সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যানজট কমিয়ে আনতে পরিবার প্রতি গাড়ির সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সড়ক পরিবহন আইনের খসড়ায় এ প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এ ছাড়া যে সকল মালিক অটোরিকশার ভাড়া বা জমা বেশি আদায় করছেন তাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। পাশাপাশি যারা মিটার টেম্পারিং করছে তাদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। গতকাল বুধবার রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে সিএনজি চালিত অটোরিকশা মিটারে চলাচল নিশ্চিতকরণে বিআরটিএ’র মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের তিনি একথা জানান।
অটোরিকশা ও বাসের ভাড়া আদায়ে নৈরাজ্য এবং বিভিন্ন অনিয়ম বন্ধে আবারও বিআরটিএ (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ) অভিযান শুরু করেছে। মানিক মিয়া এভিনিউ, যাত্রাবাড়ী ও শাহবাগে গতকাল বেলা ২টা থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা বিধানের পাশাপাশি ফুটপাত দখলমুক্ত করা গেলে ঢাকা মহানগরীর যানজট অনেকটাই কমানো সম্ভব। তিনি মহানগরীর ফুটপাত পুনরুদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে ঢাকার দুই মেয়রের প্রতি অনুরোধ জানান। মন্ত্রী বলেন, এখনও কিছু কিছু অটোরিকশা চুক্তিতে চলাচল করছে। চুক্তিতে চলাচলকারী অটোরিকশার সংখ্যা সীমিত হলেও অভিযান অব্যাহত থাকবে। মিটারে চলাচল নিশ্চিতকরণে আইনগত উদ্যোগের পাশাপাশি যাত্রীদের সচেতনতাও জরুরি বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। মিটারে না চললে যাত্রীগণ যাতে সহজে অভিযোগ করতে পারেন সে লক্ষ্যে শীঘ্রই বিআরটিএ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মোবাইল নম্বর জানিয়ে দেয়া হবে।
মন্ত্রী আরো জানান, জানুয়ারি মাসে বিআরটিএ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন যানবাহনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে এক হাজার ২০৫টি মামলা করেছে। দুই শত ৮৮টি যানবাহন ডাম্পিং করা ছাড়াও ৯০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম মহানগরীতেও অভিযান চলছে এবং এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কিত উপকমিটির সদস্য বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম, পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) বিজয় ভূষণ পাল এসময় উপস্থিত ছিলেন।


No comments:
Post a Comment