কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানায় দশম শ্রেণীর ছাত্রীর শ্লীলতাহানীর অভিযোগে স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে নির্যাতিত ছাত্রীর পিতা বাদী হয়ে কুমারখালী থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক রফিকুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। তিনি কুমারখালী উপজেলার মীর মোশাররফ হোসেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিষাদসিন্ধুর রচয়িতা সুসাহিত্যিক মীর মোশাররফ হোসেনের বাস্তুভিটায় তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত স্কুলের বাংলার শিক্ষক রফিকুল ইসলাম দশম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে বেশ কিছুদিন যাবত নানাভাবে উত্যক্ত করে আসছিলেন। গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে রফিকুল ইসলাম ওই ছাত্রীকে সিঁড়ির মধ্যে ডেকে এনে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা চালায়। ঘটনার ভীত-সন্তস্ত্র ও বিমর্ষ ওই ছাত্রী লজ্জায় তাৎক্ষনিকভাবে কাউকে বিষয়টি জানায়নি।
টিফিনের বিরতিতে সে স্কুল থেকে বাড়ি চলে আসে এবং শ্লীলতাহানীর ঘটনাটি বাড়ির লোকদের কাছে জানিয়ে দেয়। এরপর ওই ছাত্রীর পিতা ছালামত আলী বাদী হয়ে শিক্ষক রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে কুমারখালী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরর পর কুমারখালী থানার ওসিসহ পুলিশের একটি দল স্কুলে এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষক গা ঢাকা দেয়ায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
এদিকে জঘন্য এ ঘটনায় ওই স্কুলের সকল শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে। এলাকাবাসী ওই শিক্ষকের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবী করেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জলিল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন এবং স্কুলের পরিচালনা পর্ষদকে ঘটনাটি জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
কুমারখালী থানার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউর রহমান (পিপিএম) ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে গ্রেফতারের জোর চেষ্টা চলছে।


No comments:
Post a Comment