করে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে পারলো না। তারপরও এটা বলে অন্তত তারা ঢেঁকুর তুলছে যে, বিশ্বকাপ ভালোভাবে শেষ হওয়ায় আইসিসি ‘সঠিক সিদ্ধান্ত’ নিয়েছিলো বলে প্রমাণ হয়েছে।
আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন, ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গতকাল এক যৌথ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেছিলো আইসিসি ও বিসিবি। অনুষ্ঠানে আইসিসির সম্মানিক সভাপতি, কিংবদন্তী ব্যাটসম্যান জহির আব্বাস, বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন ও আইসিসির প্রধান নির্বাহী ডেভ রিচার্ডসন উপস্থিত ছিলেন।
রিচার্ডসন বিসিবিকে এই সফল আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ দিতে গিয়ে বলছিলেন, ‘টুর্নামেন্টের স্ট্যাটাস হয়তো সিনিয়রদের বিশ্বকাপ বা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো নয়। কিন্তু লজিস্টিক্যাল ও অপারেশনাল চাহিদা একই রকম, কখনো কখনো বেশি। কারণ, মনে রাখতে হবে ১৬ দলকে নিয়ে ৪৮ ম্যাচের এই টুর্নামেন্ট ক্রিকেটের অন্যতম বৃহত্তম আয়োজন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এই কাজগুলো শুধু ম্যাচ ভেন্যুতেই অসাধারণ করেছে, তা নয়; অনুশীলন মাঠগুলোতেও করতে হয়েছে। যত কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক জড়িত ছিলেন সকলেই ধন্যবাদ।’
পাশাপাশি টুর্নামেন্ট জুড়ে অসাধারণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ধরে রাখার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকেও ধন্যবাদ দিলেন রিচার্ডসন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে অজিদের যে কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজনেই নিরাপত্তার বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আমি এই ব্যাপারটা বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী, সরকার ও সকল নিরাপত্তা সংস্থা, যারা আইসিসি ও বিসিবির সাথে মিলে নিশ্চিত করেছেন যে, টুর্নামেন্টটা নিরাপদে শেষ হোক, সকলকে ধন্যবাদ জানাই।’
শুধু টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন বলেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ অভিনন্দন পেতে পারতো। কিন্তু আইসিসির প্রধান নির্বাহী বলছিলেন, ক্রিকেটের পক্ষ থেকে তারা একটা ধন্যবাদ পেতে পারে, ‘গত কয়েক বছরে আমরা ক্যারিবিয়ান শিশু-কিশোরদের বাস্কেটবল, ফুটবলে আগ্রহী হয়ে ক্রিকেট থেকে সরে যাওয়ার অনেক গুজব শুনেছি। কিন্তু এই টুর্নামেন্ট জুড়ে যে পারফরম্যান্স দেখেছি, তা ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য, বিশেষ করে ক্রিকেটের জন্য দারুণ উত্সাহ ব্যঞ্জক ব্যাপার।’
এতো কথা বললেও অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে না আসায় তারা কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেবেন কি না, সেটা কিছুতেই পরিষ্কার করলেন না রিচার্ডসন। এড়ানো ভঙ্গির জবাবে বললেন, ‘আমরা ধারণা, অস্ট্রেলিয়া নিজেদেরকে এই টুর্নামেন্ট থেকে প্রত্যাহার করে নেয়ার পরও আমরা যে টুর্নামেন্ট চালু রেখেছি, এটা ভালো সিদ্ধান্ত ছিলো। ফলাফল ও শেষ পরিস্থিতি প্রমাণ করে সিদ্ধান্ত সঠিক ছিলো।’
এমনকি ফিফার উদাহরণ এনে প্রশ্ন করা হলেও পিছলে যেতে চাইলেন এই কর্মকর্তা, একটি সদস্য দেশ কোনোভাবেই নিজের নাম এমনি এমনি প্রত্যাহার করতে পারে না; সিদ্ধান্তটা যৌক্তিক হতে হবে। এখন সিএ (ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া) যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, সেটার উত্তর ইতোমধ্যে দেয়া হয়েছে। এখন শুধু আমরা বলতে পারি, টুর্নামেন্ট চালু রাখাটা সঠিক সিদ্ধান্ত ছিলো।
অনেকভাবে জিজ্ঞেস করার পর রিচার্ডসন বলতে বাধ্য হলেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ তোলা যেতে পারে এটা একটা চুক্তিভিত্তিক বিষয়। আমাদের দেখতে হবে এতে কোনো পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না। আরেকটা পয়েন্ট হলো, আমরা কাউকে অংশ নিতে বাধ্য করতে পারি না। এটা তাদের ওপর নির্ভর করে। আমি যেমনটা বলেছি, এতে চুক্তি ভঙ্গের মতো ঘটনা ঘটতে পারে। সেটা দেখে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।


No comments:
Post a Comment